সেই সময় আমেরিকার মানুষের মূল পেশা ছিল কৃষি। প্রায় ৯৫ ভাগ মানুষ কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেছে। সেই আমেরিকা শতাব্দীকাল ধরে বর্তমানে পৃথিবীর বৃহত্তর অর্থনীতি। একটা কৃষিনির্ভর দেশ কী করে শতাব্দীকাল ধরে সারা পৃথিবীর সর্ব বৃহত্তর অর্থনীতির রাষ্ট্রে পরিণত হলো। শক্তিশালী অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হলো, শক্তিশালী সামরিক শক্তিতে রূপান্তরিত হলো, এ অর্থনীতির মূল ভিত্তি কিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাদের অর্থনীতির রূপান্তরটা ঘটেছে যখন কৃষিতে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে। কৃষি রসায়নের উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে তাদের কৃষি অর্থনীতির পালে হাওয়া লেগেছিল। শুরুটা হয়েছে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমে এবং বিশ্বময় তাদের কৃষিপণ্য, তাদের প্রযুক্তি, শিল্পে উৎপাদিত পণ্য ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কৃষকের ফসল উৎপাদনের প্রয়োজনীয় সব উপকরণ, উৎপাদন গবেষণা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের ব্যাপক ব্যবহার বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েই তাদের অর্থনীতির গতিশীলতা এসেছে। শিল্প বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তির উদ্ভাবন, অবকাঠামো নির্মাণ ও বাণিজ্যিকীকরণ এবং একটি রাষ্ট্রের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে অভিবাসন নীতি যাতে সারা পৃথিবী থেকে মেধাবী অভিবাসীকে তাদের দেশে নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্ব আইন বাণিজ্য সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। তাদের অর্থনীতির মূলধারা পুঁজিবাদ এবং বাজার অর্থনীতি। পুঁজির বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতকে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সারা পৃথিবীময় তাদের মেধাস্বত্ব মনোপলি বাণিজ্য শিল্প-কারখানা প্রয়োগ করে পুঁজির বিস্তার ঘটিয়েছে। কৃষিপ্রধান দেশটি অর্থনীতিতে শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রধান একটি ধনী রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আমাদের দেশে কৃষি এখনো জিডিপিতে একক খাত হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ অবদান রাখে। এর পরবর্তী সময়ে আমাদের শিল্পায়ন খাতে, সেবা খাতে সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু দেশের দরিদ্র মানুষের দিকে যদি আমরা তাকাই, তাহলে আমরা দেখতে পাব সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখনো কৃষি শ্রমিক এবং কৃষি পেশায় জড়িত। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে কৃষিতে বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার সংস্কার প্রয়োজন। তার সঙ্গে উন্নত দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণের সমন্বয় অধিদপ্তরের গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপ