এলপিজি ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যান্য কোম্পানির পাশাপাশি ওরিয়ন
এলপি গ্যাস
বাজারজাত করছে।
এ খাতে
কোম্পানিটির মার্কেট শেয়ারও উল্লেখযোগ্য। নতুন বছরে
এলপি গ্যাস
নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
ওরিয়ন এলপিজি
গ্যাস লিমিটেড
২০১৮ সালের
জানুয়ারি মাসে
বাজারজাত শুরু
করে। নতুন
বছরে উৎপাদনক্ষমতা
ও বাজারে
নতুন সিলিন্ডার
সরবরাহের মাধ্যমে
মার্কেট শেয়ার
বৃদ্ধির পরিকল্পনা
আছে আমাদের।
এলপি গ্যাস
ব্যবহারে গ্রাহক এখন সচেতন
হয়ে পণ্যটি কিনছে। সেক্ষেত্রে অনেকের পছন্দের তালিকায় ওরিয়ন
এলপি গ্যাস। কারণটা কী
বলে মনে
করেন?
গ্রাহক এখন
এলপি গ্যাস
ব্যবহারের ক্ষেত্রে
অনেক সচেতন।
আমরাও গ্রাহকদের
সচেতনতা বৃদ্ধির
উদ্দেশ্যে সারা
বছর বিভিন্ন
কর্মসূচি গ্রহণ
করে থাকি।
গ্রাহক পর্যায়ে
বিভিন্ন ধরনের
অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে
ধারণা দেয়া,
গ্যাসের সঠিক
ব্যবহার ও
গ্যাস বার্নারের
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট
অ্যাকসেসরিজগুলোর গুণগতমান
সম্পর্কে এসব
কর্মসূচিতে ধারণা
দেয়া হয়।
আরেকটি বিষয়
হচ্ছে ওরিয়ন
গ্যাসের সহজপ্রাপ্তি
ও সহজলভ্যতা।
আমরা আমাদের
ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের
মাধ্যমে প্রত্যন্ত
অঞ্চলের গ্রাহকদের
জন্য গ্যাস
সিলিন্ডারের সহজপ্রাপ্তি
নিশ্চিত করি।
যার মাধ্যমে
শুরু থেকে
এখন পর্যন্ত
গ্রাহকদের কাছে
ওরিয়ন গ্যাসের
সুনাম অক্ষুণ্ন
রয়েছে। আমরাও
এ জনপ্রিয়তা
ধরে রাখার
জন্য সর্বোচ্চ
চেষ্টা করে
যাচ্ছি।
বর্তমানে এলপি
খাতে ৩২
হাজার কোটি
টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। বাজার
পর্যালোচনায় আরো
বৃহৎ আকারে
বিনিয়োগ করার
সুযোগ কতটুকু? বিনিয়োগ নিয়ে
আপনারা কী
ভাবছেন?
বর্তমানে সব
অপারেটরের মাধ্যমে
আমরা প্রায়
১৩ লাখ
টন এলপিজি
আমদানি করছি।
দেশের মোট
জনসংখ্যার প্রায়
৫০ লাখ
পরিবার এলপিজি
ব্যবহার করে।
অন্যদিকে ৪০
লাখ পরিবার
প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যবহার করে।
এছাড়া অনেক
পরিবার ও
ইন্ডাস্ট্রি অবৈধ
গ্যাস লাইনের
মাধ্যমে প্রাকৃতিক
গ্যাস ব্যবহার
করে। সরকারের
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
এ অবৈধ
গ্যাস সংযোগের
কারণে রাজস্ব
হারায়। সেই
সঙ্গে লক্ষণীয়
যে এ
পর্যন্ত বেশির
ভাগ দুর্ঘটনা
সংঘটিত হয়েছে
অবৈধ লাইনের
সংযোগ থেকে।
এসব অবৈধ
লাইন বন্ধ
হলে একদিকে
যেমন দুর্ঘটনা
হ্রাস পাবে,
অন্যদিকে নিরাপদ
জ্বালানি হিসেবে
এলপিজির ব্যবহার
অনেক বেড়ে
যাওয়ার সম্ভাবনা
আছে। এছাড়া
যোগাযোগ ব্যবস্থার
উন্নতি ও
মানুষের মাথাপিছু
আয় বেড়ে
যাওয়ার কারণে
গ্রাম পর্যায়েও
এলপিজির বাজার
সম্প্রসারিত হচ্ছে।
কোম্পানিগুলো ভবিষ্যৎ
চাহিদার দিকে
নজর রেখে
বর্তমানে বিনিয়োগ
করছে।
বাজারে এখন
১৮টি কোম্পানি এলপি গ্যাস
বাজারজাত করছে।
প্রতিযোগিতা যেমন
বেড়েছে, তেমনি
বিনিয়োগও বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি বাজার
ব্যবস্থাপনায় এ
খাতে ঝুঁকি
দেখছেন কিনা?
বর্তমানে বাজারে
চাহিদার চেয়ে
জোগান বেশি।
এ খাতে
লাভের পরিমাণ
খুবই সামান্য।
কিন্তু সরকারের
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান
প্রয়োজনের অধিক
প্রতিষ্ঠানকে এলপিজির
লাইসেন্স দিয়েছে।
বাংলাদেশে সবগুলো
প্রতিষ্ঠানের এলপিজি
মজুদক্ষমতা প্রায়
১ লাখ
৫ হাজার
টন। যেখানে
এ পরিমাণ
মজুদ দিয়ে
আমাদের দেশে
বর্তমান চাহিদার
প্রায় তিন
গুণ সরবরাহ
করা যাবে।
প্রতিবেশী দেশ
ভারতের সঙ্গে
তুলনা করলে
দেখা যাবে,
সেখানে শুধু
চারটি কোম্পানি
গ্রাহক পর্যায়ে
প্রায় ২৬
লাখ টন
এলপিজি সরবরাহ
করছে। একটি
কোম্পানির ব্রেক
ইভেন পয়েন্টে
আসার জন্য
যে পরিমাণ
বিক্রির প্রয়োজন
আমরা সে
অনুযায়ী আশানুরূপ
বিক্রি করতে
পারছি না।
এতে এলপিজি
প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল
পরিমাণ আর্থিক
ক্ষতির সম্মুখীন
হচ্ছে। এছাড়া
গ্রাহক পর্যায়ে
এলপিজি সহজলভ্য
করার জন্য
সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো
সিলিন্ডারের মূল্য
প্রকৃত ক্রয়কৃত
মূল্যের এক-চতুর্থাংশ
নিয়ে থাকে।
কিন্তু এ
ভর্তুকি মূল্যের
সুযোগে দেশজুড়ে
কিছু অসাধু
ব্যবসায়ী খোলাবাজার
থেকে সিলিন্ডার
সংগ্রহ করে
মেল্টিং স্ক্র্যাপ
হিসেবে বিভিন্ন
স্টিল রোলিং
মিলে বিক্রি
করে এলপিজি
কোম্পানির বিনিয়োগকে
ঝুঁকির মধ্যে
ফেলে দিচ্ছে।
যেসব স্থানে
এ কর্মকাণ্ড
ঘটছে আমরা
স্থানীয় থানাকে
অবহিত করেছি।
সেই সঙ্গে
বিস্ফোরক অধিদপ্তর,
বিইআরসিকে লিখিতভাবে
অবহিত করেছি।
রান্নার গ্যাসের পাশাপাশি যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে অটোগ্যাসের বাজার
প্রসারিত হচ্ছে। অটোগ্যাসের প্রসারে বাজারে কোনো
প্রতিবন্ধকতা দেখছেন কিনা?
এলপিজি পরিবেশবান্ধব।
কার্বন নিঃসরণ
অন্যান্য জ্বালানির
তুলনায় অনেক
কম। এলপিজিকে
সিএনজির তুলনায়
কম প্রেসারে
রাখা যায়।
এতে ইঞ্জিনের
জীবত্কালও বৃদ্ধি
হয়। বর্তমানে
সরকার এলএনজি
আমদানি করে
ভর্তুকি দিয়ে
স্টেশনগুলোতে সরবরাহ
করছে। এ
মুহূর্তে বাংলাদেশে
যে পরিমাণ
এলপিজি মজুদ
সক্ষমতা আছে,
তা দিয়ে
অপারেটরগুলো সহজেই
অটোমোবাইলসহ সংশ্লিষ্ট
ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো
ধরনের সমস্যা
ও ঝুঁকি
ছাড়াই সরবরাহ
করতে পারবে।
এক্ষেত্রে সরকারের
সুচিন্তিত পরিকল্পনা
ও বাস্তবায়ন
দরকার।
সরকারি পর্যায় থেকে এলপি
গ্যাসের মূল্য
নির্ধারণ করা
হচ্ছে। এ
মূল্য ওরিয়ন
এলপিজি কতটুকু কার্যকর করেছে?
বর্তমানে এলপিজির মূল্য খুবই নিয়ন্ত্রিত। যেহেতু এলপিজি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিইআরসি প্রতি মাসের শুরুতেই বাজারমূল্য নির্ধারণ করে দেয়। তাই এক্ষেত্রে গ্রাহকদের ঠকার কোনো সম্ভাবনা নেই। ওরিয়ন গ্যাস শুরু থেকে বিইআরসি ঘোষিত মূল্য যথাযথভাবে অনুসরণ করে ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলারদের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে বাজারজাত করছে। এ মূল্য আরো কমানো যায়, যদি সরকার গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে ব্যবসার ওপরে আরোপিত ভ্যাট, সম্পূরক কর, বিভিন্ন রেগুলেটরি সংস্থা যেমন বিপিসি, বিইআরসি, বিএসটিআইয়ের বার্ষিক ফি ইত্যাদি কমানোর ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সংগতি রেখে এলপিজি ইন্ডাস্ট্রিতে এরই মধ্যে উল্লেখ করার মতো বিনিয়োগ হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এখনই যদি বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেয়া না হয়, তাহলে এ বৃহৎ ইন্ডাস্ট্রি ও সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ হুমকির মধ্যে পড়বে। তবে এলপিজিকে জনপ্রিয় ও সুলভ জ্বালানি হিসেবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ অবিলম্বে বিচ্ছিন্নকরণ, বাজারে সুলভ মূল্যে গ্যাস সরবরাহের উদ্দেশ্যে ভ্যাট সহনীয় পর্যায়ে রাখা, সিলিন্ডার স্ক্র্যাপকরণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য যথোপযুক্ত আইন প্রণয়ন।





