র্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) টাইমস হায়ার এডুকেশন ইন্টারডিসিপ্লিনারি সায়েন্স র্যাংকিং ২০২৫-এ যৌথভাবে দেশের সেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা দুবার আইইউবি এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স র্যাংকিংয়ে দেশের এক নম্বর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান অর্জন করে। আইইউবিতে বর্তমানে নেপাল, ফিলিস্তিন, চীন, পাকিস্তান, মরক্কো, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, বেলজিয়াম ও শ্রীলংকার প্রায় ২০ জন বিদেশী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।
গবেষণা
২০২০-২৪ পর্যন্ত পাঁচ বছরে আইইউবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রায় তিন হাজার গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এগুলোর অনেকগুলোই স্কোপাস-ইনডেক্সড, কিউ১-৪ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে কনফারেন্স প্রোসিডিংস, বুক চ্যাপ্টার ইত্যাদি। উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক গবেষণা অংশীদারত্ব এবং প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কো-ক্রিয়েটিং নলেজ ফর লোকালি-লেড অ্যাডাপটেশন টু ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রকল্প। নরওয়ের উন্নয়ন সংস্থা নোরাডের অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিযোজনবিষয়ক এ পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটিতে আইইউবি বাংলাদেশ, নরওয়ে, উগান্ডা, নেপাল ও মোজাম্বিকের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করছে।
সমঝোতা চুক্তি ও আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম
আইইউবির বেশ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যে আলস্টার ইউনিভার্সিটি; যুক্তরাষ্ট্রের সিএফএ ইনস্টিটিউট; সুইডেনের সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (সিডা); জাপানের কোবে কলেজ ও ইউনিভার্সিটি অব হিয়োগো। এছাড়া মেক্সিকোর ইউনিভার্সিটি অব কোলিমা ও ইউনিভার্সিদাদ পপুলার আউতোনোমা দেল এসতাদো দে পুয়েবলা; স্লোভেনিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিবর; মালয়েশিয়ার আইএনটিআই ইউনিভার্সিটি; তুরস্কের আঙ্কারা ইউনির্ভাসিটি ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্যা সি অ্যান্ড মেরিটাইম ল (দেহুকাম); নেপালের ফার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি; ভারতের শুলিনি ইউনিভার্সিটি ও চণ্ডীগড় ইউনিভার্সিটি। এর মধ্যে গত কয়েক বছরে কোবে কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব হিয়োগো, ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিবর, আইএনটিআই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইরাসমাস প্লাসসহ কয়েকটি মার্যদাপূর্ণ প্রোগ্রামের অধীনে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে গেছেন আইইউবির প্রায় ২০ শিক্ষার্থী। এখনো কয়েকজন শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে পড়াশোনা করছেন।
আইকিউএসি
আইইউবির ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে নতুন শিক্ষকদের জন্য ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করে, যেখানে পাঠদানের নীতি, মূল্যায়ন কাঠামো, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষাদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এতে শিক্ষকরা শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের মানদণ্ড ও প্রত্যাশা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান। বিভিন্ন বিভাগকে অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য প্রস্তুত করতে মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেয় আইকিউএসি, যা আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে তারা নিয়মিত কর্মশালা, পর্যালোচনা সভা ও একাডেমিক অডিট পরিচালনা করে, যাতে কোর্স কারিকুলাম, গবেষণা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়মিতভাবে আপডেট থাকে। এছাড়া ইউজিসির মানদণ্ড ও নির্দেশনা অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরো সুসংগঠিত ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে নিতে কাজ করছে। এ প্রক্রিয়ায় নীতিমালা হালনাগাদ, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন এবং বিভিন্ন একাডেমিক ইউনিটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে আইইউবিকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মাননির্ভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কাজ করছে।
আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে অনেক বড় ভূমিকা রাখে আইকিউএসি। কারণ এটি হয় বিভিন্ন ডাটার ভিত্তিতে। আইকিউএসি এ কাজই করছে। কোয়লিটি অ্যাশিউরেন্সে ইনিশিয়েটিভ আমরা ঠিক করে দিচ্ছি, ইন্টারন্যাশনাল সংস্থাগুলো কী চাচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে কেপিআই ঠিক করছি, যা আন্তর্জাতিকীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে।’










