গবেষণার ক্ষেত্রে টেক্সটাইল ও প্রস্তুত পোশাক শিল্পে টেকসই উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তি, শ্রম উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া, ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গুণ-মান ব্যবস্থাপনার ওপর মানসম্পন্ন গবেষণা ছাড়া আগামী দিনের শিল্প বিপ্লবের নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব নয়। তাই বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আংশীজনের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করছে গবেষণা। বিইউএফটি বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পোদ্যোগের সঙ্গে যৌথ গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য বৈশ্বিক মানের গবেষণা অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা এবং দেশের শিল্প খাতকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরো শক্তিশালী করা।
বিইউএফটির অন্যতম একটি প্রকল্প হলো জার্মানি-বাংলাদেশ এইচইএসটি (এইচইএসটি)। এ প্রকল্পে বিইউএফটি ও জার্মানির কেমনিৎজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (টিইউসি) একসঙ্গে কাজ করছে। ডিএএডির অর্থায়নে পরিচালিত এ গবেষণা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো টেকসই টেক্সটাইল উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব প্রস্তুত পোশাক প্রক্রিয়াকরণে উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করা। বিইউএফটির নিটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং স্নাতকোত্তর টেক্সটাইল প্রোগ্রামের পাঠ্যক্রম এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা প্রকল্পে সরাসরি যুক্ত হয়ে নতুন প্রযুক্তি ও উৎপাদন পদ্ধতি নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করছেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ গবেষণা প্রকল্প হলো এনআইসিএইচই, যা নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনইউএফএফআইসি অর্থায়ন করেছে। এ প্রকল্পের লক্ষ্য প্রস্তুত পোশাক শিল্পে করপোরেট সামাজিক দায়িত্ব (সিএসআর) বৃদ্ধি, নেতৃত্ব উন্নয়ন, লিঙ্গ সংবেদনশীলতা, নারী ক্ষমতায়ন ও ন্যায্য শ্রমনীতি। বিইউএফটি এ প্রকল্পে রেফারেন্স সেন্টার হিসেবে কাজ করছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সিএসআর-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। তারা শিখছেন কীভাবে শিল্পের সামাজিক দায়িত্ব পালন করা যায়, কীভাবে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের নেতৃত্ব দক্ষতা উন্নয়ন করতে হয় এবং কীভাবে ন্যায্য শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করা যায়।
এছাড়া স্মার্ট ২০২০ নামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফ্রেমওয়ার্ক প্রোগ্রামের অর্থায়নে গবেষণা প্রকল্পেও বিইউএফটি সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্পে প্রযুক্তিগত রূপান্তর, শ্রমিক কল্যাণ, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত ও সামাজিক পরিবর্তনের ওপর গবেষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো বোঝার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের পেশাগত দক্ষতা বিকশিত করছে।










