বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ইউএপির মূল কৌশল বা রোডম্যাপ কী?

শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য আমাদের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে—উভয় ধরনের রোডম্যাপ রয়েছে। এ রোডম্যাপ বাস্তবায়নে আমরা শিক্ষাদান ও কারিকুলাম অ্যাসেসমেন্টে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে ‘আউটকাম বেইজড এডুকেশন’ (ওবিই) প্রতিষ্ঠা করেছি। এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীরা যা শিখবে, তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত করা। আমাদের শিক্ষার গুণগত মানের স্বীকৃতি হিসেবে আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থার অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে সচেষ্ট।

আমাদের বড় সাফল্য হলো আমাদের দুটি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর অধীনে বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইউনিভার্সিটি এন্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন (BAETE) এর মাধ্যমে সম্মানজনক ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের আওতায় অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে। এই প্রোগ্রামগুলো আগামী ছয় বছরের জন্য সনদ পাওয়ায় আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা এখন বিশ্বের যেকোনো দেশে যোগ্য প্রকৌশলী হিসেবে নিজেদের অধিষ্ঠিত করতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। এক্ষেত্রে আপনাদের উদ্যোগ কী? পিএইচডি প্রোগ্রামের সীমাবদ্ধতা আপনারা কীভাবে কাটিয়ে উঠছেন?

একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে হলে গবেষণার বিকল্প নেই। ইউএপি তার ৩০ বছরের চলার পথে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগে মোট ১২টি মাস্টার্স প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে কাজ করার জন্য এনআরবি (নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশী) বিশেষজ্ঞদের উদ্যোগে CREST (Centre of Research Excellence in Semiconductor Technology)-এর মাধ্যমে নয়টি রিসার্চ ফেলোশিপ দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইউএপি একটি ফেলোশিপ অর্জন করেছে। এটি আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ। আর পিএইচডি প্রোগ্রামের বিষয়ে ইউজিসি একটি ইতিবাচক নীতিমালা দিয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি পিএইচডি চালু না থাকলেও সক্ষমতা থাকলে বিদেশী কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘জয়েন্ট পিএইচডি’ প্রোগ্রাম চালু করা যাবে। আমরা আমাদের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এ কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া কোলাবোরেশনের ক্ষেত্রে ইউএপির অবস্থান কেমন?

আন্তর্জাতিকীকরণের অংশ হিসেবে আমরা ফ্যাকাল্টি এবং স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে জোর দিচ্ছি। ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ এর ব্যবস্থায় শিক্ষকরা বিদেশে গিয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারবেন এবং বিদেশী শিক্ষকরা এখানে এসে আমাদের শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিবেন। শিক্ষার্থী বিনিময়ের ক্ষেত্রে আমাদের ল অ্যান্ড হিউম্যান রাইট্‌স বিভাগে (UMSAILS- UNESCO Madanjeet Singh South Asian Institute of Advanced Legal and Human Rights Studies) প্রোগ্রাম চালু আছে, যেখানে সার্কভুক্ত দেশগুলো (যেমন নেপাল, ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান) থেকে শিক্ষার্থীরা এসে এক বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছেন। এতে ক্যাম্পাসে একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া আমরা ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া কোলাবোরেশনকে শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখছি না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কপ্পিন এস্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে একজন অধ্যাপক এসে আমাদের এখানে ন্যানো টেকনোলজির ওপর একটি ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে যৌথ গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সনদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আপনাদের অগ্রগতি কতটুকু?

অ্যাক্রেডিটেশনের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। আমাদের দুটি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম বিএইটিই কর্তৃক স্বীকৃত, যা এখন আন্তর্জাতিক মানের। আর্কিটেকচার বিভাগ ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ, আইন বিভাগ বার কাউন্সিল এবং ফার্মেসি বিভাগ ফার্মেসি কাউন্সিলের অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে। এ ছাড়া বিজনেস ও ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের জন্য আমরা বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট জমা দিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শতাংশ প্রোগ্রাম (অন্যূন ৩টি) অ্যাক্রেডিটেশন পেলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ই অ্যাক্রেডিটেশনের আওতায় চলে আসে। আমরা আশা করছি, ইউএপি গবেষণার একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে এবং শিগগিরই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ‘অ্যাক্রেডিটেড ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।