ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) চাকরির বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীদের কর্মজীবন শুরুর জন্য ইউআইইউ করপোরেট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সেমিনার, ওয়ার্কশপ, সিম্পোজিয়াম এবং হাতে-কলমে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে, যা তাদের আন্তর্জাতিক দক্ষতাসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েটে পরিণত করে।
এরই মধ্যে ইউআইইউ গ্র্যাজুয়েটরা শীর্ষস্থানীয় করপোরেট হাউজ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কোম্পানি, গবেষণাগার, শিল্প এবং বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করছেন। এসব সাফল্য ব্যক্তিগত অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে এক অন্যন্য পরিচিতি এনে দিয়েছে; যা ইউআইইউর একাডেমিক কাঠামো, শিল্পবান্ধব শিক্ষাপদ্ধতি এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ফল। ইউআইইউ গ্র্যাজুয়েটরা আমেরিকা, কানাডা, ইতালিসহ ইউরোপের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও করপোরেটের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত আছেন। অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা।
ইউআইইউর শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সুনাম অর্জন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বর্তমানে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন। অনেকেই পেয়েছেন আন্তর্জাতিক বৃত্তি। এসব শিক্ষার্থী জানান, ইউআইইউর কারিকুলাম আন্তর্জাতিক মানে তৈরি, প্রকল্পভিত্তিক লার্নিং এবং প্রশিক্ষণ ও গবেষণার অভ্যাস গড়ে ওঠায় বিদেশে পড়াশোনায় তাদের আলাদা সুবিধা হয়েছে। বিশেষ করে গবেষণা পদ্ধতি, উপাত্ত বিশ্লেষণ, মেশিন লার্নিংভিত্তিক গবেষণা, টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি, নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা থাকার কারণে বিদেশী ল্যাবগুলোতে তারা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারছে।
আমেরিকার পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি হ্যারিসবার্গর কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইউআইইউর সাবেক শিক্ষার্থী মো. ফয়সাল করিব বলেন, ‘ইউআইইউ শিক্ষকদের পড়ানোর ধরন এবং দিকনির্দেশনা আমার বাস্তব জীবনে সফলতা এনে দিয়েছে। ইউআইইউর একাডেমিক কাঠামো, আধুনিক ল্যাব সুবিধা এবং ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার পরিবেশ এবং সুযোগ-সুবিধা আমার পেশাগতভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করেছে। এখানে অধ্যয়নের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ই-লিংক স্কলারশিপের অধীনে যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাই। এক কথায় ইউআইইউ সবসময় ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম সাজানো এবং আধুনিক ল্যাব সুবিধা দিয়ে থাকে।
ইউআইইউর সাবেক শিক্ষার্থী মাসুদ ইফতেখার ডিগ্রির আগেই চাকরি পেয়েছিলেন। এখন তিনি সুইডেনভিত্তিক বৈশ্বিক টেলিকম প্রতিষ্ঠান এরিকসনের ইন্দোনেশিয়া শাখার ‘কি অ্যাকাউন্ট কন্ট্রোলার’ হিসেবে পেশাগত দায়িত্বে আছেন। এর আগে দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারে কাজ করেছেন প্রায় পাঁচ বছর। মাসুদ ইফতেখার বলেন, ‘ইউআইইউ শিক্ষকরা দুই হাত ভরে আমাকে শিখিয়েছেন, জীবনে ভালো করার পথ বাতলে দিয়েছেন। তখন আমাদের ডিন ছিলেন হাবীব স্যার। স্যার বলতেন, “ম্যান ক্যান ডু, হোয়াট ম্যান হ্যাজ ডান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর এক শিক্ষার্থী যদি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি পায়, তুমিও পাবে। বড় স্বপ্ন সামনে রেখে শতভাগ চেষ্টা ও পরিশ্রম করতে হবে।” এ পরামর্শ ও উপদেশগুলোই আমার আজকের পর্যায়ে পৌঁছতে দারুণভাবে সাহায্য করেছে।’
অ্যামাজন ডটকমের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব পালন করছেন ইউআইইউর সাবেক শিক্ষার্থী জাকির হোসেন। তিনি জানান, ইউআইইউর কারিকুলাম আন্তর্জাতিক মানে সাজানো, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, প্রকল্পভিত্তিক লার্নিং এবং গবেষণার অভ্যাস গড়ে ওঠায় বিদেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনে আলাদা সুবিধা হয়। ইউআইইউর বিশেষ করে শিক্ষা ও গবেষণাপদ্ধতি, এআই-ভিত্তিক গবেষণা, টেকসই উন্নয়ন পদ্ধতি, নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা প্রদান করে থাকে, ফলে শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের ক্ষেত্রগুলোকে সহজ করে দেয়। ইউআইইউ একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেন্টরিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে দেয়।










