উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিষ্ঠিত করতে গত কয়েক বছরে বিশ্বের বেশকিছু শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলেছে চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ)। এসব সহযোগিতা শুধু আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারকে সীমাবদ্ধ নয় বরং যৌথ গবেষণা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, আন্তর্জাতিক সেমিনার এবং কেস রাইটিংয়ের মতো বাস্তব একাডেমিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। ফলে সিআইইউ একটি গ্লোবাল একাডেমিক নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে উঠেছে।

সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এশিয়া সেন্টার: এশিয়ান স্টাডিজে সিআইইউ

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এশিয়া সেন্টারের সঙ্গে সিআইইউর সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক পরিচিতি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সম্প্রতি নতুন মেয়াদে নবায়ন হয়েছে, যার আওতায় চলছে যৌথ গবেষণা, আঞ্চলিক রাজনীতি ও উন্নয়নবিষয়ক প্রজেক্ট, বিশেষ লেকচার এবং গবেষক বিনিময় কর্মসূচি। সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একাধিক গবেষক সিআইইউতে এসে পাঠদান করেছেন, আর সিআইইউর গবেষকরা এশিয়া গবেষণার নানামুখী ইস্যুতে কোরিয়ার একাডেমিক পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

ইউনিভার্সিটি অব টোয়েন্টি ও স্ট্যাভেঞ্জার বিশ্ববিদ্যালয়: পরিবর্তন–ব্যবস্থাপনায় যৌথ গবেষণার সাফল্য

ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসের ইউনিভার্সিটি অব টোয়েন্টি এবং নরওয়ের স্ট্যাভেঞ্জার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সিআইইউ চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করছে। প্রকল্পটিতে সিআইইউ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে কাজ করছে, যেখানে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক রূপান্তর, প্রশাসনিক পরিবর্তন ও নেতৃত্ব উন্নয়নের নতুন মডেল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ সহযোগিতা সিআইইউর শিক্ষকদের গবেষণা দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে এবং ভবিষ্যৎ পাবলিক পলিসি, ম্যানেজমেন্ট ও গভর্ন্যান্স পাঠক্রম উন্নয়নে সহায়ক ভিত্তি তৈরি করেছে।

টিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়: দেশের এসএমই খাত নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা

সিআইইউর আন্তর্জাতিক গবেষণায় আরেক দৃষ্টান্ত হলো নেদারল্যান্ডসের টিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিচালিত গবেষণা, যেখানে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সম্পন্ন হয়। গবেষণাটি শিল্প ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সিআইইউর গবেষণা সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তৈরি করে। এ গবেষণার ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দেশীয় শিল্প খাতকে আন্তর্জাতিক গবেষণার দৃষ্টিকোণ থেকে অধ্যয়ন করার সুযোগ পাচ্ছেন।

রেনেস স্কুল অব বিজনেস: ব্যবসায় শিক্ষায় ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা

ফ্রান্সের রেনেস স্কুল অব বিজনেসের সঙ্গে সিআইইউর সহযোগিতা ব্যবসায় শিক্ষাকে আরো আন্তর্জাতিক করে তুলেছে। রেনেসের শিক্ষকরা সিআইইউতে যৌথ সেমিনার, ব্যবসায় কৌশল আলোচনা এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। ফলে ইউরোপীয় বাজার, ব্র্যান্ডিং, নেতৃত্ব ও উদ্ভাবন সম্পর্কিত বাস্তব অভিজ্ঞতা সরাসরি ক্লাসরুমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। ব্যবসায় অনুষদের ক্ষেত্রে এ সহযোগিতা সিআইইউর শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

ক্র্যানফিল্ড ইউনিভার্সিটি কেস সেন্টার

ইউরোপের মর্যাদাপূর্ণ ক্র্যানফিল্ড ইউনিভার্সিটি কেস সেন্টারের সঙ্গে সিআইইউর অংশীদারত্ব দেশের প্রথম কেস রাইটিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে সিআইইউর শিক্ষকরা বিএসআরএম, হিরো মোটরসাইকেল ও ডিবিএল গ্রুপ এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রাইমারি ডেটাভিত্তিক কেস তৈরি করেছেন, যা এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা এমেরাল্ডে প্রকাশিত এবং বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে। সিআইইউর এ উদ্যোগ চট্টগ্রামের শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক বাস্তবতাকে আন্তর্জাতিক পাঠক্রমে তুলে ধরার এক অনন্য উদাহরণ।

ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া, আইআইএম রাঁচি ও ইউইউএম: উচ্চশিক্ষা ও কারিকুলামে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার সহযোগিতায় সিআইইউর শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া, এসওপি, স্কলারশিপ ও গবেষণা প্রস্তুতি বিষয়ে নিয়মিত সহায়তা পাচ্ছেন। ভারতের আইআইএম রাঁচি এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি উতারা মালয়েশিয়ার সঙ্গে যৌথ সেমিনার ও একাডেমিক বিনিময় সিআইইউকে দক্ষিণ এশিয়ার ম্যানেজমেন্ট শিক্ষা নেটওয়ার্কে আরো সক্রিয় করেছে। আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা সম্পর্কিত আলোচনায় এ সহযোগিতা ভবিষ্যতে সিআইইউর পাঠক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিমত, যৌথ গবেষণা, কেস রাইটিং, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, আন্তর্জাতিক সেমিনার এবং অতিথি লেকচার—এসবই সিআইইউকে একটি গ্লোবাল পার্টনারশিপ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করছে। ভবিষ্যতে স্থায়ী ক্যাম্পাসে বিদেশী শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক আবাসন সুবিধা ও আরো সমৃদ্ধ একাডেমিক নেটওয়ার্ক যুক্ত হলে সিআইইউর বিশ্বমুখী যাত্রা আরো অগ্রগামী হবে।