ঐকমত্য কমিশনে দুই দফায় সংস্কার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘ এ আলোচনার পর কী পেলেন?
সংস্কারের জন্য ৩২টি রাজনৈতিক দল অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছে। যার মধ্যে বেশকিছু বিষয়ে আমরা পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ করেছি এবং ঐকমত্য পোষণ করেছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এভাবে একসঙ্গে বসে রাষ্ট্র সংস্কারের কতিপয় মৌলিক বিষয়ে একমত হওয়াকে অনেক বড় একটি অর্জন বলে আমি মনে করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটির কার্যকর উপসংহার হয়নি।
সংস্কার কমিশনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে। প্রথমত, ঐকমত্যের মধ্যে দলগুলোকে নিয়ে আসা। পরবর্তী সময়ে যেসব বিষয়ে আমরা ঐকমত্য অর্জন করেছি সেগুলোকে আইনি ভিত্তি দেয়া এবং সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই তিনটি অংশের ভেতরে এরই মধ্যে একটি অংশ মোটামুটিভাবে সমাপ্ত হয়েছে। সেটা হচ্ছে অনেকগুলো বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে এসেছি। কিন্তু এটাকে আইনি ভিত্তি দেয়ার যে কাজটি সেটি হয়নি। আইনি ভিত্তি দেয়ার পরে যে ধাপটি আসবে তা হলো বাস্তবায়ন। সুতরাং একদিক থেকে আমাদের অর্জন থাকলেও যদি আইনি ভিত্তি এবং এটা বাস্তবায়ন না হয় তাহলে এটার ফলাফল হবে শূন্য। আমরা এখন সে আশঙ্কা করছি। এখানে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়, ফাঁকি দিয়ে বের হয়ে যেতে চায় তারা বলছে যে এটাকে আগামী সংসদেই অনুমোদন দেবে। এর বাইরে এটাকে আইনি ভিত্তি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ কথাটি একেবারেই সঠিক নয় এবং জাতিকে ধোঁকা দেয়ার একটি প্রক্রিয়া। কেননা এ ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অতীতে সৃষ্টি হয়েছিল। যেমন ১৯৭০ সালের যে নির্বাচন হয়েছে সেটা ইয়াহিয়া খানের সামরিক আইনের আওতায়। সেখানে সংবিধান ছিল না। কিন্তু লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (এলএফও) নামে একটা আইনি কাঠামো তৈরি করে ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়েছে।
আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছি যে আমরা যেসব জায়গায় ঐকমত্যে পৌঁছেছি, সেগুলোকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন করতে হবে। এর আলোকেই আগামী নির্বাচন করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অঙ্গীকারও ছিল এটি। আমরা আশা করছি সরকার উদ্যোগ নেবে।
ঐকমত্য কমিশনে আপনাদের বেশকিছু বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। এর মধ্যে কোনটিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় সংকট বলে আপনি মনে করেন?
আমরা এখন পর্যন্ত যতগুলো বিষয়ে ঐকমত্যে এসেছি এবং দুই-তৃতীয়াংশ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করলেই আপাতত সংস্কার অর্জিত হয়েছে বলে ধরে নেয়া যাবে। রাষ্ট্র সংস্কারের তো অনেক বিষয় আছে। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।
তার মানে কি সংস্কারগুলো করা ছাড়া জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে যাবে না?
আমরা তো নির্বাচনে যাওয়ার দল। আমরা নির্বাচনে যাব। নির্বাচনের যে তারিখ দেয়া হয়েছে, সেটা আমাদের প্রস্তাবিত তারিখের মধ্যে আছে। আমরা বলেছিলাম, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল। এখানে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনটা কেমন হবে? এটা কি হাসিনা মার্কা নির্বাচন হবে, নাকি একটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে—এ প্রশ্ন তো রয়েছে।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য আমাদের সুস্পষ্ট কতগুলো বক্তব্য আছে। যার মধ্যে রয়েছে ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে বিষয়গুলো গৃহীত হয়েছে তার ভিত্তিতেই নির্বাচন করতে হবে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে; যেটি নির্বাচনের পূর্বশর্ত। এছাড়া আমাদের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি নির্বাচনের আগে-পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয়ের সঙ্গে আরো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বাচনের জন্য পিআর পদ্ধতিটিই হচ্ছে সর্বোত্তম পদ্ধতি। যেখানে খুব বেশি কারচুপি করার কোনো সুযোগ থাকবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার জন্য এ বিষয়গুলো মানতে হবে; তা না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সরকার যদি আন্তরিক হয় তাহলে নির্বাচনের আগেই এ কাজগুলো করা সম্ভব।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য আগামী দিনে কী ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় জামায়াতে ইসলামী এগোবে?
সব মানুষের অধিকার নিশ্চিতে আমরা ইসলামী অর্থনীতি করব। যেখানে নারী-পুরুষ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত যার যা পাওনা তা নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ ইনসাফকে সামনে রেখে কাজ করা হবে। ইনসাফ হচ্ছে যার যা পাওনা সেটাই তাকে বুঝিয়ে দেয়া। বৈষম্য কিংবা বঞ্চনা হবে না। দ্বিতীয়ত, ভাত, কাপড়, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বেশকিছু বিষয়ে ইসলাম মৌলিক অধিকার দিয়েছে। এই মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা হবে। এ নিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এখানে কোনো ক্ষুধার্ত মানুষ থাকবে না।
ইসলামের জাকাতের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা খুবই চমৎকার। এর ফলে ট্যাক্সের বাইরে আড়াই শতাংশ জাকাত দিতে হবে। ট্যাক্স হবে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে। আর জাকাত হবে গরিবদের জন্য। জাকাতের টাকা দিয়ে ট্যাক্সের কাজ করতে পারবে না। তৃতীয়ত, ফসলের ওপর উশর। চতুর্থত দায়িত্ব। পরিবারের সদস্যদের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। একইভাবে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর দায়িত্বের বিষয়টি নিয়েও আমরা কাজ করব। সুতরাং এখানে কোনো একজন সামর্থ্যবান থাকবে, অন্যরা উপস করবে—ইসলামে এটা হবে না।
আমরা একটা স্লোগান শুনি—কেউ খাবে, কেউ খাবে না...তা হবে না, তা হবে না। এটা কিন্তু রাসুল (সা.)-এর একটা হাদিসের বঙ্গানুবাদ। হাদিসটি হচ্ছে ‘তুমি পেট ভরে খাবে, তোমার প্রতিবেশী খাবে না তাহলে তুমি আমার উম্মত নও।’
জামায়াতে ইসলামী যদি ক্ষমতায় যায় আমরা একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র করব। রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে। শিক্ষাকে আমরা স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি করে দেব। চিকিৎসাকে ফ্রি করে দেব। ন্যূনতম আবাসন নিশ্চিত করব। মহিলাদের সতর ঢাকা ইসলামে ফরজ। ইসলামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে কমপক্ষে সতর ঢাকার মতো কাপড় জনগণকে দেবে। এজন্য জামায়াত যখন ক্ষমতায় যাবে তখন নানামুখী কর্মযজ্ঞ থাকবে। যাতে একজন মানুষ তার সম্মান ও স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারে।
বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের বিষয়গুলো আপনি বললেন। কিন্তু আয়ের উৎস কী হবে?
জাকাত একটা আয়ের উৎস। জাকাত না দিলে রাষ্ট্র সম্পদ আটক করবে। সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্বের কথা বলেছি। যেটা একে অন্যের জন্য করবে। আল্লাহর রাসুল নিজেও ক্ষুধায় পেটে পাথর বেঁধে ছিলেন। এর মাত্র কয়েক বছর ব্যবধানে খলিফা হজরত ওমরের সময় জাকাত নেয়ার মতো লোক ছিল না। জাকাতের টাকা দেয়ার জন্য ঘুরতে হয়েছে। ইতিহাসে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা কী? সেটা দুর্নীতি। দুর্নীতি যদি না থাকে বাংলাদেশের অর্থনীতি তো খারাপ থাকবে না। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে আমরা প্রথম হাত দেব দুর্নীতি প্রতিরোধে।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক রফতানি এখন আমাদের অর্থনীতির বড় হাতিয়ার বলা যায়। আপনারা অর্থনীতির কোন খাতগুলোয় গুরুত্ব দেবেন?
আমাদের সব সময় ইনোভেশন (উদ্ভাবন) প্রয়োজন। উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। পৃথিবী এভাবেই চলছে। আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, আমরা বিকল্প অনুসন্ধানের চেষ্টা করব। যেমন আমরা গার্মেন্টস করছি। এ খাতের বিবর্তনের জন্য অনেক রাস্তা আছে। জামায়াত সেগুলো আত্মস্থ করার চেষ্টা করবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে জামায়াতের মহাসমাবেশে আপনাদের আমির কথা বলেছেন। সম্প্রতি আপনিও বলেছেন, জামায়াতকে সুযোগ দিলে আপনারা ৫৪ বছরের দুর্নীতির ইতিহাস মুছে ফেলবেন। দুর্নীতির ইতিহাস মুছে ফেলার জন্য আপনারা কী ধরনের পলিসি নেবেন?
আমরা প্রথমে অনুপ্রেরণা এবং শিক্ষার মাধ্যমে কাজটা করার চেষ্টা করব। মানুষকে আমরা বোঝাব যে দুর্নীতি করলে তাদেরও ক্ষতি, দেশেরও ক্ষতি। এরপর দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের মনোবৃত্তিকে আমরা মোবিলাইজেশন করব, যাতে তারা দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকে এবং দুর্নীতিতে সাহায্যও না করে। এরপর আইনি ব্যবস্থা নেব, যেখানে দুর্নীতির জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।
আমি মনে করি, যারা রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দায়িত্বে থাকবে, যেমন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্য তারা যদি দুর্নীতি না করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের অধস্তনদের দুর্নীতি অনেক হ্রাস পাবে। অতীতে আমাদের দুজন মন্ত্রী ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ। অন্য সবার দুর্নীতি পাওয়া গেছে, কিন্তু এ দুই মন্ত্রীর কোনো দুর্নীতি খুঁজে বের করা যায়নি। আমি দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলাম, জেলে ছিলাম। কিন্তু আমার দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। পরে আমাকে সার্টিফিকেট দিয়েছে যে আমার বিরুদ্ধে হওয়া চার্জটা ‘মিসটেক অব ফ্যাক্ট।’
আপনারা রাষ্ট্রের বিদ্যমান কোনো আইনের পরিবর্তন নিয়ে ভাবছেন কি?
আমাদের কিছু ফৌজদারি আইন আছে, যেগুলো সময়োপযোগী নয়। এমন কিছু মামলা আছে, আইনের প্যাঁচে, শাস্তি হোক বা খালাস হোক—সেটা মীমাংসা হতে হয়তো পাঁচ বছর লেগে যাবে। তো এই পাঁচ বছর তো অর্থহীন চলে গেল! এসব বিষয়ে সংস্কারের অনেক জায়গা আছে।
সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ ও ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’—এ দুটি বিষয়কে অপরিবর্তনীয় রাখার পক্ষে মত দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইসলামী আইন সংযোজন করার কোনো পরিকল্পনা কি আছে?
এখনই ইসলামী হুকুমত কার্যকর করার ব্যাপারে আমরা কিছু ভাবছি না। কেননা এজন্য প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। মানুষ যখন মানসিকভাবে এর জন্য প্রস্তুত হবে, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে, তখন দেখা যাবে। ইসলাম কোনো কিছু চাপিয়ে দেয় না। আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, আমরা কোনো নারীকে বোরকা কিনে দেব না। তবে আমরা শালীনতাকে উৎসাহিত করব, নৈতিকতাকে উৎসাহিত করব। এতে যদি কেউ উদ্বুদ্ধ হয়ে হিজাব পরেন, সেটা ভালো। কিন্তু যে পরবে না তাকে আমরা জোর করব না।
জামায়াতের পক্ষ থেকে সংস্কারের বিষয়ে বলা হয়েছে—নির্বাচনে অর্থায়নের স্বচ্ছতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করার বিষয়ে আপনারা একমত হয়েছেন। সেটি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
আমাদের যারা প্রার্থী থাকবে তাদের আমরা নজরদারির ভেতর রাখি, যেন তারা কোনো ধরনের দুর্নীতিতে যুক্ত না হয়। তাছাড়া আমরা সৎ মানুষ দেখেই প্রার্থী করছি। আমাদের সংগঠনের ভেতর থেকে পরীক্ষিত কর্মীদেরই প্রাথী নির্বাচিত করা হয়। ফলে আমরা এ নিশ্চয়তা দিতে পারি।
শিক্ষা সংস্কার নিয়ে আপনারা কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন?
বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা চালু করব। বিষয় যাই হোক, সেটা যেন বিশ্বমানের হয়। আমরা যদি কুরআনও পড়াই, আমরা বিশ্বমানের সঙ্গে মিলিয়েই সেটা করব। আমরা যদি অংক শেখাই সেটাও উন্নত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের সঙ্গে মিলিয়েই করব। কারণ শিক্ষা হলো কোনো জাতিকে পরিবর্তনের প্রধান সূত্র। পড়াশোনার সঙ্গে নৈতিক শিক্ষাটা খুবই জরুরি। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থায় এটা সংযোজনের চেষ্টা করব। দুর্নীতি দূর করার মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষায়ই যদি নৈতিকতা শেখানো হয়, জবাবদিহিতা শেখানো হয় তাহলে দুর্নীতি থাকবে না। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি হবে কোয়ালিটি অ্যান্ড মোরালিটি।
দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। নারীদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভাবনা কী?
আমরা মনে করি, নারী ও পুরুষ এ দুই মিলেই সৃষ্টি। আমাদের কাছে সবাই সমান গুরুত্ব পেলেও নারীরা বেশিই পাবে। কেন বেশি পাবে? ইসলামে নারীর মর্যাদা বেশি। ইসলাম নারীদের এ অগ্রাধিকার দিয়েছে। অগ্রাধিকারের এ তালিকায় সর্বপ্রথম থাকবে নারীর নিরাপত্তা। এর কারণ হলো কখনো কখনো নারীরা পুরুষের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হন। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জামায়াত প্রাধান্য দেয়, যেখানে সুযোগ-সুবিধা সমান রাখা হবে। ইসলামে নারীরা যুদ্ধে পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতে পারে।
নারী আসন নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে আপনাদের সর্বশেষ অবস্থানটা কী?
ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে নারীদের জন্য ১০০ আসনের যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে আমরা এটার পক্ষে আছি। এটাই আমাদের অবস্থান। আমরা বলছি, ১০০ আসন থেকেই এটা শুরু করতে হবে। বিএনপি বলছে ৫ শতাংশ করে করে এগোবে। তাহলে তো ১০০ আসনে পৌঁছতে অনেক বছর লাগবে। আমরা তা বলছি না। যার জন্য সামনের নির্বাচন থেকেই আমরা নারীদের জন্য ১০০ আসনের পক্ষে।





