দেশের ব্যাংক খাতের বিরাজমান সংকট বা বিপর্যয়ের সূত্রপাত কখন, কীভাবে শুরু হয়েছিল বলে মনে করেন?
২০০৮ সালে যে জাতীয় নির্বাচন হয়েছিল সেটি নিয়ে অনেক কন্ট্রোভার্সি (বিতর্ক) আছে। আমার ব্যক্তিগত মত বেসামরিক প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রত্যেকে গায়ের জোরে বা যেভাবেই হোক একটি কন্ট্রোভার্সিয়াল নির্বাচিত সরকার করে দিয়েছে। ব্যাংক খাতসহ দেশের অর্থ লুণ্ঠনের সূত্রপাত বলতে গেলে সেখান থেকেই শুরু। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে চারদিকে তাদের লোক নিয়োগ দিতে শুরু করে। ১৯৭৪-এ তারা যেটা করতে চেয়েছিল, বিতর্কিত ওই নির্বাচনের পর সেটির পূর্ণতা পায়। শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটে।
সব ক্ষেত্রে নিজেদের লোক নিয়োগ দেয়ার কথা বললেন। এসবের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পর্ষদে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগ দেয়াও রয়েছে?
অবশ্যই। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রত্যেকটি ব্যাংকের পর্ষদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তারা ঋণ দেয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক নয়, বিগত সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোয়ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে। এক্সিম, আইএফআইসি, ইসলামী ব্যাংক...প্রত্যেকটিতে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। প্রশাসনেও পুরোপুরি রাজনৈতিকীকরণ করেছে। নিজেদের দলীয় লোক না হলে দক্ষ মানুষকেও অন্য জায়গায় বদলি করেছে বা অবসরে পাঠিয়েছে। এগুলো হিতে বিপরীত হয়েছে। গত ১৫ বছরে শুধু ব্যাংক খাত নয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন—সব খাতই তলানিতে নেমেছে। দেশের বিচার ব্যবস্থাও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে নিস্তার পায়নি। আদালত থেকে ন্যায়বিরুদ্ধ রায় হয়েছে। যার আদালতকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা আছে সে বেঁচে গেছে, নির্দোষ ব্যক্তিও শাস্তি পেয়েছে। গুম ও হত্যা লেগে থাকত। আয়নাঘরেরও উৎপত্তি হয়েছে। তারা বলছে, দেশ অনেক উন্নত হয়েছে। মেগা প্রকল্পগুলো করেছে। এটা আমিও মানি। কিন্তু একই সময়ে মেগা দুর্নীতিও হয়েছে। পদ্মা সেতুর প্রথম বাজেট ছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। সেটি পরে ৩২ হাজার কোটিতে ঠেকেছে। কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল করেছে, কারণ ওইপারে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর এলাকা। সেখানে দ্রুত যেতে হবে। এ ধরনের অরাজকতা চলেছে। এসব দেখার বা প্রতিবাদ করার কেউ সে সময় ছিল না।
গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে অর্থনীতির সংকটও একটি বড় কারণ ছিল। আপনি নাজুক একটি পরিস্থিতির পর অগ্রণী ব্যাংকের দায়িত্ব নিলেন। এখানকার সব বিষয় আপনার নখদর্পণে। দায়িত্ব নেয়ার পর ভেতর ও বাহিরে কী অবস্থা পেয়েছেন?
গত বছরের সেপ্টেম্বরে আমি অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নিই। দায়িত্ব নেয়ার দিনই এমডি, ডিএমডি, জেনারেল ম্যানেজারের মতো শীর্ষ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের কাছে জানতে চেয়েছি, ব্যাংকের কী অবস্থা। তারা বলল, ঠিকই আছে। কোনো সমস্যা নেই। আমরা এ বছর দুই হাজার কোটি টাকার মুনাফা অর্জন করব। এ ধরনের বর্ণনা শুনেছি। কিন্তু এর ভেতরে যে সমস্যা সেটি সেদিন কারো কাছ থেকেই শুনিনি। ২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আমি অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ছিলাম। বিদায়ের সময় তথা ২০১০ সালে সবক’টি সূচক ইতিবাচক রেখে গিয়েছি। ২০২৪ সালে এসে দেখি সব সূচক নেগেটিভ। ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত নেগেটিভ। এ অনুপাত রেখে গিয়েছিলাম ১০ শতাংশ। এসে পেয়েছি ২ শতাংশ নেগেটিভ। আমার সময় শ্রেণীকৃত ঋণ ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এটি ৪৪ শতাংশে ঠেকেছে। ২০১০ সালে সম্পদের বিপরীতে আয় (আরওএ) পজিটিভ ছিল ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সেটি এসে পেয়েছি শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ নেগেটিভ। মূলধনের বিপরীতে আয় (আরওই) রেখে গিয়েছিলাম প্রায় ১৪ শতাংশ। সেটি এখন মাইনাস ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। শেয়ারপ্রতি আয় (আর্নিং পার শেয়ার) ছিল ৬৪ টাকা, সেটি এখন ঋণাত্মক ৪৫ টাকা হয়ে গেছে। প্রত্যেকটি জায়গায় এসে নেগেটিভ পেয়েছি। আরেকটি বিষয় আছে, যেটি উন্মুক্ত করা মনে হয় উচিত হবে না। তার পরও বলি, ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিংয়েরও অধঃপতন হয়েছে। ২০০৪ সালেও ক্যামেলস রেটিং খারাপ ছিল, তবে ২০১০ সালে কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে নিতে পেরেছিলাম। সেটি এখন একেবারে তলানিতে নেমে গেছে।
এক বছর ধরে সংগ্রাম করলেন। এখন কোথায় এসে দাঁড়াতে পারলেন?
এক কথায় বললে অধঃপতন হচ্ছিল, সেটি এখন বন্ধ করা গেছে। এখন উঠতে গেলে সময় লাগবে। হুট করে নামানো যায়, ১৫ বছরে যে অবনতি হয়েছে, এক বছরে সেখান থেকে উন্নতি করা সম্ভব না। আমাকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আপ্রাণ চেষ্টা করছি সবকিছু পুনরুদ্ধার করার ও খেলাপি ঋণ কমানোর। আমি অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ে (রাইট অফ) জোর দিচ্ছি। অনেক ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর আদায় প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না, পুনরুদ্ধারও হচ্ছে না। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির কাছ থেকে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা এবং অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ১০ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করেছি। এই নয় মাসে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা নগদ পুনরুদ্ধার হয়েছে। দেড় হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করেছি।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ব্যাংক খাত সংস্কারে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত যতটুকু সংস্কার হয়েছে, সেটিকে কীভাবে দেখেন আর কোথায় ঘাটতি আছে মনে করেন?
কিছু সংস্কার হয়েছে, তবে আরো অনেক জায়গায় সংস্কার দরকার। যেগুলো ইতিবাচক হয়েছে সেগুলোর প্রশংসা করতে হবে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আর্থিক খাতে প্রচুর সংস্কার হচ্ছে। কন্ট্রোল, মনিটরিং, সুপারভিশন প্রচুর পরিমাণে বেড়েছে। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ঋণ বের করে নেয়া বন্ধ হয়েছে। এসব নীতির ধারাবাহিকতা থাকলে আর নিচের দিকে নামার সুযোগ নেই। আমাদের মূল্যস্ফীতি ছিল দুই অংকে। সেটি এক অংকে নেমে এসেছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে সাধারণ জনগণের ওপর চাপ বাড়ে। নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যের চাপ তৈরি হয়। ফলে মূল্যস্ফীতি কমানো একটি বড় অর্জন।
ডলারের বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া ছিল সাহসী সিদ্ধান্ত। অনেকে আশঙ্কা করেছিল শ্রীলংকার মতো দাম উঠে যাবে। প্রতি ডলারের মূল্য ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠে যাওয়ার শঙ্কা ছিল; সেটি হয়নি। এর পুরো কৃতিত্ব অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের। তারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছেন। বর্তমানে উদ্বৃত্ত ডলার বাজার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনে নিচ্ছে। এটিও ইতিবাচক উদ্যোগ। যখন ঘাটতি হবে তখন আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার ছেড়ে দেবে। বিদেশে আমার দীর্ঘ কর্মজীবন ছিল, সেখানে এটি দেখে এসেছি। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ ওপেন মার্কেটে থাকতে হবে।
৮৫ টাকা থেকে ডলারের মূল্য ১২৫-১২৭ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। অর্থাৎ ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ৪০ শতাংশ। এই অবমূল্যায়নে দুটি শ্রেণী খুশি হয়েছে। একটি হলো যারা রেমিট্যান্স পাঠান তারা। আরেকটি হচ্ছে রফতানিকারকরা। রেমিট্যান্স যারা পাঠান, আগে এক ডলারে ৮৫ টাকা পেলেও এখন ১২২ টাকার মতো পান। এর সঙ্গে সরকারের প্রণোদনা আছে। তবে বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ার ভুক্তভোগী আমদানিকারকরা। হঠাৎ করে ডলারের বিপরীতে টাকার ৪০ শতাংশ অবমূল্যায়নে তারা কিন্তু বিপদে পড়েছে। যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক হয়তো নীতিসহায়ক সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করবে। সেটি করলে ব্যাংকগুলো এগিয়ে যাবে।
দেশের ব্যাংক খাতে এখনো দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশেই করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। আপনি কি মনে করেন এ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা অব্যাহত থাকা উচিত?
আমি দেশের বাইরে ২১ বছর কাজ করেছি। ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বিশ্বের কোথাও ব্যাংক খাতে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা নেই। এটি হওয়া একেবারেই উচিত নয়। সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকতে হবে। সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের স্টেকহোল্ডার হবে, এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ অবশ্যই একটিই হবে। আর সেই কর্তৃপক্ষ অবশ্যই হওয়া উচিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মালিকানা সরকারের হওয়ায় এসব ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগ দিতে পারে। কিন্তু এর বাইরে অন্য কোনো প্রভাব থাকা উচিত না। এখানে দেখা যায়, পদোন্নতি থেকে শুরু করে সবকিছু মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।
সরকার ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের পর্ষদে পরিবারতন্ত্র রুখতে একই পরিবারের সর্বোচ্চ দুজন রাখার বিধান রাখা হচ্ছে। আমি মনে করি, কোনো ব্যাংকেই এক পরিবারের এর চেয়ে বেশি সদস্য থাকা উচিত নয়। আর পরিচালকদের অবশ্যই অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও রিলেটেড ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি দক্ষতা না থাকার পরও পরিবারের সদস্য হওয়ায় পর্ষদে চলে গেছে। আর পরিচালকদের সর্বোচ্চ মেয়াদ হওয়া উচিত দুই টার্ম বা ছয় বছর।
খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি সংস্কার কি হওয়া দরকার বলে মনে করেন?
আইনের ফাঁক-ফোকরের কাছে খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা যাচ্ছে না। নিম্ন আদালতে কেউ মামলা করলে মামলার মোট অর্থের ৫০ শতাংশ জমা দিতে হবে। কিন্তু যখন সে হাইকোর্টে যাচ্ছে তখন ভালো আইনজীবী ধরে তার পেছনে খরচ করে মামলা লড়ছে। সেখানে সিকিউরিটি লাগছে না। এটি দুঃখজনক। এটি হতে পারে না। এক দেশে দুই রকম নিয়ম হওয়া উচিত না। উচ্চ আদালতে রিট করার ক্ষেত্রেও ঋণখেলাপিদের অগ্রিম অর্থ জমা দেয়ার বিধান রাখা দরকার। ঋণখেলাপিরা ব্যাংকের কোনো অর্থ ফেরত না দিয়েই বড় আইনজীবী ধরে সিআইবি রিপোর্টের ওপর স্থগিতাদেশ নিয়ে আসছেন। এটি বড় সমস্যা তৈরি করছে। ব্যাংকাররা ভয়াবহ সমস্যার সমুখীন হচ্ছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। আগামী সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ খুব বেশি নয়। এ কারণে তাদের পক্ষে সব সংস্কারের শেষ নামিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বলব, অন্তর্বর্তী সরকার আর্থিক খাত, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সব খাতে যে রাস্তা দেখিয়ে যাচ্ছে, নির্বাচিত সরকার যদি সেটির ফলোআপ করে, পালনের চেষ্টা করে এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা করে তাহলে দেশ খুব দ্রুত আবার সবক্ষেত্রে শীর্ষে পৌঁছে যাবে। বাংলাদেশের বড় একটি সমস্যা হলো ঘন ঘন নীতির পরিবর্তন। এ ধরনের পরিবর্তনের কারণে এখানে বিদেশী বিনিয়োগ আনা কঠিন হয়। এখন প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আসছে না। স্থানীয়ভাবেও কেউ নতুন কিছু করার চিন্তা করছে না। কারণ সে জানে না ভবিষ্যতে কী নীতি হবে। নীতির ধারাবাহিকতা থাকলে বিনিয়োগ আনা অনেক সহজ। সবাই যখন বুঝবে নীতির কোনো পরিবর্তন হবে না, তখন তারা এগিয়ে আসবে। সরকার এনবিআরে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে। অর্থনীতির স্বার্থে এটির খুবই প্রয়োজন ছিল।
দেশের বন্দর, পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক নানা খাতে এখনো অনেক প্রতিবন্ধকতা থেকে গেছে। এখনো রাস্তাঘাটে চাঁদা ওঠানো হচ্ছে। এগুলো যেকোনো উপায়ে বন্ধ করতে হবে। এ সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু রাজনৈতিক সহযোগিতা ছাড়া চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ খুবই কঠিন। এমনকি ছাত্ররাও এখন চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তারা বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে জীবন দিয়ে দেশের জন্য গণ-অভ্যুত্থান করেছে। যে দল নিজেদের চিরকালীন সরকার ভাবত তাদের ক্ষমতাচ্যুত করে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। এখন সে তরুণদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা দেখলে কষ্ট লাগে। অন্যান্য যেসব রাজনৈতিক দল এসবে যুক্ত তাদেরও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। খুন, লুটপাট, চাঁদাবাজি এগুলো বন্ধে রাজনৈতিক নেতারা যদি একজোট হতে পারে তবেই দেশ ও অর্থনীতির উন্নতি হবে।










