২০০৭-০৮ সালে ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের সময় যখন তিনি অন্তরীণ হলেন তারপরে যখন আবার জেল থেকে বেরোলেন তখন দুই-একবার দেখা হয়েছিল তার সঙ্গে। তখন সৌজন্য সাক্ষাৎ, কথাবার্তা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ছিল যখন তিনি হাসিনার পতনের আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ছিলেন। এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—তিনি তো তৎকালীন সরকার এবং তাদের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু এরকম একটা ব্যক্তিগত পারিবারিক প্রতিহিংসার শিকার হলেও আমাদের সঙ্গে যখন আমরা তখন গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতারা এভারকেয়ারে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম, তার কথার মধ্যে কোনো ক্ষোভ, উষ্ণতা, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা প্রতিহিংসা, প্রতিশোধাত্মক কোনো বিষয় আমরা লক্ষ্য করিনি। বরঞ্চ তিনি দেশ, জনগণ, সব কীভাবে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে এটা নিয়ে আলোচনা করেছেন, কথা বলেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য, জনগণের ঐক্য—এটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানে ব্যক্তিগতভাবে তিনি হয়রানি, নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হলেও তার সমগ্র আচরণে এর কোনো রিফ্লেকশন নেই। পাল্টা কোনো প্রতিশোধার্থ বক্তব্য, ঘৃণা-বিদ্বেষ এটা দেখা যায়নি। এ কারণের জন্য বলতে পারেন এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
গত চার দশক ধরে বিএনপি যে আজকের বিএনপি হয়ে উঠেছে এটা অনেকটা তার নেতৃত্বেই বিএনপি রাজনৈতিক দল হয়ে উঠেছে। আমাদের গোটা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। হাসিনার স্বৈরতন্ত্রবিরোধী লড়াইয়ে তিনি শারীরিকভাবে হয়তো অনেক সময় থাকতে পারেননি। কিন্তু তিনি একটা অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছেন, বিশেষ করে—জুলাই অভ্যুত্থান ও তরুণ ছাত্র-যুবক বা রাজনৈতিক নেতাদের, সেখানেও তিনি বলতে পারেন তার ভূমিকা মানুষকে উৎসাহিত করেছে, উদ্দীপ্ত করেছে। তার শূন্যতাটা সহজে পূরণ হওয়ার নয়, কয়েক দশক ধরে যারা গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলবেন ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রবিরোধী লড়াই করবেন, সেখানে তিনি একটা আইকনিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আমার মনে হয় ইতিহাসে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন।










