ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকা অবস্থায় বিশেষত শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়। তিনি অন্যকে সম্মান করতেন। আমাকে যখন পিএসসির চেয়ারম্যান হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তখন প্রথমে আমি রাজি হইনি। এ কারণে বিনয়ের সঙ্গে নিজের দ্বিমত জানিয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে আমাকে যখন বেগম খালেদা জিয়া তার বাসায় ডেকে চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তখন এ পদের দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিই। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি কখনো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো তদবির কিংবা অনুরোধ পাইনি। আমি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছিলাম। ফলে আমার জন্য দায়িত্ব পালন সহজ হয়ে গিয়েছিল এবং সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতেই নিয়োগগুলো হয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যখন দায়িত্ব পালন করেছি তখনো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেয়েছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো বিষয় জানাালে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করতেন। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একবার উত্তরায় জমির আবেদন করেছিলেন। এর মাঝেই আমাদের একটি অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন। তখন আমি তার কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করে বলেছিলাম শিক্ষকদের যা বেতন-ভাতা, তা দিয়ে শিক্ষকদের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে জমি ক্রয় করা অসম্ভব। এ কারণে আমরা এ ধরনের একটি উদ্যোগ নিতে চাচ্ছি, যেখানে শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে। তিনি তখন শিক্ষকদের বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন এবং অনুমতি দিয়েছিলেন। এ উদ্যোগ কোনো দলীয় বিবেচনায় নয়, বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষকের জন্য ছিল। এছাড়া সুফিয়া কামাল হল এলাকার যে জায়গা সেটিও আমাদের দখলে ছিল না। তিনি এ জমিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে আনার ব্যবস্থা করেন।
তিনি শিক্ষা অনুরাগী একজন নেত্রী ছিলোন। শিক্ষকদেরও অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং গুরুত্ব দিতেন। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো তাদের মান বজায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তার মৃত্যুতে কেবল নির্দিষ্ট কোনো দল নয়, বরং রাষ্ট্র একজন যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতা হারিয়েছে। তিনি শুধু দলের জন্য নয়, দেশের সব মানুষের জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি দেশকে সবার ওপরে রেখেছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়ায় মধ্যে অন্যকে সম্মান করার, কাউকে নিয়ে কটূক্তি না করার, সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার এবং সবার ওপরে দেশকে রাখার যে নীতি ছিল সেটি পরবর্তী রাষ্ট্রনেতাদেরও ধারণ করা উচিত।










