বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য সংগঠন থেকে আমি যত অনুরোধ নিয়ে গিয়েছি, তিনি কখনই তা নেতিবাচকভাবে দেখেননি। প্রতিটি বিষয় ইতিবাচকভাবে দেখে, বুঝে সমাধান দিতেন। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বিকাশে যদি একজন মানুষকে ধন্যবাদ দিতে হয় বা কৃতজ্ঞতা জানাতে হয়, তবে তিনি খালেদা জিয়া।

আজ মন খারাপের মধ্যে অনেক স্মৃতিই এ মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে ‘আপা’ বলে ডাকতাম। তিনিও আমাকে ভাইয়ের মতোই জানতেন। তার বাসায় গেলে পুত্রবধূকে (আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী) ডেকে বলতেন, ‘ইনি হলেন তোমাদের মামা। আমার অবর্তমানে তিনি যদি এই বাড়িতে আসেন, জানবে আমার ভাই এসেছে।’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ যতটা ছিল, তার চেয়েও বেশি ছিল বোনের মতো। তিনি আমাকে মন্ত্রী হতে বলেছিলেন, সংসদ সদস্য হতে বলেছিলেন, এ রকম অনেক দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন; কিন্তু আমি সেগুলো এড়িয়ে গিয়েছি। একপর্যায়ে আমি এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি হই। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বিকাশের জন্য আমাকে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি হিসেবে দেখার প্রত্যাশা তার ছিল।

বেসরকারি খাতের বিকাশের জন্য তিনি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন। আমাদের আমদানি-রফতানি বা যত কারখানা দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে তার সময়েই। ২০০১ থেকে ২০০৬ সময়ের পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি বিশেষ করে তার সময়েই হয়েছে। তিনি সর্বতোভাবে বেসরকারি খাতের জন্য কাজ করেছেন।