খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য নাম। জনগণের কাছে তিনি একজন আপসহীন ও সংগ্রামী গণতান্ত্রিক নেত্রী হিসেবে পরিচিত। তিনি সবসময় দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখেছেন। তার মতো জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশের খুব কম নেতাই অর্জন করতে পেরেছেন।
আমার সঙ্গে খালেদা জিয়ার প্রথম পরিচয় ঘটে ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে, পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত এক অফিসার হিসেবে। সামরিক রীতি অনুযায়ী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রশিক্ষকরা আমাকে ডিনারের জন্য নিয়ে যান মেজর জিয়াউর রহমানের বাসায়। সেখানেই প্রথম দেখা হয় তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। তার সৌন্দর্য, সংযত ও চারুবাক আচরণ, অতিথিপরায়ণতা এবং আন্তরিক ব্যবহারে আমি গভীরভাবে মুগ্ধ হই। সেই সাধারণ গৃহবধূ যে একদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা তখন কল্পনাতীত ছিল।
পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত তার বাসায় যাতায়াতের সুযোগ পাই এবং খালেদা জিয়াকে একজন ধৈর্যশীল, শান্ত ও দৃঢ়চেতা নারী হিসেবে আরো কাছ থেকে দেখি। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে সুসংহত করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার নির্যাতন, কারাবরণ, মিথ্যা মামলা, গৃহচ্যুতি এবং ব্যক্তিগত শোক পুত্র হারানোর বেদনা—সবই অসীম ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন। অসীম ধৈর্যের সঙ্গে এসব বিপদসংকুল পরিস্থিতি তিনি মোকাবেলা করেছেন। জনগণের হৃদয় স্থান নিয়েছেন। গণতন্ত্রের জন্য রাজপথে নেমেছেন। এমনকি জাতীয় সংসদেও বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকারের পথেও তিনি উন্মুক্ত করে দিয়েছেন সবার জন্য। তার এই অপরিসীম লড়াকু ভাবমূর্তি জন্যই জনগণ তাকে আপসহীন নেত্রী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং তিনিও জনগণের কাছে একজন প্রিয় নেত্রী হিসেবে জনগণের ভালোবাসার নেত্রী হিসেবে চিরদিন অম্লান, অক্ষত হয়ে থাকবেন জনগণের হৃদয়ে।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য










