বেগম জিয়ার সঙ্গে আমি প্রায় ১২ বছরের মতো কাজ করেছি। আমি বার্ডের মহাপরিচালক ছিলাম, এনজিও ব্যুরোর ডিজি, পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলাম। নানা ক্ষেত্রে তার মতো বিরল ব্যক্তিত্ব ও সফল নেতৃত্ব কম দেখেছি। তিনি ব্যক্তি হিসেবে অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও মিতভাষী ছিলেন। অত্যন্ত নীতিবান ও দেশের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। এ রকম নেতৃত্ব বাংলাদেশ খুব কমই দেখেছে। বাংলাদেশই ছিল উনার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের জায়গা। সরকারি ও প্রশাসনিক কোনো নীতির জায়গাতেই তিনি আপস করেননি। একই সঙ্গে আমাদের কাজে কোনো অযাচিত হস্তক্ষেপ করেননি। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করা, রাষ্ট্রীয় নীতির বাইরে গিয়ে তাদের কোনো কাজে বাধ্য করার মতো কোনো কাজ করতে দেখিনি। সরকারি কর্মকর্তারাও এ কারণে খুব আশ্বস্ত হতেন।
কেবিনেটের ও সরকারের টিম লিডার হিসেবে অন্যদের চেয়ে তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি অন্যান্য প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধানের মতো ডিক্টেট (নির্দেশ) দিতেন না। উনি সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে যেটা ভালো সিদ্ধান্ত তা গ্রহণে সাজেশন দিতেন, নিজের মতামত বা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতেন না। সরকারপ্রধান হিসেবে এটা তার বড় গুণ বলে মনে করি।
আমার সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়েছে গত সশস্ত্র বাহিনী দিবসে। তিনি আমাকে স্পষ্ট মনে রেখেছিলেন। তিনি আমাকে দেখে বলেছিলেন, ‘আপনার ওপর তো অনেক চাপ যাচ্ছে, টেলিভিশনে দেখি।’ অবাক হয়েছি, এ রকম নাজুক শরীর নিয়ে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কেমন ভাবিত ছিলেন!
তার নেতৃত্বের বড় পরিচয় হচ্ছে দেশের প্রতি দায়িত্ব ও মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ। তার মেয়াদকালে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মকানুনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। ২০০৯ সালের পর থেকে সে ধারাবাহিকতায় ছন্দপতন হয়েছে।
তার শাসনকালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক পলিসি ও রাজনীতি—দুটো তিনি আলাদাভাবে দেখতেন। অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে দিতেন না। বেগম জিয়া স্রেফ একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন স্টেটসম্যান (রাষ্ট্রনায়ক)। উনি স্রেফ দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি দেশের নেত্রী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।










