১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর আমাকে ঢাকা জোনের ফোর্টিসিক্স ব্রিগ্রেডের কমান্ডার বানিয়েছিলেন। আমার ওপর আস্থা থেকেই এ দায়িত্ব তিনি অর্পণ করেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর আমি এ দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তীতে আমাকে সরাসরি ডিজিএফআই প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়। যদিও ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেলের পোস্ট। ১৯৯৪ সালের শেষ দিকে এসে আমাকে ডিজিএফআইর ডিজি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পরের বছরই আমাকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়।

১৯৯৫ সালের শেষ দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ আন্দোলন করছিল। খালেদা জিয়া ১৯৯৬ এর ফেব্রুয়ারিতে আমাকে ডেকে বলেন, ‘আপনি নাইন ডিভিশনের দায়িত্ব নেন, আর্মিতে যেকোনো সময় একটা অভ্যুত্থান হতে পারে। আওয়ামী লীগের পক্ষ হয়তো কোনো একটা অভ্যুত্থান করবে। আপনি নাইন ডিভিশনে চলে যান।’ আমি নাইন ডিভিশনে ১৯৯৬ সালের মার্চের ১ তারিখে যোগদান করি। সেই বছরের ২০ মে জেনারেল নাসিম প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবস্থান দেন এবং সামরিক অভ্যুত্থান করার চেষ্টা করেন। বেগম জিয়ার দেয়া পূর্বাভাস বাস্তব হয়।

আগাম পূর্বাভাস উনার কথাবার্তার মধ্যে বোঝা যেত। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এ এস এম নাসিমের অভ্যুত্থানকে আমি প্রতিহত করি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস আমাকে নির্দেশ দেন ঢাকা শহর রক্ষা করার জন্য। সে সময় নাসিমপন্থী সৈনিকদের প্রতিরোধ করে ঢাকা শহর নিরাপদ ও মুক্ত রাখি। পরে প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস নাসিম সাহেবকে পদচ্যুত করেন। জেনারেল মাহবুব সেনাপ্রধান হওয়ার পরে সেনাবাহিনীর মধ্যে ঐক্য ফিরে আসে। সবাই রাষ্ট্রপতির প্রতি অনুগত থেকে ১২ জুনের নির্বাচন পরিচালনা করে। বেগম জিয়া সংকটের আগেই পূর্বাভাস পেয়ে যেতেন।

১৯৯৬ সালের জুন মাসে যে নির্বাচন হয় সে সময় আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকি। আমাদের নিরপেক্ষতার জন্যই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ তাদের মেধার ভিত্তিতে, তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ভিত্তিতে ক্ষমতায় এসেছিল। পরবর্তী পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিল।

খালেদা জিয়া সঠিক মানুষকে সঠিক জায়গায় বসিয়েছিলেন বলে উনার কোনো সমস্যা হয়নি। উনি আপসহীন নেত্রী, আপসহীনভাবে চলেছেন। এরশাদের সময় খালেদা জিয়া আপসহীন ছিলেন, হাসিনার সময়ও আপসহীন ছিলেন। আমি উনার রুহের মাগফেরাত কামনা করি।