যতবারই তার কাছে গিয়েছি, তার মনোভাব খুবই ইতিবাচক ছিল। তিনি আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। যখনই দেখা হতো, আমাদের আলোচনা সবসময় আনন্দদায়ক ও ফলপ্রসূ হতো। ওনার কাছে গেলে বিভিন্ন বিষয় তিনি বিস্তারিতভাবে, সময় দিয়ে শুনতেন এবং বোঝার চেষ্টা করতেন। তিনি খুব সহায়ক ছিলেন। ওনার বড় গুণ ছিল যে তিনি বিস্তারিতভাবে আমাদের সমস্যাগুলো শুনতেন এবং বোঝার চেষ্টা করতেন। ওনার সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা আনন্দদায়ক ছিল।
তার শাসনামলে ভ্যাটের প্রবর্তন হয়। প্রাথমিক অবস্থায় ওই বিষয়টি নিয়ে আমাদের কিছু উদ্বেগ ছিল। এটি ভালোভাবে বোঝানোর জন্য আলোচনা হতো। তিনি বলতেন, এটা ভোক্তা থেকে প্রাপ্ত হচ্ছে। আমরা সরকারের পক্ষে এটি সংগ্রহ করছি। ওই সময় তিনি অন্যান্য দেশের ভ্যাট বাস্তবায়নের তথ্যও জানাতেন। ভ্যাটের ওই সিদ্ধান্তটি ঐতিহাসিক ছিল। ওই সময় তার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বোঝার প্রজ্ঞা আমি দেখেছি। তিনি কখনই রেগে যেতেন না। অনেকবার সরাসরি আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু মেজাজ হারানোর কোনো দৃশ্য আমি দেখিনি। তিনি কখনো বিরক্ত হতেন না। সব মিলিয়ে আলোচনাগুলো শান্তিপূর্ণ ও আনন্দদায়ক ছিল।
আমাদের বাবার প্রতি তার বড় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। যখনই ওনার সঙ্গে দেখা হতো, ওনার কাছে গেলে খোঁজখবর নিতেন। বলতেন, ‘তোমার বাবা কেমন আছেন? তোমরা কি যথেষ্ট সময় দিচ্ছ?’ এটি অনেকটা অভিভাবকের মতো আচরণ ছিল। পরিবারের সদস্যদের মতোই তিনি জানতে চাইতেন যে আমরা ঠিকমতো সময় দিচ্ছি কিনা। আমাদের সঙ্গে তার এই ব্যবহার খুবই সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী ছিল।
তপন চৌধুরী
সাবেক সভাপতি, এমসিসিআই (২০০২-০৩)










