আমার সঙ্গে তার বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতির বিভিন্ন দিক, ব্যবসায়ীদের সমস্যা এবং ব্যাংক খাত নিয়ে। তিনি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। শুনে বলতেন, তিনি দেখছেন এবং ব্যবস্থা নেবেন। দেখা যেত, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু না বললেও পরে ব্যবস্থা নিতেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, এটি তার একটি ইতিবাচক দিক ছিল। বেসরকারি খাতের প্রতি তার বিশেষ নজর ছিল, যেহেতু বেসরকারি খাত দেশকে এগিয়ে নিচ্ছিল। ফলে তাদের প্রতি তার আস্থা ছিল এবং সহমর্মিতা ছিল। আমি যেভাবে তাকে দেখেছি, তিনি ছিলেন একজন ব্যতিক্রমধর্মী নারী। কথাবার্তা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই তিনি মার্জিত ছিলেন। খুব ভালোভাবে খেয়াল করতেন, শুনতেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করতেন।

আমি মনে করি, এই মানের, এই রকম দৃঢ়চেতা এবং এই রকম ব্যক্তিত্বের নেতা বাংলাদেশ আর পাবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। সালাম দিয়ে যখন বলতাম, কেমন আছেন, তিনি খুব সুন্দরভাবে বলতেন যে ভালো আছেন। তিনিও জানতে চাইতেন, আমি কেমন আছি।

এম সাইফুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে মোটামুটি বাজার অর্থনীতির জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সে সময় অনেক সমালোচনা হলেও পরে দেখা গেছে, ওই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। এরপর ভ্যাটের মতো একটি কার্যকর রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থা চালু করা হয়। এটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও বিরোধিতা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই বিরোধিতা অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়টি না বুঝে করা হয়েছিল।