যতগুলো ট্রেড বডি বা ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধি ছিলেন, সবাইকে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখতেন। সবার কথা শুনতেন, মনোযোগ দিয়েই শুনতেন। আমাদের কথাও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি কথা কম বললেও পুরো বিষয়টি অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে শুনতেন। এরপর আমরা সমাধান পেতাম। ধৈর্য ধরে শোনা ছিল তার সবচেয়ে বড় গুণ।

যখনই সময় চাওয়া হতো, তিনি সময় দিতেন। প্রতি মাসে দুই-তিনবার বিভিন্ন কারণে তার সঙ্গে দেখা করতাম। বিজিএমইএর যেকোনো ধরনের সমস্যা নিয়ে গেলে তিনি সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নিতেন। এরপর আমরা যখন বিদেশে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রির জন্য চেষ্টা করি, তখন তিনি জনাব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে বলে দিতেন আমাদের সহায়তা করতে। কোটার ক্ষেত্রে যখন এমবার্গো আসে, তখনো তিনি তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী জনাব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে বিজিএমইএকে সহায়তা করার নির্দেশ দেন। তিনি সর্বাত্মকভাবে আমাদের সহায়তা করেছেন।

মানুষ হিসেবে খালেদা জিয়া ছিলেন অমায়িক। এতদিন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি, কোনো সময় তাকে জোরে কথা বলতে দেখিনি। অন্তত আমি তাকে কখনো রাগ করতে দেখিনি। তিনি খুবই ভদ্র ও বিনয়ী ছিলেন। প্রত্যেকটি সভায় তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে অংশ নিতেন এবং ধৈর্যের সঙ্গে পুরো বিষয়টি শোনার চেষ্টা করতেন।

পোশাক শিল্পের বিকাশে তার অবদান সবসময়ই অনেক। সফলতায় সব সরকারই ভূমিকা রেখেছে, কিন্তু তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যতগুলো সমস্যা নিয়ে আমরা তার কাছে গিয়েছি, তিনি সবই সমাধানের চেষ্টা করেছেন। আমরা যেভাবে প্রস্তাব দিতাম, তিনি যদি সেটিকে যৌক্তিক মনে করতেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর করতে বলতেন বা নিজেই ব্যবস্থা নিতেন। আমরা যখন দেশের বাইরে গিয়েছি, কাকে সঙ্গে নেয়া উচিত, এ ধরনের খুঁটিনাটি বিষয়েও তিনি সহায়তা করেছেন। অর্থনীতির উন্নয়নের যেকোনো প্রস্তাব নিয়ে গেলে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে শুনতেন।

আমি দেখেছি দুর্নীতির কোনো অভিযোগ পেলে তিনি তা সমাধানের চেষ্টা করতেন। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং কী হয়েছে তা দেখার নির্দেশ দিতেন। অভিযোগগুলো তিনি যথাযথভাবে আমলে নিতেন। সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে তদন্ত ও অনুসন্ধান করিয়ে নিতেন এবং সিদ্ধান্ত নিতেন খুব সুচিন্তিতভাবে।

আমার মনে আছে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদরুদ্দোজা চৌধুরী যখন রাষ্ট্রপতি হন, তখন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা তার কাছে যাই। আমরা কিছু বলার আগেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, আমরা কাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রত্যাশা করছি। শেষ পর্যন্ত তিনি আমাদের কথাই রেখেছিলেন। জনাব মোর্শেদ খান তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এত বড় একটি পদে তিনি আমাদের সবার কথা বিবেচনা করে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। শোনা যাচ্ছিল, তার প্রতি তিনি কিছুটা বিরাগভাজন ছিলেন, কিন্তু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের অনুরোধ তিনি উপেক্ষা করেননি। এটি তার একটি বড় গুণের বহিঃপ্রকাশ। ব্যবসাবান্ধব সরকার গঠনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এককথায় বলা যায়, তিনি একটি ব্যবসাবান্ধব সরকার পরিচালনা করেছিলেন।