দেশে বড় আকারের বিনিয়োগের গতি এখন ধীর। এ অবস্থায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এমএসএমই খাতে বাড়তি মনোযোগ প্রয়োজন আছে কি? খাতটি এখন কেমন করছে?

ধীরগতি থাকলেও এমএসএমই খাত এখন যথেষ্ট স্থিতিশীল এবং স্থানীয় চাহিদা ও সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধরে রেখেছে। ফলে এ খাতকে আরো সহজে অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বাজার সংযোগ দিয়ে সমর্থন করা গেলে অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

এমএসএমই খাতের অনেক উদ্যোক্তা ব্যাংক ঋণ সুবিধার বাইরে আছেন। তাদের জন্য ঋণের সুবিধা নিশ্চিত করতে আপনাদের ভাবনা বা উদ্যোগ কেমন?

মিডল্যান্ড ব্যাংক শুরু থেকেই অন্তর্ভক্তিমূলক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। এর ধারাবাহিকতায় আমরা দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে সর্বস্তরের আনব্যাংকড উদ্যোক্তাদের জন্য বিকল্প স্কোরিং পদ্ধতি, ব্যবসাভিত্তিক ক্রেডিট প্রোফাইলিং ও ডকুমেন্টশন সহজীকরণের কাজ করছি। এছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিং ও ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহক মূল্যায়ন এবং ঋণ প্রস্তাব প্রক্রিয়া দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ খাতে গতি আনতে আগামী দিনে মাইক্রো এবং ইনফরমাল উদ্যোক্তার জন্য পৃথক প্রডাক্ট ও স্কিম চালুর পরিকল্পনা আছে।

দক্ষতা ও তথ্যের ঘাটতি, প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা দেশের এমএসএমই খাতের জন্য বড় সমস্যা। এর সমাধানে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন?

প্রথমত, উদ্যোক্তাদের জন্য টার্গেটেড স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ও আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ দরকার। দ্বিতীয়ত, মোবাইল বা অ্যাপভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা, হিসাবরক্ষণ ও ডিজিটাল লেনদেন শেখাতে স্থানীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অপরিহার্য। সরকার, ব্যাংক ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এসব করতে হবে। তথাপি মিডল্যান্ড ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রামের আওতায় প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত হেড অফিস, শাখা ও এজেন্ট ব্যাংকের দক্ষ কর্মীবাহিনী দ্বারা আধুনিক ও তথ্যবহুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করেছে।

চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে রফতানি আয়ে এমএসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ কীভাবে এমএসএমই খাতকে রফতানিমুখী করতে পারে?

বাংলাদেশের এমএসএমইগুলোকে রফতানিমুখী করতে হলে তিনটি স্তরে কাজ করতে হবে:

১) আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে সহায়তা (বিএসটিআই, হালাল সার্টিফিকেশন ইত্যাদি)

২) ই-কমার্স ও অনলাইন এক্সপোর্ট প্লাটফর্মে প্রবেশে সহায়তা এবং

৩) রফতানি খাতে প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সাপোর্ট।

বিশেষ করে হস্তশিল্প, চামড়া, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যে বাংলাদেশে বড় সম্ভাবনা আছে।

এমএসএমই খাতে কোন ধরনের প্রডাক্টকে সম্ভাবনাময় মনে করেন?

আমি মনে করি কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হোম টেক্সটাইল ও আইটি সার্ভিসভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া গ্রামীণ নারীদের তৈরি খাদ্য ও লাইফস্টাইল পণ্য নিয়ে স্থানীয় এবং বৈশ্বিক বাজারে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় আপনাদের কী ধরনের পরিকল্পনা আছে?

আমরা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রডাক্ট, কম সুদের ঋণ, স্বল্প জামানত এবং নারী-ফোকাল শাখা বা রিলেশনশিপ অফিসার নিয়োগ করেছি। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সাক্ষরতার কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। আগামীতে ডিজিটাল নারী উদ্যোক্তা প্লাটফর্ম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

আপনাদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেটওয়ার্ক কীভাবে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছতে সাহায্য করছে?

আমাদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এজেন্ট ব্যাংকিং, উপশাখা, রিলেশনশিপ ম্যানেজাররা মাঠ পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। স্থানীয় মেলা, ট্রেড শো ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের চাহিদা বুঝে আমরা পণ্য ও সেবার ডিজাইন করছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে আগামীতে আরো বিস্তৃত ও কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি।