এসএমই ফাউন্ডেশনের পথচলা দীর্ঘ ১৬ বছরের। এ সময়কালে ফাউন্ডেশনের অর্জন নিয়ে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?
এসএমই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২০ লক্ষাধিক উদ্যোক্তাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সেবা দিয়েছে। ফাউন্ডেশন প্রায় পাঁচ হাজার কার্যক্রমের মাধ্যমে আড়াই লাখের বেশি উদ্যোক্তাকে সরাসরি সেবা প্রদান করেছে। এদের মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ নারী। প্রতি বছর আমাদের কার্যক্রমের পরিধি যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি সমানুপাতিক হারে বেড়েছে উপকারভোগীর সংখ্যা, বিশেষত প্রান্তিক পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ উল্লেখ করার মতো।
বিগত বছরগুলোয় এসএমই ফাউন্ডেশনের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম—
—জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সংযোগ স্থাপনে আয়োজিত ‘জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা’ সব ধরনের এসএমই উদ্যোক্তাদের বার্ষিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। উদ্যোক্তারা সারা বছর এ মেলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। ফাউন্ডেশন এ পর্যন্ত মোট ১১টি জাতীয় এসএমই পণ্যমেলার আয়োজন করেছে।
— এসএমই ফাউন্ডেশন প্রদত্ত ‘জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার’ সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের কাছে বড় অনুপ্রেরণার উৎসে পরিণত হয়েছে।
— এখন পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১১ হাজার এসএমই উদ্যোক্তার মাঝে ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ বিতরণ করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। বর্তমানে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল থেকে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এখানে ঋণপ্রাপ্তদের ২৬ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা।
— সব ক্ষেত্রে নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকল্পে ফাউন্ডেশন নিয়মিত কর্মসূচির পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান, অর্থায়ন সহায়তা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কর্মসূচি গ্রহণ, পণ্যের মানোন্নয়ন, বাজার তৈরিতে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন (ওমেন অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট) উইংয়ের মাধ্যমে সেবা প্রদান।
বিগত বছরগুলোয় যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছিল তার কতটুকু অর্জন হয়েছে?
এসএমই ফাউন্ডেশন বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সর্বদাই সফলতা দেখিয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা চুক্তি বাস্তবায়নে এসএমই ফাউন্ডেশন শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। এছাড়া নিয়মিতভাবে এসএমই ফাউন্ডেশন দ্বিতীয়, তৃতীয় অথবা চতুর্থ স্থান অর্জন করে আসছে।
এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর বিষয়ে কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে?
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসএমই ফাউন্ডেশন উদ্যোক্তাদের অ্যাডভাইজরি সেবা দিয়ে আসছে। ফাউন্ডেশনের সব কাজ সম্পর্কে এখানে তথ্য পাওয়া যায়। এই ডেস্ক এসএমই ফাউন্ডেশনের ওয়ান স্টপ সার্ভিস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে।
ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া কতটা এগিয়েছে?
ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন অনেক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নতুন যুগে প্রবেশ করতে এসএমই ফাউন্ডেশনের সহায়তা পাচ্ছেন। এটি শুধু উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে না, বরং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ উদ্যোগ চালু রাখতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রফতানিমুখী এমএসএমই প্রতিষ্ঠান নিয়ে আপনাদের কোনো বিশেষ ভাবনা আছে কিনা?
ফাউন্ডেশন রফতানি সম্ভাবনাময় এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য রফতানি সহায়ক বিভিন্ন কার্যক্রম, যেমন এক্সপোর্ট রেডিনেস প্রোগ্রাম, রফতানিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি এবং মেলায় অংশগ্রহণ, পণ্যের মানোন্নয়ন ও বহুমুখীকরণ, ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট প্রভৃতিসহ প্যাকেজ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায়, এসএমই উদ্যোক্তাদের রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ফাউন্ডেশন এ বছর রেডিনেস ফর ইন্টারন্যাশনালাইজেশন থ্রু স্কিল এনহান্সমেন্ট (আরআইএসই) কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
এসএমই ফাউন্ডেশনের কাজের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয় কিনা?
আর্থিক সক্ষমতা তুলনামূলক কম (এককালীন ফান্ড, জাতীয় বাজেটে নিয়মিত বরাদ্দ না থাকা, ট্যাক্স মওকুফ না হওয়া), বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ে অফিস না থাকা। অন্যান্য দেশের মতো এসএমই ফাউন্ডেশনের অথরিটেটিভ ক্ষমতা না থাকা। স্থায়ী ঠিকানা বা ভবন না থাকা।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাই।
এসএমই ফাউন্ডেশন আগামী তিন বছরের জন্য অনেক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসবের মধ্যে আছে—১৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও মেন্টরশিপ প্রদান; ২৫ হাজার উদ্যোক্তাকে দক্ষতামূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান; বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে এসএমই প্রডাক্ট ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার স্থাপন; বিভিন্ন জেলা শহরে আঞ্চলিক এসএমই পণ্যমেলা আয়োজন; সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ; নারী উদ্যোক্তাসহ প্রান্তিক পর্যায়ের সিএমএসএমই খাতের ১০ হাজার উদ্যোক্তাকে ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ (এথনিক, প্রতিবন্ধকতাযুক্ত উদ্যোক্তাসহ); এসএমই ফাউন্ডেশন চিহ্নিত এসএমই ক্লাস্টারগুলোর মধ্যে ৩০টি নতুন ক্লাস্টারে উন্নয়ন চাহিদা নিরূপণ সাপেক্ষে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা; ডিজিটাল প্লাটফর্ম এসএমইএফ সাপ্লায়ার প্ল্যাটফর্ম ফর ওমেন অন্ট্রাপ্রেনিউস-এর মাধ্যমে তিন হাজার নারী উদ্যোক্তাকে করপোরেট ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন; বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিজনেস প্ল্যান কম্পিটিশন আয়োজন; পাঁচ হাজার উদ্যোক্তাকে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় আনা এবং ৫০০ উদ্যোক্তাকে আধুনিক প্রযুক্তি আত্মীকরণ কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।










