খাবার পরিবেশনের নান্দনিকতার চর্চা বিশ্বজুড়েই সামদৃত। ফল ও সবজি কার্ভিং করে প্লেটে সাজানোও হতে পারে একটি উদ্যোগ। সেটিরই প্রমাণ দিয়েছেন দিনাজপুরের মেয়ে আবিদা সুলতানা। ফল ও সবজিতে তার নিপুণ কারুকাজে মোহিত করছেন সাধারণ মানুষকে। গায়ে হলুদ কিংবা বিয়ে, নানা অনুষ্ঠানে এ চাহিদা পূরণ করছেন তিনি।
শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে। নিজের গায়ে হলুদে স্টেজ এবং অন্যান্য সাজসজ্জার কাজ করেছিলেন তিনি। কুড়িয়েছিলেন প্রশংসাও। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাননি। প্রথমে শখের বশে করলেও পরে তা পেশা হিসেবে নেন। ১৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি মনোযোগ দেন কার্ভিংয়ে। বর্তমানে এ কাজের মাধ্যমে লাখ টাকাও আয় করছেন তিনি। যদিও শুরুর দিকে পরিবারের তেমন সহযোগিতা তিনি পাননি। তবে পরে পরিবারের মানুষজন বুঝতে শুরু করে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যও তার এ কাজে সহায়তা করছে।
ছোট থেকেই শৈল্পিক কাজকর্মের প্রতি তার অন্য রকম আগ্রহ ছিল। স্কুল-কলেজে পড়া অবস্থায় টিভি দেখে দেখে অল্প পরিসরে কার্ভিংয়ের কাজ করতেন। সেই আগ্রহ থেকেই দিনাজপুর থেকে ২০০৩ সালে ঢাকায় গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘পড়ালেখা করা অবস্থায়ও টুকিটাকি কার্ভিং করতাম। কলেজের বিভিন্ন মেলা বা পিঠা উৎসবে অংশ নিতাম। আমার এ ধরনের কাজের প্রশংসা করত আশপাশের মানুষ। আমার কাজ দেখতে আসত। সেখান থেকেই কাজটিকে পেশা হিসেবে নেয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। শুরুতে আমাকে অনেকেই বলেছে, এ কাজ দিয়ে কতটুকুই বা আয় করা যায়। তবে আমি কখনই হাল ছাড়িনি। ফুড কার্ভিং নিয়ে আমি হাতে-কলমে শিখি এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে।’
মৌসুমের ওপর নির্ভর করে আয়ের পরিমাণ। কখনো কখনো মাসে ২ লাখ টাকাও আয় করেন তিনি। বিয়ের মৌসুমে চাহিদা বেশি থাকে। এ কারণে আয়ও বেশি হয়। যেমন নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি। এছাড়া দিনাজপুরে তার আরেকটি শোরুম আছে, নাম ব্রাইডাল ক্রিয়েশন। সেখানে বিয়ে, গায়ে হলুদের ডালা, রাখি, গহনা ইত্যাদি করা হয়। ফুড কার্ভিং একা করেন। বাদবাকি সব কাজে যুক্ত রয়েছেন পরিবারের অন্যান্য সদস্য। এছাড়া তিনজন কর্মীও রয়েছে।
কাজের পাশাপাশি পরিবারকেও সময় দেন তিনি। আবিদা সুলতানা জানান, সন্তান যখন স্কুলে থাকে বা ঘুমায় তখন নিজের কাজগুলো করেন। স্বামীকেও এ কাজে পাশে পেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কার্ভিংয়ের ওপর বিভিন্ন কোর্সও নেন তিনি। প্রায় দুই-তিন হাজার মানুষকে কার্ভিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এ পেশায় প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ধীরে ধীরে মানুষ আসছে বলে জানান তিনি। এছাড়া তিনি ইম্পেরিয়াল হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন।










