শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে আরো এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ২৭ জুনকে ‘এমএসএমই দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ। এ নিয়ে নবমবারের মতো দিবসটি পালিত হচ্ছে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ সার্বিকভাবে এক ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ রূপান্তরের পথে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোগ। বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের নভেম্বরে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলে, সে অগ্রযাত্রায়ও এসএমই খাত নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ‘এমএসএমই ডে ২০২৫’ উপলক্ষে বণিক বার্তা বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করছে জেনে আমরা আনন্দিত। এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় করোনা মহামারী থেকে শুরু করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা কারণে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতেও সক্রিয় থেকে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিল লাখো ক্ষুদ্র উদ্যোগ। অর্থাৎ যেকোনো বৈশ্বিক অভিঘাত মোকাবেলা করে টিকে থাকার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সক্ষমতার পরিচয় এরই মধ্যে এসএমই খাত দিয়েছে। বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে আবারো এক অনিশ্চয়তার দিকে ঝুঁকছে পুরো দেশ। তবে এমন পরিস্থিতিতেও প্রত্যাশা রয়েছে এসএমই খাত বরাবরের মতো অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। তাই দেশের সত্যিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিকল্প নেই। এ খাত শুধু ব্যবসা নয়, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এসএমই উদ্যোক্তারা তাদের লাভের ৩০ শতাংশই পুনরায় বিনিয়োগ করেন, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। আমাদের দেশীয় বাজার অনেক বড় হওয়ায় যেকোনো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বিকাশের যথেষ্ট সুযোগও রয়েছে। এ শিল্পের চাকা সচল রেখে জাতীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার সবসময়ই আন্তরিক। উদ্যোক্তাদের অনেকেই কর কাঠামোকে এ খাতের সম্প্রসারণে বাধা হিসেবে মনে করেন। কর কাঠামোসহ বিদ্যমান অন্য সমস্যা সমাধানেও সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের আরো সক্রিয় করা হবে।

ব্যাংকগুলোকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের পারফরম্যান্স বিবেচনা করে ঋণ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। চিত্তাকর্ষক ডিজাইনের পাশাপাশি গুণগত মান ও মূল্যের বিচারে সাশ্রয়ী হওয়ায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের এসএমই পণ্য বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বেশি। জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বের ব্যবসায় উদ্যোগের শতকরা ৯০ ভাগ, কর্মসংস্থানের ৬০-৭০ ভাগ এবং জিডিপিতে ৫০ ভাগ অবদান এমএসএমই খাতের। বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষম দরিদ্র, নারী, যুবক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে ভূমিকা রাখছে এমএসএমই খাত। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সুবিধা নিশ্চিত করা হলে দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাত আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে।