বাংলাদেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষার সূচনা যাদের হাত ধরে, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) তাদের অন্যতম। ১৯৯১ সালে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানের প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয় আজ ৩৪ বছর পূর্ণ করেছে। ‘প্রতিটি গ্রাম থেকে অন্তত একজন পেশাদার স্নাতক’ তৈরি করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করা এ বিশ্ববিদ্যালয় সময়ের পরিক্রমায় হয়ে উঠেছে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য প্রতীক।

আধুনিক অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ

ঢাকার উত্তরা এলাকার নিকটবর্তী ২০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে আইইউবিএটির সবুজে ঘেরা নান্দনিক ক্যাম্পাস। সব শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইংরেজি মাধ্যমে, যা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলে। আইইউবিএটি ক্যাম্পাসে রয়েছে আধুনিক লাইব্রেরি, অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, গবেষণাগার, কনফারেন্স হল, আবাসন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও খেলার মাঠ। শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত ২৩:১ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পান ব্যক্তিগত মনোযোগ। ৩০০-এরও বেশি শিক্ষক কর্মরত আছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী।

গবেষণায় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

শুধু পাঠদান নয়, আইইউবিএটি বরাবরই গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ‘মিয়ান রিসার্চ ইনস্টিটিউট’, যা নিয়মিতভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে। প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবেষণাপত্র, যেগুলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত জার্নালে স্থান পায়। ২০২৪ সালে স্কোপাস ইনডেক্স অনুযায়ী আইইউবিএটি ছিল দেশের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে। এছাড়া কিউএস র‍্যাংকিং, টাইমস হায়ার এডুকেশন, সিমাগো এবং ইউআই গ্রিন মেট্রিকের মতো বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে আইইউবিএটি দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

গৌরবোজ্জ্বল অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক

আইইউবিএটির সবচেয়ে বড় সম্পদ এর অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক। বিগত তিন দশকে এ প্রতিষ্ঠান থেকে যেসব শিক্ষার্থী স্নাতক হয়েছেন, তারা আজ সাফল্যের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন খাতে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করছেন।

কিছু উল্লেখযোগ্য অ্যালামনাই হচ্ছেন

মাহামুদুল হাসান, ইইই বিভাগ, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেল-এ সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার। ফয়সাল মাহমুদ, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ, ইউনিলিভার বাংলাদেশের হেড অব আইটি।

শাওন আজাদ, বিবিএ বিভাগ, বর্তমানে গ্রামীণফোনের পরিচালক। মো. মনিরুল ইসলাম রনি, বিবিএ বিভাগ, ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান। সাদিয়া মোস্তফা, ইইই বিভাগ, বর্তমানে NASA-তে গবেষক। মহাম্মাদ আলী, নার্সিং বিভাগ, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষক।

মাসুম বিল্লাহ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ পুলিশ। তাহমিনা আক্তার, এগ্রিকালচার সায়েন্স বিভাগ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ডক্টর হাসনাত বাদশা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, প্রভাষক, ক্যালিফোর্নিয়া পলিটেকনিক স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউএসএ। ডক্টর মাহফুজুর রহমান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, কিং ফাহদ বিশ্ববিদ্যালয় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো। এছাড়া অগণিত অ্যালামনাই সরকারি, বেসরকারি, বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নয়ন সংস্থা এবং আইটি খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ

আইইউবিএটি একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এখানে ১২টি দেশের ৮০-এর অধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ বৃত্তি, আবাসন ও একাডেমিক সহায়তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অফিস বিদেশী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও শিক্ষার সম্প্রসারণ

শুধু শহরকেন্দ্রিক শিক্ষা নয়, আইইউবিএটি বিশ্বাস করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। এ লক্ষ্যেই চালু হয়েছে ‘জ্ঞানভিত্তিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প’ যার মাধ্যমে দেশের ৫৫০ থানার মধ্যে ৫৪৬ থানার শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে আইইউবিএটিতে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

অ্যান এনভায়রনমেন্ট ডিজাইনড ফর লার্নিং—এ মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী আইইউবিএটি ভবিষ্যতে আরো উদ্ভাবনী গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক লার্নিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং দক্ষতাভিত্তিক কারিকুলামে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে গঠন করা হচ্ছে নতুন কেন্দ্র, ল্যাব এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ।

৩৪ বছরের পথচলায় আইইউবিএটি শুধুই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গুণগত শিক্ষা, বৈশ্বিক চিন্তা, গবেষণা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের গর্ব। আইইউবিএটির এ সাফল্য আগামী দিনে আরো বিস্তৃত হবে—এ প্রত্যাশায়।