জাতীয় দিবস শুধু স্বাধীনতার তারিখকে নির্দেশ করে না। স্বাধীনতার পরের বছরগুলোয় সিঙ্গাপুর কী অর্জন করেছে, সেটিও তুলে ধরে। ১৯৬৫ সালে এটি ছিল একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র, যার সম্পদ ছিল খুবই সীমিত। শৃঙ্খলা, সততা ও দ্রুত সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সুদূর ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরিকল্পনা করার ধৈর্যের ওপর সিঙ্গাপুর গড়ে উঠেছে। এ চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করেই সিঙ্গাপুর এশিয়ার বাণিজ্য, অর্থ ও প্রযুক্তির শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের এ মূল্যবোধ আমাদের কোম্পানিকেও গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। এখানেই গ্রুপটি তার বর্তমান রূপ পেয়েছে। আমাদের কাজের ধরনেও এ দেশের কাজের পদ্ধতির প্রতিফলন রয়েছে: ‘যা দিতে পারবেন না তার প্রতিশ্রুতি দেবেন না, নির্ভরযোগ্য হন, অভিযোগ না করে প্রতিকূলতা মেনে নিন এবং সময়মতো কাজ সম্পন্ন করুন’।
বর্তমানে গ্রুপটি ২৫টিরও বেশি দেশে কাজ করছে এবং প্রায় ১৫ হাজার মানুষ এখানে কর্মরত। তারা বিভিন্ন পটভূমি থেকে এসেছে এবং সঙ্গে এনেছে নানা দক্ষতা। তাদের কারণেই ব্যবসাটি সচল রয়েছে। একটি কোম্পানির শক্তি প্রকাশ পায় দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মধ্য দিয়ে।
এ বিশ্বাসই আমাদের নতুন নতুন বাজারে নিয়ে গেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এখানে আমরা কার্যক্রম শুরু করি ১৯৯৮ সালে। প্রায় তিন দশক পর বাংলাদেশ এখন আমাদের আঞ্চলিক ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর চলছে এবং আমরা এতে অবদান রেখে যেতে চাই।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও মানুষের চলাচলের মধ্য দিয়ে সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে। ঢাকায় দীর্ঘদিনের শেকড় থাকা একটি সিঙ্গাপুরি কোম্পানি হিসেবে উভয় দেশের সেবা করার জন্য আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি এবং সেটি করতে পেরে আমরা আনন্দিত।
জাতীয় দিবসে সিঙ্গাপুর সরকারকে তাদের নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানাই। সিঙ্গাপুরের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই তারা যে দেশটি গড়ে তুলেছেন তার জন্য। সামনের বছরগুলোয় তাদের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। সিঙ্গাপুরকে ৬১তম জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা।
গুরমুখ সিং থাকরাল: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, থাকরাল গ্রুপ













