ঈদ
শব্দটির সঙ্গে
দুটি বিষয়
অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
তার একটি
পোশাক আর
অন্যটি খাবার।
ঈদ প্রসঙ্গ
আসতেই ছোট
থেকে বড়
সবার জন্য
ঈদ পোশাক
সংগ্রহ করা
আর সেসব
পোশাক গায়ে
জড়িয়ে ঈদের
দিন ঘরের
বাইরে যাওয়ার
রেওয়াজ বহুদিনের
পুরনো। বাজারে
এখন বিভিন্ন
ধরনের ঈদ
পোশাক পাবেন।
দামের মাত্রাও
বিভিন্ন ধরনের।
সেখান থেকে
নিজের সাধ্য
ও পছন্দ
অনুযায়ী বেছে
নিলেই হবে।
ঈদ বাজারে
এবার দখল
করে আছে
বিভিন্ন ঘরানার
পোশাক। তার
মধ্যে কামিজ,
কুর্তি, টপস,
শাড়ি থাকছে
মেয়েদের জন্য
আর ছেলেদের
জন্য আছে
শার্ট, পাঞ্জাবি,
টি-শার্ট,
কাবলি সেট।
বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ
ও শিশুদের
জন্যও পাবেন
নানা রকম
পোশাক।
অঞ্জন’সের
প্রধান নির্বাহী
শাহীন আহমেদ
জানালেন এবারের
ঈদ পোশাকের
এদিক-সেদিক।
তিনি বলেন,
এবার গরমের
মধ্যেই পড়েছে
ঈদ। তাই
সবাই চেষ্টা
করছে ঈদের
দিনের জন্য
বেছে নেয়া
পোশাকটি যেন
আরামদায়ক হয়।
আমরাও সেই
দিকটাতেই বেশি
প্রাধান্য দিয়েছি।
সুতি কাপড়কে
এবার আমরা
সবচেয়ে বেশি
প্রাধান্য দিয়েছি।
কিন্তু ঈদ
একটা বড়
উৎসব, তাই
আমাদের কাছে
সুতির পাশাপাশি
লিলেন, কটন,
সিল্ক, অ্যান্ডি
সিল্ক কাপড়ে
তৈরি বিভিন্ন
পোশাকও থাকছে।
পোশাকটা হতে
হবে এমন
যেন সেটা
পরিধানকারীর ব্যক্তিত্বকে
যেমন প্রকাশ
করে, তেমন
করেই উপস্থাপন
করে সময়টাকেও।
শাহীন আহমেদ
বলেন, আমাদের
সংগ্রহে থাকা
পোশাকগুলো ঈদ
যে একটা
বড় উৎসব
সেটাকেও হাইলাইট
করবে। এ
বিষয়ের ওপর
আমরা বাড়তি
গুরুত্ব দিয়েছি।
কোন ধরনের
পণ্যগুলো এবার
ক্রেতারা পছন্দ
করছেন, এমন
প্রশ্নের জবাবে
তিনি বলেন,
আমরা ছেলেদের
পাঞ্জাবিতে এবার
খুব বৈচিত্র্য
এনেছি। বিভিন্ন
ডিজাইনের এবং
বিভিন্ন রঙের
পাঞ্জাবি এনেছি।
যেখানে ব্যবহার
করা হয়েছে
এমব্রয়ডারি ও
প্রিন্টের কাপড়।
আমাদের কাছে
তিন ধরনের
ফিটিংয়ের পাঞ্জাবি
আছে। স্লিম
ফিট, রেগুলার
ফিট ও
কলিদার কাট
পাঞ্জাবি। মেয়েদের
জন্য শাড়ি,
সালোয়ার কামিজ,
সিঙ্গেল পিস
তো থাকছেই।
এবারের ঈদে
সুতি, সিল্ক
এসব শাড়ি
বেশি আনা
হয়েছে। এসব
শাড়িতে এমব্রয়ডারি,
প্রিন্ট ও
অন্যান্য ম্যাটেরিয়াল
বেশি ব্যবহার
করে ডিজাইন
ফুটিয়ে তোলা
হয়েছে। সালোয়ার-কামিজের
ক্ষেত্রে মিডিয়াম
লেন্থেরগুলোই সবাই
বেশি পছন্দ
করছেন। আর
যেগুলোয় অল্প
এমব্রয়ডারি করা
সেগুলোই বেশি
পছন্দ করছেন
ক্রেতারা।
অঞ্জন’সের
সংগ্রহে মেয়েদের
জন্য শাড়ি,
সালোয়ার-কামিজ,
সিঙ্গেল কামিজ,
টপস, ফতুয়া
রয়েছে। ছেলেদের
জন্য রয়েছে
পাঞ্জাবি, শার্ট,
টি-শার্ট,
পোলো শার্ট,
পাজামা। বড়দের
পোশাকের পাশাপাশি
শিশুদের জন্যও
পোশাক বাজারে
এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ছেলেশিশুদের জন্য
পাঞ্জাবি, শার্ট,
টি-শার্ট
আর মেয়েশিশুদের
জন্য ফ্রক,
সালোয়ার-কামিজ
ও বিভিন্ন
ধরনের ফতুয়া
রয়েছে অঞ্জন’সে।
পোশাকের বাইরেও
তাদের কাছে
পাবেন হাতে
বানানো গহনা
ও বিভিন্ন
ধরনের উপহারসামগ্রী।
শাহীন আহমেদ
যোগ করেন,
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ
বিষয় হলো,
এবার অনেক
কিছুর দাম
বেড়েছে। তাই
আমরা এমনভাবে
ডিজাইন করেছি
যেন পোশাকের
দাম ক্রেতাদের
নাগালের মধ্যে
থাকে। চেষ্টা
করেছি যেন
খরচ কম
করেই ভালো
ডিজাইন ফুটিয়ে
তোলা যায়।
পোশাকের দাম
খুব একটা
বাড়ানো হয়নি।
ফলে এবারের
পোশাকের মূল্য
ক্রেতাদের নাগালের
মধ্যেই থাকছে।
সুতি, লিলেন
কটনের সালোয়ার-কামিজের
দাম পড়বে
২ হাজার
থেকে ৫
হাজার টাকার
মধ্যে। কটন,
লিলেন কটনের
পাঞ্জাবির দাম
১ হাজার
২০০ থেকে
২ হাজার
৫০০ টাকা
পড়বে। এক্সক্লুসিভ
কাপড় হলে
সেসব পোশাকের
দাম বাড়ে।
শার্ট, টি-শার্টের
দাম ৫০০
থেকে ১
হাজার ৫০০
টাকার মধ্যেই
থাকছে।
সারা লাইফস্টাইলের
ডিজাইনার শামীম
রহমান জানালেন
তাদের ঈদ
পোশাক সংগ্রহের
নানা দিক।
তিনি বলেন,
ছেলেদের ঈদ
পোশাকে সাধারণত
তেমন একটা
পরিবর্তন আসে
না। আগে
সিম্পল পাঞ্জাবি
বেশি চলত।
এখন হালকা
এমব্রয়ডারি বা
অন্যান্য কাজ
করা পাঞ্জাবি
বেশি চলছে।
কাবলি সেটও
এখন বেশ
ট্রেন্ডে আছে।
তার পরেও
বলতে হয়,
শর্ট স্লিভ
শার্ট ভালো
চলছে। ডেনিমের
পোশাকের চাহিদা
বরাবরই ভালো।
এবারো তার
ব্যতিক্রম হয়নি।
ছেলেদের পোশাকে
মূলত সুতি
কাপড় বেশি
ব্যবহার করা
হয়। তবে
পার্টি ওয়্যারের
জন্য খুব
কম পরিমাণে
পলেস্টার বা
সিল্কের শার্ট
করা হয়েছে।
যদিও সেসব
পরিমাণে খুবই
কম। সুতি
কাপড়টাই বেশি
ব্যবহার করা
হয়।
এ ফ্যাশন
ডিজাইনার জানান,
মেয়েরা এবার
ঢোলাঢালা পোশাকগুলো
বেশি পছন্দ
করছে। সেটা
সালোয়ার-কামিজ
হোক বা
টিউনিক। ফ্রক
টাইপের কামিজও
ভালো চলছে।
ফ্যাব্রিকসের কথা
বলতে গেলে
সুতি কাপড়টাই
সবার পছন্দের
শীর্ষে। কারণ
সেটা আরামদায়কও।
স্ক্রিন প্রিন্ট,
এমব্রয়ডারি, হাতের
কাজ করা
ডিজাইনও বেশি
চাইছেন ক্রেতারা।
তাছাড়া ভারি
কাজের ডিজাইনেরও
এবার বেশ
চাহিদা দেখা
যাচ্ছে। ঈদে
ক্রেতাদের মধ্যে
কাফতানের প্রতিও
আকর্ষণ দেখা
যাচ্ছে। গরমের
জন্য ঢিলেঢালা
বা কাফতানগুলো
বেশি চলছে।
শিশুদের ক্ষেত্রে
এখন বড়দের
ডিজাইনের সঙ্গে
মিল রেখে
পোশাক বানানোর
ধারা চলছে।
মানে শিশুর
জন্য আলাদা
ডিজাইন নয়।
বড়রা যেসব
ডিজাইন পছন্দ
করেন, সেগুলোই
বানানো হচ্ছে
তাদের জন্যও।
সেই জায়গা
থেকেই মিনি
মি কালেকশন,
ফ্যামিলি কালেকশন
বেশি জনপ্রিয়তা
পাচ্ছে। ফ্যামিলি
কালেকশনে একসঙ্গে
পরিবারের ছয়
সদস্যের কম্বো
সেট পাবেন।
রঙের বিষয়ে
শামীম রহমান
জানান, এ
সময়ে উজ্জ্বল
রঙগুলো বেশি
চলছে। মেয়েদের
পোশাকে ম্যাজেন্টা,
বেবি পিংক,
সবুজাভ হলুদ,
রয়্যাল ব্লু
আর হালকা
রঙের পোশাকগুলোর
বেশি চাহিদা
দেখা যাচ্ছে।
ছেলেদের ক্ষেত্রে
সাদা, সি
গ্রিন, স্কাই
ব্লু, ব্ল্যাক,
মেরুন এগুলো
বেশি চলে।
সারা লাইফস্টাইলে
২৫০ থেকে
৫ হাজার
টাকার মধ্যেই
পাবেন বিভিন্ন
ধরনের পোশাক।
তাছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং সেন্টার, মৌচাক মার্কেট, ইস্টার্ন মল্লিকার মতো ছোট-বড় বিভিন্ন বাজারে পাবেন বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। কাপড় ও ডিজাইনভেদে দামের ভিন্নতা দেখতে পাবেন সেখানেও।





