ডিজিটাল লেনদেনের একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ১০ লাখ মার্চেন্টের এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে বিকাশ। ডিজিটাল লেনদেনে নানা ধরনের সুবিধার কারণে ক্রেতার পাশাপাশি বিক্রেতারাও ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে ক্রমান্বয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ছোট থেকে বড় সব ধরনের উদ্যোক্তাই বিকাশের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে খুব সহজেই ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারছেন। ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করা এ উদ্যোক্তারা বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসায়িক হিসাব রাখা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা করতে পারছেন খুব সহজেই।
বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপের ফিচারসমূহ
বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ এবং তা ট্র্যাক করা যায়। এর মাধ্যমে মার্চেন্টরা অ্যাপেই দেখে নিতে পারেন সাম্প্রতিক লেনদেনের তথ্য।
কিউআর, ইউএসএসডি কোড *২৪৭# এবং পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করা যায়।
উদ্যোক্তারা বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার পর একটি বিজনেস ড্যাশবোর্ড পেয়ে থাকেন, যেখান থেকে অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করার পাশাপাশি বিকাশের বেশকিছু সেবা ব্যবহার করতে পারেন।
বিকাশ পার্সোনাল অ্যাকাউন্টের মতোই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রয়োজনে এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা যায়।
রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ বিল্লাল বলেন, ‘রমজান মাসে ইফতারের আগ দিয়ে কাস্টমারের ভিড় সামলানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বিকাশ পেমেন্ট গ্রহণ করার কারণে বিলিং প্রসেস অনেক দ্রুত ও সহজ হয়েছে। এখন বেচা-বিক্রির হিসাব রাখা যেমন সহজ, তেমনই ভাংতি বা নকল টাকার ঝামেলাও এড়ানো যাচ্ছে। সব মিলিয়ে আমাদের জন্য ব্যবসা সহজ হচ্ছে, আবার গ্রাহকও কম সময়ে কেনাকাটা সারতে পারছেন। পাশাপাশি বিকাশ পেমেন্টের সুবিধা থাকায় অনলাইনেও অনেক অর্ডার পাচ্ছি।’
সিলেট জেলার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর। জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের সীমান্তবর্তী এ এলাকায় ছোট একটি খাবারের দোকান চালান আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সারা দেশ থেকেই দল বেঁধে ভ্রমণপিপাসুরা সাদা পাথর ঘুরতে আসেন। শহর থেকে দূরবর্তী এ এলাকায় ঘুরতে এসে অনেকেই এখানে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সারেন। তবে হঠাৎ করে বড় পর্যটক দল চলে এলে তাদের সবার খাবারের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে আসার আগে অনেকেই ফোনে খাবারের অর্ডার দিয়ে রাখেন, আর বিলের একটা অংশ অগ্রিম দিয়ে দেন বিকাশে। নিয়মিত অর্ডার পাওয়ায় দোকানের জন্য বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টও করে নিয়েছি।’
চুয়াডাঙ্গার এক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সুমাইয়া আক্তার নিজেই অনলাইনভিত্তিক একটি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পেমেন্ট গ্রহণে অসুবিধার কারণে তার তৈরি করা পণ্যের বেশ চাহিদা থাকলেও সারা দেশের মানুষের কাছে বিক্রি করতে পারছিলেন না। তবে এখন আর তাকে পেমেন্ট নিয়ে চিন্তা করতে হয় না, ফলে তার তৈরি পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে সারা দেশের মানুষের কাছে। পণ্যের অর্ডার নিয়ে বিকাশে পেমেন্ট নিতে পারছেন। সহজেই পেমেন্ট নিতে পারার এ সুবিধা সুমাইয়ার ব্যবসা যেমন বড় করতে সাহায্য করছে, তেমনই তার লেনদেনের হিসাব করেছে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সুমাইয়া, আমিনুল, বিল্লালদের মতো মার্চেন্টের ব্যবসাকে সহজ করে দিয়েছে বিকাশ পেমেন্ট। এ মার্চেন্টরা বিকাশ অ্যাপে কিউআর কোড, ইউএসএসডি বা পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণ করছেন। খুচরা টাকার ঝামেলা এড়িয়ে ছোট থেকে বড়, যেকোনো অংকের পেমেন্ট তাদের ব্যবসায় সুবিধা এনে দিয়েছে। তাদের মতে, বিকাশের মতো ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবসায়িক লেনদেনকে সহজ করে দিয়েছে কয়েক গুণ।
বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে আগ্রহী উদ্যোক্তারা বিকাশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদন করতে পারবেন।










