ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন)। গতকাল শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

১৯৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর ঝিনাইদহের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। তার পিতা কিসমত আলী ছিলেন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। তার দুই ভাই আমিরুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম ছিলেন খ্যাতনামা প্রকৌশলী এবং এবিসি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ ব্যাচের (কে–৪) শিক্ষার্থী ছিলেন ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার ডা. আবদুল মালিকের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ডা. সিরাজুল ইসলামের কর্মজীবন ছিল জনস্বাস্থ্য ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ চিকিৎসায় নিবেদিত। তিনি উগান্ডা, মালয়েশিয়া (কুয়ান্তান ও কোটা ভারু) এবং সৌদি আরবে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

দেশে ফেরার পর তিনি জাতীয় যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর জাতীয় হৃদরোগ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়াও তিনি জাহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজে ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কানাডিয়ান হাইকমিশন, ঢাকার সাবেক সামাজিক উন্নয়ন উপদেষ্টা সোফিয়া ইসলাম ছিলেন তার সহধর্মিণী। এ দম্পতির তিন সন্তান হলেন ডা. রেজওয়ান ইসলাম, প্রকৌশলী তানভীর ইসলাম এবং নাবিলা ইসলাম।

ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সততা, নেতৃত্বগুণ, বিনয় এবং চিকিৎসা ও জনস্বেবায় আজীবন নিষ্ঠার জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ডা. আবদুল আওয়াল রিজভী, ডা. কামরুল ইসলাম তালুকদার, ডা. ফজিলাতুন্নেসা মালেক এবং জাতীয় হৃদরোগ ফাউন্ডেশনের সব চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের মানবিক ও আন্তরিক সেবার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে তার পরিবার।

-বিজ্ঞপ্তি