ব্রাজিলের বেলেমে আগামী ১১ থেকে ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের ৩০তম বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০। এ সম্মেলন সামনে রেখে দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলো ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশ (এনএজেটিবি)-এর ব্যানারে ১০ দফা দাবি পেশ করেছে।

রোববার (৯ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিস (বিলস)-এর উদ্যোগে, মন্ডিয়াল এফএনভির সহযোগিতায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। সঞ্চালনা করেন বিএলএফের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ইয়াসিন আরাফাত। এতে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর যুগ্ম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের হাওলাদার, বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহমেদ, ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন কমিটি ফর ওয়ার্কার্স এডুকেশন (এনসিসিডব্লিউই)-এর মেম্বার সেক্রেটারি নাইমুল আহসান জুয়েল, ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)-এর আমিরুল হক আমিন সহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নেতা শাকিল আখতার চৌধুরী বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনকে (কপ-৩০) কেন্দ্র করে শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে এনসিসিডব্লিউই-এর মেম্বার সেক্রেটারি নাইমুল আহসান জুয়েল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় আঘাত আসে শ্রমিকদের ওপর। কৃষি, পোশাক, ট্যানারি ও অন্যান্য খাতে শ্রমিকরা ঝুঁকিতে থাকলেও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও শ্রমিকরা এখনো উপেক্ষিত। কপসহ সব আন্তর্জাতিক ফোরামে শ্রমিকদের বিষয়টি নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে।

শ্রমিকদের দাবি তুলে ধরতে গিয়ে শাকিল আখতার চৌধুরী বলেন, জলবায়ু ন্যায্যতা শ্রমিক অধিকারেরই অংশ। ন্যায্য রূপান্তর এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে টেকসই, নিম্ন-কার্বন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির পথে কোনো শ্রমিক বা সম্প্রদায় পিছিয়ে না থাকে।

শ্রমিকদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে
১. জলবায়ু সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ধাপে (নীতি নির্ধারনে, বাস্তবায়নে, পর্যবেক্ষনে) শ্রমিক প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তি

২. জলবায়ু অর্থায়নে শ্রমিকদের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে ন্যায্য অন্তর্ভুক্তিকরন

৩. কাজের নিরাপত্তা ও ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিত করা

৪. জলবায়ু নীতিমালায় শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার সংযুক্ত করা

৫. সকল ধরনের চুক্তিতে ন্যায্য রূপান্তর ধারা অন্তর্ভুক্ত করা

৬. জেন্ডার-সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপান্তর

৭. স্বাধীন “পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ” গঠন

৮. বৈশ্বিক সংহতি ও ন্যায্য দায়বদ্ধতা

৯. পপ-৩০কে ‘‌ন্যায্য রূপান্তর বাস্তবায়ন কপ’ হিসেবে ঘোষণা করা

১০. প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়ন

বক্তারা বৈশ্বিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, মুনাফার আগে মানুষ, পণ্য উৎপাদনের আগে অধিকার, এবং স্বল্পমেয়াদি লাভের আগে টেকসই ভবিষ্যৎকে যেন প্রাধান্য দেয়া হয়।