রাজধানীর উত্তরায় প্রথমবারের মতো টেড অনুমোদিত আন্তর্জাতিক আয়োজন টেডএক্স উত্তরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) ক্যাম্পাসে প্রায় ৭০০ অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

মুন্নু প্রেজেন্টস টেডএক্স উত্তরা নামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের লাইসেন্সি ও প্রধান আয়োজক ছিলেন সুমাইয়া কবির। সহআয়োজকের দায়িত্ব পালন করেন ইমরুল এহসান।

অনুষ্ঠানে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বক্তারা বক্তব্য দেন। সুপারমডেল ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল দেশীয় ঐতিহ্য, লোকজ কারুশিল্প ও ফ্যাশনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি উন্নয়নের সঙ্গে ফ্যাশনের সংযোগের বিষয়েও কথা বলেন।

নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী জীবনের ভয় ও সংকট পেরিয়ে সম্ভাবনাকে ধরে এগিয়ে চলার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত শেফ কিশোয়ার চৌধুরী বাঙালি খাবারকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্য ও পথচলার কথা বলেন।

জনপ্রিয় ব্যান্ড কাকতালের ভোকালিস্ট আসিফ ইকবাল কারাবাসের অভিজ্ঞতা থেকে ইচ্ছাশক্তি ও সম্ভাবনার শক্তির কথা তুলে ধরেন। এছাড়া ড. স্কট ল্যাকম্যান, ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, মোরশেদ মিশু, মানজুর আল মতিন, বাদল সৈয়দ, অমিতাভ মিত্র, ড. আহমেদ আরমান সিদ্দিকী এবং শিশু মানবাধিকার কর্মী ফাতিহা আয়াত নিজ নিজ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে সম্ভাবনার গল্প শোনান।

আয়োজন প্রসঙ্গে টেডএক্স উত্তরা ২০২৫ এর লাইসেন্সি ও অর্গানাইজার সুমাইয়া কবির বলেন, প্রথম আয়োজন হলেও অংশগ্রহণকারীদের সাড়া ছিল উল্লেখযোগ্য। বহুমাত্রিক বক্তা নির্বাচনের কারণে এ সাড়া পাওয়া গেছে বলে তারা মনে করছেন। ভবিষ্যতেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আরো বড় পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

টেডএক্স হলো টেড অনুমোদিত একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। টেড যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অলাভজনক গণমাধ্যম সংস্থা। এটি আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন ইভেন্ট বা কনফারেন্সের আয়োজন করে। বিশ্বের সব বিখ্যাত ও ভিন্নধর্মী কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের এ প্ল্যাটফর্মে তাদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী ধারণা, কৌশল ও সমাজের বিভিন্ন ইতিবাচক বিষয় নিয়ে ১৮ মিনিট করে মঞ্চে কথা বলেন। ২০০৯ সাল থেকে আঞ্চলিক পর্যায়ে টেড-টক উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে টেডএক্স আয়োজিত হয়ে আসছে।