বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের শুরুতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিজয় বইমেলা ২০২৫। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ বইমেলার উদ্বোধন করা হয়।
এবারে আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) বইমেলা স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। দেশের প্রায় সব পরিচিত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশ নিয়েছে।

বিজয় বইমেলা-২০২৫
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি। তবে তিনি বার্তায় মেলার সফলতা কামনা করেন। তার অনুপস্থিতিতে বাপুসের সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা মেলার উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বাপুসের সহ-সভাপতি গোলাম এলাহী জায়েদ ও পরিচালক ড. আব্দুল আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজয় বইমেলা উদযাপন জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও বাপুসের পরিচালক মো. আবুল বাশার ফিরোজ শেখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিজয় বইমেলা উদযাপন জাতীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ও গ্রন্থিকের প্রকাশক রাজ্জাক রুবেল।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ১৯৭১ সালের বিজয়ের কারণেই স্বাধীন দেশে বই, জ্ঞান ও সংস্কৃতির বড় আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি মনে করেন, পাঠক সমাজ গড়ে তুলতে এবং স্বাধীনতার চেতনা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।
সভাপতি আবুল বাশার ফিরোজ শেখ বলেন, বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার জায়গা নয়। এটি জ্ঞান, গবেষণা ও মানবিক বোধ গঠনের সামাজিক আন্দোলন। তার মতে, বিজয় বইমেলা এ দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।
প্রকাশক রাজ্জাক রুবেল বলেন, আজকের দিন একটি নতুন সূচনার দিন। মেলার মূল লক্ষ্য পাঠচর্চাকে শক্তিশালী করা এবং বইকে মানুষের প্রতিদিনের সঙ্গী করে তোলা।
অন্য বক্তারা বলেন, বইশিল্পের উন্নয়ন, পাঠক বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক স্থিতি, বাজার সম্প্রসারণ ও সারাদেশে বইভিত্তিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে এ মেলা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখবে।
মেলায় বই প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের পাশাপাশি থাকছে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের আড্ডা, স্মারক বক্তৃতা, সাহিত্য ও গবেষণা আলোচনা, শিশু ও কিশোরদের কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যন্ত্রসংগীত, নাটক ও কবিতা পরিবেশন। মুক্তিযুদ্ধ ও সামাজিক আন্দোলন বিষয়ে বিশেষ সেমিনারসহ তরুণ লেখকদের বিশেষ সেশনও থাকবে।
আগামী ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এ মেলা। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে মেলা।
—বিজ্ঞপ্তি










