দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প (এমএসএমই) উদ্যোক্তারা। মোট দেশজ উৎপাদনের অন্তত ২৫ শতাংশ আসছে এ খাতগুলো থেকে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি প্রাণবন্ত রাখার ক্ষেত্রেও চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে খাতটি। অর্থনীতিতে এত বড় অবদান রাখার পরও অর্থায়ন, নীতিনির্ধারণ ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এমএসএমই খাত অবহেলিতই থাকছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস ২০২৫ উপলক্ষে গত ২৬ জুন রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবন; মূল চালিকাশক্তি এমএসএমই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন

ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী
বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়
এমএসএমই প্রতিটি দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। এ খাত অবহেলিত হওয়ার কারণ এমএসএমই অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতো দৃশ্যমান নয়। ঘরে বসে কাজ করছেন কেউ, কেউ ছোট্ট একটি দোকান নিয়ে আছেন। আর শিল্পপ্রতিষ্ঠান অনেক বড় কারখানা নিয়ে কাজ করে, যেটা দৃশ্যমান। আমার মনে হয়, এসএমই হচ্ছে—দাঁত আছে কিন্তু দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু যখন থাকবে না তখন বিপদ। তাই দেখা যাচ্ছে না বলে এটিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। মূল্যস্ফীতি বাড়লে সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমএসএমই খাত। তখন বেকারত্বও বেড়ে যায়।

নূরুন নাহার
ডেপুটি গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক এমএসএমই খাতের জন্য গত মার্চে একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করে। এটি তৈরির সময় আমরা সংশ্লিষ্টদের সমস্যা ও অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি। এখন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, তাহলে সার্কুলার সংশোধন করা হবে। এ বিষয়ে অনেকেই এখনো জানেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এমএসএমই সার্কুলার নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে বলেছি। ব্যাংকের শাখাসহ সব জায়গায় বিষয়গুলোর প্রচার করতে বলা হয়েছে। প্রচারণা ও সচেতনতার অভাবে এমএসএমই উদ্যোক্তারা এ বিষয়ে অন্ধকারেই থেকে যান।

ড. এ. কে. এনামুল হক
মহাপরিচালক
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)
গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বেড়েছে। মাঝারি ও বড় উদ্যোক্তা কমেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বেড়েছে। এজন্য অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু সেটির সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন মাঝারি ও বড় উদ্যোক্তারা। পলিসি মেকিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের আরো সতর্ক থাকতে হবে। ঢালাওভাবে এসব পলিসি দেয়াকে আমি সমর্থন করি না। এখন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার সংজ্ঞা নতুন করে তৈরি করার সময় এসেছে। দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে অর্থায়নের সার্টিফিকেশনের ক্ষেত্রে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার সঙ্গে অন্যদের কাঠামোগত সম্পর্ক কী সেটিও পরিষ্কার করতে হবে।

মো. ফজলুল কাদের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)
দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কেটিং নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। এখানে অনেক ইনোভেশন দরকার। মার্কেটিংয়ের সক্ষমতায় ঐতিহাসিকভাবে আমরা দুর্বল। আরেকটা ক্ষেত্র আমরা উদ্ভাবন করতে চাই। এটির আমরা নাম দিয়েছি ‘রিসোর্স এফিশিয়েন্স ক্লিনার প্রোডাকশন’। আমাদের এগ্রো বেজ পণ্যের ক্ষেত্রে অনেক প্রসেস লস হয়। বাংলাদেশে পোস্ট হারভেস্ট লস হচ্ছে ২৫-৪০ শতাংশ। যেটা আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোয়ও অনেক কম। বিশ্বে গ্রহণযোগ্য লিমিট হচ্ছে ১০ শতাংশেরও কম। এখানে আমাদের অনেক এফিশিয়েন্সি আনা প্রয়োজন।

সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ
চেয়ারম্যান
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি
স্মল, মাইক্রো ও কটেজ—এটার জন্য আমরা একটা সম্ভাবনা দেখছি। এদের জন্য আমাদের কিছু করণীয় আছে। স্মল, মাইক্রো ও কটেজে ১ কোটি টাকার নিচে পেলেই তারা ভালোভাবে ব্যবসা দাঁড় করাতে পারে। কিন্তু মিডিয়ামে ১ কোটি থেকে ১০০ কোটি পর্যন্ত। তাই তাদের আলাদা করা উচিত। এখানে অনেকেই বলেন সিকিউরিটি। অন্য অনেক দেশে সিকিউরিটি চায় না। তারা চায় ব্যবসার আয় কেমন? যার ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ হচ্ছে সে কি সমপরিমাণ টাকা জমানাত দিচ্ছে? না, সেখানে বলা হচ্ছে করপোরেট। কিন্তু ছোটদের ক্ষেত্রে হচ্ছে উল্টো। এটা ঠিক নয়।

মো. মুসফিকুর রহমান
চেয়ারপারসন
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন
ঋণের ক্ষেত্রে জামানত সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। তবে আমরা এটা নিয়ে এখন কাজ করছি। আমরা একটি ব্যাংকের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে কাজ করছি। আশা করি, দ্রুত সমাধানের দিকে আমরা যেতে পারব। পার্শ্ববর্তী অনেক দেশে এসএমই খাতে সহজে ঋণ পাওয়া যায় কিন্তু আমাদের এখানে বিষয়টি একটু জটিল। আমরা সমস্যাগুলো সমাধান করে দ্রুতই একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারব। আমাদের ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোয় যদি ভ্যালু অ্যাডিশন বাড়াতে না পারি তাহলে জটিলতা বাড়বে। এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। তাদের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্কশপ-প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।

আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)
সভাপতি
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ
দেশের ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা দেখেছি ৫০-৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ঋণের জালে পড়ে গেছে। তারা অনেকেই ঋণ নিয়েছে মহাজনের কাছ থেকে। ফেরত দিতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কয়জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নিয়েছে? পারছে না। আমরাও তাদের খবর রাখছি না। অটোমেশন, অবকাঠামো ও অসম প্রতিযোগিতা রয়েছে। প্রফেশনাল স্কিল, ট্যাক্স, ডাবল ট্যাক্স, ভ্যাট এসব যদি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ক্ষেত্রেও থাকে; বর্তমান বাজেটে ১ শতাংশ এআইটি (অগ্রিম আয়কর) দেয়া হয়েছে। এটা খুবই কঠিন তাদের জন্য।

মাহদী আমিন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা
আমরা মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম বলতে কী বুঝি? এটা কি কর্মীর সংখ্যা দিয়ে নির্ধারণ হবে, নাকি বিনিয়োগের হার? পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকলে সুবিধা হয়। আমাদের এখানে অনেক বড় একটা গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে। ফলে ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সত্যিকারের সাম্য প্রতিষ্ঠা করার। এক্ষেত্রে এমএসএমই অনেক বড় একটি ভূমিকা রাখতে পারে। জিডিপির ক্ষেত্রে এ খাত বড় ভূমিকা রাখছে। নাম্বার অব বিজনেসের সংখ্যা যদি দেখি বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই এ ক্যাটাগরিতে পড়ে। দুর্ভাগ্যবশত এসব প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির অংশ না।

মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি
এসএমই উদ্যোক্তাদের বড় সমস্যা নিজেদের ব্যবসা সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকলেও আর্থিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। তারা জানেন না কীভাবে মুনাফা হিসাব করতে হয়, ফিজিবিলিটি রিপোর্ট করতে হয়। আমাদের বিভিন্ন জেলায় ভোকেশনাল ট্রেইনার আছে, তারা বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি অন্ট্রাপ্রেনিউর ভেভেলপমেন্টশিপ নামে কোনো কোর্স রাখা যায় কিনা। তাদের বেসিক ফাইন্যান্সিয়াল নলেজ দেয়া যায় কিনা। অনেকে ঋণের জন্য আসেন কিন্তু ডকুমেন্টেশন থাকে না। উদ্যোক্তাদের বেসিক ডকুমেন্টেশনের ওপর নজর দেয়া দরকার।

অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ
নির্বাহী পরিচালক, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড)
প্রতি বছর ফরমাল চাকরির বাজারে আসেন ২২ লাখের মতো তরুণ। সরকারি-বেসরকারিভাবে চাকরি দিতে পারি দুই-আড়াই লাখ। অন্যান্য খাত মিলিয়ে আমরা ৮-১০ লাখের চাকরির ব্যবস্থা করতে পারি। বাকিদের কী হবে? তার একটা সুযোগ হচ্ছে এসএমইর এ জায়গা। অথচ আমাদের ২০১৩ সালের ডেটার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমাদের আপডেটেড ডেটাবেজ দরকার। যদি ইনোভেশনের কথা বলি তাহলে বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে হবে। আমার তৈরি পোশাক ছাড়া অন্য কোথাও বৈচিত্র্য আনতে পারিনি। এখানে যে ক্লাস্টারগুলো আছে তারা কিন্তু নীতিগত সহায়তা চায়, বেশি কিছু চায় না।

রিজওয়ান দাউদ সামস
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমইতে অর্থায়ন করতে চায়। কিন্তু অনেকগুলো বাধার কারণে হয়ে ওঠে না। ঋণ বিতরণের খরচটা অনেক বেড়ে যায়। কারণ ঋণের অংক ছোট, আবার অনেক গ্রাহককে সেবা দেয়ার ব্যাপার থাকে। সেটাও সমস্যা হতো না যদি ডিজিটালি সব কাজ করা যেত। আমাদের মতো প্রতিষ্ঠানের ১৭-১৮টা শাখা থাকে। এখন এসএমই উদ্যোক্তা আসলে ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে বেশি অবস্থান করছেন। সেখানে কাজ করতে হলে আমাদের ঋণ বিতরণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে হবে। যেটি ব্যয়বহুল, ফলে ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন খুব দরকার। এর জন্য প্রযুক্তিগত সাপোর্ট দরকার।

মো. কায়সার হামিদ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি
সিএমএসএমই খাত নিয়ে মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সার্কুলার আসছে সেটি অনেক ইতিবাচক একটা দিক। আমরা ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যদি কিছু ছোট ছোট জায়গায় টিউনিং করি তাহলে অনেক এগিয়ে যাব। মাস্টার সার্কুলারে যে পরিবর্তন আসছে তার মধ্যে প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের মোট ঋণের ২৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে হতে হবে। বড় সমস্যা হচ্ছে কম অংকের ঋণের ক্ষেত্রে জমি জামানত হিসেবে নেয়াটা অনেক জটিল ও ব্যয়সাপেক্ষ। এটা যাচাই করতে অনেক সময় লাগে। এ প্রক্রিয়া পুরোটাই ডিজিটালাইজেশনের বাইরে এখনো।

প্রীতি চক্রবর্তী
জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ
২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ আছে আমাদের দেশে প্রায় ৮০ লাখের মতো এসএমই উদ্যোক্তা আছেন। তার ৭ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা। আমরা দেখেছি, কভিডের সময় যখন বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম হয়ে গেছে তখন ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এসেছে। মাস্ক তৈরি, খাবার রান্না করে দিয়ে আসা এসব বিষয়ে বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। আবার তাদের যে ঋণ দেয়া হয়েছে তারা কিন্তু শতভাগ সেটি ফেরত দিয়েছে। এখন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরে যেসব স্বত্ব আরোপ হবে, তখন এ এমএসএমইদের কী অবস্থা হবে? এটি নিয়ে আমাদের এখনই সমাধান বের করা উচিত।

রাজীব এইচ চৌধুরী
ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি
বড় অবদান থাকা সত্ত্বেও কাঠামোগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এ খাতকে। দেশের সিএমএসই খাতের বড় একটি অংশ এখনো ইনফরমাল রয়ে গেছে। তারা নীতির সমর্থন, অর্থায়ন ও বাজার-সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ খাতকে কমপ্লায়েন্স এবং নীতি কাঠামোর মধ্যে আনতে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে ধাপে ধাপে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কৌশলগত উদ্যোগ জরুরি। আমরা বিশ্বাস করি সবাই মিলে যদি এসব উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি তাহলে তা সিএসএমই খাতকে শুধু শক্তিশালীই করবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে অবদান রাখবে।

আলাউদ্দিন মোহাম্মদ
যুগ্ম সদস্য সচিব, কেন্দ্রীয় কমিটি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
যারা এসএমই আছেন বা তৃণমূলে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের একটি সুতোর মালায় আনা যায় কিনা তা নিয়ে আমরা ভাবছি। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থেই তাদের উন্নয়ন দরকার। এ কারণে আমরা এসএমইদের আমাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিষয় মাথায় নিয়ে আমরা এ কাজগুলো করছি। সেক্ষেত্রে আমরা দেখেছি গ্রামীণ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা অনেক টেকসই এবং অনেক বেশি সংবেদনশীল। তারা সার্কুলার ইকোনমিক মূল যে স্পিরিট আছে রিপ্রোডাকশন ও রিজেনারেশন—এ দুটিকে অর্গানিকভাবে ধারণ করে। আমরা তাদের ব্যবসা পরিচালনার এ প্রক্রিয়াকে আমাদের পলিসিতে নিয়ে আসতে পারি।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য:

তানিয়া ওয়াহাব
উদ্যোক্তা
ট্যান
উদ্যোক্তাদের অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। আমার মনে হয় উদ্যোক্তা হিসেবে প্রধান যে প্রতিবন্ধকতা তা হলো মার্কেটিং। উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার মার্কেটিংয়ের। আমাদের অনেক ভালো মানের পণ্য তৈরি হয়। সেজন্য মার্কেটিংয়ের দরকার হয়, আলাদা বাজেটের দরকার হয়। অনেক ক্ষেত্রেই উদ্যোক্তাদের জন্য এ খাতে ব্যয় করার জন্য বাজেট থাকে না। তাই আমাদের প্রধান চাহিদা দেশের উদ্যোক্তাদের মার্কেটিংকেন্দ্রিক যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর করা।

আবিদা সুলতানা
উদ্যোক্তা
ব্রাইডাল ক্রিয়েশন
এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে অনেক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এ ধরনের প্রশিক্ষণের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় নগণ্য। দেখা যায়, বছরে এক-দুটি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এ ধরনের প্রশিক্ষণগুলো যদি তিন মাস অথবা ছয় মাস পরপর আয়োজন করা হয়, তাহলে গ্রামের নারী ও শিশুদের প্রশিক্ষণ দিতে পারব। তাদের আরো দক্ষ করে তুলতে পারব। এতে তারা নিজেদের আয়ের ব্যবস্থা করে নিতে পারবে। এগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসলে তহবিলও দরকার।

ফারহানা মুনমুন
উদ্যোক্তা
বেনে বৌ
ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াও ব্যাংক থেকে উদ্যোক্তাদের এখন ৫ লাখ টাকার মতো ঋণ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এ ঋণের ক্ষেত্রে অন্যান্য আরো নথিপত্রের দরকার হয়, যেগুলো সম্পর্কে উদ্যোক্তারা জানেন না। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আরো প্রচার-প্রচারণা জরুরি। আমরা জামদানি নিয়ে সৃজনশীল কাজগুলো করছি, আরো অনেক উদ্যোক্তা এ ধরনের সৃজনশীল কাজ করছে। সেগুলো ডিসপ্লে করা এবং মার্কেটিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। আমরা আমাদের পণ্যগুলো কোথায় বিক্রি করব সেটির একটি ব্যবস্থা করে দেয়া উচিত।

সাবেকুন্নাহার মিতু
উদ্যোক্তা
লাম ক্রিয়েশন
আমাদের পণ্যগুলো বেশির ভাগ ইউরোপে রফতানি হয়। প্রথমদিকে আমি যখন বেচাকেনা শুরু করি তখন হতাশাগ্রস্ত ছিলাম। কারণ ব্যবসা শুরু করার পরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। সে সময় পণ্য মজুদ করে রাখি। এ পরিস্থিতিতেও কারখানা শ্রমিকের বেতন বন্ধ করিনি। কোনো সরবরাহকারীও পণ্য নেয়নি। তবে এখন এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। লোকসংখ্যা বাড়াতে পারলে, মেশিন সংখ্যা বাড়াতে পারলে এ ব্যবসার আরো প্রসার ঘটানো যাবে। আমার ভবিষৎ পরিকল্পনা সরাসরি দেশের বাইরে পণ্য রফতানি করা।





