বাসার ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সেটআপ করার সময় রাউটারের নাম বা এসএসআইডি নির্ধারণ করাকে অনেকেই খুব সাধারণ বিষয় মনে করেন। তবে এ সাধারণ নেটওয়ার্ক নামটি আসলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য একটি বড় ঝুঁকি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি এমন সব তথ্য প্রকাশ করে দিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে। তাই নিজের নেটওয়ার্কের নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন—
স্মার্টফোনের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের তথ্য ফাঁস
ওয়াই-ফাই সক্রিয়ভাবে ব্যবহার না করলেও স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মতো ডিভাইসগুলো আগে সংযুক্ত হওয়া নেটওয়ার্কগুলোর নাম অনবরত প্রচার করতে থাকে। একে কারিগরি ভাষায় ‘প্রোব রিকোয়েস্ট’ বলা হয়। ডিভাইসের এ কার্যক্রম ক্যাফে, রাস্তা বা বাড়িতে ঘুমের সময়ও প্রতি মিনিটে কয়েকবার ঘটে থাকে। যদি কোনো ব্যবহারকারীর নেটওয়ার্কের নাম ‘ডেভ ফ্যামিলি ওয়াই-ফাই’ বা ‘ফ্ল্যাট ১২-বি’-এর মতো ব্যক্তিগত তথ্যনির্ভর হয়, তবে ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে তথ্যগুলো আশপাশের সবার কাছে জানান দিতে থাকে। জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ২৩ শতাংশ প্রোব রিকোয়েস্টে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য থাকে, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজারবার প্রচার হয়।
দৈনন্দিন চলাফেরার মানচিত্র তৈরি
সংগৃহীত এসব তথ্যের মাধ্যমে কারো ব্যক্তিগত জীবন ও চলাফেরার ম্যাপ তৈরি করা সম্ভব। ‘উইগেল’ নামের একটি উন্মুক্ত ডেটাবেজ ২০০১ সাল থেকে কোটি কোটি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের জিপিএস লোকেশন সংগ্রহ করে আসছে। যদি কারো নেটওয়ার্কের নাম কিছুটা অনন্য বা নির্দিষ্ট এলাকা নির্দেশক হয়, তবে যে কেউ ওই ডাটাবেজ ব্যবহার করে কয়েক মিনিটে ব্যবহারকারীর বাসার ঠিকানা বের করে ফেলতে পারে। একইভাবে কর্মস্থল, জিম বা প্রিয় কফিশপের ওয়াই-ফাইয়ের নাম থেকেও ব্যবহারকারীর জীবনযাপনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা হ্যাকারদের জন্য সহজ হয়ে যায়।
আক্রমণকারীদের সহজ লক্ষ্য
অসতর্কভাবে নাম নির্বাচনের ফলে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হয়। রাউটারের ডিফল্ট নাম পরিবর্তন না করলে হ্যাকাররা সহজেই ওই রাউটারের মডেল ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে যায়। প্রতিটি ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা দুর্বলতা থাকে, যা নাম দেখে শনাক্ত করা হ্যাকারের জন্য সহজ হয়।
নাম লুকিয়ে রাখার ভুল ধারণা
ওয়াই-ফাইয়ের নাম লুকিয়ে রাখলে বা ‘নন-ব্রডকাস্ট’ করলে গোপনীয়তা বাড়ে বলে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে। হ্যাকাররা বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই এ লুকানো নাম খুঁজে বের করতে পারে। বরং নাম লুকিয়ে রাখলে ডিভাইসটিকে ওই নেটওয়ার্ক খুঁজে পেতে আরো বেশি পরিশ্রম করতে হয় এবং আরো বেশি প্রোব রিকোয়েস্ট পাঠাতে হয়। এতে গোপনীয়তা রক্ষার বদলে উল্টো ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে হ্যাকাররা ‘ইভিল টুইন’ বা একই নামের ভুয়া নেটওয়ার্ক তৈরি করে সহজেই ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায়
ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া জরুরি। নাম হিসেবে এমন কিছু ব্যবহার করা উচিত, যা ব্যবহারকারীর পরিচয়, ঠিকানা বা পরিবারের কোনো তথ্য প্রকাশ করে না। এর পরিবর্তে অর্থহীন কোনো শব্দ বা নামহীন শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। এছাড়া ওয়াই-ফাইয়ের জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং নিয়মিত রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট করা প্রয়োজন।
—মেইকইউজঅব অবলম্বনে










