জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে সামগ্রিকভাবে নারী-পুরুষের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমলেও কর্মক্ষেত্রে এ ব্যবধান এখনো স্পষ্ট। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে দেখা যাচ্ছে, পেশাগত কাজে পুরুষরা নারীদের তুলনায় বেশি হারে ও গভীরভাবে এআই ব্যবহার করছেন। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
ওপেনএআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, সামগ্রিক ব্যবহারে নারী ও পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান হলেও পেশাগত কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুরুষরা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে। এর একটি কারণ হলো পুরুষরা তুলনামূলকভাবে বেশি প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কাজ করেন। যেখানে স্বাভাবিকভাবেই এআইয়ের ব্যবহার বেশি।
ডেনমার্কে পরিচালিত ভিন্ন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সাংবাদিকতাসহ ১১টি ভিন্ন পেশায় একই প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের কাজ করলেও নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম হারে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন। বাস্তব উৎপাদনশীলতার পরিসংখ্যানেও এ ব্যবধান প্রকট। চ্যাটজিপিটি আসার পর নারীদের তুলনায় পুরুষ গবেষকদের প্রকাশনার হার ৬ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে লিঙ্গভিত্তিক উৎপাদনশীলতার ব্যবধান ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে।
তবে এ প্রবণতা জেনারেটিভ এআইয়ের ক্ষেত্রেই প্রথম নয়। ইন্টারনেটের শুরুতেও পুরুষরা তুলনামূলকভাবে দ্রুত প্রযুক্তিটি গ্রহণ করেছিলেন। পারমাণবিক শক্তি থেকে শুরু করে চালকবিহীন গাড়ি—নতুন প্রযুক্তি নিয়ে পুরুষদের আগ্রহ বরাবরই বেশি। গবেষকদের মতে, এর পেছনে ঝুঁকি নেয়ার মানসিকতা ও সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে চিন্তাভাবনার পার্থক্য বড় ভূমিকা রাখে।
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক রেমব্র্যান্ড এম কোনিংয়ের মতো অনেক গবেষক মনে করেন, নারীরা কম এআই ব্যবহার করলে তা তাদের ব্যক্তিগত উৎপাদনশীলতা ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।










