সংকলন ও অনুবাদ: আন্দালিব রাশদী
এবারের সবগুলোই হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া অন্তত কুড়ি হাত ঘুরে আসা ছোট ছোট এপিসোড এক-দুদিনের ব্যবধানে অন্তত কুড়িজন পাঠাচ্ছেন। পাবলিক ডোমেইনে যখন এগুলো ঘুরঘুর করছে, কপিরাইটের মামলা করে বেশিদূর এগোনো যাবে না। তিন ধরনের এপিসোড পাবেন: ইংরেজি ভাষার পোস্টিংটি আমারই হাতে অনূদিত। লেখকের নামধাম জানা গেছে এমন এপিসোডগুলো হুবহু উপস্থাপিত। আর কতগুলো আমারই হাতে ঈষৎ পরিমার্জিত (কিংবা বিকৃত!) এবং তথাকথিত সম্পাদিত।
বিবাহিত পুরুষের জন্য সুসংবাদ
পুরুষ দুই প্রকার: সুখী পুরুষ আর বিবাহিত পুরুষ। এর সবটাই সত্য নয়। বিবাহিত পুরুষের চাহিদা সুখী পুরুষদেরও ঈর্ষান্বিত করার কথা। তালিকাটি দেখুন:
হেমামালিনী বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
রাভিনা ট্যান্ডন বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
কারিনা কাপুর বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
জুহি চাওলা বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
বিদ্যা বালান বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন
সোনম কাপুর বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
লারা দত্ত বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
শিল্পা শেঠি বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
মহিমা চৌধুরী বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
অমৃতা অরোরা বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
রানী মুখার্জি বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
বিপাশা বসু বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
শাবানা আজমি বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
কাকি কোয়েচলিন বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
সাকিরা বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
শ্রীদেবী বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করেছেন;
সুতরাং যেকোনো বিবাহিত পুরুষের আনন্দিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ এখনো রয়ে গেছে।
(ইংরেজি থেকে)
টুথব্রাশের আয়ু
একজন দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ একটি জরিপ পরিচালনা করছিলেন। বিষয় টুথব্রাশ।
প্রশ্ন: আপনি কয়দিন একটি টুথব্রাশ ব্যবহার করেন?
একজন চাইনিজ উত্তরদাতা (রেসপন্ডেন্ট) বললেন, ‘তিন মাস।’
আমেরিকান উত্তরদাতা বললেন, ‘এক মাস।’
ভারতীয় (কিংবা বাংলাদেশী উত্তরদাতার জবাব):
‘ডাক্তার সাহেব, এর কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবহারকাল নেই। প্রথমে আমরা এটাকে দাঁত ব্রাশ করার কাজেই লাগাই। আমি আমার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে যখন যার দরকার। বেশি পুরনো হয়ে গেলে ফেলে দেয়ার আগে কাজের বুয়াকে দিই। সে কয়েক মাস ব্যবহার করার পর ফেলে দেয়ার অবস্থায় এলে এ ব্রাশ দিয়ে চিরুনির ময়লা পরিষ্কার করি, অলংকার সাফ করি। তারপর ফেলে দেয়ার আগে আমার চুল কালো রঙ করার কাজে ব্যবহার করি, তারপর ফেলে দেয়ার আগে যন্ত্রপাতির ওপর জমে থাকা ময়লা, গ্যাসের চুলার তৈলাক্ততা পরিষ্কার করি। ফেলে দেয়ার আগে বাথরুমের টাইলসের মাঝখানে আটকে থাকা পুরনো আবর্জনা সাফ করি, তারপর যখন ব্রাশের আর আশা থাকে না, তখন লাঠিটা চোখা করে পাজামার ফিতে ভরতে ব্যবহার করি। কিছুকাল ব্যবহার করার পর ফেলে দেয়ার আগে...।
ততক্ষণে দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন।
(অনূদিত)
আরবি রক্ত ইহুদি রক্ত
শেক্সপিয়ারের মার্চেন্ট অব ভেনিসে ইহুদি কুশীদজীবী সাইলকের কাহিনী প্রায় সবারই জানা। এবার আরব কাহিনী।
একজন আরব দেশীয় ব্যক্তির ওপেন হার্ট সার্জারি হতে যাচ্ছে। রক্ত দরকার। তিনি দুর্লভ ব্লাড গ্রুপের মানুষ। আশেপাশে সেই গ্রুপের কাউকে পাওয়া গেল না। আশেপাশের মুসলিম দেশগুলোয় খোঁজ করা হলো, এ ব্লাড গ্রুপের লোক শনাক্ত করা গেলেও কেউ দাতা হতে রাজি হলেন না। কিন্তু ইসরায়েল নিবাসী একজন উদার ইহুদি সানন্দে রাজি হলেন।
অপারেশনের পর কৃতজ্ঞ আরব ইহুদি এ সজ্জনকে একটি থ্যাংক ইউ কার্ড পাঠালেন। কার্ডের সঙ্গে গেল মূল্যবান হীরার অলংকার ও রোলস রয়েস গাড়ি।
এ অপারেশনের সূত্র ধরে কিছুদিন পর এই আরবকে আরো একটি অপারেশন করাতে হলো। রক্তের প্রয়োজনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আবারো সেই ইহুদির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সানন্দে রাজি হয়ে গেলেন। তিনি জানেন বিনিময়ে তার জন্য রয়েছে মূল্যবান উপহার।
দ্বিতীয় অপারেশনও সফল হলো। ইহুদি থ্যাংক ইউ কার্ড পেলেন, কার্ডের সঙ্গে এল ছোট এক বাক্স আখরোট। বিস্মিত ও ব্যথিত ইহুদি আরবের এ অনুদারতা মেনে নিতে পারছিলেন না। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আরব রক্তগ্রহীতাকে ফোন করে তার এবারের অনুদারতার কারণ জানতে চাইলেন।
আরব বললেন, ইয়া হাবিবি—হে বন্ধু, আপনাকে মনে রাখতে হবে আমার শরীরে এখন ইহুদি রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। (অনূদিত)
পতিনিন্দুকের নরকবাস
হুবহু উদ্ধৃত একটি পতিচর্চা:
এক মহিলা তার বান্ধবীকে বলছেন, ‘আমি জানি না রে মেয়েরা যে কেমন করে সবার সামনে বিচ্ছিরিভাবে তাদের স্বামীদের নিন্দে করে। দেখ না, তোদের তাপস দা, মানে আমার বর ঠিক কালো মোষের মতো দেখতে, গায়ে ভালুকের মতো লোম, মুখটা মনে হয় জলদাপাড়ার গণ্ডার, কিন্তু আমি কি কোনোদিন বলেছি যে ও কুিসত দেখতে? একদিনও বলিনি। টাকা নেই, ফকির দি গ্রেট। কেরানির চাকরি করে চুরি করতে পারে না, অপদার্থ। ওর অফিসের বাকি সবাই টেবিলের নিচ দিয়ে ঘুষ খায়। আমার ছাগলটা ছাগলই রয়ে গেল। তাও আমি কোনোদিন কিছু বলেছি ওকে? আমিও সততা খুব ভালোবাসি। বালিগঞ্জের এঁদো টাউনে বড় হয়েছে। কী শব্দ করে যে চা খায়, বাপরে বাপ। বিস্কুট খেলে মনে হয় মাংসের হাড় চিবুচ্ছে। তাও আমায় শুনেছিস কোনোদিন কিছু অভিযোগ করতে? ঘড়ঘড় করে নাক ডাকে সারা রাত। মনে হয় একদিন দিই আধ লিটার কেরোসিন ঢেলে, সবকিছু শেষ করে দিই। কিন্তু করিনি। তার একটাই কারণ, আমি ওকে ভালোবাসি। বুঝলি, আমার বর সাক্ষাৎ দেবতা। সত্যিই বুঝতে পারি না মহিলারা কেন যে নির্লজ্জভাবে ওদের বরগুলোর নিন্দে করে। ছি: ছি: ছি-ই-ই-ই। ওদের নরকেও স্থান হবে না দেখিস।’
কেষ্ট বাবু দীর্ঘায়ু হোন
হুবহু টুকে নেয়া একটি প্রতিবেশী উপাখ্যান:
পাড়ার দিনেশ বাবু ও সুরেশ বাবুর মধ্যে গাঢ় বন্ধুত্ব। সুরেশ বাবু একদিন নিজের স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পাওয়ামাত্র তত্ক্ষণাৎ দিনেশ বাবু হাসপাতালে হাজির হন।
দিনেশ বাবু উত্কণ্ঠিত হয়ে, ‘কী হয়েছে বৌঠানের?’
‘কী আর বলব, বাথরুমে স্নান করছিল, মাথা ঘুরে পড়ে যায়। আর পড়ার সময় মাথা ঠুকে যায় কলের ট্যাপে। মাথা ফেটে একেবারে রক্তারক্তি কাণ্ড...।’
‘ওহ্ সাংঘাতিক! এখন কেমন আছেন?’
‘এখন আউট অব ডেঞ্জার। ডাক্তার বলেছেন, যদি আরেকটু দেরি হতো, কোমায় চলে যেত।’
‘ওই অবস্থায় বৌঠান তোকে ডাকলেন কী করে?’
‘আরে পাগল! ও কী করে ডাকবে? ও তো অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল।
ভাগ্যি ভালো সামনের বাড়ির কেষ্ট বাবু বাথরুমের খোলা জানালা দিয়ে ওর স্নান করা দেখছিলেন। উনিই প্রথম এসে আমাকে...। উনি না থাকলে যে কী হতো, ভাবলেই শিউরে উঠি।
কেষ্ট বাবুর দীর্ঘায়ু কামনা করি। সত্যিই আজকালকার দিনে এমন দরদি প্রতিবেশী পাওয়া ভাগ্যের কথা।’
খেজুর গুড়ের সন্দেশ
তারাপদ রায়ের ‘খেজুর গুড়ের সন্দেশ’ একালের ভাষায় ভাইরাল হয়ে গেছে। এজন্য তারাপদ বাবু যেহেতু নেই, তার পুত্র কপিরাইট মামলা করেছেন এমন শুনিনি। আমিও টুকে দিচ্ছি:
মহীতোষ বাবু বিবাহোত্তর বাকি জীবন সব বাঙালি পুরুষের মতনই স্ত্রীর ভয়ে সন্ত্রস্ত ছিলেন। টিপে টিপে, মেপে মেপে চলতেন। কিসে কী দোষ হয়, গাফিলতি হয়, কিছুই অনুমান করতে না পেরে দুরুদুরু বক্ষে সদাসর্বদা স্ত্রীর হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন।
যাহোক, এ মহীতোষ বাবু এখন মৃত্যুশয্যায়। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গম্ভীর মুখে চলে গেছেন—এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা!
আশ্চর্য ব্যাপার হলো, তার জ্ঞান-বুদ্ধি সব টনটনে আছে, উপরন্ত ঘ্রাণশক্তিটা মনে হয় বেড়ে গেছে। এরপর তারাপদ বাবুর সুরসিক ভাষায়:
এমন সময় অন্য একটি সুঘ্রাণ এসে তাকে চনমনে করে তুলল। খেজুরের গুড়ের পাকের গন্ধ। দুয়েকবার শুঁকে তিনি তার মাথার কাছে দাঁড়ানো মেয়ে অনুকণাকে বললেন, ‘রান্নাঘরে তোর মা বোধহয় খেজুরের গুড়ের সন্দেশ বানাচ্ছে?’
অনু বলল, ‘হ্যাঁ, ঠিক তাই।’
মৃত্যুমুখী মহীতোষ বাবু কেমন প্রলুব্ধ হয়ে পড়লেন, মেয়েকে বললেন, ‘দ্যাখ, তোর মা তো সারা জীবন আমাকে ভালো-মন্দ কিছুই খেতে দেয়নি। আজ যা তো, রান্নাঘর থেকে দুটো সন্দেশ নিয়ে আয়, মরার আগে খেয়ে যাই।’
মেয়ে মাকে ভালোই চেনে। একটু দোনামোনা করে সে রান্নাঘরে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে মুখ কালো করে ফিরে এল।
মহীতোষ বাবু মেয়েকে বললেন, ‘কিরে সন্দেশ কী হলো?’
মেয়ে বলল, ‘মা দিল না। ও সন্দেশগুলো শ্মশানবন্ধুদের জন্য বানানো হচ্ছে। তুমি মারা যাওয়ার পরে তোমাকে পুড়িয়ে ফিরে এসে তারা ওই সন্দেশগুলো খাবে। ওর একটাও তোমার জন্য নয়।’
হূিপণ্ডের সার্জন
সাধারণত এমনই হয়। হার্ট অপারেশন সেরে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হলেই রোগীর নিকট ও প্রিয়জন এতক্ষণ যারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, আমার কাছে ছুটে আসে, রোগীর অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করে। অপারেশন কতটা সফল হয়েছে জানতে চায়, কবে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে শুনতে চায়।
কিন্তু সম্প্রতি এমন একটি প্রশ্ন আমি শুনেছি, যার উত্তর আমার জানা ছিল না।
অশ্রুভারাক্রান্ত দু’চোখ নিয়ে রোগীর স্ত্রী এসে আমার গ্লাভসপরা দু’হাত চেপে ধরে বললেন, প্লিজ ডাক্তার, ‘আমাকে বলুন তার হার্টে কি অন্য কোনো নারী ছিল?’
(অনুসৃত)
নারীর পুরুষ, পুরুষের নারী
ভবেশ বাবু এবং তার স্ত্রী মিলে পাঁচজন লোকের একটি তালিকা বানিয়েছেন, যাদের বিয়ের আগে পেলে তারা বিয়ে করে নিতেন।
স্ত্রীর তালিকা: হূতিক রোশন, অক্ষয় কুমার, আমির খান, সালমান খান আর শাহরুখ খান।
ভবেশ বাবুর তালিকা: স্ত্রীর বোন, বৌদির বোন, স্ত্রীর বান্ধবী, প্রতিবেশিনী এবং সন্তানের টিচার।
পুরুষরা খুব বাস্তববাদী হয়ে থাকেন। তারা এমন লক্ষ্য স্থির করেন, যা একটু চেষ্টা করলে বাস্তবে পাওয়া সম্ভব।
(হুবহু টুকে নেয়া)
নারীর বয়স, পুরুষের বয়স
আদমশুমারির ফরম পূরণ করতে এলেন শুমার কর্মকর্তা। স্বামী বাড়িতে নেই, স্ত্রী জবাব দিচ্ছেন। ফরমটি সক্ষম দম্পতি জরিপ নিয়ে।
শুমার কর্মকর্তা: ম্যাডাম আপনার এবং আপনার স্বামীর বর্তমান বয়স জানা দরকার।
স্ত্রী: বিয়ের সময় আমার বয়স ছিল ১৬ বছর আর আমার স্বামীর ২৭। ওর বয়স ডাবল হয়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৫৪ বছর। তাহলে আমার এখন ডাবল হয়ে ৩২ বছর।
শুমার কর্মকর্তা তখনো আঙুলের কড়ে এ নারীর বয়স গুনে চলেছেন।
মায়ের সুখ, বাবার সুখ
রাজা-রানীদের গল্প শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মায়ের কাছে এসে বলল, ‘মা, আমিও রাজার মতো চারটা বিয়ে করব।’
মা বলল, ‘এত কেন?’
ছেলে বলল, ‘আমার এক রানী বাজারসদাই করবে, এক রানী রান্নাবান্না করবে, এক রানী বাড়িঘর পরিষ্কার রাখবে, এক রানী মেহমানদারি করবে।’
মা বলল, ‘তাহলে আমার সোনা ছেলে কোন রানীর সঙ্গে ঘুমোবে?’
ছেলে বলল, ‘মা আমি তো তোমার সঙ্গেই ঘুমোব।’
কথা শুনে মায়ের চোখে আনন্দে অশ্রু নেমে এল।
মা চোখ মুছে জিজ্ঞেস করল, ‘তাহলে রানীদের সাথে কে ঘুমোবে?’
ছেলে বলল, ‘কেন, বাবা ঘুমোবে।’
শুনে বাবার চোখে আনন্দাশ্রু নেমে এল।
মানসিক হাসপাতালে
একবার এক সাংবাদিক মানসিক হাসপাতালের ওপর প্রতিবেদন লিখবেন বলে এখানে এসে ডাক্তারকে প্রশ্ন করলেন, ‘রোগীকে আপনাদের হাসপাতালে ভর্তি করবেন কিনা, তা কেমন করে ঠিক করেন?’
ডাক্তার বললেন, ‘আমরা একটি বাথটাব পানি দিয়ে পূর্ণ করি। তারপর রোগীর হাতে একটা চামচ, একটা গ্লাস, আরেকটি বালতি দিয়ে বলি, এবার বাথটাব খালি করুন।’
সাংবাদিক বললেন, ‘এটা তো স্পষ্ট, স্বাভাবিক মানুষ বালতি ব্যবহার করবে। কারণ এটা বড়।’
ডাক্তার বললেন, ‘না, স্বাভাবিক মানুষ বাথটাবের ড্রেন প্লাগ খুলে দেবে। যান, এবার আপনি ৩৯ নম্বর বেডে শুয়ে পড়ুন। আমরা আপনাকে নিয়ে এখনই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করব।’
কী ব্যাপার, আপনিও কি বালতির কথা ভেবেছেন? তাহলে ৪০ নম্বর বেড আপনার জন্য।
অনুসৃত
নবাব-বেগম কথোপকথন
নবাব: বেগম, ভাবছি দুশরি শাদিটা করেই ফেলি।
বেগম: এই বয়সে দ্বিতীয় শাদির খায়েস কেন?
নবাব: (বেগমের দিকে তাকিয়ে) এই সিক্সটির মডেল তো অনেক চালালাম, এখন এ শতাব্দীর মডেলও তো কাছে থাকা দরকার!
বেগম: বড়ই আজিব কথা বলেছেন, তো জনাব নিজে চালাবেন, না ড্রাইভার রাখবেন?
কপি অ্যান্ড পেস্ট
বিশ্ব নারী দিবসের সভায় প্রধান অতিথি বললেন:
এত বছর পর লুকোনোর আর কিছুই নেই। আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর দিনগুলো এমন এক নারীর সঙ্গে কাটিয়েছি, যে আমার স্ত্রী নয়।
বলেই বক্তা চুপ।
শ্রোতারা হতভম্ব।
দীর্ঘ নীরবতা ভঙ্গ করে তিনি বলে উঠলেন: সেই নারী ছিলেন আমার মা।
এই অভূতপূর্ণ ব্যাখ্যা শুনে সারা হল হাততালিতে ফেটে পড়ল। আমার চোখ দিয়েও জল বেরিয়ে এল। আহা! আমি অনুপ্রাণিত হলাম।
বাড়ি ফিরে গ্লাস নিয়ে বসলাম। চার পেগ খাওয়ার পর কথাগুলো মনে পড়ল। ভাবলাম বউকে চমকে দেয়ার জন্য এর থেকে ভালো সুযোগ আর হবে না। বউ জানুক, আমিও সমঝদার হয়েছি।
রান্নাঘরে গেলাম টলটলায়মান। আমাকে ঢুকতে দেখে টলটলায়মান শ্রীমতি একবার তাকাল। কোনো রকম ভণিতা না করে সেই কথাটা বলে উঠলাম, ‘...যে আমার স্ত্রী নয়!’
পরের লাইনটা আর মনে পড়ল না... তো মনেই পড়ল না। নেশা চড়ে গেছিল। বউ দেখলাম স্থির দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে। ঘাবড়ে গিয়ে বিড়বিড় করলাম, আমার ঠিক মনে পড়ছে না, নারীটা কে ছিল!
পরের দিন হাসপাতালের বেডে হুঁশ ফিরেছিল, সারা গায়ে ব্যান্ডেজ। বেলুন দিয়ে মারের চোটে হাত-পা-চোয়াল ভেঙে গেছিল। গরম ডাল পড়ে মাথার চুল উঠে গেছিল। প্রাণে যে বেঁচে গেছি এই অনেক।
শিক্ষা: পেস্ট করতে পারলে কপি করো না।
রিশিডিউলিং
অফিসের বস তার সুন্দরী সেক্রেটারি ফারিয়াকে ডেকে বললেন, ‘আমি এক সপ্তাহের জন্য অফিস ট্যুরে থাইল্যান্ড যাচ্ছি। যাবে নাকি আমার সঙ্গে, লেটস এনজয়।’
ফারিয়া তার স্বামী সোহেলকে ফোনে বলল, ‘সোহেল আমি এক সপ্তাহের জন্য অফিসের কাজে থাইল্যান্ড যাচ্ছি, তুমি কোনো দুষ্টুমি করো না কিন্তু, ভালোভাবে থেকো।’
সোহেল তার গার্লফ্রেন্ড সামিয়াকে ফোন করে বলল, ‘আমার স্ত্রী দেশের বাইরে যাচ্ছে, বাসা খালি। তুমি এক সপ্তাহের জন্য চলে এসো। লেটস এনজয়!’
সামিয়া তার ছাত্র রনিকে ফোন করে বলল, ‘শোনো, আমি এক সপ্তাহ পারিবারিক কাজে ভীষণ ব্যস্ত থাকব, তোমার এ সপ্তাহ ছুটি। তুমি এনজয় করো।’
রনি তার বাবাকে ফোন করে বলল, ‘বাবা কাল থেকে আমার প্রাইভেট সাতদিনের জন্য বন্ধ। তুমি সাতদিন কোথাও যেতে পারবে না, তোমার সঙ্গে অনেক মজা করব। লেটস এনজয়।’
ছেলের ফোন পেয়ে বাবা অফিসের সেক্রেটারিকে বলল, ‘ফারিয়া, আমার অন্য একটা জরুরি কাজ পড়ে গেছে। এ সপ্তাহে থাইল্যান্ড যাওয়া হচ্ছে না। ট্রিপটা ক্যানসেল করতে হচ্ছে।
ফারিয়া তার স্বামী সোহেলকে ফোনে বলল, ‘শোনো, আমার যাওয়া হচ্ছে না। ট্যুর ক্যানসেল হয়ে গেছে। তোমাকে একা একা থাকতে হবে না। আমি আছি পাশে। লেটস এনজয়।’
সোহেল তার গার্লফ্রেন্ড সামিয়াকে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে বলল, ‘এই শোনো, আমার স্ত্রী কোথাও যাচ্ছে না, তাই তোমার আর কষ্ট করে আসতে হবে না।’
তাই শুনে সামিয়া তার ছাত্র রনিকে ফোন করে বলল, ‘আমার পারিবারিক যে কাজটা ছিল, সেটা মিটে গেছে। তুমি কাল সকাল থেকে যথারীতি পড়তে আসবে।’
রনি সঙ্গে সঙ্গে তার বাবাকে ফোন করে বলল, ‘বাবা আমি এ সপ্তাহে আর ফ্রি হতে পারলাম না। কারণ প্রাইভেট ম্যাডাম একটু আগে যেতে বলেছেন। সামনে পরীক্ষা, অনেক পড়তে হবে।’
সঙ্গে সঙ্গে রনির বাবা ফারিয়াকে ফোন করে বলল, ‘শোনো, আমার যে আরেকটা ইম্পোর্টেন্ট কাজ ছিল সেটা তোমার জন্য ক্যানসেল করেছি। চলো কালই থাইল্যান্ড যাবে। ব্যাগট্যাগ গুছিয়ে ফেলো। লেটস এনজয়।’
সঙ্গে সঙ্গে ফারিয়া আবার ফোন দিল সোহেলকে। সোহেল দিল সামিয়াকে। সামিয়া দিল রনিকে...। আর এভাবেই তারা এনজয়ের পরিকল্পনা করতে করতে বসবাস করতে লাগল (এটির উৎস অবশ্যই বাংলাদেশ। লেখক যদি অনুগ্রহ করে নামটা জানাতেন ভালো হতো)।
প্রতিযোগিতামূলক সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা
মেধাবী ও বুদ্ধিমান তরুণ ভারতীয় প্রশাসনিক সার্ভিসের জন্য ভাইবা স্তর অতিক্রম করছে:
প্রশ্নকর্তা: ভারত কখন স্বাধীন হয়েছে?
তরুণ: প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল অনেক আগে, তবে স্বাধীনতা আসে ১৯৪৭ সালে।
প্রশ্ন: কে স্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন?
তরুণ: অনেকেই এতে অবদান রেখেছেন, একটি একটি নাম বললে অন্যদের প্রতি অবিচার করা হবে।
প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন দুর্নীতি এ দেশের উন্নতির প্রধান প্রতিবন্ধক?
তরুণ: এ নিয়ে একটি কমিটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে তারা রিপোর্ট দাখিল করার পরই সুনির্দিষ্টভাবে জবাব দেয়া যাবে।
ইন্টরভিউ বোর্ড সন্তুষ্ট। এ প্রশ্নগুলো যেন অন্য কোনো পরীক্ষার্থীকে না বলে, বোর্ড তাকে অঙ্গীকার করাল।
ইন্টারভিউ শেষে বেরোতেই একজন শিখ সর্দারজি পরীক্ষার্থী তাকে প্রশ্নগুলো বলতে অনুরোধ জানায়। সে তার অঙ্গীকারের কথা বলে। সর্দারজি তখন বলে, ‘বেশ তাহলে উত্তরগুলো বলুন।’ তখন দেখল, উত্তর বলা না-বলা নিয়ে যেহেতু কোনো অঙ্গীকার করেনি, একে একে শুধু উত্তরগুলো বলে দিল।
প্রসন্নচিত্তে সর্দারজি ভেতরে ঢুকতেই তাকে স্বাগত জানিয়ে প্রথম প্রশ্ন করা হলো:
প্রশ্ন: তোমার জন্ম কবে?
সর্দারজি: প্রক্রিয়াটি অনেক আগে শুরু হয়েছিল কিন্তু সাফল্য আসে ১৯৪৭ সালে।
প্রশ্ন: তোমার পিতাজির নাম কী?
সর্দারজি: অনেকেই এতে অবদান রেখেছেন। একটি নাম বললে অন্যদের প্রতি অবিচার করা হবে।
তার উত্তরে বোর্ডের সদস্যরা অবাক এবং ক্ষিপ্ত হন।
প্রশ্ন: তুমি কি পাগল?
সর্দারজি: এ নিয়ে একটি কমিটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শেষে রিপোর্ট দাখিল করার পরই সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়া যাবে।
(অনূদিত)
নারীর বয়স
অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তার তার নারী রোগীর বয়স জিজ্ঞেস করলেন।
‘২৮ বছর’
ডাক্তার বললেন, ‘ডাক্তারের কাছে বয়স লুকোতে নেই।’
‘৩২ বছর।’
ডাক্তার বললেন, ‘অ্যানেসথেসিয়ার জন্য প্রকৃত বয়স না জানালে সমস্যা হতে পারে।’
‘৩৮ বছর।’
ডাক্তার বললেন, ‘বয়সের তুলনায় ওষুধের মাত্রা কম হলে অপারেশনের সময় যন্ত্রণা হবে।’
‘৪২ বছর।’
ডাক্তার বললেন, ‘আরেকবার ভেবে বলুন।’
‘৪৮ বছর। কসম খোদার, এর চেয়ে বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়।’
অনুসিদ্ধান্ত: নারীর প্রকৃত বয়স প্রকাশিত বয়সের চেয়ে কুড়ি বছরের বেশি হয় না।
হুবহু টুকে নেয়া দাঁতের পাটি
বিয়েবাড়িতে যখন পাতে মাংস পড়ল, একজন বৃদ্ধ চুপ করে বসে রইলেন।
পাশের লোকটি জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন, তিনি বাঁধানো দাঁত পরে আসতে ভুলে গেছেন।
তখন পাশের সেই ভদ্রলোক পকেট থেকে পাঁচ জোড়া বাঁধানো দাঁতের পাটি বের করে বললেন, ‘কোনটা সেট হয় দেখে নিন।’
খাওয়া শেষ হলে বৃদ্ধ তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি ডেন্টিস্ট?’
পাশের ভদ্রলোক, ‘না, না, আমি তো শ্মশানঘাটের কেয়ারটেকার...। আমার কাছে আরো কয়েক পাটি আছে। দেখবেন নাকি?’
পোলট্রি ব্যবসা
ক্রমাগত লস খাওয়ার পর এক বাংলাদেশী পোলট্রি ব্যবসায়ী একবার ক্ষেপে গিয়ে তার মুরগিগুলোকে হুমকি দিলেন, ‘কাল থেকে যদি দুটো করে ডিম না দিস, তাহলে ধরে জবাই করে খেয়ে ফেলব।’ একটি বাদে অন্যগুলো আতঙ্কিত হয়ে দুটি করে ডিম পাড়তে শুরু করল।
একটি করে ডিম পাড়া মুরগির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবসায়ী বললেন, ‘তোর তো সাহস কম নয়, আমার হুমকির পরও একটি করে পাড়ছিস।’
তিনি উত্তর পেলেন, ‘জনাব, আপনার ভয়ে বহু কষ্টে একটা করে ডিম পাড়ছি। আমি তো আসলে মোরগ।’
ল্যাংচার ফুলশয্যা
ল্যাংচার সদ্য বিয়ে হয়েছে। ফুলশয্যার রাতের পরদিন গোমড়া মুখ করে বসে আছে।
তা দেখে বন্ধুরা খুবই অবাক।
ফুলশয্যার পরদিন তো সব বিবাহিত পুরুষই খুশি থাকে, তাহলে কি ল্যাংচার কোনো ত্রুটি আছে? এসব ভাবতে ভাবতে বন্ধুরা কাছে এসে জিজ্ঞেস করেই ফেলল...
‘কিরে ল্যাংচা, এত চুপচাপ কেন? কিছু কি গড়বড় হয়েছে?’
ল্যাংচা: গড়বড় মানে একটু ভুল হয়ে গেছে। পুরনো অভ্যাসবশত সবকিছু হয়ে যাওয়ার পর বউয়ের হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়েছি।
বন্ধুরা: তাতে কী আর এমন গড়বড়! তোর বউ অতসব বুঝবে না। ভাববে উপহার দিয়েছিস।
ল্যাংচা: নারে ওই নিয়ে টেনশন নয়, টেনশন বউ ৫০০ নিয়ে ২০০ টাকা ফেরত দিয়ে দিল।
মোবাইল ফোনের স্মার্ট হয়ে ওঠা
পাবলিক ডোমেইন থেকেই পেয়েছি, কপিরাইটের মামলা হলে প্রেরক দায়ী হবেন কিন্তু পাবলিক ডোমেইনভুক্ত হওয়ায় মামলা টিকবে না!
শুরুটা মোবাইল ফোন নিয়ে:
মোবাইল ফোন এমনি এমনি বড় হয়নি... অনেক কিছু খেয়েই স্বাস্থ্যবান হয়েছে। যেমন
হাতঘড়ি খেয়েছে
টর্চ লাইট খেয়েছে
রেডিও খেয়েছে
টেপরেকর্ডার খেয়েছে
ক্যামেরা খেয়েছে
মিউজিক প্লেয়ার খেয়েছে
বই খেয়েছে
ডায়েরি খেয়েছে
বাজারের কেনাকাটার জায়গা খেয়েছে
হলুদ ট্যাক্সি খেয়েছে
রেলের টিকিট কাউন্টার খেয়েছে
রেলের টাইম টেবিল খেয়েছে
আবহাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী খেয়েছে
দৈনন্দিন কর্মসূচি খেয়েছে
দরখাস্ত খেয়েছে
প্রেমপত্র খেয়েছে
টেলিগ্রাম খেয়েছে
সিনেমা খেয়েছে
বইপত্র খেয়েছে, স্টিকার খেয়েছে
...
খেয়েছে মানুষের সময়, সম্পর্ক, শান্তি, স্মৃতিশক্তি, স্বাস্থ্য, ছোটদের খেলার মাঠ, বন্ধুর আড্ডা... আরো কত কী!
এমনি এমনি কি ঝগঅজঞ হয়েছে?
এত কিছু খেয়ে তবেই না হয়েছে।
মানুষ হয়েছে মূর্খ আর ফোন হয়েছে ঝগঅজঞ!
যতদিন ফোন তারের সঙ্গে বাঁধা ছিল, মানুষ স্বাধীন ছিল। যবে থেকে ফোন স্বাধীন হয়েছে, মানুষ বেঁধে গেছে ফোনে।
এখন আঙুলই সব। বর্তমানে মুখ চলে না, আঙুল চলে। জিভের কাজ কমে গেছে। আন্তরিকতা বাষ্পের মতো মিলিয়ে যাচ্ছে! সবাই TOUCH-এ ব্যস্ত, কিন্তু কেউ কারো TOUCH-এ নেই।






