এটা মহামারীর কাল। ইতিহাস সাক্ষী, মহামারী পাল্টে দেয় যাপিত জীবনের ধারা, ধারণা, যোগাযোগ আর আলাপ। এ পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে শিল্প, সাহিত্য আর বোধের জায়গায়ও। ফলে আমরা দেখি, এবার করোনা অতিমারীর এ কালে সিনেমাও পাল্টে যাচ্ছে অনেকখানি। এর ধরন আর প্রচারের মাধ্যমে দেখি পরিবর্তনের ছোঁয়া।

না, এমন নয় যে চলচ্চিত্র এ বছরে খোলনলচে পাল্টে একেবারে নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে এবারই প্রথম বাংলা ছবির ইতিহাসে আমরা বিকল্পধারা বলতে যেসব চলচ্চিত্রকে বুঝতে চাই, সেসবই হয়ে উঠেছে মূলধারা। বেশির ভাগ চলচ্চিত্র নির্মাণে রয়েছে যত্নের ছাপ। এসব চলচ্চিত্র নিয়ে যুক্তি, তক্কো এমনকি গপ্পোও চলছে মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত, বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে। চলচ্চিত্রগুলো দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কান, অস্কার, টরন্টো কাঁপিয়ে দেশে ফিরছে ফের। গত বছরের ভয়ংকর সময়টুকু কাটিয়ে এ বছর মুক্তি পেয়েছিল প্রায় ২৮টি চলচ্চিত্র। তবে এই যে এত আলোচিত এবং এফডিসির কিছু অনালোচিত ছবি; এর কোনোটিই কিন্তু বক্স অফিসে অর্থানুকূল্য যোগ করতে পারেনি।

এদিকে চলচ্চিত্র, ওয়েব সিরিজ আর অডিও ভিজুয়াল কনটেন্ট প্রদর্শনের জন্য নয়া মাধ্যম ওটিটির অবস্থানও বাংলাদেশে রমরমা হয়ে উঠছে। বিদেশী প্লাটফর্মের পাশাপাশি দেশী প্লাটফর্ম আশা জোগাচ্ছে আমাদের। ওটিটির হাত ধরে পাল্টে যাচ্ছে প্রদর্শন ও প্রদর্শনীর মাধ্যম এবং দর্শক শ্রেণীও। চলচ্চিত্র আটকে পড়ছে মধ্যবিত্তের নিজস্ব গণ্ডির মধ্যে, ছিটকে পড়ছে শ্রমিক শ্রেণীর দর্শক। চলচ্চিত্রের প্রথম শোর দর্শক আর খেটে খাওয়া মানুষ নন বরং ন্যূনতম ২৫ এমবিপিএস স্পিড আছে, এমন ইন্টারনেট আর ল্যাপটপের মালিক যে মধ্যবিত্ত শ্রেণী, তারাই এর দর্শক হয়ে উঠছেন।

ফলে একুশ শতকের তৃতীয় দশকের প্রথম বছর আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ বছরই বলে দেবে কোন দিকে চলবে আমাদের দেশী সিনেমা?

আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশী চলচ্চিত্র

বড় বাজেট নয় বরং স্বল্প বাজেটের ছবি বিশ্ব কাঁপিয়ে দিতে পারে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এটি বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র, যা কানে অফিশিয়াল মনোনয়ন পেয়েছে এবং প্রদর্শনের পর সেখানে সবা দাঁড়িয়ে সম্মাননা জানিয়েছেন সিনেমাটিকে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি অবশ্যই একটি মাইলফলক। দীর্ঘ সময়জুড়ে মধ্যবিত্ত ও বোদ্ধাশ্রেণীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ছবিটি। বড় সেট বা প্রপসের আধিক্য নয় বরং চাইলে চেম্বার ফিল্ম বানিয়েও আলোচনায় থাকা যায়, নির্মাতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ সেটা প্রমাণ করেছেন। চলচ্চিত্রটি এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসের (অ্যাপসা) ১৪তম আসরে যৌথভাবে গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার অর্জন করে এবং একই আসরে চলচ্চিত্রটির অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জয় করেন।

রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের নোনা জলের কাব্য প্রদর্শিত হয়েছে গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলনের ভেনুতে। চলচ্চিত্রটি কপ-২৬-এর জন্য তৈরি গ্রিন জোনে দেখানো হয়। নব্বইয়ের ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে বানানো এ চলচ্চিত্রে ধর্ম ও বিজ্ঞান, শহুরে বনাম গ্রামীণ জীবনের বাইনারি অপজিশনের আদি চিত্রায়ণই দেখানো হয়েছে। শহুরে শিক্ষায় শিক্ষিত ‘সেকুলার’ ভাস্কর রুদ্রর প্রভাবে, সেই দ্বীপে বিচ্ছিন্ন এবং ‘কুসংস্কারাচ্ছন্ন’ কিছু মানুষ বিশেষত টুনি নতুন আঙ্গিকে ভাবতে শুরু করেন, এবং প্রবল ঝড়ে টুনি আশ্রয় নেন রুদ্রর জগতে; এমন জায়গায় এসেই চলচ্চিত্রটি শেষ হতে দেখি। ফ্রান্স ও বাংলাদেশের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত ছবিটি দৃশ্যায়ন এবং শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সংগীতায়োজন দর্শকের ভালো লেগেছে।

বিবিধ ইউরোসেন্ট্রিক কনটেন্টের ভিড়ে চন্দ্রাবতী কথা একটি নিখাদ দেশজ চলচ্চিত্র। ছবিটির নির্মাণ, গল্প, পাত্রপাত্রী মিলিয়ে নির্মাতা এন রাশেদ চৌধুরী আপনাকে নিয়ে যাবে ১৬ শতকের কামরূপ-কামাখ্যায়। কবি চন্দ্রাবতীর সৃষ্টি এবং তিনি নিজে একাকার হয়ে যান পুরো চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্রের ব্যবহূত বিভিন্ন দেশজ ফর্ম এর শিল্পমানকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। এর আগে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় ২৫তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে।

এদিকে নিজ অর্থায়নে নির্মিত ছবি প্রসুন রহমানের ‘ঢাকা ড্রিম’ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব টরন্টোয় প্রদর্শিত হয়েছে।

অতঃপর থ্রিলারের পিঠে সওয়ার হয়ে

বিগত দশকে দীপঙ্কর দীপনের কপ থ্রিলার ঢাকা অ্যাটাক (২০১৭) আমাদের বলে দিয়েছিল সময়টা থ্রিলারের হতে যাচ্ছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্লাটফর্ম, যেখানে দুই ক্লিকে আমরা পৌঁছে যাচ্ছি থ্রিলারের রোহমর্ষক জগতে। কপ থেকে সাইকো এ বিশাল পরিসরে থ্রিলার, মার্ডার নিয়ে কাজ করছেন তরুণ নির্মাতারা। দর্শক হিসেবে সেই পালে আমরাও হাওয়া দিচ্ছি। এ বছর সানী সানোয়ার, ফয়সাল আহমেদের কপ থ্রিলার মিশন এক্সট্রিম ধুন্ধুমার বাঁধিয়েছেন এটা সত্যি। এ চলচ্চিত্রের জন্য আরো ২০টি প্রেক্ষাগৃহ খুলতে হয়েছে এবং তিন সপ্তাহব্যাপী ঢাকায় প্রদর্শিত হয়েছে ছবিটি। আমরা জানি, এ ধরনের চলচ্চিত্রগুলো শুধু ব্যবসা নয় বরং রাষ্ট্রের মতাদর্শিক হাতিয়ার (Ideological State Apparatus) হিসেবেও কাজ করে। এমন মতাদর্শভিত্তিক ছবি হলিউড বলিউডে আকসারই হয়ে থাকে। যেমন ফারাহ খানের, ম্যায় হু না (২০০৪), বিধু বিনোদ চোপড়ার মিশন কাশ্মীর (২০০০) বা স্পিলবার্গের সেভিং প্রাইভেট রায়ান (১৯৯৮), ক্যাথরিন বিগেলোর দ্য হার্ট লকার (২০০৮) ইত্যাদি। তবে ঢালিউডে এমন ছবির জোয়ারটা নতুন এবং কিছু বছর থেকেই এমন ছবি চোখে পড়ছে। এ ধারাবাহিকতায় পরবর্তী বছরই আসতে যাচ্ছে র্যাবের দুঃসাহসিক অভিযান নিয়ে নতুন থ্রিলার দীপঙ্কর দীপনের ‘অপারেশন সুন্দরবন’।

একটু লক্ষ করলেই দেখা যাচ্ছে, এ বছরের সব আলোচিত ওয়েব সিরিজগুলোও প্রধানত কপ থ্রিলার। আশফাক নিপুণের কষ্টনীড়ের (২০২১) থেকে বেশি আলাপ হয়েছে তার ওয়েব সিরিজ মহানগর নিয়ে। জি ফাইভে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলম্যানের প্রথম চারটি এপিসোড নারীর যৌন হয়রানি, তার প্রতিবাদ, স্ট্রাগল নিয়ে হলেও পঞ্চম অধ্যায় থেকে ঘটনা থ্রিলারে রূপান্তর ঘটে। স্ট্যাবলিশ শট, রাতের ঢাকা, টপ শটে থ্রিলারের অস্থিরতা দেখতে পাই। ভারতীয় চলচ্চিত্র সমালোচক অনুপমা চোপড়া তার সাম্প্রতিক এক রিভিউয়ে বাংলা সেরা ওয়েব সিরিজের তালিকায় চরকির ঊনলৌকিক- এর কথা বলেছেন। সিরিজটি সাইকো থ্রিলারের একটি অ্যান্থোলজি। শিবব্রত বর্মণের গল্পে রবিউল আলম রবি পরিচালিত এ থ্রিলারের প্রথম মৌসুমে রয়েছে পাঁচটি গল্প। এ কথা সত্য যে বছরের সেরার তালিকা ঊনলৌকিককে বাদ দিয়ে তৈরি করা কঠিন হবে।

স্বাধীন ধারাই যখন মূল ধারা

এ বছরের প্রথমেই মুক্তি পেয়েছিল এফডিসিকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র রবিউল ইসলাম রাজ পরিচালিত কেন সন্ত্রাসী, কমল সরকারের রংবাজি-দ্য লাফাঙ্গা, দেলোয়ার জাহান ঝন্টুরতুমি আছো তুমি নেইসহ বেশকিছু চলচ্চিত্র। গল্প ও চরিত্র নির্বাচন, অভিনয় থেকে সার্বিক পরিচালনার দুর্বলতার কারণে ছবিগুলো থেকে দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেয়। ফলে প্রথমেই চলচ্চিত্রে মন্দা দিয়ে এ বছরের যাত্রা হয়। তবে এ বছর স্বাধীন ধারায় নির্মিত ছবি তৌকীর আহমেদের স্ফুলিঙ্গ, রাশিদ পলাশের পদ্মাপুরাণ, এন রাশেদ চৌধুরীর চন্দ্রাবতী কথা, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের নোনা জলের কাব্য, সাইদুল আনাম টুটুলের কালবেলা, প্রসুন রহমানের ঢাকা ড্রিম, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের রেহানা মরিয়ম নূর মধ্যবিত্ত দর্শকের নজর কাড়ে। এর প্রতিটি ছবিতেই নির্মাতাদের পরম যত্নের ছাপ রয়েছে। তরুণ নির্মাতাদের এ বাড়তি মনোযোগ চলচ্চিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে এটা নিঃসন্দেহ।

এ বছরে মুক্তিযুদ্ধের দুটি ছবি মুক্তি পায়। প্রথমটি আহমদ ছফার অলাতচক্র উপন্যাস অবলম্বনে একই নামের ত্রিমাত্রিক চলচ্চিত্র। হাবিবুর রহমান পরিচালিত চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় এ বছরের মার্চে। অন্যদিকে বছরের শেষে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে মুক্তি পায় নূরুল আলম আতিকের দ্বিতীয় ছবি লাল মোরগের ঝুঁটি।

আজ মুক্তির অপেক্ষায় আছে দুটি চলচ্চিত্র: একটি মীর সাব্বিরের রাত জাগা ফুল, অন্যটি নজরুল ইসলামের চিরঞ্জীব মুজিব।

চলচ্চিত্রে নারীর চিত্রায়ণ; কীভাবে এবং কেন

বাস্তব জীবনে নারীর লড়াই আর চলচ্চিত্রে লড়াইয়ের মধ্যে তফাত আছে। তবে আনন্দের বিষয় ২০২১-এর চলচ্চিত্রে নারীকেন্দ্রিক এবং নারীর কিছুটা পরিবর্তিত চিত্রায়ণ দেখতে পাওয়া গেছে। এন রাশেদ চৌধুরী চন্দ্রাবতী কথার কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন নারী। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কেন বারবারই সীতা আর সোনাইয়ের সতীত্বের পরীক্ষা নিতে থাকে সেই প্রশ্ন বারবার তুলেছেন কবি চন্দ্রাবতী। তবে কবি নিজে তার প্রেমিকের শোকেই বিহ্বল হয়ে মৃত্যু আলিঙ্গন করছেন এমনটাও দেখা গেছে।

নূরুল আলম আতিকের লাল মোরগের ঝুঁটিতে চারটি প্রধান চরিত্রই নারী। নারীর ওপর নিপীড়ন এবং নারী মুক্তিযোদ্ধা দুইই দেখা গেছে চলচ্চিত্রে। এমনকি এ চলচ্চিত্রে শুধু নারী নয় বরং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ওপর পাকিস্তানি সেনার যৌন নিপীড়নের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। রেহানা মরিয়ম নূর নারীবাদী বয়ান না হলেও এর মূল চরিত্র রেহানা এবং তাকে ঘিরেই ঘটনা আবর্তিত হয়। এ ছবিরও একটি বিরাট অংশজুড়ে কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি নিপীড়নের আলাপ জারি থাকে।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলম্যানের গল্পও আবর্তিত হয়েছে সাবিলা (তাসনিয়া ফারিণ) এবং কর্মক্ষেত্রে তার ওপর নিপীড়নের চিত্রায়ণ থেকে। পুরুষের ‘আপন নারী’ (মা, বোন, বউ) যৌন নিপীড়ন এবং সহিংসতার শিকার হলে পুরুষকেই এর বদলা নিতে হবে; বহু বছর ধরেই গল্প, উপন্যাস এবং অবশ্যই চলচ্চিত্র এ পুরুষালি ইগোকে বৈধতা দিয়ে আসছিল। ফারুকীই প্রথম, যিনি এ ইগোকে অবৈধ দাবি করেছেন তার লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলম্যান সিরিজের মধ্য দিয়ে। তবে ফারুকীর থেকে অনেকখানি উল্টা বয়ান হাজির করছেন আশফাক নিপুণ তার মহানগর ওয়েব সিরিজে। ফলে সবশেষে আফনান (শ্যামল মাওলা) কর্তৃক ধর্ষিত নারী এবং তার বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ওসি হারুন (মোশাররফ করিম) যেসব প্রক্রিয়া অবলম্বন করেন তা অনেকখানি আরোপিত মনে হয়। তবে দ্বিতীয় মৌসুমে মহানগর আমাদের জন্য কী নিয়ে হাজির হয়, তা দেখার বিষয়।

শেষের কথা

গত দুই দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের বেহাল আমরা দেখেছি। চোখের সামনে বন্ধ হতে দেখেছি একের পর এক সিনেমা হল। অতিমারীর প্রথম বছরে যেন হারিয়েই গিয়েছিল আমাদের চলচ্চিত্রজগৎ। তবে দ্বিতীয় বছরে মুক্তি পেয়েছে ২৮টি চলচ্চিত্র। সংখ্যায় হয়তো কম, কিন্তু যত্নের ছবি; ভালো ছবির বিচারে অন্য যেকোনো বছরের থেকে সংখ্যাটা অনেক বেশি। নিজ পকেট থেকে লগ্নি করছেন নির্মাতারা, অনুদানের অল্প টাকায় বানাচ্ছেন নান্দনিক ছবি। এর ফাঁকে ওটিটি এসে যুক্ত হয়েছে। বিজ্ঞাপনমুক্ত আর যখন খুশি দেখা যায় বলে এর দর্শক সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সেদিকেও মনোযোগ দেয়া জরুরি। শুধু মধ্যবিত্তের জন্য নয়, সব শ্রেণীর জন্য কনটেন্ট বানাতে হবে।

তবে সিনেমার জন্য চাই মজবুত ইন্ডাস্ট্রি। বিশ্বের বড় বড় ইন্ডাস্ট্রির দিকে তাকালে দেশের নির্মাতাদের জন্য খারাপ লাগা তৈরি হয়। কত অল্প পুঁজি আর স্বল্প কারিগরি ব্যবস্থা নিয়ে একঝাঁক তরুণ বিশ্ব জয় করতে নেমেছেন। পারছেনও অনেকে। তবে একটু, আর একটু বেশি সহায়তা আর একটি সুগঠিত ইন্ডাস্ট্রির দাবি তো আমরা এ বছর থেকেই তুলতে পারি। সেদিন হয়তো আর দূরে নয়, যখন বিশ্বের চলচ্চিত্রের ইতিহাস বাংলাদেশকে চিনবে তার নতুন ধরনের চলচ্চিত্র আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের জন্য।

 

মনিরা শরমিন প্রীতু: চলচ্চিত্র সমালোচক এবং শিক্ষক, জার্নালিজম ও মিডিয়া কমিউনিকেশন বিভাগ, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।