একাত্তরে লিয়ন রাসেল তিরিশের একটু নিচেই ছিলেন। জর্জ হ্যারিসন আরো একটু কম আর বব ডিলান আরো একটু বেশি— বব ডিলান ১৯৪১, লিয়ন রাসেল ১৯৪২ আর জর্জ হ্যারিসন ১৯৪৩। কিন্তু তখন জর্জ অনেক বড় মাপের সেলিব্রিটি।
রবিশঙ্কর যখন বললেন তার একদা পিতৃভূমি আক্রান্ত, একটা কিছু করা দরকার; জর্জ হ্যারিসন চাইলেন যেনতেন একটা কিছু নয়, হোক অনেক ভালো একটা কিছু। বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য ১৯৭১-এর ১ আগস্ট ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বাংলাদেশ কনসার্ট— দুটো শো হবে: আড়াইটায় এবং রাত সাড়ে ৮টায়। পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও আলী আকবর খান তো আছেনই, নেতৃত্ব জর্জের। তার ডাকে সাড়া দেয়ারই কথা। কনসার্টের জন্য তিনি যাদের ডাকলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, লিয়ন রাসেল ও জোন বায়েস।
ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন কনসার্টে যে গান ও সুর ধ্বনিত হয়েছে, তা স্বাধীন একটি দেশের অভ্যুদয়ের বার্তা সারা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে দিয়েছে।
তাদের একজন লিয়ন রাসেল, কথা ছিল দুই মাস পর ২০১৭-এর জানুয়ারিতে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী কনসার্টে হাজির থাকবেন। কিন্তু তা হয়ে উঠল না। ২০১৬-এর ১৩ নভেম্বর নাশভিল শহরতলীতে নিজ বাড়িতে ঘুমের মধ্যেই নিঃশব্দে নিজের জীবনের নিষ্ক্রমণ ঘটালেন। বয়স তার ৭৪ বছর। বাংলাদেশ কনসার্টের মধ্যমণি জর্জ হ্যারিসন বিদায় নিয়েছেন মাত্র ৫৮ বছর বয়সে, ২০০১-এর নভেম্বরে।
শুরুর পরিচিতি বাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও তিনি গায়ক ও গীতিকার হিসেবে আবির্ভূত হয়ে নিজের বেলায় প্রত্যেকটি পরিচিতিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলেন। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের কনসার্টে তিনি গিটার ও পিয়ানো বাজিয়েছেন। জর্জ হ্যারিসন যখন ‘বি অ্যাওয়ার অব ডাকনেস’ গাইলেন, সহশিল্পী হিসেবে গলা মিলিয়েছেন লিয়ন রাসেল। সেদিন রোলিং স্টোনের ‘জাম্পিং জ্যাক ফ্ল্যাশ’ ও কোস্টার ব্যান্ডের ‘ইয়াং ব্লাড’ গান দুটিতে তিনি অংশ নিয়েছেন।
তিনি বাজিয়েছেন পিয়ানো, অর্গান, গিটার, বাস গিটার, ম্যান্ডোলিন। তিনি গেয়েছেন কান্ট্রি সং, রক, ফোক, রিদম অ্যান্ড ব্লুজ, ফোক রক, ব্লুজ রক। তিনি লিখেছেন স্মরণীয় কিছু গান। বাদ্যযন্ত্র বাজানো, গান গাওয়া কিংবা গান লেখা কোনোটাকেই লিয়ন উপেক্ষা করেননি, কোনোটা নিয়ে মাতামাতিও করেননি।
চার বছর বয়সে তিনি পিয়ানোর রিডে হাত রাখেন। শুরু থেকেই সিরিয়াস ছিলেন। ওকলাহামার একটি হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। বব ডিলানের মতোই স্কুলের গণ্ডি আর ভালো লাগেনি। তিনি ফিরে এসেছেন প্রকৃতিতে। সেই স্কুলেই ১৯৫৯ সালে ডেভিড গেট তার ক্লাসমেট আর অনিতা ব্রায়ান্ট দু’ক্লাস উপরের। সে সময়ই লিয়ন ওকলাহামার টুলসা শহরতলির কয়েকটি পাবে। কিন্তু নিজে সাবালক না হওয়ায় চাকরিটা ঝুঁকির মধ্যেই থেকে যায়। তার এক বন্ধু তার কাছাকাছি বেহারার একজনের ভুয়া আইডি কার্ড এনে দেন। সেখান থেকেই তিনি লিয়ন রাসেল নামটি নেন।
তার আসল নাম ক্লক রাসেল ব্লিজেজেস, জন্ম ২ এপ্রিল ১৯৪২, যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহামার লোটন উপশহরে।
কৈশোরেই নিজের ব্যান্ড স্টারলাইটার্স গড়ে তোলেন। তার সঙ্গে যোগ দেন জনি উইলিয়ামস, চাক ব্ল্যাকওয়াল, লিও পেদার্স, জে জে ক্যালে। পরীক্ষামূলকভাবে তারা বাদ্যযন্ত্রের নতুন ধরনের ধ্বনিসমষ্টি দিয়ে ‘টুলসা সাউন্ড’ প্রতিষ্ঠিত করেন। টুলসা বারেই তিনি অপরিণত বয়স থেকে গান গাইতে শুরু করেন।
১৯৫৮-তে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসত গড়েন এবং জেমস বার্টলের কাছে গিটার শিখতে শুরু করেন। একই সঙ্গে দলে এবং একক কণ্ঠে রক অ্যান্ড রোল, ব্লুজ ও গসপেলের গানগুলো গাইতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন কনসার্টে তিনি যাদের সঙ্গে গান গেয়েছেন, তাদের মধ্যে ছিলেন— জর্জ হ্যারিসন, গ্যারি লিউইস, রিঙ্গো স্টার, ডোরিস ডে, এলটন জন, রেয় চার্লস, ফ্রাংক সিনানা, বব ডিলান, জে জে ক্যালে, গ্লেন ক্যাম্পবেল ও জে জে ককার। রোলিং স্টোন ও দ্য ব্যান্ডসহ অনেক ব্যান্ডের সঙ্গেও তিনি গেয়েছেন।
১৯৭০ সালে তার প্রথম অ্যালবামে সঙ্গী গায়ক ও বাদকদের মধ্যে ছিলেন— জন লেনন, রিঙ্গো স্টার ও জর্জ হ্যারিসন।
লিয়ন রাসেলের সংগীতজীবন পুরো ৬০ বছরের। ১৯৫৬ থেকে ২০১৬। তিনি নিজে গ্র্যামি পাননি, কিন্তু তার গান গেয়ে (আ সং ফর ইউ) রেয় চার্লস ১৯৯৩ সালে গ্র্যামি পেয়েছেন।
এলটন জন বলেছেন, “পিয়ানো বাদক হিসেবে, গায়ক হিসেবে, গীতিকার হিসেবে তিনিই ছিলেন আমার ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাবক। তিনি ছিলেন আমার গুরু, আমার অনুপ্রেরণা, তিনি ছিলেন আমার জন্য অত্যন্ত সদয়। গত রাতে আমার ডার্লিং লিয়ন রাসেল চিরবিদায় নিয়েছেন। যখন তার ‘শ্রেষ্ঠ হিটগানের অ্যালবাম’ প্রকাশিত হয়। একটি চলার পথে তা শুনতে শুনতে আমি কাঁদতে থাকি। এটা আমাকে এমনই নাড়া দেয়। তার গান আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর সময়গুলোয় নিয়ে যায়। আর তিনি বিস্মৃত হয়েছেন। আমি এতে ক্ষুব্ধ।”
তিনি দীর্ঘসময় আলোকোদ্ভাসিত ছিলেন না, এটা সত্যি; তিনি উপেক্ষিত হয়েছেন, এটাও মিথ্যে নয়।
যুদ্ধদিনের এই বন্ধুর জন্য আমাদের শ্রদ্ধা।
দুই
লিয়ন রাসেলের সাক্ষাত্কার থেকে উদ্ধৃত
রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনে ১০ ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে প্রকাশিত
কলোরাডোর ডেনভারে এসেছেন লিয়ন রাসেল। কনসার্টে অংশ নেবেন। পিঙ্গল জিন্স, ম্যালকম এক্স টি-শার্ট, এক নারীভক্তের দেয়া পালকযুক্ত ক্যাপ।
প্রশ্ন: আপনি কনসার্টের দু-তিনদিন আগে এলেন কেন?
লিয়ন রাসেল: আমরা ফিনিক্স থেকে সরাসরি এখানে এসেছি। আগেরবার আমাদের এখানে খুব ভালো সময় কেটেছে। তার মানে এই নয় যে, এবার সময়টা খুব খারাপ কাটছে। তবে অদ্ভুত ঠেকছে। রেস্তোরাঁয় পরিবেশন-বৈষম্যটা সেদিন আমায় দেখতে হয়েছে। ‘মিস্টার স্টেকস’ নামের রেস্তোরাঁয় আমাকে এবং ডন নিক্সকে খাবার সার্ভ করতে অস্বীকার করল। এটা আমাকে অবাক করেছে। কারণ এখানকার মানুষ আসলে এমন নয়। এমনকি দক্ষিণেও কোনো রেস্তোরাঁ আমাকে প্রত্যাখ্যান করেনি।
প্রশ্ন: আপনি কি কখনো আক্রান্ত হয়েছেন কিংবা চিত্কার-চেঁচামেচির শিকার হয়েছেন?
রাসেল: হ্যাঁ, হয়েছি। এ ব্যাপারে আমাদের ১ থেকে ১০ পর্যন্ত পয়েন্টের একটা হিসাব ছিল। সরাসরি আক্রমণ করে বসলে ১০, কেউ দুবার তাকালে ১। ডালাস কিংবা এ রকম জায়গায় আমি অনেকবার ‘৯’ পেয়েছি। তারা ছুটে এসেছে, সরাসরি মুখের ওপর প্রশ্ন করেছে, ‘এখানে কী করছ? তুমি এভাবে তাকাচ্ছ কেন? তোমার তাকানোটা এমন কেন? কী পরিচয়? কমিউনিস্ট!’ তার পর চিত্কার, এয়ারপোর্টের করিডোর ধরে তাড়া করা— এসব ঘটেছে।
প্রশ্ন: তাড়া করার ব্যাপারটা আমার জন্য ভয়ের, তখন জনতাও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়, পর্যায়ক্রমে লোক বাড়তে থাকে...
রাসেল: ডালাস একটা অদ্ভুত সম্প্রদায়ের জায়গা। এখানে ব্যাপারটা আতঙ্কের। যে নারীটি আমাকে রেস্তোরাঁ থেকে বের করে দিয়েছিলেন, তিনি নিশ্চয়ই আমাকে ভয় পেয়েছেন। কাজেই আমি বাড়াবাড়ি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওখান থেকে চলে এসেছি।
প্রশ্ন: কেন আপনাকে খাবার সার্ভ করবে না, তার কোনো কারণ বলেছে?
রাসেল: না, আমি জিজ্ঞেস করেছি ‘কেন?’ তিনি বলেছেন, ‘আমরা তোমাকে সার্ভ করব না।’ আমি বললাম ‘কেন?’ তার জবাব, ‘কারণ আমরা তোমাকে সার্ভ করতে চাই না।’
(ব্যাপারটা কি তার বড় চুলের জন্য? বড় চুলের জন্য অনেকেরই ভোগান্তি হয়েছে।)
প্রশ্ন: আপনি পরিবেশ দূষণ...নারী স্বাধীনতা এসবে বাতিকগ্রস্ত নন। ডিক ক্যাভেট বলেছেন, রাজনীতি ভয়ঙ্কর বিরক্তিকর। আপনি কি রাজনীতির জন্য ফ্রি কনসার্টে যাবেন?
রাসেল: সবাই যদি টাকা ব্যবহার করা পরিত্যাগ করে, তাহলে আমি প্রতিদিন কিছুক্ষণ ‘ফ্রি’ গাইতে রাজি আছি। কারো বেনিফিট কিংবা তহবিল সংগ্রহের জন্য আমি গাইতে রাজি নই। বরং হাসপাতালে গাইতে রাজি আছি, ওরা আমাদের পায় না। যে কারণই হোক, তার জন্য গাইতে হবে আমি এটা মনে করি না... দরিদ্রকে সাহায্য করার ব্যাপারে আমি আছি, কিন্তু শান্তিবাদী প্রার্থী বা অন্য কোনো প্রার্থীর বেলায় আমাকে দেখবেন না। আমি ওকলাহামাতে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কনসার্ট করেছি।
প্রশ্ন: কখনো বব ডিলানের সঙ্গে কাজ করেছেন?
রাসেল: না, আশা করি কখনো সে সুযোগ হবে— এটা আমার ফ্যান্টাসি হতে পারে, আমি সবসময়ই মনে করেছি তার সংগীতের যে অধিকার, তিনি তার চেয়ে নিচু মানের কাজ করে যাচ্ছেন— কেবল জনতার সঙ্গে আত্মীকৃত হয়ে থাকার জন্য। আমি বব ডিলানকে পুরোপুরি বুঝি কিনা জানি না। আরো ব্যক্তিগতভাবে তাকে জানতে না পারলে তা সম্ভব হবে না। তবে আমার জন্য তিনি অনেক বড় অনুপ্রেরণা। (তিনি কবি ডিলান টমাস এবং বব ডিলানের কথা বলেছেন, ববের একটি অতিরিক্ত মাত্রা আছে, সংগীত; এছাড়া দুজন প্রায় একই রকম।)
প্রশ্ন: ডিলান টমাস কি তার সংগীতের অভাব অন্য কিছু দিয়ে পূরণ করেছেন?
রাসেল: আমার জন্য কিছুই নয়। আমার পছন্দ বব ডিলান।
প্রশ্ন: আপনি সায়েন্স ফিকশন পছন্দ করতে শুরু করেছেন?
রাসেল: না, আমি সবসময়ই এতে আগ্রহী ছিলাম। এত বেশি মানুষ ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকে, সায়েন্স ফিকশন দিয়ে এর ভারসাম্য রক্ষা করা যায়— ইতিহাস তো আর সায়েন্স ফিকশনের চেয়ে বেশি সত্য নয়।
ভিডিও ক্যাসেট নিয়ে তিনি বললেন, টেলিভিশনের কারণে সিনেমার যে অবস্থা হয়েছে, ভিডিও ক্যাসেটের কারণে টেলিভিশনের একই অবস্থা হবে। এটি গানের সাংগীতিক দিকগুলোকে আড়াল করে ফেলবে— তবে রেকর্ড থেকে ভিডিওতে যাওয়া অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত রূপান্তর। আমার মনে হয়, অন্য কিছুর চেয়ে আমি বরং ভালো চলচ্চিত্র পরিচালক হতে পারতাম।
তিন
তোমার জন্য একটি গান
১৯৭০ সালে লিয়ন রাসেল তার প্রথম একক অ্যালবামের জন্য গানটি লেখেন এবং গান। শিল্পী এলটন জন এ গানটিকে বলেছেন আমেরিকান ক্ল্যাসিক। অত্যন্ত জনপ্রিয় এ গান ইউরোপ ও আমেরিকার প্রায় ১০০ শিল্পীর কণ্ঠে গীত হয়েছে এবং অ্যালবামে ঠাঁই পেয়েছে। বিখ্যাত শিল্পী যারা গেয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন— ডনি হাথাওয়ে, জেপি মরগান, উইলি নেলসন, ডোনা সামার, রেয় চার্লস, হার্বি হ্যানকর, এলিয়ট ইয়ামিন। এছাড়া কার্পেন্টার্স, টেম্পটেশনসও গানটি গেয়েছে—
আমার জীবনে এবং আমার সময়ে আমি বহু জায়গায় গিয়েছি
আমি অনেক গান গেয়েছি, আমার বাজে রকম ছন্দপতন হয়েছে
আমার ভালোবাসার তাগিদে মঞ্চের অভিনয়ে এসেছি
দশ হাজার মানুষ আমাদের দেখেছে
কিন্তু আমরা এখন নিঃসঙ্গ, গানটা আমি তোমার জন্য গাইছি
আমি যেমন প্রত্যাশা করি তোমার চিত্ররূপ কেমন আমি জানি
আমি নির্দয় হয়েছি তোমার সাথে, কিন্তু তুমি কি জানো না
তোমার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেউ আমার নেই
তুমি কি দেখতে পাও না তাহলে আমার চোখ দিয়ে দেখো
কারণ আমরা এখন নিঃসঙ্গ, গানটা আমি তোমার জন্য গাইছি
তুমি আমাকে মূল্যবান গোপনীয়তা শিখিয়েছ
সত্যের গোপন, কোনো কিছু লুকিয়ে রাখোনি
তুমি সামনে এসেছ আর আমি লুকিয়ে থেকেছি
কিন্তু আমি এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো
আমার শব্দ যদি এখন জড়ো না হয়
আমার সুরটা শোনো, কারণ আমার ভালোবাসা ওখানে লুকিয়ে
যেখানে পরিসর ও সময় বলে কিছু নেই
আমি সেখানে তোমাকে ভালোবাসি
তোমাকে আমার সারা জীবনের জন্য ভালোবাসি
কারণ তুমি যে বন্ধু আমার।
যখন আমার জীবন ফুরিয়ে যাবে
মনে রেখো আমরা যখন একসাথে ছিলাম
আমরা নিঃসঙ্গ, গানটা আমি তোমার জন্য গাইছিলাম
কিন্তু যেখানে পরিসর ও সময় বলে কিছু নেই
আমি সেখানে তোমাকে ভালোবাসি
তোমাকে আমার সারা জীবনের জন্য ভালোবাসি
কারণ তুমি যে বন্ধু আমার।
যখন আমার জীবন ফুরিয়ে যাবে
মনে রেখো আমরা যখন একসাথে ছিলাম
আমরা নিঃসঙ্গ, গানটা আমি তোমার জন্য গাইছিলাম।
লিয়ন রাসেলের বহুল শ্রুত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে— স্ট্রেঞ্জার ইন দ্য স্ট্রেঞ্জ ল্যান্ড, ইট ওয়াজ নট ফর ব্যাড, দিস মাসকারেড, ডিক্সি লালাবি, ব্লু লেডি, হামিং বার্ড, টাইট রোপ ও ডেল্টা লেডি।
১৯৬৯ সালে লিয়ন রাসেলের লেখা গান ডেল্টা শুরুতেই বাজার মাত করে দিল। গীতিকার বললেন, নিজেকে গানের লেখক হিসেবে আগে তেমন ভাবতাম না।
১৯৭০-এ রেকর্ড করা ডেল্টা লেডি তাকে সেটাই ভাবিয়েছে।
বদ্বীপ নারী
গায়ের নারী আমি এখন তোমাকে পেয়েছি
তোমার নরম এবং উর্বর বদ্বীপে প্রত্যাশায় আছো
তোমার প্রত্যাশা মেটাতে আমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি
আমার শরীরের উষ্ণ ও মোলায়েম আশ্রয়ের খোঁজে
কারণ তুমি আমার বদ্বীপ নারী
হ্যাঁ তুমি আমার, সবটাই আমার বদ্বীপ নারী
দয়া করে জিজ্ঞেস করো না কতবার তোমাকে পেয়েছি
বাগানে দাঁড়িয়ে সিক্ত ও নগ্ন
সেইসব দিন, কতভাবে আমি তোমাকে
আঁকড়ে রেখেছি মনে পড়ে
তোমাকে নিবিড়ভাবে আঁকড়ে ধরেছি
আমাদের হূিপণ্ডের স্পন্দন শুনেছি
কারণ তুমি আমার বদ্বীপ নারী
তুমি আমার সবটাই আমার বদ্বীপ নারী
আমি ইংল্যান্ডে আবার যখন বাড়ি ফিরে আসি
আমি তোমার কথা ভাবতে থাকি
আমি যে তোমাকে ভালোবাসি, হ্যাঁ আমি ভালোবাসি
শহরের কাছে কংক্রিটের পর্বত
সুন্দর শহুরে নারীরা সেখানে বাস করে
আর তারপর মনে হয় শহরে দৃশ্যে কী-যে অভাব
আমি খুশি তুমি আমার জন্য গাঁয়ে প্রতীক্ষায় আছো
কারণ তুমি আমার বদ্বীপ নারী
তুমি আবার সবটাই আমার বদ্বীপ নারী
আমরা হাঁটতে যাব কথা বলব
চেঁচামেচি আর সজোর চিত্কার
আমি পৃথিবীকে বলতে যাচ্ছি
আমি তোমার সম্পর্কে কী ভাবি
নিজের লেখা সম্পর্কে লিয়ন রাসেল বলেছেন: আমি হচ্ছি স্বয়ংক্রিয় ধরনের লেখক। আমার গান বারবার কাটাকাটি করে দিনের পর দিন সময় কাটিয়ে এটাকে সর্বশুদ্ধ করাটা আমার ধাঁচে নেই। আমি বসে পড়ে ৫ মিনিটে একটা কিছু লিখে ফেলতে পারি— এটাই চমত্কার। আর তা যদি না হয়, এ লেখা আর শেষ হওয়ার নয় অথবা এটা তেমন কোনো লেখা হয়নি।
লিয়ন রাসেলের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিতে চাইলে সবার আগে যে উক্তিটি মনে পড়ে তা— ‘তোমার জন্য একটি গান’ থেকে নেয়া: যেখানে পরিসর ও সময় বলে কিছু নেই
আমি সেখানে তোমাকে ভালোবাসি।






