পৃথিবীর প্রায় সব অঞ্চলই কখনো না কখনো বহিরাগতদের দ্বারা পদানত হয়েছে এবং সব ক্ষেত্রেই ভূমিপুত্রদের কাছে তারা ‘হানাদার’, ‘বর্বর’। অথচ এমন বহুবারই হয়েছে যে এ রকম ‘বর্বর’ বাহিনীর দ্বারাই সাধিত হয়েছে নানা রকম উন্নয়ন। যুদ্ধে ভূমি দখল হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই দখলের পর বাইরে থেকে আসা নতুন চিন্তা, দর্শন, অর্থনীতি, সমর নীতির কারণে একটি অঞ্চল ঋদ্ধ হয়েছে। ঠিক সেই সময়ে হয়তো এ পরিবর্তন উপলব্ধি করা যায় না, কিন্তু সময় যখন ইতিহাস হয়ে যায়, তখন অবদানগুলোর গুরুত্ব সামনে আসে। ঠিক এ ঘটনাটি ঘটেছে চীনে কুবলাই খানের বেলায়।

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে কুবলাই খান চীন দখল করেছিলেন। চীন এমন একটি দেশ, যারা বিদেশী যেকোনো বিষয়েই একটা সন্দিহান মনোভাব ধারণ করে। চীনের প্রাচীরের ওপারের সবাই বর্বর, এমন একটা চিন্তা অতীতে দেশটিতে প্রবল শক্তিশালী ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেক সময় চীনের সীমানা লঙ্ঘন করে আসা অনেক ‘বর্বর’-কে তারা আপন করে নিয়েছে। কুবলাই খান তাদের মধ্যে প্রধান।

ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে যখন মঙ্গোলদের রমরমা সময়, চেঙ্গিস ততদিনে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ইউরোপ পর্যন্ত জয় করেছেন বলে দাবি করা হয়। সে সময়েই চেঙ্গিসের মৃত্যু হয়। ‘গ্রেট চেঙ্গিস’-এর মৃত্যু হলে তার উত্তরাধিকার বর্তায় কুবলাই খানের ওপর। যদিও ১২২৭ খ্রিস্টাব্দে চেঙ্গিসের মৃত্যুর পর পরই কুবলাই সে উত্তরাধিকার লাভ করেননি, কিন্তু যখন করলেন, তখন পিতামহের অভিলাষ পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কুবলাই দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে চীনের ‘সঙ সাম্রাজ্য’ আক্রমণের পরিকল্পনা করলেন।

কিন্তু সেকালের সঙ রাজবংশ সমস্ত চীনে নিজেদের ক্ষমতা সংহত করেছিল। ৯৬০ খ্রিস্টাব্দে চীনের উত্তরাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সঙ রাজবংশ। বিগত ১০০ বছর ধরে দক্ষিণাংশেও নিজেদের শক্তি সংস্থাপনে সক্ষম হয়েছিল। অর্থাৎ সমস্ত চীন তখন সঙ সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। ফলে সময়ের বিচারে চীনাদের কাছে কুবলাইয়ের আক্রমণ পরিকল্পনা উচ্চাশা ব্যতীত কিছু ছিল না।

এ প্রসঙ্গে কুবলাইয়ের জীবনী লেখক জন মান বলেছেন, ‘মঙ্গোলরা সমস্ত চীন দখল করতে পারবে, সঙ সাম্রাজ্যের কর্তাদের তা অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।’

আদতে তখন চীনের আয়তন ও সঙ সাম্রাজ্যের শক্তি এমন ছিল যে সেখানে মঙ্গোল আক্রমণ সফল হবে, এ ধারণা কারোরই করার কথা নয়। আজ আমরা চেঙ্গিস, কুবলাইকে যতটা শক্তিশালী বলে জানি এবং মানি, সেকালে যাযাবর মঙ্গোলদের এত গুরুত্বের সাথে দেখা হতো না। বিশেষত চীনারা তো তাদের রীতিমতো অবহেলাই করেছিল। আর সে কারণেই যখন কুবলাই সফল হয়েছিলেন, তখন বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়েছিল সবাই।

চীনারা সে সময়ে একমাত্র নিজেদেরই সভ্য বলে বিশ্বাস করত এবং যেহেতু চীনের প্রাচীরের ওপারে সবাই বর্বর, চীনারা কখনো কল্পনা পর্যন্ত করেনি যে তাদের বহিঃশক্তির অধীন হতে হবে।

চীনাদের এ মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় জন মানের বক্তব্যে। তার মতে, পিক্ট জাতির দ্বারা রোমানদের পরাজয় কিংবা রেড ইন্ডিয়ান সম্প্রদায় সিউ কর্তৃক কানাডা ও আমেরিকা দখল করে নেয়া যতটা অসম্ভব; ঠিক ততটাই অসম্ভব ছিল মঙ্গোলদের চীন বিজয়।

চীনের এ উন্নাসিক মনোভাবের পেছনে বেশকিছু কারণ কাজ করে। প্রথমত, নিজেদেরই একমাত্র সুসভ্য জাতি বলে বিশ্বাস করা এবং এর পাশাপাশি চীনাদের জীবনযাপনের রীতি ও সংস্কৃতি। সেই ত্রয়োদশ শতাব্দীতেও চীনের একাংশের মানুষ রেশমের সূক্ষ্ম পোশাক পরে একে অন্যের কবিতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতো এবং চীনের এ অভিজাতরা শিল্প-সাহিত্যে বেশ সময় দিত। যুদ্ধ করার জন্য ছিল তাদের বেতনভুক সৈন্য বাহিনী। সেখানে মঙ্গোলরা প্রায় সবাই যাযাবর ও যুদ্ধবাজ।

কিন্তু চীনাদের এ ধারণা কেবল মঙ্গোলদের কিংবা যুদ্ধবাজ গোষ্ঠী সম্পর্কে ছিল, এমন নয়। ‘বর্বর’ প্রসঙ্গে চীনাদের মনোভাব নিয়ে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক জান জু বলেন, ‘বর্বর মানে তারা, যারা চৈনিক নন। তাদের পরিচয় মানুষ কিংবা পশুর মাঝামাঝি কোনো একটা কিছু।’

জান জু লক্ষ করেছেন, এ বর্বরের ধারণা চীনের প্রাচীন নানা লেখার মধ্যেই প্রোথিত। সেসব লেখায় বহিরাগত বা চীনাদের অপছন্দের ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সেসব অভিধায় সম্বোধন করা হয়েছে, যা সাধারণত পশু বা পাশবিক বৃত্তিকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। কুবলাই সম্পর্কে অনেক বর্ণনায়ও এ একই ঘটনা ঘটেছে।

একদিকে শিল্প-সাহিত্যে মজে থাকা চৈনিক, অন্যদিকে ঘোড়ার দুধের ‘লাসসি’ খেয়ে কুস্তি করা মঙ্গোল। সাধারণভাবেই মনে হতে পারে, রাজ্য জয়ের ক্ষেত্রে মঙ্গোলরা শক্তি প্রয়োগের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। কিন্তু চীনারা যাদের বর্বর বলে উপহাস করে, সেই মঙ্গোলরা আসলে যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তারও পরিচয় দিয়েছিল।

প্রথমত চীনাদের তুলনায় মঙ্গোলরা সংখ্যায় ছিল স্বল্প। জনসংখ্যায় এগিয়ে থাকা চীনের সৈন্য সংখ্যাও ছিল মঙ্গোলদের কয়েক গুণ। এমন অবস্থায় কুবলাই তার বাহিনী নিয়ে এগিয়ে গেলেন। হান নদীর তীরে চিয়াংইয়াং শহরে একটি যুদ্ধ হয়। জন মানের মতে, এ যুদ্ধ ছিল ট্রয় যুদ্ধের ক্ষুদ্র সংস্করণ।

কিন্তু এখান থেকেই কোনো ফলাফল এল না। হান নদীর তীরের এ শহর দৃঢ় প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত থাকার কারণে শহর অবরোধ করাই ছিল একমাত্র উপায়। এ অবরোধ দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চলেছিল। অবস্থা এমন ছিল যে চেষ্টা করে মঙ্গোলরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি, আবার চীনারাও তাদের পিছু হটাতে পারেনি।

এমন অবস্থায় কুবলাই একটি কৌশল অবলম্বন করেন। যুদ্ধ ও যুদ্ধে ব্যবহূত নানা কৌশল সম্পর্কে কুবলাই যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন। তিনি শুনেছিলেন ক্রুসেডের সময় খ্রিস্টান ক্রুসেডাররা এক ধরনের বড় আকারের গুলতিসদৃশ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার করেছিল। কুবলাই পারস্যের দুজন ইঞ্জিনিয়ারের তত্ত্বাবধানে এমন দুটি কামান তৈরি করান, যা ১০০ কেজি ওজনের পাথর ২০০-৩০০ মিটার দূরত্বে নিক্ষেপ করতে সক্ষম। এর সাহায্যেই কুবলাই সঙ সাম্রাজ্যের দুর্গ গুঁড়িয়ে দেন।

কুবলাই মূলত চীন আক্রমণ শুরু করেছিলেন ১২৭০ খ্রিস্টাব্দের প্রাক্কালে। আক্রমণের শুরুর দিকে যখন সীমান্তের সেনাপতিরা পরাজিত হয় তখন ১২৭১ খ্রিস্টাব্দের কোনো এক সময়ে অধুনা বেইজিংয়ে কুবলাই তার রাজধানী স্থাপন করেন। আর কুবলাইয়ের স্থাপিত এ সাম্রাজ্য পরিচিত হয় ‘ইউয়ান সাম্রাজ্য’ নামে।

কুবলাইয়ের বুদ্ধির পরিচয় আমরা তার এ যুদ্ধ নীতিতেই পাই। একদিকে কুবলাই দীর্ঘ সময় ধরে অবরোধ চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং প্রয়োজন মতো নতুন অস্ত্র, কৌশলের মাধ্যমে যুদ্ধ জয়েও সক্ষম। মূলত কুবলাই যখন চীন আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন তা অনেকের কাছে একেবারে পাগলামি ও হাস্যকর মনে হয়েছিল। কিন্তু ২৮ মার্চ ১২৭৬ খ্রিস্টাব্দে নাবালক সঙ সম্রাটের পরাজয় এবং তার পরও প্রায় তিন বছর সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার পর ১৯ মার্চ ১২৭৯ খ্রিস্টাব্দে কুবলাইয়ের বিরোধিতা করার মতো কোনো চৈনিক অবশিষ্ট ছিল না। অর্থাৎ বর্বর বলে যাকে হেয় করা হয়েছিল, সেই ব্যক্তি বুদ্ধি, কৌশল ও ধৈর্যবলে চীন অধিকার করেই নিয়েছিল।


কোনো কিছু সহজে গ্রহণ করতে না পারা, চৈনিক অভ্যাসের একটি সাধারণ বিষয় কিংবা বলা যায় চৈনিক স্বভাব। যেমন আনুমানিক ৫০০ বছর আগে যখন মানুষের কাছে বাইসাইকেল পরিচিত হয়, তখন প্রাথমিকভাবে চীনারা বাইসাইকেল বয়কট করেছিল। নিজের ভর বহন করে ঘামতে থাকার বিষয়টিকে চীনারা কিছুতেই পছন্দ করেনি। এমনকি যারা সাইকেল ব্যবহার করত, তাদের পৌরুষ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাইসাইকেল চীনাদের অন্যতম প্রিয় বাহনে পরিণত হয়। চীনের শেষ সম্রাটের প্রিয় বাহন ছিল বাইসাইকেল।

কুবলাই যখন চীনে প্রবেশ করলেন, তখন কুবলাই ও সমস্ত মঙ্গোল জাতিকে বর্বর জ্ঞান করলেও একসময় মঙ্গোলদের অভ্যাসের অনেক কিছুই চীনারা গ্রহণ করে। যেমন চীনা পোশাক বিশেষজ্ঞ ভেরিটি উইলসন মঙ্গোলদের সম্পর্কে বলেন, ‘ওরা বোতামের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিল। এর আগে নারী-পুরুষ এক ধরনের কোমরবন্ধ দিয়ে তাদের আলখাল্লা বেঁধে রাখত। ইউয়ান সাম্রাজ্যের সময় থেকেই বোতামের ব্যবহার শুরু হয়।’

চীন দখলের পর কুবলাই নিজেকে চীনের সঙ্গে আত্মস্থ করার চেষ্টা করেন। এ চেষ্টার প্রথম পদক্ষেপ ছিল তার নতুন সাম্রাজ্যকে একটি চৈনিক নাম প্রদান। ‘ইউয়ান’ একটি চৈনিক নাম। কুবলাই গবেষকরা অনুমান করেন, চীন আক্রমণের পেছনে কুবলাইয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল চীনকে একত্রিত করা। এখানেই কুবলাইয়ের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

কেননা কুবলাইয়ের চীন জয়ের প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে ‘ট্যাং রাজবংশের’ অধীনে চীন একত্রিত ছিল। যদিও ‘সঙ রাজবংশ’ চীনের দুই অংশ অধিকার করেছিল, কিন্তু সেখানে দুটো অংশ তখনো দৃশ্যমান। এ দুই অংশকে একত্রিত করে শাসন করার চিন্তা আধুনিক ইতিহাস গবেষকদের কাছেও বিস্ময়কর। ১২৭৯ খ্রিস্টাব্দের পর কুবলাই অখণ্ড চীনের কর্তা হয়ে চীনকে একীভূত করেন। অর্থাৎ অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন।

চীন অধিকারের পর কুবলাই বেশকিছু আধুনিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রথমত, তিনি নানা ধরনের উদ্ভাবনে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ডাক ব্যবস্থা সুচারুরূপে চলতে শুরু করে। কুবলাইয়ের সময়েই কাগুজে মুদ্রা চালু করা হয়। বর্বর হিসেবে কুবলাইয়ের বদনাম চীনের বাইরেও বিস্তৃত, কিন্তু শোনা যায়, তিনিই চীনে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রতি মনোযোগী হন। কবিতা নিয়ে মেতে থাকা চীনে চিকিৎসা ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির লক্ষ্যে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের পদোন্নতি দেয়া হয়।

অবশ্য কুবলাই খানের সময় ইউয়ানে গৃহীত সব পদক্ষেপ যে ভালো ছিল এমন না। কেননা তখন হিন্দুদের মতো চার বর্ণে ভাগ হয়ে পড়েছিল কুবলাইয়ের চীন। উচ্চ ধাপে মঙ্গোলরা, যারা ক্ষমতার অধিকারী। দ্বিতীয় ধাপে নানা বিদেশী ব্যক্তিরা যারা কুবলাইয়ের দরবারে পদধারী হয়েছিলেন। তৃতীয় ধাপে ছিল চীনের উত্তরাংশের মানুষ, যাদের পিঠে নানা করের বোঝা চেপে বসেছিল। সবচেয়ে দুর্ভাগ্য ছিল দক্ষিণ অংশের মানুষের। তাদের এক রকম নিচু জাতের মতো দেখা হতো।

সব শাসনেরই দুটি দিক থাকে। কুবলাইয়ের শাসনেও ছিল। উত্তরাধিকারের নানা দ্বন্দ্ব পেরিয়ে কুবলাই যে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন তা কিংবদন্তি। কিন্তু চীনে তার অবদান বাস্তব। ইউয়ান সাম্রাজ্যে সেদিন কুবলাইয়ের গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে চীনে যে আধুনিকতার সূচনা হয়েছিল, তার সুফল দেশটি আজও ভোগ করছে। হোক সে বোতাম কিংবা চীনের স্থাপনা।

চীনে আজ যে আকাশছোঁয়া ভবন দেখা যায়, এরও ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল কুবলাই খানের হাতে। কুবলাই খানের সময়ে তার দরবারে মঙ্গোল ছাড়াও অনেক ‘বিদেশী’ অবস্থান করতেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় নিরীক্ষার জন্য কুবলাই তাদের প্রণোদনা, পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। পরবর্তী সময়ে চীন তাদের পছন্দ অনুসারে কিছু কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন জুনের মতে, চীনের ওষুধ শাস্ত্রে মুসলিম ওষুধ শাস্ত্র থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু চীন এ ব্যাপারে নিশ্চুপ।

এ কথা সত্য যে কুবলাই খান উচ্চাভিলাষী ছিলেন। ‘সমস্ত পৃথিবী’ পদানত করার আকাঙ্ক্ষার অংশ হিসেবে জাপান দখল করতে দুবার জাপানে নৌবহর প্রেরণ করেন। কুবলাইয়ের সে ‘আর্মাডা’ এত বড় ছিল যে ৭০০ বছর পর ইউরোপের মিত্রশক্তির নৌবহর ছাড়া এর সঙ্গে আর কোনো নৌবহরের তুলনা হয় না। এমন কুবলাইয়ের উচ্চাভিলাষই তাকে চীনের কর্তা করেছিল আর তাই তিনি চীনে প্রবর্তন করেছিলেন বহু নতুন ধারণার।

মাত্র ৮০ বছর আগেও চীন তাদের দেশ থেকে ‘বিদেশী’-দের বহিষ্কার করেছিল। কিন্তু বহিষ্কারের ৩০ বছর পরই ১৯৮০ নাগাদ আবার তারা বিদেশীদের ‘আমন্ত্রণ’ জানাতে শুরু করে। এমন চৈনিক মানসিকতার দ্বিধায় কুবলাই খানও একাধারে ‘বর্বর’, অন্যদিকে চীনা সংস্কৃতির অংশ। চীন স্বীকার করুক আর না করুক, কুবলাইয়ের কীর্তি ম্লান হবে না। তিনি বেঁচে থাকবেন কোলরিজের কবিতায় কিংবা তার রেখে যাওয়া কিংবদন্তিতে।

 

মাহমুদুর রহমান: লেখক