পলাশীর ষড়যন্ত্র পর্বে অংশ না নিয়েও নিজ যোগ্যতায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন যিনি, তার নাম মোহাম্মদ রেজা খান। তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রাথমিক পর্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত আমলা। রেজা খানের পূর্বপুরুষ পারস্যের অধিবাসী। তার পিতা ছিলেন আলিবর্দি খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক। নবাব পরিবারের সঙ্গে তার পরিবারের সেই সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হয়েছিল যখন তিনি আলিবর্দি খানের ভাতিজি রাবেয়া বেগমের কন্যাকে বিয়ে করেন। পলাশীর যুদ্ধের সময় তার কোনো ভূমিকার কথা জানা না গেলেও মীর জাফরের আমলে তিনি ঘটনাচক্রে ইসলামাবাদের (চট্টগ্রাম) ফৌজদারিত্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। সেখান থেকে তার উত্থানের মূল পর্ব শুরু হয়।

রেজা খানের উত্থান পর্ব খানিকটা রহস্যময়। তিনি ইংরেজ ও মীর জাফরের পছন্দের লোক হলেও মীর কাশিমের অপছন্দের মানুষ ছিলেন। লর্ড ক্লাইভ ও হ্যারি ভেরেলস্টের মতো শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তার বন্ধুত্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। হেনরি ভ্যানসিটার্ট ও ওয়ারেন হেস্টিংসও তার প্রতি বেশ সদয় ছিলেন। ইংরেজদের এতটা সুনজরে থাকার সৌভাগ্য আর কোনো ভারতীয় আমলার হয়নি। এমনকি মীর জাফর কিংবা মীর কাশিমও ইংরেজদের এতটা বিশ্বস্ত ছিলেন না। পলাশীর যুদ্ধের গুপ্ত পরিকল্পনার কোথাও সংযুক্ত না থেকেও ইংরজদের কাছে তার এতটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠার রহস্য কী?

নবাব সিরাজউদ্দৌলার আমলের একটি ব্যর্থতার ঘটনার মধ্য দিয়ে তার সৌভাগ্যের অঙ্কুরোদ্গম হয়। ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা ক্ষমতায় আসার পরপর ইংরেজদের শায়েস্তা করার কাজে নেমেছিলেন। রেজা খান তখন কাটোয়ার ফৌজদার, তাকে সেখানকার ইংরেজদের বিরুদ্ধে একটা অভিযানের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কোনো কারণে তিনি ব্যর্থ হলে অযোগ্যতার দায়ে তাকে পদচ্যুত করা হয়। মজার ব্যাপার হলো সেই পদচ্যুতিই পরবর্তীকালে তার জন্য শাপে বর হয়েছিল। পরবর্তী চার বছরের মধ্যে বাংলায় ঘটে গিয়েছিল অনেক অঘটন। সেই অঘটনে আলিবর্দি খান পরিবারের অনেকের কপাল পুড়লেও আলোকিত হয়ে উঠেছিল রেজা খানের কপাল।

পলাশীর যুদ্ধের তিন বছর পর ১৭৬০ সালে চট্টগ্রামের ফৌজদার হিসেবে যখন রেজা খানকে নিয়োগ দেওা হয় তখন কোম্পানির সঙ্গে মীর জাফরের টানাপড়েন চলছিল দেনা-পাওনা নিয়ে। আরো বিবিধ কারণে কোম্পানি মীর জাফরের বদলে মীর কাশিমকে সিংহাসনে বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গোপনে। সেই ক্রান্তিকালে রেজা খান ইসলামাবাদ বা চট্টগ্রামের ফৌজদার ছিলেন। ২০ অক্টোবর ১৭৬০-এর মধ্যরাতের অভিযানে মীর জাফরকে সরিয়ে যখন মীর কাশিমকে ক্ষমতায় বসানো হয় তখন ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি যে কোম্পানির হাতে, সেটা রেজা খান খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি বরাবরই ইংরেজের পছন্দ অনুযায়ী তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিলেন। তাই মীর কাশিমের অপছন্দের লোক হয়েও ক্ষমতার পালাবদলে তিনি চট্টগ্রামের ফৌজদার হিসেবে টিকে গিয়েছিলেন।

১৭৬১ সালের শুরুতে কোম্পানি যখন চট্টগ্রাম শাসন করতে শুরু করে তখনো রেজা খান গভর্নর ভ্যানসিটার্টের নির্দেশে চট্টগ্রামের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব অব্যাহত রাখেন কোম্পানির আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে। তিনি মীর কাশিমের অধীন নাকি মীর জাফরের অধীন সেটা কোনো ব্যাপার ছিল না। কোম্পানির স্বার্থে রাজস্ব আদায়ে তিনি যে দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার নজির দেখিয়েছিলেন তাতে পরের এক দশক তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিশ্বস্ত আমলা হিসেবে টিকে গিয়েছিলেন। মুর্শিদাবাদে একজন পুতুল নবাব থাকলেও কোম্পানির অর্থসংক্রান্ত কলকাঠি নিয়ন্ত্রণ করতেন রেজা খান।

কোম্পানির আর্থিক কলকাঠি নাড়ার এ ক্ষমতা পাওয়ার একটি পূর্ব ঘটনা আছে। ১৭৫৯ সালে মীর জাফরের প্রথম পর্বের নবাবিত্বকালের শেষভাগে যখন কোম্পানির পাওনা মেটানোর জন্য অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন তখন তার নজর পড়েছিল রাবেয়া বেগমের সম্পদের দিকে। রাবেয়া বেগম বেশ সম্পদশালী নারী ছিলেন। রেজা খান পরিবারের সম্পদ রক্ষার খাতিরে সেই যাত্রায় শাশুড়ির ভাণ্ডার থেকে ২৫ হাজার স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে নবাবের সন্তুষ্টি এবং কোম্পানির সুদৃষ্টি অর্জন করেছিলেন। সে কারণেই ১৭৬০-এর শুরুতে মীর জাফর তাকে ইসলামাবাদের ফৌজদার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাতে ক্লাইভের সুপারিশ থাকাও বিচিত্র নয়। তার পরই ক্লাইভ লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন গভর্নর হলওয়েল ফোর্ট উইলিয়ামের দায়িত্ব নেন।

সে সময় থেকে কোম্পানির সঙ্গে রেজা খানের সুসম্পর্কের যাত্রা হয়। সেটা কতটা গভীরে পৌঁছেছিল তা বোঝা যায় ২৭ জুলাই যখন নতুন গভর্নর হেনরি ভ্যানসিটার্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন নবাব ছাড়া আর যে তিনজন বিশিষ্টজনের সঙ্গে গভর্নরের পরিচয় করানো হয় তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন রেজা খান। কোম্পানি এ দেশীয় বন্ধু চিনতে ভুল করেনি একবারও। তখনো মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, দিল্লির অনেক পালাবদল বাকি। তবু রেজা খানের নাম কোম্পানির গুডবুকে উঠে গিয়েছিল।

রেজা খানের চট্টগ্রামের দেওয়ানিত্ব লাভের আরো একটি কারণ ছিল। রেজা খানের আগের ফৌজদার আগা নিজাম ইংরেজবিরোধী ছিলেন। তিনি মীর জাফরের নিয়োগপ্রাপ্ত দেওয়ান হলেও হাওয়া বুঝতে সক্ষম ছিলেন না। তাই কোম্পানি যখন লক্ষ্মীপুরে কুঠি গড়ার জন্য অনুমতি চেয়েছিল তখন তিনি সেটা প্রত্যাখ্যান করেন মীর জাফরের পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও। প্রত্যাখ্যান করার কারণ হিসেবে তিনি জানান যে ওই পরোয়ানা তার আগের দেওয়ান মহাসিংয়ের উদ্দেশে লেখা ছিল। কোম্পানি কর্তারা এটা নিয়ে বিরক্ত ছিলেন। ফলে মীর জাফরের ফরমানে আগা নিজামকে সরিয়ে রেজা খানকে ইসলামাবাদের ফৌজদার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কোম্পানির আশীর্বাদের পাশাপাশি ভাগ্য ও পরিস্থিতি দুটোই রেজা খানের অনুকূলে ছিল।

কিন্তু রেজা খানের চট্টগ্রাম পর্ব বেশি দিন দীর্ঘায়িত হয়নি। অনেকদিন ধরে কোম্পানির নজর ছিল এ জেলার দিকে। মুর্শিদাবাদে পুতুল শাসক দিয়ে ক্ষমতার স্বাদ নিতে শুরু করলেও তখন পর্যন্ত কোম্পানির ভূমিকা ছিল পরোক্ষ। সরাসরি কোম্পানি শাসন জারির প্রথম পদক্ষেপ ছিল দেশীয় আমলার বদলে চট্টগ্রামে একজন ব্রিটিশ কর্তাকে নিয়োগ দিয়ে রাজস্ব আদায় শুরু করা।

সেই প্রক্রিয়াটা শুরু হয় ১৭৬০-এর জুলাইয়ে নতুন গভর্নর ভ্যানসিটার্ট ফোর্ট উইলিয়ামে যোগ দেয়ার পর। তিনি মীর জাফরকে চাপ দিতে শুরু করেন পলাশীর বকেয়া পাওনা মেটানোর জন্য। মেটাতে না পারলে কোম্পানিকে চট্টগ্রামের দেওয়ানিত্ব দেয়া হোক। কিন্তু মীর জাফর তাতে সম্মত না হলে কোম্পানি বিকল্প হিসেবে মীর কাশিমকে বেছে নেয় গোপন চুক্তিতে। ২০ অক্টোবর যখন মীর কাশিমকে মুর্শিদাবাদের নবাব করা হয় তখন পুরস্কার হিসেবে মীর কাশিম চট্টগ্রামের সঙ্গে আরো দুটো জেলার দেওয়ানিত্বও কোম্পানিকে প্রদান করেন।


তবে এ পরিবর্তনের কোনো প্রতিক্রিয়া যেন রেজা খানের ওপর না পড়ে সেটা নিয়ে কোম্পানি সতর্ক ছিল। রেজা খান মীর কাশিমের অপছন্দের লোক। তাকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে এ আশঙ্কায় গভর্নর ভ্যানসিটার্ট রেজা খানকে চিঠি লিখে তার কাজ আগের মতো চালিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করেন। চট্টগ্রামের দায়িত্ব কোম্পানির হাতে পুরোপুরি না আসা পর্যন্ত রেজা খানই দেওয়ান থাকবেন এটাই চূড়ান্ত হয়। এতে পরিষ্কার বোঝা যায় তিনি কোম্পানির কতখানি বিশ্বস্ত কর্মচারী ছিলেন।

ইংরেজের প্রতি রেজা খানের কৃতজ্ঞতাও কম ছিল না। চট্টগ্রাম ছাড়া যে দুটি জেলার দায়িত্ব নিয়েছিল কোম্পানি, সেগুলোর দখল নিতে ইংরেজদের সামান্য লড়াই প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। কারণ সে দুটি জেলার দেশীয় কর্তারা আপসে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি ছিল না। কোম্পানি চট্টগ্রাম নিয়েও সে রকম আশঙ্কায় ছিল। কিন্তু রেজা খানের ভূমিকা এতই বন্ধুসুলভ ছিল যে ইংরেজরা নিশ্চিন্তে চট্টগ্রাম অধিকার করতে পেরেছিল। ইংরেজদের সঙ্গে তার যে গোপন বোঝাপড়া ছিল সেটা বোঝা যায় পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে।

ফোর্ট উইলিয়াম থেকে যখন হ্যারি ভেরেলস্টকে ইসলামাবাদের দায়িত্ব বুঝে নিতে পাঠানো হয় তখন রেজা খান ছিলেন চট্টগ্রামের বাইরে। তিনি ত্রিপুরার রাজা কৃষ্ণমাণিক্যের বিরুদ্ধে অভিযানে ব্যস্ত ছিলেন, যিনি ভূমি রাজস্ব প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং ইংরেজদের সঙ্গে কোনো রকম সহযোগিতা করছিলেন না। ফলে রেজা খান তার বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়েছিলেন সৈন্যসামন্ত নিয়ে। মজার ব্যাপার হলো তিনি নবাবের নিযুক্ত ফৌজদার হলেও তার কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো কোম্পানির আগ্রহ অনুসারে।

হ্যারি ভেরেলস্টের চট্টগ্রাম আগমন সংবাদে তিনি অভিযানের দায়িত্ব তার সহযোগীর কাছে দিয়ে সীতাকুণ্ডে চলে আসেন। সেখানে একটা কুঠিবাড়িতে কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিলিত হন। সেখানেই ক্ষমতা হস্তান্তরের অনাড়ম্বর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। চারদিন পর চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করেছিলেন কোম্পানির কর্তাদের সঙ্গে। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তর করলেও তিনি আরো ছয় মাস চট্টগ্রামে কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেন রাজস্ব আদায়সংক্রান্ত কাজ বুঝিয়ে দিতে। তিনি মীর কাশিমের অধীনস্থ হলেও তার বাধ্য ছিলেন না। মীর কাশিম মনে করতেন, তিনি ক্ষমতালোভী এবং কৌশলে ত্রিপুরার ফৌজদারিত্ব আদায় করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি নবাবের নিয়োজিত নায়েব হলেও নবাবের স্বার্থের চেয়ে কোম্পানির স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন বেশি। যার একটি প্রমাণ মেলে দেওয়ানিত্বের শেষ পর্বে তিনি চট্টগ্রাম থেকে আহরিত ৬৫ হাজার রুপি ট্রেজারিতে জমা দেন, যে টাকা দিয়ে ইংরেজের পাওনা মেটানো হবে। মীর কাশিম এ টাকার বিষয়টি গোপন রাখতে চেষ্টা করলেও রেজা খানের কারণে সম্ভব হয়নি। তিনি যখন চট্টগ্রামের দায়িত্ব ছেড়ে চলে আসেন তখন তার কাছে কোম্পানির ১০ হাজার ৫৯১ রুপি পাওনা ছিল। তিনি সেটা চাহিবামাত্র পরিশোধ করেন। এসব কারণে তিনি ক্রমেই কোম্পানির আরো বিশ্বাসভাজন হয়ে ওঠেন।

ত্রিপুরার ফৌজদারিত্বের ব্যাপারে মীর কাশিমের সন্দেহ যে একেবারে অমূলক ছিল না সেটা বোঝা গেল যখন ভ্যানসিটার্ট তাকে সত্যি সত্যি ত্রিপুরার ফৌজদারিত্ব দিতে চেয়েছিলেন। যদিও মীর কাশিমের বিরোধিতার কারণে সেটা হয়নি। মীর কাশিম ভ্যানসিটার্টের নির্বাচিত পছন্দের নবাব ছিলেন বলে সেটা নিয়ে আর চাপাচাপি করেনি কোম্পানি। ত্রিপুরার ফৌজদারিত্ব না পেলেও তেমন ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি রেজা খানের, বরং ক্ষমতার পরবর্তী পালাবদলেও তিনি অক্ষত ছিলেন। ১৭৬৩ সালে মীর জাফরের নবাবিত্বের দ্বিতীয় পর্বে তিনি ঢাকার নায়েব নাজিম হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর ও জামাতা মীর কাশিমের নাম ইংরেজের সুনামের খাতা থেকে কাটা গেলেও রেজা খানের নাম কোম্পানির সুনামের তালিকায় ছিল দীর্ঘকাল। প্রথম ১০ বছর তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সফলতম দেশীয় কর্মকর্তা হিসেবে কোম্পানির সব আর্থিক লেনদেনের দায়িত্ব পালন করতেন। নবাব শুধু নামমাত্র ক্ষমতাপ্রাপ্ত ছিলেন। দেওয়ানিত্বের প্রায় সব দায়িত্ব পালন করতেন রেজা খান।

রেজা খান সম্পর্কে কোম্পানির কর্তাদের কত উঁচু ধারণা ছিল সেটা কোম্পানির নথিপত্রের পাতায় পাতায় লেখা আছে। এ প্রসঙ্গে লন্ডনের কোর্ট অব ডিরেক্টরসের কাছে পাঠানো রবার্ট ক্লাইভের চিঠির অংশ দেখা যাক—

‘...At the same time it was reasonable we should not lose sight of Mahomed Reza Cawn’s past services; he was pursued the Company’s interest with steadiness and diligence; his ability qualifz him to perform the most important services. The unavoidable charges of his particular situation are great; in dignity he stands second to the Nabob only; and as he engages to increase the revenues, without injustice or opperession, to more than the amount of his salary, and to relinquish those advantges to the amount of eight lacks of ruppes per annum, which he heretofore enjoyed, we thought it proper, in the distribution of salaries, to consider Mohamed Reza Cawn in a light of superior to the other Ministers.

[Letter to the court of directors, Jan.24, 1967 A View Of The Rise Progress And Present State Of The English Government In Bengal 1765- Harry Verelst Appendix page-43] (4)

১৭৬৫-৭০ সাল পর্যন্ত রেজা খানই ছিলেন বাংলার প্রকৃত শাসক। তার উন্নতির মূল উৎস ছিলেন রবার্ট ক্লাইভ। শুরুতে ক্লাইভ এ দেশে কোম্পানি শাসনের নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন পরোক্ষভাবে দেশে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে কোম্পানির জন্য বাণিজ্যিক সুবিধা আদায়ের পক্ষপাতী। ১৭৬৭ সালে তার দেশে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ ও কলকাতায় ক্লাইভ প্রবর্তিত ব্যবস্থা সব স্বার্থগোষ্ঠীর সন্তোষমাফিক কাজ করেছে। কিন্তু তখন থেকে তিনি প্রশাসনের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। কোম্পানির কর্মচারীরা সরাসরি দেওয়ানি কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করতে থাকেন। এ প্রবণতার প্রথম বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায় যখন রেজা খানের নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতাকে রোধ করার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের জেলা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা হয় ১৭৬৯ সালে।

রেজা খানের সুখের দিন ধাক্কা খায় একটা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়ে। কোম্পানির আস্থাভাজন হিসেবে এক দশক কাটানোর পর তিনি পদচ্যুত হন এবং ১৭৭২ সালে কারারুদ্ধ হন। তার বিরুদ্ধে বহুবিধ দুর্নীতি ও উত্পীড়নের অভিযোগ এনে বিচার করা হয়। এ বিচার চলাকালে রেজা খান সাফল্যের সঙ্গে প্রমাণ করেন যে কীভাবে তিনি ফোর্ট উইলিয়ামের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপকর্মের ভারবাহী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তার ঘাড়ে বন্দুক রেখে কোম্পানির কর্মকর্তারা নিজেদের আখের গোছাতেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অবশ্য আবারো নায়েব নাজিম পদে পুনর্বহাল হয়েছিলেন ১৭৭৫ সালে। কিন্তু ততদিনে দেশের রাজনৈতিক-প্রশাসনিক চিত্রপট অনেকখানি বদলে গিয়েছিল। তাকে যারা ওপরে তুলে এনেছিলেন তাদের অনেকেই তখন নেই। ওয়ারেন হেস্টিংসের কঠোর শাসন ব্যবস্থায় দেশীয় লোকদের ক্ষমতা কমতে থাকে। কর্নওয়ালিস ক্ষমতায় আসার পর তার পদটাই বিলুপ্ত করে দেন।

 

হারুন রশীদ: সভ্যতা ও ইতিহাস অনুসন্ধানী লেখক