অবিলম্বে শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন
৪ মার্চ ১৯৭১ তাহরিক-ই-ইশতেকলাল পার্টির প্রধান এরপর মার্শাল আসগর খান (অব.) করাচি প্রেস ক্লাবে বৃহৎ এক সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দেন, ৫ মার্চ ১৯৭১ করাচির ইংরেজি দৈনিক ডন তা বিস্তারিত প্রকাশ করে।
আসগর খানের বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য অংশ:
দেশ বিপর্যয়ের যে প্রান্তে এসে পৌঁছেছে, সেখান থেকে ফিরতে হলে অবিলম্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। জাতীয় অখণ্ডতা ও সংহতি রক্ষার সার্থে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের উচিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংগরিষ্ঠতা অর্জনকারী শেখ মুজিবুর রহমানকে ডেকে অবিলম্বে তাঁর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তিনি বলেন, সংবিধান প্রণয়নের জন্য অপেক্ষা করা যেতে পারে। কিন্তু সবার আগে যা করণীয়— ক্ষমতা যেখানে যাওয়ার কথা, পাকিস্তান সরকারের উচিত জাতীয় পরিষদের সেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা অর্পণ করা।
আসগর খান বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ছয় দফা নিয়ে বিকার সৃষ্টি করা হচ্ছে, এ বিকারগ্রস্ততা কাটায়ে আমূল শৈল্যচিকিৎসা প্রয়োগ করা প্রয়োজন— গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উত্তরণে বাধা দেয়া পাকিস্তানি রাজনীতির ক্ল্যাসিকাল চরিত্র।
‘পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষের ওপর আক্রমণ চালালে যেমন লাগত পূর্ব পাকিস্তানের ভাইদের জন্যও আমার একই অনুভূতি।’
আসগর খান বলেন, ‘উপযুক্ত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দিয়ে এখনই শেখ মুজিবুর রহমানকে সরকার গঠন করার জন্য ডাকা উচিত। আমার পূর্ব পাকিস্তানি ভাইদের সঙ্গে এমন আচরণ আমি আর দেখতে চাই না, পাকিস্তান ভেঙে টুকরো হয়ে যাক তাও আমি চাই না।
তিনি আঙুল উঁচিয়ে দেখিয়ে দেন, পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণকে বুঝতে হবে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও হতাশায় পূর্ব পাকিস্তান এখন ধিকিধিকি জ্বলছে। ক্ষমতা এখন তাদের বৈধ অধিকার— এ অধিকার তাদের ভোগ ও প্রয়োগ করতে দিতে হবে।
সত্তরের নির্বাচনোত্তর তিন মাসে রাজনৈতিক পরিস্থিতির যে দ্রুত অবনতি ঘটেছে, তিনি মনে করেন এজন্য দায়ী পাকিস্তানি আমলাতন্ত্র, কায়েমি স্বার্থবাদী মহল, ব্যবসায়ী এবং গণতন্ত্র ঠেকানোর মানসিকতাসম্পন্ন কিছু রাজনীতিবিদ।
মার্চেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, বৈশ্বিক স্বার্থ ও আধিপত্য বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে দ্বিখণ্ডিত করতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার বড় বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে। পশ্চিম পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ পূর্ব পাকিস্তানে খুন-খারাবির বিরুদ্ধে। যদি এখনই নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা না হয়, তাহলে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সমর্থনে আন্দোলন শুরু করবেন।
ভুট্টোর মন্তব্য ‘পাকিস্তানের তিন শক্তি আওয়ামী লীগ, পাকিস্তান পিপলস পার্টি এবং সেনাবাহিনী’— একে তিনি দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্য আখ্যা দেন এবং বলেন, পাকিস্তানের অখণ্ডতার স্বার্থেই শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
তিনি বলেন, যদি পাকিস্তানের অর্ধেক চলে যায়, তাহলে পশ্চিম পাকিস্তানকে অখণ্ড ও একতাবদ্ধ রাখা যাবে না।
এই হচ্ছেন আসগর খান
করাচির সেই সংবাদ সম্মেলনে যে কথাগুলো বলেছেন, শেষ পর্যন্তও তিনি তাঁর অবস্থান ও বক্তব্য নিয়ে অনড় রয়েছেন। মৃত্যুর কিছুকাল আগেও বলেছেন, পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ‘হক’ নষ্ট করার খেসারত পাকিস্তানকে দিতে হয়েছে।
এয়ার মার্শাল আসগর খান (অব.) চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ৯৬ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন।
তিনি বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। বাংলাদেশও পশ্চিম পাকিস্তানি এ বন্ধুর নাম একাত্তরের পাকিস্তানি বন্ধুদের শীর্ষে রেখেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে রাষ্ট্রস্বীকৃত পাকিস্তানি বন্ধুর তালিকাটি আসগর খানকে দিয়েই শুরু। এ তালিকায় আরো রয়েছেন: পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রধান খান আবদুল ওয়ালি খান, কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ (বাংলাদেশ নিয়ে যার কবিতার স্মরণীয় পঙিক্ত: এ রক্তের দাগ মুছতে কে জানে কত বর্ষা মৌসুম লেগে থাকে), আবদুস সেলিম, ইমতিয়াজ আহমেদ, নাসিম আকতার, আসমা জাহাঙ্গির, তাহেরা মাজহার আলী, হাকিম ইয়াং আজমল, শেখ মাজহারুল হক, খান তিরমিযি, সৈয়দ শাহেনশাহ হোসেইন, শেখ ইমতিয়াজ হোসেইন মুফতি, কেরামত মিয়া, ইউনুস রিয়াজ প্রমুখ।
এয়ার মার্শাল আসগর খানের জন্ম ১৯২১-এর জানুয়ারিতে। তিনিই প্রথম পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর প্রধান। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে একটি দেশের বিমানবাহিনীর প্রধান হওয়ার রেকর্ডটি অনতিক্রম্যই রয়ে গেছে।
তাঁর জন্ম ব্রিটিশ ভারতের জম্মুতে, জন্মসূত্রে পাঠান। তাঁর বাবা ব্রিগেডিয়ার ঠাকুর রহমতুল্লাহ খান উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের খ্যাতনামা ব্যক্তি।
রয়াল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের সদস্য হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন, পরে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগ দেন। ডিফেন্স কলেজ থেকে সামরিক প্রশাসনে এমএসসি ডিগ্রিপ্রাপ্ত হন।
পাকিস্তানের ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল আর্থার ম্যাকডোনাল্ড অবসর গ্রহণ করলে পাকিস্তানের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৫৭-এর জুলাই মাসে আসগর খানকে এয়ার ভাইস মার্শাল পদে উন্নীত করে বিমানবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব দেন। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মূলত তাঁর নির্দেশনাতেই পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বিকাশ ঘটে। তিনি পাকিস্তান এয়ারলাইনস— পিআইএরও প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
১৯৬৫-এর ভারত— পাকিস্তান যুদ্ধের কিছুকাল আগে তিনি চাকরি থেকে বিদায় নেন। পরে তেহরিক-ই-ইশতেকলাল নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। পাকিস্তানে ভুট্টোবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব বরাবর তাঁর হাতেই রয়ে যায়।
আসগর খান সুষ্ঠুভাবে বলেছেন, ১৯৪৭, ১৯৬৫ এবং ১৯৭১— প্রতিবারই পাকিস্তান প্রথমে ভারতকে আক্রমণ করেছে। কাশ্মীর সংকটের জন্যও তিনি পাকিস্তানকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, কাশ্মীরের মহারাজা পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতেই আগ্রহী ছিলেন; কিন্তু উপযুক্ত মর্যাদা দিয়ে তাকে ধারণ করার মতো উদার্য পাকিস্তানের অদূরদর্শী ও অপটু রাজনীতিবিদদের ছিল না। তিনি মনে করেন আইয়ুব খান এবং তাঁর অর্বাচীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভুট্টোর প্ররোচনাতে ১৯৬৫-এর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয়।
১৯৭১-এ ইয়াহিয়া খান ও ভুট্টো একইভাবে ভারতকে যুদ্ধে টেনে এনেছেন। যুদ্ধে পাকিস্তান কখনো জয়ী হয়নি, জয়ের সব আস্ফাালনই মিথ্যে।
ভুট্টো প্রেসিডেন্ট পদে থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তান ভাঙার অভিযোগ আনেন।
আসগর খান সুলেখক, ১৩টি গ্রন্থের প্রণেতা। তাঁর বইগুলোর মধ্যে রয়েছে— পাকিস্তান অ্যাট দ্য ক্রসরোড (১৯৬৯), দ্য ফাস্ট রাউন্ড: ইন্দো-পাকিস্তান ওয়ার (১৯৭৯), জেনারেলস ইন পলিটিকস (১৯৮৩), দ্য লাইটার সাইড অব দ্য পাওয়ার গেইম (১৯৮৫), উই হ্যাভ লার্নট-নাথিং ফ্রম হিস্ট্রি (২০০৫), মাই পলিটিক্যাল স্ট্রাগল (২০০৮) এবং মাইলস্টোনস ইন আ পলিটিক্যাল জার্নি (২০০৯)।
আসগর খানের বই থেকে
জুলফিকার আলী ভুট্টোই (পাকিস্তানের) একজন রাজনীতিবিদ, যিনি ইয়াহিয়া খানের সামরিক আইন জারি স্বাগত জানিয়েছেন। ভুট্টোর বেলায় উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যেকোনো পন্থাই বৈধ ও যুক্তিযুক্ত। তাঁর অন্তিম উদ্দেশ্য ক্ষমতায় যাওয়া। আইয়ুব খানের দ্বিতীয় প্রধান ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে তিনি বরাবরই গোপন সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছেন। মন্ত্রী থাকার সময় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জেনারেলের সঙ্গেও তিনি উদ্দেশ্যমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ইয়াহিয়ার পুরো তিন বছরের রাজত্বকালে দুজনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বজায় ছিল।
* (একাত্তরের) নির্বাচনের পর ঢাকা সফর এবং মুজিবের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভুট্টো ফিরে গিয়ে তাঁর লারকানার বাড়িতে ইয়াহিয়া খান এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা জেনারেল হামিদ ও পীরজাদাকে নিমন্ত্রণ জানালেন। তাঁরা পরের দিন সেখানে ছিলেন এবং তাঁদের পরিতুষ্ট করার সব ব্যবস্থাই সেখানে করা হয়। যদি কেবল আরাম-আয়েশ ও আমোদ-প্রমোদই সেই নিমন্ত্রণের উদ্দেশ্য হতো, তাহলে ব্যাপারটা অন্য রকম হতো। দুর্ভাগ্যবশত এখানে সর্বনাশা সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সবাই সম্মত হন যে, পূর্ব পাকিস্তানে (সামরিক) শক্তি প্রয়োগ করা হবে।
আসগর খান মন্তব্য করেছেন, মুজিব এটাকে চিহ্নিত করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে এবং তিনি তখন শক্ত অবস্থান নেন। এটা সর্বজনবিদিত ভুট্টো তাঁর দলের এমএলএসদের (মেম্বার অব ক্যালচার অ্যাসেম্বলি) হুমকি দিয়েছিলেন, কেউ যদি ঢাকায় সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে যান, তিনি যেন ‘ওয়ান-ওয়ে টিকিট’ নিয়ে যান, পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে এলে তাঁর ঠ্যাং ভেঙে ফেলা হবে। তাঁর দলের দুজন সদস্য পূর্ব পাকিস্তান সফরে এসেছিলেন— আহম্মদ রাজা কাসুরি ও হাকিম জারদারি। আহমদ রাজা কাসুরি হত্যা প্রচেষ্টা মামলাই শেষ পর্যন্ত ভুট্টোর ফাঁসির কারণ হয়ে দাঁড়ায় আর হাকিম জারদারি পরবর্তী সময়ে ভুট্টোর কঠোর সমালোচক হয়ে ওঠেন; তিনি ভুট্টোর স্বৈরাচারী আচরণের নিন্দা করেন এবং বলেন, বন্দুকের মুখে পাকিস্তানের ১৯৭৩ সালের সংবিধান অনুমোদন করতে জাতীয় পরিষদকে বাধ্য করেন।
১৯৭০-এর মাঝামাঝি সময়ে ইয়াহিয়া খান আসগর খানকে বলেন, ভুট্টো তাঁকে বলেছেন, আপনি সৈনিক ও আমরা রাজনীতিবিদ। নির্বাচনের কথা ভুলে যান। আমি আর আপনি দুজন মিলে দেশ চালাব। ইয়াহিয়া খান তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তাহলে পূর্ব পাকিস্তানের কী হবে। তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তান কোনো সমস্যাই নয়, সেখানকার কুড়ি হাজার মানুষ হত্যা করতে পারলে সব একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।
* ২৫ মার্চ ১৯৭১ ইয়াহিয়া খান ঢাকা ত্যাগ করেন। ভুট্টো তখনো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থান করছেন... ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর হোটেলের সাততলায় থেকে মেশিনগানের গুলির শব্দ শোনেন। পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে এসে ক’দিন পর ভুট্টো বলেন, শুকরিয়া, আল্লাহ তায়ালা পাকিস্তানকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।
* আকাশপথে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের যোগাযোগের জন্য ভারতের আকাশপথই ভরসা। এরই মধ্যে ১৯৭১-এর ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় উড়োজাহাজ ‘গঙ্গা’ জম্মু থেকে হাইজ্যাক করে লাহোরে নিয়ে আসে। আমরা এমনিতে যে দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা যেন যথেষ্ট নয়, ভুট্টো লাহোর এয়ারফিল্ডে এসে হাইজ্যাকারদের কানে কানে কিছু বলে গেলেন, তারপরই উড়োজাহাজটি উড়িয়ে দেয়া হলো। এ অজুহাতে ভারতের আকাশ পাকিস্তানের জন্য একেবারেই বন্ধ হয়ে গেল।
* সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনপুষ্ট হয়ে ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ পোল্যান্ড জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যে প্রস্তাব এনেছিল, তাতে ছয়দিন পর পাকিস্তানের এ অবমাননাকর আত্মসমর্পণ ঠেকানো যেত। নিরাপত্তা পরিষদ এ প্রস্তাবের ওপর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করছিল। নিউইয়র্কে উপস্থিত ভুট্টো জানালেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ, ঠাণ্ডায় ভুগছেন, তত দিনে ভারত পূর্ব পাকিস্তানের গভীরে চলে এসেছে, ঢাকার পতন অত্যাসন্ন, কিন্তু ১৫ ডিসেম্বর সুস্থ সেজে ভুট্টো নিরাপত্তা পরিষদে গিয়ে কূটনৈতিক বক্তব্যের বদলে নির্বাচনের জন্য মানানসই বক্তৃতা দিলেন এবং তিনি অস্ত্রবিরতি মানেন না বলে জানান। ভারতের বিরুদ্ধে হাজার বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
গোয়েন্দা সংস্থা যখন আহমদ রাজা কাসুরির নথি ভুট্টোর সামনে উপস্থাপন করল, নথির ওপর লিখে দিলেন ফিক্স হিম। তাকে শেষ করে দেয়ার চেষ্টাই ভুট্টোর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। পাকিস্তান ভাঙার অপরাধসহ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন জুলফিকার আলী ভুট্টোর সব অপকর্মের জন্য তিনি তাঁর ফাঁসি দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত ভুট্টোকে দড়িতে ঝুলতে হয়েছে আসগর খান স্পষ্টভাবে বলেছেন:
ক. ভারত কখনো পাকিস্তানের জন্য হুমকি নয়, পাকিস্তান দখলে নিলে ভারতের লাভের চেয়ে ক্ষতিই হবে বেশি। কাজেই জেহাদি মনোভাব নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলা অযৌক্তিক।
খ. ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নয়, চীনের সঙ্গে সামরিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য। পাকিস্তানের সামরিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের কোনো মানে নেই, এই অর্থ শিক্ষা প্রচারে ব্যয় করা প্রয়োজন।
গ. কাশ্মীরের মহারাজার প্রতি পাকিস্তানের অবন্ধুসুলভ আচরণই তাকে ভারতের সঙ্গে যেতে বাধ্য করেছে। কাশ্মীরের জনগণ যা চায়, তা-ই হওয়া উচিত পাকিস্তান কিংবা ভারতের চাওয়া নয়।
ঘ. ১৯৭১ পাকিস্তানি শাসক সামরিক বাহিনী ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর উন্মত্ততার স্মারক, পাকিস্তানকে এজন্য চরম মূল্য দিতে হয়েছে।






