[সূচনাবিন্দু]

লিডস মিউজিক পাবলিশিং কোম্পানির কর্তা লোউ লেভি আমাকে পকেট সাইজ রেকর্ডিং স্টুডিও দেখাতে ট্যাক্সিতে করে সেভেন্টিথ স্ট্রিটের পাইথন টেম্পলে নিয়ে এল। এখানেই বিল হ্যালি আর হিজ কমেটস ‘রক অ্যান্ড দ্য ক্লক’ রেকর্ড করেছিল। সেখান থেকে ফিফটিথ-এ জ্যাক ডেম্পসির রেস্তরাঁ এবং ব্রডওয়ে। ওখানে সামনের জানালার দিকে ফিরে লাল চামড়ার গদিমোড়া টুলে বসেছিলাম।

মহান বক্সার জ্যাক ডেম্পসির সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল লোউ। আমার দিকে মুঠি নাচিয়েছে জ্যাক।

‘হেভিওয়েট কিড হিসেবে বেশ হালকা লাগছে তোমাকে, আরো কয়েক পাউন্ড ওজন বাড়াতে হবে। আরো একটু সুন্দর পোশাক চাপাতে হবে গায়ে, কিছুটা চোখা দেখাতে হবে— অবশ্য, রিংয়ে থাকার সময় যে খুব বেশি কাপড়চোপড় লাগবে তা নয়— কাউকে জোরসে মারতে গিয়ে ভয় পেয়ো না যেন।’

‘ও বক্সার না, জ্যাক, ও গীতিকার আর গান বের করবে।’

‘ও, আচ্ছা, ঠিক আছে, শিগগিরই তা শুনতে পাব। ভাগ্য তোমার সহায় হোক, বাছা।’

বাইরে হুহু করে বাতাস বইছিল, মেঘের গুচ্ছ ছড়িয়ে দিচ্ছে, লাল লণ্ঠন-জ্বলা রাস্তায় ঘুরপাক খাচ্ছে তুষার। জটলা পাকিয়ে ঘুরে ফিরছে শহুরে লোকজন— খরগোশের লোমের ইয়ারমাফ পরা সেলসম্যানরা জনপ্রিয় জিনিস বিক্রি করছে, চেস্টনাট ফেরিঅলা, ম্যানহোলগুলো থেকে ভাপ উঠছে।

এসবের কিছুই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। আমার গান প্রকাশের ক্ষমতা দিয়ে সবে লিডস মিউজিকের সঙ্গে একটা চুক্তি সই করেছি আমি। খুব বেশি কিছু যে করার ছিল তা নয়। তখনও খুব বেশি লিখিনি আমি। কাগজে স্বাক্ষর করার জন্যে আগাম সম্মানী হিসেবে ১০০ ডলার দিয়েছিল লোউ। সেটাই আমার কাছে যথেষ্ট ছিল।

আমাকে কলম্বিয়া রেকর্ডসে নিয়ে গিয়েছিল জন হ্যামন্ড। লোউয়ের কাছে নিয়ে গিয়ে সেই আমার দিকে খেয়াল রাখতে বলেছিল ওকে। আমার মাত্র দুটো মৌলিক গান শুনেছিল হ্যামন্ড, কিন্তু আরো আসার ব্যাপারে আগাম ধারণা ছিল।

লোউয়ের অফিসে ফিরে গিটার কেসটা খুললাম। গিটারটা বের করে তারে টোকা দিতে লাগলাম। কামরায় নানা জিনিসের ছড়াছড়ি— স্তূপ করে রাখা শিট মিউজিকের বাক্স, বুলেটিন বোর্ডে সাঁটা শিল্পীদের রেকর্ডিংয়ের তারিখ, কালো বার্নিশ করা ডিস্ক, সাদা লেবেলে মোড়ানো অ্যাসিটেটস, বিনোদকদের স্বাক্ষর করা ছবি, তেলতেলে পোর্ট্রেট— জেরি ভেল, আল মার্তিনো, দ্য অ্যান্ড্রুজ (ওদের একজনকে বিয়ে করেছে লোউ), ন্যাট কিং কোল, প্যাট্টি পেজ, দ্য ক্রু-কাটস— গোটা দুই রিল-টু-রিল টেপ রেকর্ডার কনসোল, হাবিজাবি জিনিসে বোঝাই বিশাল গাঢ় বাদামি কাঠের ডেস্ক। আমার সামনে ডেস্কের উপর একটা মাইক্রোফোন রেখে একটা টেপরেকর্ডারে প্লাগ ঠেসে দিয়েছে লোউ। সারাক্ষণ একটা বিরাট স্টোগি চিবুচ্ছিল।

‘তোমাকে নিয়ে জনের অনেক আশা,’ বলল লোউ।

জন মানে জন হ্যামন্ড, মহান প্রতিভা শিকারি এবং কীর্তিমান শিল্পী, রেকর্ডেড মিউজিকের ইতিহাসে বিস্ময়কর ব্যক্তিদের আবিষ্কর্তা— বিলি হলিডে, টেডি উইলসন, চার্লি ক্রিশ্চিয়ান, ক্যাব গ্যালাওয়ে, বেনি গুডম্যান, কাউন্ট ব্যাসি, লায়নেল হ্যাম্পটন। আমেরিকানদের জীবনে অনুরণন তোলা সংগীত সৃষ্টিকারী সব শিল্পী। সবাইকে মানুষের সামনে নিয়ে এসেছে সে। এমনকি ব্যাসি স্মিথের শেষ রেকর্ডিং সেশনগুলোও পরিচালনা করেছিল হ্যামন্ড। কিংবদন্তিসম সত্যিকারের অভিজাত আমেরিকান সে। তার মা ছিল আসল ভ্যান্ডারবিল্ট এবং জন বেড়ে উঠেছিল উপরের পৃথিবীতে, আরাম-আয়েশের ভেতর— কিন্তু সন্তুষ্ট ছিল না ও, নিজের হূদয়ের ভালোবাসা গানকে, বরং বলা চলে হট জ্যাজের মন দোলানো ছন্দ, মরমি আর ব্লুজ অনুসরণ করেছে— জীবন দিয়ে সমর্থন করেছে একে, রক্ষা করেছে। কেউ তার পথ রুদ্ধ করতে পারেনি এবং নষ্ট করার মতো সময় তার ছিল না। তার দপ্তরে বসে থাকার সময় জেগে আছি কিনা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল, এমন অবিশ্বাস্য ছিল আমার সঙ্গে তার কলম্বিয়ার চুক্তি করিয়ে দেওয়ার ঘটনাটা। শুনে বানোয়াট গল্পের মতো মনে হতে পারত।  

দেশের অন্যতম প্রথম ও প্রধান মোড়ক ছিল কলম্বিয়া। আমার পক্ষে ওখানকার দরজা মাড়ানোই ছিল বিরাট ব্যাপার। স্টার্টারদের কাছে লোকসংগীত অশিষ্ট, দ্বিতীয় কাতারের বলে বিবেচিত ছিল; কেবল ছোটখাটো মোড়কেই প্রকাশ পেত। বড় আকারের রেকর্ড কোম্পানিগুলো ছিল কেবল অভিজাতদের জন্যে, যে গান পবিত্র আর পরিশুদ্ধ। আমার মতো কাউকে খুবই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি না হলে সুযোগই দেওয়া হতো না। কিন্তু জন ব্যতিক্রমী মানুষ ছিল। স্কুলছাত্রদের রেকর্ড বের করত না বা স্কুলছাত্র শিল্পীদের গান রেকর্ড করত না সে। দূরদৃষ্টি আর সুদূরপ্রসারী ভাবনা ছিল তার। আমাকে দেখেছে, আমার গান শুনেছে, আমার ভাবনাগুলো অনুভব করেছে, যা আসতে যাচ্ছে তার ওপর বিশ্বাস ছিল। ব্যাখ্যা করে ঐতিহ্যের দীর্ঘ ধারায়, ব্লুজ, জ্যাজ আর লোকগানের দীর্ঘ ধারায় কোনো একজন হিসেবে দেখার কথা আমাকে বলেছিল সে, কোনো কাটিং এজ নতুন কেতার বিস্ময়বালক নয়। অবশ্য কাটিং এজ বলে কিছু ছিলও না। পঞ্চাশের দশকের শেষ আর ষাটের দশকের গোড়ার দিকে আমেরিকান সংগীত জগতের অবস্থা ছিল বেশ নিষ্প্রভ। জনপ্রিয় রেডিও অনেকটা স্থবির আর ফাঁকা বিনোদনে ভরা ছিল। সে ছিল বিটলস, দ্য হু বা দ্য রোলিং স্টোনসের নতুন জীবন আর উত্তেজনা ফুঁকে দেয়ার বহু বছর আগের কথা। তখন আমি যেগুলো বাজাচ্ছিলাম সেগুলো ছিল নরকের শাস্তির কথা ছড়ানো কঠিন ভাষার লোকসংগীত। রেডিওর কোনোকিছুর সঙ্গে তার মিল না থাকার ব্যাপারটা বোঝার জন্যে ভোটাভুটির দরকার ছিল না তোমার, বাণিজ্যের কাছে হার মানেনি সেগুলো, কিন্তু জন আমাকে এসব ওর তালিকার উপরের দিকে না থাকার কথা বলেছিল যে আর আমি কি করেছি তার তাত্পর্যটুকু পুরোপুরি জানা আছে।

‘আন্তরিকতা আমি বুঝতে পারি,’ বলেছিল সে। রূঢ়, কর্কশ ভাব নিয়ে কথা বলত জন, তারপরেও তার চোখে তারিফের একটা ঝিলিক ছিল।

সমপ্রতি পিট সিগারকে লেবেলে নিয়ে এসেছিল ও। অবশ্য, পিটকে সে আবিষ্কার করেনি। অনেক বছর ধরেই আশপাশে ছিল পিট। জনপ্রিয় লোক গ্রুপ দ্য উইভারসে ছিল না সে, তবে ম্যাককার্থির আমলে কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিল, কঠিন সময় পার করেছে, কিন্তু কাজ থামায়নি কখনো। সিগারের কথা বলার সময় উদ্ধত ছিল জন। পিটের পূর্বপুরুষরা মেফ্লাওয়ারে চেপে এসেছিল, খোদার কসম তার ব্যাটল অব বাংকারে লড়াই করেছে ওর আত্মীয়স্বজনরা। ‘ভাবতে পারো, শালারা কিনা ওকে কালোতালিকায় তুলেছে? আলকাতরা মাখিয়ে ব্যাটাদের গায়ে পালক সেঁটে দেওয়া দরকার।’

‘তোমাকে সবই বলব আমি,’ আমাকে বলেছে ও। ‘মেধাবী তরুণ তুমি। ওই প্রতিভা ঠিকমতো ব্যবহার আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দারুণ করবে। তোমাকে নিয়ে আসতে যাচ্ছি, তোমার রেকর্ড করতে যাচ্ছি। কি ঘটে দেখব আমরা।’

আমার পক্ষে সেটাই যথেষ্ট ছিল। আমার সামনে একটা চুক্তি নামিয়ে রেখেছে সে, প্রমিত একটা চুক্তি আর সঙ্গে সঙ্গে সই করে দিয়েছি। বিস্তারিত দেখতে যাইনি, কোনো উকিল, উপদেষ্টা বা আমার কাঁধের ওপর দিয়ে নজরদারি করার মতো কাউকে প্রয়োজন হয়নি। আমার সামনে রাখা যেকোনো ফর্মেই সই দিয়ে দিতাম আমি।

ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে রেকর্ডিং শুরুর একটা তারিখ বেছে নিয়ে ইঙ্গিতে দেখিয়ে চারপাশে একটা চক্র এঁকে দিয়েছে সে। আমাকে কখন আসতে হবে জানিয়ে কোন গানটা বাজাতে চাই ভেবে রাখতে বলেছে। তারপর মোড়কের প্রচার প্রধান বিলি জেমসকে তলব করেছে। আমাকে নিয়ে প্রচারণার বিষয়বস্তু রচনা করতে বলেছে তাকে, প্রেস রিলিজের জন্যে ব্যক্তিগত কথাবার্তা। 

বনেদি লোকদের মতো পোশাক পরেছিল বিলি, যেন ইয়েল থেকে পাস করে বেরিয়েছে— মাঝারি উচ্চতা, চকচকে কালো চুল। দেখে মনে হলো জীবনে কখনো পাথর ছোড়েনি, কোনো রকম ঝামেলায় জড়ায়নি। তার অফিসে এসে ডেস্কের উল্টোদিকে বসলাম। আমার কাছ থেকে যথেষ্ট মসলা বের করার চেষ্টা চালাল সে, যেন তাকে সরাসরি সব বলে দেয়ার কথা আমার। একটা নোটপ্যাড আর পেন্সিল নিয়ে আমি কোত্থেকে এসেছি জানতে চাইল। তাকে বললাম, ইলিনয় থেকে, লিখে নিল সে। আমি অন্য কোনো কাজ করেছি  কিনা জানতে চাইল সে, আমি বললাম কয়েক ডজন কাজ করেছি, একবার বেকারির ট্রাকও চালিয়েছি। কথাটা লিখে রাখল সে, তারপর আর কিছু আছে কিনা জানতে চাইল। বললাম নির্মাণের কাজ করেছি। সেটা কোথায় জানতে চাইল সে।

‘ডেট্রয়েট।’

‘বেশ ঘোরাঘুরি করেছ?’

‘হ্যাঁ।’

আমার পরিবারের কথা, তারা কোথায় আছে জানতে চাইল সে। বললাম আমার কোনো ধারণা নেই। অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে তারা।

‘তোমার পারিবারিক জীবন কেমন ছিল?’

বললাম, আমাকে ঘাড় ধরে বের করে দেয়া হয়েছে।

‘তোমার বাবা কি করত?’

‘ইলেক্ট্রিশিয়ান।’

‘আর তোমার মা, তার কি অবস্থা?’

‘গৃহিণী।’

‘কি ধরনের গান বাজাও তুমি?’

‘লোকগীতি।’

‘লোকগীতিটা কি ধরনের গান?’

তাকে বললাম, এটা হস্তান্তরিত গান। এই ধরনের প্রশ্ন শুনে ঘেন্না লাগছিল আমার। মনে হচ্ছিল ওসব অগ্রাহ্য করা যেত। বিলিকে যেন আমার ব্যাপারে অনিশ্চিত মনে হচ্ছিল। মন্দ ছিল না সেটা। এমনিও তার প্রশ্নের উত্তর দিতে ভালো লাগছিল না, কারো কাছে কোনোকিছু ব্যাখ্যা করতে ইচ্ছা হচ্ছিল না।

‘এখানে এলে কি করে?’ আমাকে জিজ্ঞেস করল সে।

‘মালগাড়িতে চেপে।’

‘প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কথা বোঝাচ্ছ?’

‘না, মালগাড়ি।’

‘মানে বক্সকারের মতো কিছু?’

‘হ্যাঁ, বক্সকারের মতো কিছু। মালগাড়ির মতো।’

‘ঠিকাছে, মালগাড়ি।’

বিলিকে ছাড়িয়ে, তার চেয়ার ছাড়িয়ে জানালা দিয়ে রাস্তার উল্টোদিকের একটা অফিস বিল্ডিংয়ের দিকে তাকালাম আমি। ওখানে এক ঝলমলে সেক্রেটারিকে কোনো কিছুর আত্মায় ভর করে থাকতে দেখতে পেলাম— ব্যস্ত হাতে লিখছিল সে, ধ্যানমগ্ন কেতায় একটা ডেস্ক ভরে রেখেছে। মেয়েটার ভেতর হাস্যকর কিছুই ছিল না। একটা টেলিস্কোপ থাকলে হতো, ভাবলাম আমি। বিলি জানতে চাইল আজকের সংগীত জগতে কাকে আমার নিজের মতো লাগে। বললাম কাউকে না। এই কথাটা সত্যি ছিল। সত্যিই নিজেকে কারো মতো মনে হতো না আমার। যদিও বাকি সবই ছিল নির্জলা গাঁজাখুরি কথাবার্তা।

মোটেই মালগাড়িতে চেপে আসিনি আমি। যেটা করেছি সেটা হলো মিডওয়েস্ট থেকে একটা চার-দরজার সেডান ’৫৭ ইম্পালায় চেপে সোজা শিকাগো ছেড়ে এসেছি— প্রান্তরের ওপর দিয়ে ধোঁয়াটে সব শহর, সর্পিল রাস্তাঘাট, তুষারে ঢাকা সবুজ মাঠ হয়ে সামনে বেড়ে স্টেট লাইন ধরে পুবমুখী এগিয়েছি, ওহিও, ইন্ডিয়ানা, পেনসিলভেনিয়া, ২৪ ঘণ্টার পথ, বেশির ভাগ সময়ই পেছনের সিটে ঝিমিয়েছি, অল্প কথা বলেছি। গোপন আগ্রহের দিকে স্থির ছিল আমার মন...অবশেষে জর্জ ওয়াশিংটন ব্রিজ পেরিয়ে এসেছি।

উল্টোদিকে থমকে দাঁড়িয়েছে বিশাল গাড়িটা, বের হতে দিয়েছে আমাকে। পেছনে দড়াম করে দরজা আটকে হাত নেড়ে বিদায় জানিয়ে কঠিন বরফে পা বাড়িয়েছি আমি। ধারাল হাওয়া হামলা চালিয়েছে আমার মুখে। অবশেষে জায়গামতো, নিউ ইয়র্ক সিটিতে পৌঁছেছি আমি, জালের মতো একটা শহর, আমার বোঝার পক্ষে খুবই জটিল। চেষ্টাও করতে যাচ্ছি না।

গায়কদের খোঁজে এখানে এসেছি আমি, রেকর্ডে যাদের গান শুনেছি— ডেভ ভ্যান রঙ্ক, পেগি সিগার, এড ম্যাককার্ডি, ব্রাউনি ম্যাকগি আর সনি টেরি, জোশ হোয়াইট, দ্য নিউ লস্ট সিটি র্যাম্বারস, রেভারেন্ড গ্যারি ডেভিস আর আরো এক দঙ্গল— সবচেয়ে বড় কথা উডি গুথরিকে খুঁজে পাব বলে। নিউ ইয়র্ক শহর, যে শহরটি আমার নিয়তি স্থির করে দেবে। আধুনিক গোমোরাহ। স্কয়ার ওয়ানের সূচনাবিন্দুতে ছিলাম আমি, কিন্তু কোনোভাবেই নবিশ ছিলাম না।

 

[বাকি অংশ আগামী সংখ্যায়]