[সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহজলভ্য হয়ে ওঠায় মানুষের মধ্যে নতুন রকম সম্পর্কের উদ্ভব হয়েছে। এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা রকম পরিবর্তন ঘটছে মানুষের মনে, সম্পর্কে, কল্পনায়! খাওয়ার চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এখন খাদ্যের রূপ বর্ণনায়। মাঘ মাসে ড্রিম আসে উড়ে উড়ে। ফাল্গুনে ঘেঁচু ফুলের টোপর পরে শুকর বর সাজে। ঋতুগুলো অচেনা হয়ে গেছে, নতুন ঘটনা ঘটছে বলে মনে হয়। মাছ দিয়ে মানুষকে ধরে রাখতে চায়। মাকে মনে হয় শহরে নতুন রোগের উত্পাত শুরু হলে।]

 

আমাদের রান্নাঘর

যদি কেউ দিত ইনবক্সে

গরম গরম বৃষ্টি দিনের পিক

 

গাজর ছড়ানো শাদা পোলাও আর

ইলিশ ভাজা, বাচ্চা মুরগি কষানো

চাক চাক করে ভুইত্তা বেগুন

হালকা বেসনে মোচানো

আলাদা ছবিতে

লেবু-শসা-টমেটো-কাঁচামরিচ

 

সাথে এক বাটি ঘন ক্ষীর ক্ষীর পায়েস আবার

 

মজা করে আর দেখে দেখে ভাবতাম

বৃষ্টি দিনের গরম গরম খাদ্য

একদা কে কার টেবিলে কে কখন হায়

একা একা খেয়ে যাইতো

আজ অন্তত তাকায় দেখতে পারি

 

তুমি ছিলে, হে ইনবক্স, এই শহরে

যদিও অচেনা, এখন কিন্তু ভীষণ রাঁধুনি!

 

মা ও মেয়ে

আজকে মায়ের মন কিিকত্ কিিকত্

আজকে মেয়ের মন রাধাচূড়া

মায়ের মাঘ মাসে উড়ে আসে ড্রিম

মেয়ের ফিরে যায় ফাল্গুন, অগ্রিম!

আজকে বাবার মন ছাড়া ছাড়া ছাড়া ছাড়া

ছেলের পকেট থেকে পড়ে গেছে থিম!

 

আজকের পাখিগুলোর খুব নাকি খিদা

খুটে খুটে খাইবার নাই যে সুবিধা

আজকে গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে

আজকে রান্নার বারোটা বেজেছে!

 

আজকে খাঁচায় বসে খরগোশ কাঁদে

মরণের ফাঁদ পাতে পুরনো এমপি

 

আজকে দেশে নাই যার প্রিয় পতি

তাকে কি দেখে রাখে অসুখী দম্পতি?

 

আজকে তোমার কাছে কিছু চাইবো না

বলতো নতুন করে, কই, বান্ধছো আস্তানা?

১লা ফাল্গুন

 

তুমিও বসন্ত দিনে ঘেঁচু ফুলের টোপর পড়েছ

ওগো শুকরীনি?

 

রবীন্দ্র সংগীত গাইছে কেন সেই সকাল থেকে

মর্তের ঐরাবত

গাছে গাছে একি শোক

ফুলগুলোর

পাতায় পাতায়

দৌড়াদৌড়ি

 

তীর বেঁধা অস্থির প্রজাপতি

খোঁজে গিরগিটি

নকল বসন্ত দিনে

এল কি আসল ফাল্গুন?

 

সমস্ত গেরুয়া ঢেলেও

পারি না বর্ণাতে

তোমার মুখ

আজি এ বসন্ত দিনে

ধিকি ধিকি পোড়ে

মিষ্টি আলু!

 

মাছের স্বাদ

 

কাতল মাছটার সাথে বিপরীতে যাও

মাছটাকে পুরুষ হিসেবে দেখো, দেখবে

দারুণ একটা অর্থ বহন করে

মাছটার মানুষের মতো কোনো অঙ্গ নাই

তাই তার চেহারা আনতে পারাটা হবে একটা দারুণ মজা

 

ধরো, মাছটা পাতে এসে নিজেকে টুকরা টুকরা করে সাজায়ে দিল,

প্রেমিকের মতো,

এখন নারী তুমি বেছে নাও তোমার পছন্দের টুকরাগুলি

আর দেখতো রসিয়ে রসিয়ে খেতে পারতেছ কিনা পুরুষ কাতল মাছ!

 

নাকি তুমি ভুলে কাঁটা খাইলে, নাকি লেজ?

তাতে কিচ্ছু আসে যায় না

তুমি কি ঠিক টুকরাটা খাইতে না পারা পর্যন্ত

মাছটাকে খেয়ে যেতে চাইবে না?

 

বা ধরো, একটা নারী মাছ, যেমন ইলিশ,

এইটা একজন পুরুষ কীভাবে খাবে?

তার সামনে টুকরাগুলি সাজানো হলে,

সে কি প্রথমেই বুঝতে চাইবে না, পুরাটাই তার কিনা?

নিশ্চিত হলেই না সে যেকোনো টুকরা দিয়াই শুরু করতে যাবে!

 

জানি, আমাদের পৃথিবীতে এমন কোনো ভাগাভাগি নাই

মাছ খাবার সময়

আমরা সবাই একইভাবে মাছ খাই

নারী, পুরুষ

 

সমতলের চাষী, সুন্দরবনের বাওয়ালি

রাঢ়ের সাঁওতাল বা শালবনের মান্দি

বা পাহাড়ের চাকমা বা ম্রো রাও মাছ খেয়ে

পেটের ভিতর পাই একই সুখানুভূতি

অনেকদিন ধরে থাকতে থাকতে

এই মানব জন্মে

আমরা একই রকম রয়ে গেছি।

 

চিকুনগুনিয়ার রোগীর সাথে কীভাবে কথা বলি

 

সন্ধ্যা রাত। ব্যথাতুর বলল, খুব বাজে কষ্ট, খালি মৃত্যুর কথা মনে হয়।

বললাম মরতে ইচ্ছা করতেছে? শোনো, মৃত্যু বলে কিছু নাই!

শুধু মাকে মনে পড়বে, জ্বরের ভিতর হাফ ঘোরের ভিতর।

 

চলে যাবার আগের মাকে ভাবো!

 

মনে করো সে এখন চিলিতে থাকে।

সান্তিয়াগোর শহরতলিতে একটা ছোট রুটির দোকান।

হাতে বানানো বাংলা রুটি। আর কলাই ডাল। মাগুরা রেসিপি

রবিবার তোমার জন্য বসে থাকে।

তাছাড়া তার অনেক কাজ। সময় কম।

মাথায় পানি ঢালার জন্য আসতে পারছে না।

 

মৃত্যুর পর যদি সত্যি অস্তিত্ব থাকতো

ভালো হইতো না?

আরেক পৃথিবীতে চলে যেতাম।

 

বরং ভাবো, তার একটা ছেলে আছে।

ঠিক তোমার ছোট বোনের মতো দেখতে।

অন্য একটা দেশে অন্য ভাষায় গল্প করছে।

 

মাকে নিয়া অবাস্তব কিছু ভাবা খুব কঠিন

জ্বরের ভিতর মা থাকে। কোথাও যায় নাই।