ক্যারিবিয়ান থেকে শুরু হওয়া রাস্তায় কলাগাছের সারির ভেতর উড়ে বেড়ায় প্রজাপতির ঝাঁক। দোকানপাটের চেহারা বর্ণিল করে তোলে। এটা একটা সূত্র: এগুলো কলোম্বিয়ার আরাকাতাকায় গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের সৃষ্টি জাদুবাস্তবতার গাইড। এ শহরে কাটানো ছেলেবেলা থেকেই লেখক ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুডের বিভিন্ন কাহিনী আর চরিত্র ব্যবহার করেছেন। ২০১৭ সালে এ মাস্টারপিসের সুবর্ণজয়ন্তী পালিত হচ্ছে। বুয়েন্দিয়া পরিবারের সাতটি প্রজন্মের কাহিনী তুলে ধরেছে এ বইটি। কাল্পনিক শহর মাকোন্দায় উড়ন্ত গালিচা, ভূতপ্রেত এমনকি অনিদ্রার মহামারীকেও মামুলি ব্যাপার মনে করা হয়। এসব জাদু গোটা দুনিয়ার ভক্তদের টেনে আনে, কাল্পনিক এসব দৃশ্যপট দেখতেই আসেন তারা।
সফরের শুরু হয় কাসা মুসিও গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস থেকে। এখানেই দাদা-দাদির সঙ্গে থাকতেন লেখক। ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স-এ এর উল্লেখ স্পষ্ট। ওখানে আজো আপনি বেগোনিয়াঅলা পোর্চের দেখা পাবেন, যেখানে ছোট্ট গাবিতো মেয়েদের, বিশেষ করে দাদি ত্রানকিলিনার কথাবার্তা শুনতেন— দাদির চরিত্র উরসুলার মূল প্রেরণা। দাদা কর্নেল নিকোলাসের কাছ থেকে পড়াশোনা এবং কর্নেল অরিলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার গোল্ডফিশ ও যুদ্ধের কাহিনীর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি।
নিজের লেখায় বাস্তবতার খোঁজখবরকে সমীহ করেছেন গাবো, তবে সতর্ক দিয়েছেন: নিজে কখনো তার দেখা পাননি তিনি। জাদুঘরের পরিচালক রাফায়েল দারিও বলেছেন, লেখকের কাছে বাস্তবতা একটা বই থেকে কল্পনাকে হটিয়ে দিয়েছে। আরাকাতাকায় বেড়ানো মানে নিজের কল্পনার মুখোমুখি হওয়া। রেল স্টেশনে গাড়িগুলো এখন আর সারা দুনিয়া থেকে বিদেশীদের বয়ে আনে না, স্রেফ কয়লা নিয়ে আসে। ওটার ঠিক পাশেই সুন্দরী চরিত্র রেমেদিউসের মূর্তিটিও বেশ সুন্দর, তবে বইয়েরটার মতো ঝলমলে নয়।
স্থানীয়রা বিশেষ করে যারা প্রবীণ, যাদের অনেকেই কখনো বইটি পড়েনি, পটভূমির আদি উত্স আড়াল করে রাখে। রোজা দে লা মাত্তার ব্যাপারটা এমন, মার্কেসের তিন দশকের ছবি সংগ্রহ করছেন তিনি। ‘এখানকার লোকে তাকে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে দেখে না— তিনি স্রেফ গাবিতো। নিজেরাই চরিত্রের মতো ভাবে বলে তাঁর গল্পগুলো পড়ে না’— বলেছেন তিনি। বাস্তব পেত্রা কোতে কোথায় থাকে বা পিয়েত্রো ক্রেসপির অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করা ইতালিয়টি কে, সেটা রাস্তাঘাটে সবাই জানে।
২০০৪ সালে আরাকাতাকা বলতে গেলে মাকোন্দোয় পরিণত হতে যাচ্ছিল: সুনির্দিষ্টভাবে শহরের নাম বদলানোর জন্য গণভোট হয়েছিল। ভোটারের হার কম হওয়ায় সেটা ভেস্তে যায়। অবশ্য বিপক্ষের চেয়ে পক্ষেই বেশি ভোট পড়েছিল। স্থানীয়দের ভেতর এটা সাধারণ অনুভূতি: মাকোন্দোর মতো সমানভাবেই আরাকাতাকারও বাসিন্দা ওরা। ‘সৌভাগ্যক্রমে’ বলতেন গাবো, ‘মাকোন্দো কোনো জায়গা না হয়ে বরং মনের একটা অবস্থা, যা কিনা কেউ যেভাবে দেখতে চায়, তারই সুযোগ করে দেয়।’ আরাকাতাকা আর লাতিন আমেরিকার মাঝামাঝি কোথাও আছে মাকোন্দো।
[বিদেশী নিবন্ধ অবলম্বনে]






