সঙ কারা? কী করে তারা? কেন আমরা বলি সঙ সাজা!

একটা সময় ছিল যখন এ বঙ্গে নানা উৎসব-অনুষঙ্গ থাকত বছরজুড়ে। তখন টকি ছিল না, টেলিভিশন ছিল না, হালের এ মোবাইল ফোনও ছিল না। তখন গাঁয়ে-গঞ্জে কি শহুরে মানুষের বিনোদনের একজন সহযোগীর নাম সঙ। চরকের উৎসবে, গাঁজনে কেউ না কেউ সঙ সেজে হাজির হবেই।

আরো পরে শুধু বিনোদনের সঙই রসিকতার ভাষা বদলে ফেলল, ইংরেজবিরোধী আন্দোলনে তার মুখেও হাস্যরস তীব্র রসিকতা, শ্লেষ, গীত বা গানের বোল হয়ে ফুটল। তারা, এ সঙরা ইংরেজ খেদাওয়ে শুধু স্বদেশীদের প্রেরণা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি, তারা ইংরেজবিরোধী আন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য ব্রিটিশ সরকারের যেসব দেশীয় তল্পিবাহক ছিল, তাদের ভর্ত্সনা করে গান গাইতেও ছাড়েনি।

ইংরেজদের দালালদের উদ্দেশে এ ঢাকার ইসলামপুরের সঙরাই গেয়েছিল—

‘কতকগুলি পাষণ্ড

গোলামগিরি বোঝে না,

ঘরে গেলে পড়ে থাকে,

মনের ধান্দা ছোটে না।

তাতে বলে হিতবাণী,

বলতে গেলে শোনে না,

দণ্ডধারী গাধা পিটলে,

ঘোড়া কভু হয় না।

ধরে যখন কান মলা দেয়,

তখন বাঁকা থাকতে পারে না।’

সঙরা লোক হাসানোতেই ব্যস্ত থাকেনি, উপরের উদাহরণ থেকে সেটা স্পষ্ট। তাদের সামাজিক-রাজনৈতিক সচেতনতা ছিল। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধেও এ সঙরা সক্রিয় ছিল। অনেক নেতার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে সঙরা প্রচারণা চালাত। অনেক জায়গায় স্থানীয়রাই হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রাখতে সঙদের এনে গান গাওয়াত। সঙদের এসব গান শোনার জন্য সমাজের সব বর্গের মানুষই জড়ো হতো...