২ মার্চ ২০০২ শনিবার
হত্যার আগুন একখান থেকে আরেকখানে
কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে না। এমনকি চাল-ডালের হিসাব? কী হবে লিখে? পরিবেশ বলে একটা কথা আছে। সে কেবল পারিবারিক পরিবেশ নয়। আগে বলতাম, দেশের পরিস্থিতি। এখন বলি বিশ্বের পরিস্থিতি। সবটাতেই আমরা ব্যক্তিগতভাবে জড়িত আর উদ্বিগ্ন।
বিবিসি ধরেছিলাম সাড়ে ৭টা ও রাত সাড়ে ১০টায়। গুজরাটে সৈন্য নামিয়েছে, আহমেদাবাদেও। কিন্তু তাই কি? দাঙ্গার অবস্থা আমি বলব হত্যার আগুন একখান থেকে আরেকখানে— শহর থেকে গ্রামে। ট্রেন যাচ্ছে নিষ্পাপ নিরস্ত্র যাত্রীভর্তি; তাতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পুড়ে ছারখার হচ্ছে। সেই সংবাদ দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রত্যেক স্থানেই সমাজের মধ্যে উগ্রধর্মবাদী আছে। ধর্মতেই মানুষের পরীক্ষা, আর যেই জিজ্ঞাসা তোমার নাম কী? হরে কৃষ্ণ, অমনি ঝাঁপিয়ে পড়ছে তার ওপর। তোমার নাম কি আবদুর রহিম: শালা মুসলমান! বসিয়ে দাও ওর বুকে ছোরা। দাঙ্গার নয় এমনি হত্যার আগুন, গণহত্যার আগুন এখন ভারতীয় উপমহাদেশকে ছারখার করে দিচ্ছে। এরা-তারা যারা মারা যাচ্ছে, হিসাব তাদের নয়। সংখ্যার হিসাব করছে সরকার, রাষ্ট্র, পুলিশপ্রধান, খবরের কাগজ, তার সম্পাদক, সংবাদ ছাড়া ১০০, ২০০, ৩০০: গুজরাটে ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। তার পর কোথায় ছড়াবে, কোথায় ছড়াবে না? এমন অবস্থায় ঘরে-বাইরে কারো সঙ্গে হাস্য-পরিহাস করে কথা বলাও সম্ভব নয়।
মনের অবস্থা যে লিখে রাখব, তাও ইচ্ছা করে না। কেনই বা লিখব? কিই বা লিখব, কার মনোভাব কী?
গুজরাটের বাতাসে মানুষ পোড়া গন্ধ
আহমেদাবাদের গুলবাগ হাউজিং সোসাইটি হিংসার আগুনে ততক্ষণে ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে। দেশী-বিদেশী অনেক সাংবাদিক দায়িত্ব পালনে ছুটে এসেছেন। তাদের চারপাশে গিজগিজ করছে উত্সুক জনতা। বলা বাহুল্য, এরা সবাই হিন্দু। আগের দিন তারা বিকালে এখানে হাজারদশেক জনকে হত্যার যে হোলিখেলা চালায়, হতে পারে তাদেরও দু-একজন এখানেও উপস্থিত আছে। বাতাসে তখনো ভাসছে মানুষ পোড়া গন্ধ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে হাড়-হাড্ডি। এরই মধ্যে একটি দৃশ্য দর্শকসারিতে মৃদু গুঞ্জন তোলে। ছাইয়ের মধ্যে পড়ে আছে শিশুর একটি হাত, কনুই থেকে পোড়া। তার শরীরের বাকিটা পুড়ে খাক হয়ে গেছে। তবে তার হাতটা সহজ ভঙ্গিতে মুঠো করা, যেন বা জামার আস্তিন থেকে বেরিয়ে আছে। এ ছাইয়ের স্তূপে আরো কিছু জিনিস ছিল। আধপোড়া কিছু কিছু দলিল-দস্তাবেজ, একটি তামার নামফলক, তাতে লেখা: আহসান জাফরি, সাবেক এমপি। উপস্থিত এক দর্শক মনোজ কুমার সাংবাদিকদের বললেন, ‘জাফরি ও অন্যদের সঙ্গে ওরা শিশুদেরও টেনে রাস্তায় ফেলে। তার পর পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেয়। এ মর্মান্তিক পরিবেশেও মনোজের কণ্ঠে বিদ্বেষ। ‘গোধরায় ট্রেনে হামলার ঘটনা আমাদের ক্ষুব্ধ করেছে। আর ওই নৃশংস কাজটি যারা করেছিল, তারা মুসলমান।’
উপস্থিত জনতার কেউই অবশ্য নিশ্চিত করে বলতে পারেনি, জাফরি, তার শ্যালক, শ্যালক-বউ ও তাদের দুই শিশুসন্তানের গায়ে যখন আগুন ধরানো হয়, এর আগেই গণপিটুনিতে এরা মরে গিয়েছিল কিনা।
আহমেদাবাদ শহরেই আরেকটি এলাকা। উন্মত্ত জনতা একটি মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। সেখানে এখন ‘শোভা’ পাচ্ছে দেবতা হনুমানের মূর্তি। ঘটনাস্থলে দাঁড়ানো মহেশ পাটেল বুক চিতিয়ে সাংবাদিকদের বলে, ‘আমরা মসজিদটি ভেঙে একটি মন্দির নির্মাণ করছি।’ প্যাটেলের ভাষ্য, ‘মুসলমানদের ভারতে বাস করা ঠিক নয়। তাদের উচিত পাকিস্তানে চলে যাওয়া।’
৫৫ বছর আগে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে উপমহাদেশ বিভক্ত হয়েছিল। তার পরও নানা কারণে ভারতে থেকে গেছে অনেক মুসলমান, যাদের সংখ্যা এখন আনুমানিক ১৫ কোটি। আর এ বিশাল জনগোষ্ঠী বরাবরই নিজ ভূমে পরবাসী থেকে গেছে। তাদের অনেকে সংখ্যালঘু হওয়ার হীনম্মন্যতা থেকে যেমন বেরিয়ে আসতে পারেনি, তেমনি সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশ মুসলমানদের উপস্থিতি মেনে নেয়ার মতো উদার হতে পারেনি।
শত শত বাজারে যেখানে হত্যার যজ্ঞ চলছে, মানুষ হত্যার যজ্ঞ, সেখানে আবার ভাষার গৌরবকথার কী অর্থ হতে পারে— তাও এ মুহূর্তের অবস্থার অমানুষিক হত্যার পরিবেশ শুরু হয়েছে। তখন কি সাহিত্য-সংস্কৃতির আলোচনার কথা চিন্তা করা যায়?
০৯ এপ্রিল ২০০২: মঙ্গলবার
শিক্ষকের চেয়ে বড় শিক্ষকজীবন
রোববারের পর আবার আজ মঙ্গলবার অধ্যাপক মুস্তাফা নূর-উল-ইসলামের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর গিয়েছিলাম। বাসায় বসে সাভারের কথা মনে হলে ভয় লাগে। কিন্তু প্রতিভাজন মুস্তাফার সঙ্গে একবার মাইক্রোবাসটিতে উঠে বসলে যখনই মুস্তাফা শুরু করেন, ‘বুঝলেন সরদার ভাই... ’ তখনই আমি রাস্তার বিপদ-আপদের সব কথা ভুলে যাই।
আজ গাড়িতে উঠে কিছু দূর এগোতে না এগোতেই মুস্তাফা আমার পরিচিত-অপরিচিত নানা বন্ধুজনের জীবনের সমস্যার কথা বলতে লাগলেন। মাঝখানে একবার কথা তুললেন আমাদের দুজনারই এককালের প্রিয় ‘ডক্টর জনসনের’ কথা।
আরো অনেকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের কথা তুললেন। মুস্তাফা জানেন বলেই বলেন। আজ প্রায় সারাটা পথই ‘সুখী’ মানুষের দুঃখের কথা বললেন। ওর বলা সব কাহিনী শুনে আমি বললাম, “আমি তো কোনো সাহিত্যিকের কোনো কথাই স্মৃতিতে ধরে রাখতে পারিনে। কিন্তু তোমার এমন আন্তরিক বর্ণনা আমার মনে ভাসিয়ে তুলেছে টলস্টয়ের ‘আনা কারিনিনা’র একটি বাক্যকে।”
: ‘কী বাক্য?’
: আমি বললাম, ‘ইংরেজি অনুবাদে পেয়েছিলাম। ফ্যামিলিজ ডিফার নট ইন হ্যাপিনেস বাট, ইন আন হ্যাপিনেস (families differ not in happiness but, in unhappiness)— পরিবার থেকে পরিবার পৃথক সুখে নয়, দুঃখে।’ আমার অনুবাদটা ইংরেজিতে অত ব্যঞ্জনাময় না হলেও কথাটা সত্য। আর এমন কথা সুখী ও দুঃখী এবং দুঃখী-ঋষি টলস্টয় যেমন করে বলতে পারেন, তেমন করে আর কে পারেন!
ড. জনসনের ইতিবৃত্ত আর পরিচয় আমি নিজের মনেও বিস্মৃত করলাম না। তবু মনে একটা গভীর দুঃখের রেশ যেন রাতের এ মুহূর্তে, প্রায় ১১টার দিকেও কাটল না। আর কি কোনো দিন ওর সঙ্গে সাক্ষাত্ ঘটবে না! না ঘটার আশঙ্কাই বেশি। ওর জীবন-আমার জীবনের মধ্যকার ফারাক অনতিক্রম্য, অন্তত আমার জীবনের আজকের মুহূর্তে।’
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির সময়টা আজ বেশ ভালো মনে কেটেছে। ইতিহাস আর আন্তর্জাতিক বিভাগের ছেলেমেয়েদের বিমল হাসির সঙ্গে প্রশ্ন: ‘স্যার, শরীর কেমন আছে?’ শরীরের ও ভাঙা পায়ের কষ্ট অনেকখানিই ভুলিয়ে দিয়েছিল। তাছাড়া নাট্যতত্ত্বেও একটি তরুণ-ফারুক কঠিন প্রশ্নের মধ্যে জড়িয়ে ফেলেছিল।

: ‘স্যার, নাট্যশিল্পের কিংবা যেকোনো শিল্পীর দায়বদ্ধতার অর্থ কী?’
সে একটি মিনি রেকর্ডারও নিয়ে এসেছিল। ওর সব প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে কেবল এটুকু বললাম, ‘তোমার এ কঠিন প্রশ্নের জবাব আমি জানিনে। কিন্তু এ দায় কিংবা দায়িত্বটুকু আমি স্বীকার করি যে, তোমাকে আমার বলা উচিত তোমার প্রশ্নের জবাব আমি জানিনে।’
তরুণটি মুখ ম্লান করে বলল, ‘তাহলে এর জবাব আমি কোথায় পাব? তাহলে আমার এমফিল আমি কেমন করে করব?’
: ‘এর জবাব আরো কঠিন। তবে তোমার মুখ মলিন করার দরকার নাই। তোমার জীবনই তোমাকে জীবনের যেকোনো লক্ষ্য অর্জনের দায়বদ্ধতাকে শিখিয়ে দেবে। আমরা তথা আমাদের যেকোনো শিক্ষকের চাইতে বড় শিক্ষক হচ্ছে জীবন।’
১৯ জানুয়ারি ২০০৫: বুধবার
সাঁওতাল বিদ্রোহের অমর কাহিনী
ভালো অর্থে কোনো পরিশ্রমই বৃথা যায় না। সে পরিশ্রম দৈহিক ও মানসিক— উভয়।
কথাটি মূল্যবান হোক বা না হোক, মহত্ তো বটে। কিছু খাজনা আদায় করতে কয়েক দিন আগে গিয়েছিলাম প্রীতিভাজন মফিদুল হকের পুস্তকের দোকান সাহিত্য প্রকাশে। বায়তুল মোকাররমের ওদিকটাতে। প্রীতম ভবনের নিচতলায়। আদায় তেমন হয়নি, তবু তো কিছু একটা হয়েছে। এ দোকানে যিনি বসেন, তার নাম বোধ হয় রতন। হঠাত্ সে দোকানে ক্ষুদ্রকার একখানি বইয়ের দিকে দৃষ্টি গেল। সাঁওতাল বিদ্রোহের অমর কাহিনীর এ নামটিই আমার কাছে ঐতিহাসিক ও শিহরণমূলক মনে হলো। ওপরের প্রচ্ছদপটটিতেও ভারত উপমহাদেশের বিচিত্র মানবকুলে সাঁওতালকুলের মানুষ, অশেষ বৈচিত্র্য ও উেসর যে আধার, তাদের একটি প্রতিকৃতিও অনুপ্রেরণাদায়ক। বইখানি তেমন বড় আকারের নয়। মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৫। প্রকাশিত হয়েছে প্রথমে ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায়। গ্রন্থকার পশ্চিম বাংলার মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির প্রখ্যাত নেতা কমরেড আব্দুল্লাহ রসুল। এ নামটিও আমার যেমন পরিচিত, তেমনি প্রিয়। তাঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাত্-পরিচয় ঘটেনি। কিন্তু কলকাতার সাহিত্য সংসদ দ্বিতীয় খণ্ডে কমরেড আবদুল্লাহ রসুলের বেশ একটু বিস্তারিত পরিচিতিও অন্তর্ভুক্ত দেখা যায়। ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দের জন্ম। তার প্রয়াণ ঘটেছে ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে, পশ্চিমবঙ্গে। এত আগের একটি মূল্যবান বই একালে পাওয়া কঠিনই হতো। কিন্তু ঢাকার ‘বর্তমান সময়’ নামের প্রকাশনীটি ধন্যবাদের পাত্র এজন্য যে, তারা প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক কামাল লোহানীর একটি ভূমিকাসহ এ গ্রন্থখানিকে ঢাকা থেকে ২০০০ সালে পুনরায় প্রকাশ করেছে। প্রকাশনী সংস্থাটির ঠিকানা ৩৪ নর্থব্রুক হল রোড (তৃতীয় তলা) বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০।
আমি যে এত দিন পর অকস্মাত্ বইখানির সাক্ষাত্ পেয়ে তার একটু আলোচনার চেষ্টা করছি এ কারণে যে, অন্য পাঠকদের কাছেও যেন বইটির পরিচয় একটু পৌঁছে।
মানুষ হত্যার মহাকালের এই কালে এ কথা মানুষের বোঝা আবশ্যক যে, মানুষ হচ্ছে মানুষ নামের একটি প্রাণীর বিচিত্র ও সুদৃশ্য একটি বাগানবিশেষ— সর্বত্র, এ পৃথিবীর সমগ্র দেশ ও মহাদেশে। যে বাগানি তার ফুুলের বাগানের বৈচিত্র্যকে ধ্বংস করার যজ্ঞ শুরু করে, সে বাগানি মনুষ্য নামের যোগ্য নয়। তার সে যজ্ঞের পরিণামে সব মানুষ বাগানই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আজ উপনীত হয়েছে।
ভারত উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলে মনুষ্য বাগানের অন্যতম একটি ফুলধারা সাঁওতাল নামে অভিহিত। তাদের জীবনের ও সংস্কৃতির সংক্ষিপ্ত হলেও বিচিত্র কাহিনী অসামান্য পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রয়াত লেখক ও রাজনীতিক আব্দুল্লাহ রসুল তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এজন্য আমি প্রয়াত এ জীবনপথিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ করছি।
কবি বলেছেন, মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ। তবু যে অবস্থায় এ দেশ-সে দেশ সর্বত্র মানুষের যে আত্মহত্যাকারী চরিত্র প্রকাশ হচ্ছে, তাতে আমরা যারা সাধারণ মানুষ, তারা মানুষ নামের প্রাণীর ওপর বিশ্বাস বজায় রাখব কী প্রকারে। তবু কবির কথার অমোঘ সত্যতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই।
আমার মতো দীনের পক্ষে তো আদৌ নয়। আমি বেঁচেই আছি, মানুষ বলি আর অমানুষ বলি, তাদেরই কৃপা ও বদান্যতায়। তারা মারতে পারে, অহরহ মারছে, তবু যে আজ এ ১৯ জানুয়ারি ২০০৫ সালে বসে জীবনে ওপর বিশ্বাস রাখার কথা বলতে চাইছি, সে তো তাদেরই বদান্যতায়, যারা আমাকে মেরে ফেলেনি।
যে যুগে, যে পরিবেশে, যে আত্মবিধ্বংসী পরিস্থিতিতে আমরা বাস করছি বা নিপতিত, সেখানে জীবনই সবচেয়ে অনিশ্চিত ও মৃত্যুই সবচেয়ে নিহিত।
আবার নিজের ভালোবাসার পাত্র কম নয়। তাতে আমার মুখ দিয়ে আশার কথা বেরোতে অসুবিধা হয় না। ব্যবসা-বাণিজ্য আমি কোনো দিনই করিনি। আর তাতে লাভ-লোকসান হিসাবও করতে হয়নি। কিশোরকালের দিনলিপি উইয়ে কাটা পাতাও তাই দেখতে পাচ্ছি প্রায় ৮০ বছর আগে মা-বাবা যখন আদরে-আহ্লাদে মানুষ করার চেষ্টা করেছেন, সেই ১৯২৫ সাল থেকে গণনা করতে আরম্ভ করলে, তাতেও দেখছি বাড়ির ছনের ছাউনিতে আমার মা যে ফলমূল লাগাতেন, তা একটু পরিপক্ব হলেই ঝাঁকায় করে বাজারে নিয়ে বিক্রি করেছি। আমার সে কর্মনৈপুণ্যে আমার মা খুব খুশি হতেন।






