পৃথিবীতে অনেক লেখক আছেন জীবনী আলোচনা না করে যাদের সাহিত্যকর্মের প্রতি সুবিচার করা যায় না। এ রকম একজন ছিলেন কেনিয়ার ঔপন্যাসিক নগুগি ওয়া থিয়ং’ও। জন্মসূত্রে তার নাম ছিল জেমস নগুগি। যৌবনে এ নামে তিনি মাত্র তিনটি উপন্যাস লিখে আফ্রিকার প্রথম সারির লেখকদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। তার নাম উচ্চারিত হয়েছে চিনুয়া আচেবের সঙ্গে একই কাতারে। দুঃখের বিষয় বহুবার আলোচিত হলেও চিনুয়া আচেবেকে শেষ পর্যন্ত নোবেল প্রাইজ দেয়া হয়নি। একইভাবে নোবেল প্রাইজ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে নগুগি ওয়া থিয়ং’ওকে।
অথচ সমসাময়িককালে আচেবে কিংবা থিয়ং’ওর মতো বড় মাপের লেখক পৃথিবীতে আর ছিলেন না। থিয়ং’ও তার জীবনকে কেবল সাহিত্যের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন তা নয়, তার সাহিত্য তিনি উৎসর্গ করেছিলেন আফ্রিকাকে ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত করার জন্য। ষাটের দশকে ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান হওয়ার পর তিনি আবিষ্কার করেছিলেন যে বিদেশী শাসকদের প্রস্থান হলেও সমাজের স্তরে স্তরে ঔপনিবেশিকতার গুপ্ত বীজের অঙ্কুরোদগম হচ্ছে। এ পর্যবেক্ষণ তাকে উত্তর-উপনিবেশিক শাসনের গণবিরোধী চারিত্র্য সম্বন্ধে লিখতে অনুপ্রাণিত করে। তিনি হয়ে ওঠেন একজন রাজনৈতিক ঔপন্যাসিক।
তিনি যখন অনিতিতরুণ এক শিক্ষার্থী, তখন প্রকাশ করেছিলেন তার প্রথম উপন্যাস ‘কেঁদো না বাছারা’। সেটা ১৯৬৪ সালের কথা। নগুগি ওয়া থিয়ং’ও উচ্চশিক্ষার্থে ইংল্যান্ডের লিডসে গিয়েছিলেন। ‘মধ্যখানে নদী’ ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল তার দ্বিতীয় উপন্যাস হিসেবে। কিন্তু আরো আগে তিনি রচনা করেছিলেন ‘এক দানা গম’, যা তার তৃতীয় উপন্যাস হিসেবে ১৯৬৭ সালে প্রকাশ লাভ করে। তিনটি উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি তার লেখকসত্তার অন্তর্মূলে নিহিত উপনিবেশ আফ্রিকার স্বাধীনতার ক্রন্দনকে মর্মরিত করেছিলেন। বহুলপ্রজ নগুগি ওয়া থিয়ং’ও এ সময় ছোট কয়েকটি নাটক ও ছোটগল্পও রচনা করেছিলেন। এজন্য ডাকারে অনুষ্ঠিত ফেস্টিভ্যাল অব নিগ্রো আর্টসে একটি বিশেষ পুরস্কার দিয়ে তাকে সম্মানিত করা হয়েছিল।
কিন্তু বড় কথা: এরই মধ্যে তিনি তার সাহিত্যকর্মের চালচিত্রের জন্য আলোচিত ও সমালোচিত হচ্ছিলেন ব্যাপকভাবে। কেবল আফ্রিকা নয় সারা পৃথিবীর মানুষ তার সাহিত্যের বিষয়ে উৎসুক হয়ে উঠেছিল। সে সময় তিনি ইংরেজি ভাষায় লিখতেন, তাই বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে অনুবাদের মুখাপেক্ষিকতা ছিল না। ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে নগুগি বিশ্ববাসীর পরিবর্তে আফ্রিকার জনগোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে লিখবেন বলে মনস্থির করেন। তিনি ইংরেজি ভাষার পরিবর্তে তার মাতৃভাষা গিকুয়ুতে লিখতে শুরু করেন এ সময়। উদ্দেশ্য ছিল কেনিয়ার সাধারণ মানুষ যাতে তার লেখা সহজে পড়তে ও অনুধাবন করতে পারে। তিনি সাধারণ অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত মানুষকে নব্য-উপনিবেশিকতার বিষবৃক্ষ সম্বন্ধে সচেতন করার প্রয়াস নিয়েছিলেন। বিভিন্ন লেখার মধ্য দিয়ে তিনি অবিরল সরকারের সমালোচনা করেছেন। আশ্চর্য বিষয় নয় যে সরকার তার এ অবস্থান সহ্য করেনি। তাকে বহুকাল নির্বাসনে জীবনাতিপাত করতে হয়েছে। অচিরেই গ্রেফতার করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারের মধ্যে তার কলম থেমে যায়নি। কারাবাস জীবনে টয়লেট পেপারের ওপর তিনি কলমে লিখে দিয়ে একটি উপন্যাস রচনা করেন। সরকার সে রচনার পাণ্ডুলিপি বাজেয়াপ্ত করলেও শেষ পর্যন্ত উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি উপন্যাসের নাম দিয়েছিলেন ‘ক্রুশে ঝুলছে শয়তান’। তিনি প্রথমে গিকুয়ুতে লিখলেও নিজেই ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন।
সমসাময়িককালে লিখিত একটি উপন্যাসের প্রচ্ছদনাম ‘রক্তের পাপড়িদল’। উপন্যাসটির কাহিনী আখ্যানভাগ খুবই মজাদার। অলমোরগ নামে একটি স্থানে কয়েকজন কেনীয় একটি মহাভোজ সভায় অংশ নিতে উপস্থিত হয়েছে। মহাভোজ সভার আয়োজক আর কেউ নয় শয়তন স্বয়ং। শয়তানের এ রকম মহাভোজ আয়োজন করার মূল উদ্দেশ্যে হলো চুরি ও ডাকাতিতে পারঙ্গম সাতজন দুর্বৃত্তকে চিহ্নিত করা এবং দক্ষ ও সফল চৌর্যবৃত্তির জন্য পুরস্কৃত করা। চোর-ডাকাতদের সর্দাররা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শয়তানের মহাভোজে উপস্থিত হয়।
প্রতিযোগীদের মজাদার বক্তৃতাগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাদের একজনের বক্তব্য থেকে উদ্ধৃতি দেয়া যেতে পারে। সে বলছে: ‘লম্বা-চওড়া বক্তৃতা দেয়ার মতো মালমসলা আমার ঝুলিতে খুব একটা নেই। তাছাড়া যেকোনো কিছুর আধিক্যই বিষ। বরং পরিমাণে যা সামান্য তা মধুময়। ... লুটেরা হিসেবে আমার সাফল্য কী তার প্রমাণ আমার কাজকর্মের ফিরিস্তি। অনেক প্রবাদের কথা বলতে পারি, যা আমার ক্ষেত্রে ভালোভাবেই প্রযোজ্য। যেমন “উচ্চতায় লম্বা হওয়া কোনো দুর্ভাগ্যের বিষয় নয়”, কিংবা “মুষ্টির মাপ দিয়ে কারো বীরত্ব পরিমাপ করা যায় না।” আসল কথা হলো আমি তো সেই কাক, যে সকালে কুক্কুড়ু কুক বলে ডেকে ওঠে আর সবাইকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। আমি তো জঙ্গলের সেই সিংহ যার ডাকে হাতি মুতে দেয়।’
নগুগির রচনা কৌশলের অন্যতম হচ্ছে, খুব বিশদ করে লেখা, যাতে আখ্যানের খুঁটিনাটি বিষয়ে তিনি পাঠকের জন্যে তুলে ধরেন। তার উপন্যাসগুলো স্বাদেগন্ধে রাজনৈতিক রচনা আর পাত্রপাত্রীরা দুটি দলে বিভক্ত। এক দলে রয়েছে ভালো মানুষ, অন্য দলে সমাজের বদ লোকেরা। ছাত্রসংগঠনের নেতারা ছাড়াও রয়েছে কৃষক ও শ্রমিকদের নেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি। তিনি তার উপন্যাসে চিত্রায়ন করেছেন যারা মানুষের মধ্যে শুভবুদ্ধি ও স্বাধীনতার চেতনা ফুটিয়ে তুলতে আগ্রহী। কিন্তু রাজনীতিবিদ ও দুর্নীতিবাজ পুলিশেরা তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। জনগণের জয় অনিশ্চিত হয়ে ওঠে।
২.
আফ্রিকায় উপনিবেশ আমল শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের শেষ ভাগে। কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ আফ্রিকার বিভিন্ন অংশ আক্রমণ করে দখলে নেয়। অচিরেই আফ্রিকা মহাদেশের অধিকাংশ এলাকা ইউরোপীয় উপনিবেশে পরিণত হয়। তারিখ দিয়ে বলতে গেলে বলতে হয় ১৮৮০-এর দশকে উপনিবেশীকরণ শুরু হয়েছিল: গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালি, পর্তুগাল ও স্পেন—এ দেশগুলো দ্রুত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ দখল করে নিয়েছিল। আফ্রিকা ইউরোপের শিল্প উন্নয়নের জন্য কাঁচামাল দুর্জোগান দিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপের উৎপাদিত শিল্পপণ্যের বড় একটি বাজার হয়ে দাঁড়িয়েছিল আফ্রিকা মহাদেশ।
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর আফ্রিকার দেশগুলো ক্রমে স্বাধীনতা লাভ করতে শুরু করে। কিন্তু প্রায় ৬৫ বছরের ঔপনিবেশিক শাসন সমাজের স্তরে স্তরে একটি বিকৃত শাসন ও শোষণবিন্যাসের কাঠামো গেঁথে দিয়েছিল, যার রেশ প্রবলমাত্রায় থেকে যায়।
নগুগির জন্মভূমি কেনিয়া। ১৮৯৫ সালে ব্রিটিশ ইস্ট আফ্রিকা কোম্পানি কেনিয়ায় তাদের বাণিজ্যপ্রাসাদের গোড়াপত্তন করে। এখানেই দখলদারত্বের ইতিহাসের শুরু। কেনিয়ার মাটিতে ব্রিটিশ ইস্ট আফ্রিকার কোম্পানি ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটি দেউলিয়া হয়ে যায়।
১৯২০ সালে ব্রিটিশ সরকার কেনিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটেনের উপনিবেশ বলে ঘোষণা করে। ফলে কেনিয়ার মাটি ও মানুষ ব্রিটিশ শাসনের অংশীভূত হয়ে যায়। হাজার হাজার কেনীয় চাষের জমি হারায়। শ্বেতাঙ্গদের কৃষি ফার্মে তাদের বাধ্য করা হয় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে। উচ্চ হারে কর আরোপ করে মানুষের সম্পদ কেড়ে নেয়া শুরু হয়। এমনকি দেশের মধ্যে তাদের চলাচল সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়। নিজ দেশে তারা পরবাসী হয়ে পড়ে। দেশের সর্বত্র শ্বেতাঙ্গদের অপ্রতিরোধ্য কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। এ রকম অবস্থার মধ্যে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এ আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠলে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বেশকিছু পরে ১৯৬৩ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশরাজ তাদের কর্তৃত্বের অবসান ঘটায় এবং কেনিয়া পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
৩.
কিছুদিন আগে ৮৭ বছর বয়সে আফ্রিকার বিশিষ্ট লেখক ও নয়া-উপনিবেশবিরোধী চিন্তাবিদ নগুগি ওয়া থিয়ং’ও পরলোক গমন করেছেন। পরিণত বয়সের এ মৃত্যুতে পাঠকদের আক্ষেপের কিছু নেই। বরং সন্তুষ্টির কারণ রয়েছে যে একজন মানুষ হিসেবে তিনি পরিপূর্ণ একটি জীবনযাপন করে গেছেন। তিনি মূলত একজন লেখক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন, কিন্তু সেই তরুণ বয়স থেকে দেশপ্রেমমূলক নানা কর্মকাণ্ডে জীবনকে পরিপূর্ণ করে তুলেছিলেন। তবে এ কথা স্মরণীয় যে নগুগি ওয়া থিয়ং’ওর প্রয়াণে পৃথিবী এমন একজন লেখককে হারিয়েছে, যিনি নিরাপসভাবে রাষ্ট্র ও মানুষের মধ্যে অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব ও বৈরিতার ব্যাপারে আমাদের অক্লান্তভাবে সচেতন করে গেছেন। যে জাতি এ সচেতনতা হারিয়ে ফেলে তার ঘাড়ে একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো চেপে বসে।
লেখকজীবনের শুরুতেই নগুগি ওয়া থিয়ং’ও রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে জীবনের অভিলক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সাহিত্য তার জন্য কেবল সামাজিক বাস্তবতাকে প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যম ছিল তা নয়, বরং তিনি সাহিত্যকে দেখেছেন ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, সামাজিক শক্তি ও রাষ্ট্রীয় পরাক্রম দ্বারা নির্ধারিত একটি সৃজনশীল প্রক্রিয়া হিসেবে। যারা কেনিয়ার ইতিহাস রচনা করবেন তাদের জন্য নগুগির সাহিত্য একটি অন্যতম উপাদান। এজন্যই প্রায়ই তাকে রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রবক্তা ও ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
ঔপনিবেশিক শাসনের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৬৩ সালে কেনিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু এ স্বাধীনতা প্রকৃতই স্বাধীনতা কিনা তা বারংবার তার কথাসাহিত্যের মধ্য দিয়ে পরীক্ষা করেছেন নগুগি। যাদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন হয়, তাদের সঙ্গে রাষ্ট্র বিশ্বাসঘাতকতা করে—চিত্রটি তিনি অকপটে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার কথাসাহিত্য এমন এক ঘরানায় পড়ে, যাকে বলা হয় ‘ফিকশনাল হিস্ট্রি’। কোনো কোনো উপন্যাসে রাষ্ট্র ও সরকারের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমরা মূর্তিমান দেখতে পাই। ঔপনিবেশিক শাসন থেকে আফ্রিকার মুক্তির যে বয়ান গড়ে তোলা হয়েছে, তা নগুগির উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বক্তৃতার মধ্য দিয়ে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কেনিয়ার ঔপনিবেশিক ইতিহাস থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-পরবর্তীকালের বিবিধরূপ রাজনৈতিক দুর্নীতি ছিল তার প্রিয় বিষয়। এমনকি নাগরিকের ভাষাগত স্বাধীনতার পক্ষেও আন্দোলনের সূত্রপাত করেছেন। তার জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য উইজার্ড অব দ্য ক্রো’, ‘পেটালস অব ব্লাড’ ও ‘ডিকলোনাইজিং দ্য মাইন্ড’। আমরা লক্ষ করি এ বইগুলোয় তিনি মাতৃভাষায় লিখন ও ভাষা ব্যবহারের স্বাধীনতার ওপর সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
রাজনৈতিক উপন্যাসের সার্থক কারিকর নগুগি ওয়া থিয়ং’ও তার রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বহুবার শারীরিক ও রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন, কিন্তু কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা থেকে পিছিয়ে আসেননি। তার কথা ‘প্রতিরোধই জীবিত থাকার সেরা উপায়।’ তার সাহিত্যিক অবদান আফ্রিকান ভাষার পুনরুত্থান, ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক সাহস নিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী: গবেষক ও কথাসাহিত্যিক








