One can’t possess reality, one can possess images- one can’t
possess the present but one can possess the past.
—On Photography : Susan Sontag.
নামজাদা ফটোসাংবাদিক পাভেল রহমান। নতুনভাবে চেনাবার দরকার নেই তাঁকে। দীর্ঘদিন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কাজ করছেন তিনি। কাজের সুবাদে তাঁকে চেনার কথা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপির সঙ্গে যুক্ত। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কিত আম-আদমি কমবেশি দেখেছেন তাঁর ছবি। কাজের পরিধির হিসাব কষলে তাঁকে নিয়ে অনেক কথা বলা যায়। কিন্তু আমরা তাঁর ছোট এক মুহূর্ত নিয়ে কথাবার্তা এগোতে চাই। মুহূর্ত আশির দশকের। বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় তখন সামরিকজান্তা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। স্বৈরাচারী শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের জনতা একাকার। জান্তাবিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর। ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি। সেদিন রাজপথে নেমেছিল হাজার হাজার ছাত্র-শ্রমিক-জনতা। কিন্তু জনতার ভিড়ে একজন যেন অন্যদের থেকে আলাদা। তাঁর বুকে-পিঠে লেখা ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। মানে দেহটাই ‘চলন্ত পোস্টার’। ঐতিহাসিক এই ছবি তুলেছিলেন তিনি। তাই ছিল পাভেল রহমানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু। আলোচনা থেকে উঠে এসেছে ঐতিহাসিক সত্য। কী সেই সত্য?
দর্শনশাস্ত্র বলছে, ইমেজ বা ছবি বাস্তব নহে। তাহলে কী? ছবি হচ্ছে বাস্তবের অপর বাস্তব। কারণ মিছিলকারী একজন নূর হোসেন রিয়েল বা বাস্তব। যে দাবি সত্যের ন্যায়। কিন্তু যখন ব্যক্তি নূর ইমেজ বা ছবি আকারে আসেন তখন ভিন্ন বাস্তব কাঠামো দাঁড়ায়। মানে এটা স্থির। এই স্থিরতা বর্তমানেরই। বর্তমান এমন ঘটনাকে প্রকাশ করে যেটা অপর বাস্তবের চিহ্ন আকারে ধরা দেয়। সেটা কেমন? সুসান সনটাগ মহাশয়ের ‘অন ফটোগ্রাফি’ কিতাবখানা হয়তো অনেকের পড়া। তারপরও ভূমিকার খাতিরে আমরা দুয়েক বাক্য আওড়াব। সুসান জানান, ফটোগ্রাফি এক ধরনের বাস্তবতাকে ফ্রেমবন্দি করার উপায়। কারণ একা কেউ বাস্তবকে ধরতে পারেন না। পারেন শুধু ইমেজ বা ছবির বাস্তবকে তুলে ধরতে। যে বর্তমানের আরেক রূপ বাস্তবতা। যে বাস্তবতা তার কাছে অধরা। মানে বাস্তবতা ধরার ভেতর সেটা অতীত হয়ে দেখা দেয়। ফলে নূর হোসেনের ইমেজ বা ছবিকে আমরা অতীতের সত্য হিসেবে বর্তমানে ধরছি। এটা গেল দর্শনের কথা। তারপর কী?
সাধারণত সংবাদপত্রের যে প্রকৃতির ছবি ছাপা হয়, তা সোজাসাপ্টা। ফেস বা মুখাবয়বকে আমলে নেয় এন্তার। কারণ ব্যক্তিমুখের অভিব্যক্তি ব্যক্তির প্রকৃতি প্রকাশ পায়। ফলে সংবাদ মাধ্যমে এই অভিব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে ক্যাপশনের দরকার হয়। এটা সিধা কথা। তবে পাভেল তুলেছেন পিঠের ছবি। কেন পিঠ? প্রশ্নটা মামুলি মনে হতে পারে। এখানে আসে দেহের সঙ্গে ভাষার প্রশ্ন। ছবিতে আমরা নূরের পেটানো শরীর দেখি। দেহ আর হাতের রূপ ত্রিকোণমিতির। টান টান চামড়ার শরীরে লেখা ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। ইতিহাসে এ রকম ছবি হরেদরে মেলা ভার। এই ছবির বড় গুণ দেহটাই ভাষার আকার ধারণ করে আছে। ফলে ক্যাপশন এখানে অপাঙেক্তয়। মানে ভাষাটাই দেহ। ফলে নূরের দেহটাই ভাষার বাড়ি। কথাটা খানিক রেটরিকের মতো মনে হতে পারে। আরিস্ততলের ‘দ্য আর্ট অব রেটরিক’ বইয়ের সংজ্ঞা মানলে, ‘রেটরিক দ্বান্দ্বিকতার অপর রূপ’ আকারে ভাষায় বহমান। যে দ্বন্দ্ব সমাজ বা রাষ্ট্রে বিরাজ করছে সেটা আপাত রেটরিক রূপে আছে। কেননা রেটরিক বাস্তবতাকে গোপন করে। মুখোমুখি দাঁড়াতে চায় না। যদি আমরা রেটরিকের বাস্তবকে ধরতে পারি, তবে এই সত্য উপলব্ধি করতে পারব। আমরা কি সেই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়াতে প্রস্তুত?
নূর হোসেনের সেই ঐতিহাসিক ছবি একটা সময়কাল, একটা বাস্তবতা আর রাষ্ট্রযন্ত্রের চেহারাকে হাজির করেছে। যেটা রাষ্ট্রের চারি অঙ্গে গণতন্ত্র আর স্বৈরাচার পরস্পর মুখোমুখি অবস্থান ধারণ করে আছে। এ কথা আর নতুন করে বলার দরকার নেই, রাষ্ট্রমাত্র ফ্যাসিবাদের জনক। একটু এগোলে দেখা যাবে, রাষ্ট্র তার আইন কাঠামোতেই চলে। রাষ্ট্র কখনো গণতন্ত্রের মতো চলে না। গণতন্ত্র এখানে দোহাই মাত্র! ফলে ব্যক্তির ‘মৃত্যু’ এখানে ‘মুক্তি’র সমান। যে কারণে নূর হোসেন জীবন দিয়ে ব্যক্তির ‘মুক্তি’ ঘটিয়েছেন। যদিও সেই গণতন্ত্রের মুক্তি ঘটাতে পারেননি, তবে নূর হোসেন গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক চিহ্ন। যে চিহ্ন রাষ্ট্রযন্ত্রকে নতুন করে চেনায়। চিনতে বাধ্য করে বর্তমান বাস্তবতাকে। কেন? যে অর্থে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায়, ‘ব্যক্তির চরম বিকাশই গণতন্ত্রের চরম বিকাশ’। আদৌ কি তাই? আমরা আজো সেই দৃশ্যের মুখোমুখি হইনি। ফলে লড়াইয়ের কৌশলে আমরা পিছিয়ে আছি। আমরা ধরেই নিয়েছি, যেন রাষ্ট্র মানে গুলি! আর ব্যক্তির ‘মুক্তি’ মানে ব্যক্তির ‘মৃত্যু’। আমাদের বড় ব্যর্থতা এই— নূর হোসেনের ‘গণতন্ত্র’ আর ‘মুক্তি’ দুই ভাবের প্রশ্নটি আমরা ভুলে বসেছি। সত্যিই সেলুকাস!
ঐতিহাসিকতার প্রশ্নে ব্যক্তি কি সমাজ? না, ব্যক্তি সমাজ নয়। ব্যক্তি সমান হলে সমাজ হয়। অর্থশাস্ত্র বলছে, সমাজের অর্থ দুই। সম আর আজ। এক অর্থে সম, মানে সমান। যার সঙ্গে শ্রেণী মুক্তির প্রশ্নটি জারিত। আর অপর অর্থে আজ, মানে বর্তমান। বর্তমান একই সময়ে মর্ত আর অমর্ত দুই বাস্তবের রূপ। ফলে সাদা আর মাটা দুই ভাবে পাভেল রহমানের কাছে প্রশ্ন তুলে ধরেছি। তিনি যথাসম্ভব উত্তর পেড়েছেন। নূর হোসেনের লড়াই আর আত্মাহুতি শুধু যে ইমেজ বা ছবি আকারে হাজির করেছেন তা নয়। উঠে এসেছে রাষ্ট্রের রক্তচক্ষু আর সমাজের ক্ষত। যাকে আমরা বলছি ‘চলন্ত পোস্টার’। ‘মুক্তির ডাক’। যে ভাষা শিল্প আকারে ধরা দিচ্ছে। কেন শিল্প? শিল্পের ভাষাই অধরাকে ধরবার ভাষা। যে ভাষা পাভেল ধরেছেন। তদুপরি, নূর হোসেনের বুকে-পিঠে লেখা শুধু রাজনৈতিক ভাষা নয়, সমাজের ভেতর থেকে উঠে আসা সামাজিক স্বার্থের ভাষা। সমাজের অধরাকে ধরবার ভাষা। যে ঐতিহাসিকতার জলজ্যান্ত সাক্ষী পাভেল রহমান, নিজেই।
পাভেল রহমান যা বললেন
সাখাওয়াত টিপু: আপনি কীভাবে নূর হোসেনের ছবি তুললেন?
পাভেল রহমান: সেদিন সব রাজনৈতিক দল, সাত দল আর ১৫ দল মিলে তত্কালীন সরকারবিরোধী সমাবেশ, মানে ঢাকা অবরোধ করেছিল। সেই সমাবেশের আগে থেকে, আমরা যারা পত্রিকায় কাজ করি তারা ছবি তোলার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমি ভোরবেলায় বেরিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল যে স্থানটিতে আমি নূর হোসেনের ছবি তুলি সেই স্থানে ঢাকা শহরের ব্যাপক আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ডাক্তাররা যেমন নার্ভ দেখে পালসবিটটা কোথায় তা বোঝে, তদ্রূপ আমার কাছে মনে হয়েছিল ওই জায়গাটাই আন্দোলনের পালসবিট। একদিকে লাল পতাকা অন্যদিকে পুলিশের সতর্ক অবস্থান, সত্যি সত্যি একটা সময় ওই জায়গা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গেল। ১০ নভেম্বর ১৯৮৭ সাল। আমি ওখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছি। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ইট নিক্ষেপ চলছিল, পুলিশ তখনো ওখানে টিয়ার গ্যাস ছোড়েনি। পুলিশের যে অ্যাকশন থাকে হয়তো এক, দুই করে তিন নম্বরে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। বিক্ষোভকারীরা অত এক্সট্রিমে যায়নি। কিন্তু তার আগ দিয়ে তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) প্রেস ক্লাবের দিক থেকে একটা জিপে করে স্লোগান দিতে দিতে আসছিলেন। তিনি নিজেই স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ স্লোগান দিচ্ছে। মিছিলটা প্রেস ক্লাব হয়ে ডানদিকে ঘুরে জিপিওর দিকে গেল। এদিকে অপজিশনের আরেকজন লিডার তিনি ছিলেন বায়তুল মোকাররমের কোনার উত্তর গেটে। আমার ফটোগ্রাফির দৃষ্টিকোণ থেকে যদি চিন্তা করি তাহলে আমি দুই নেত্রীকে ফলো করব। শেখ হাসিনা যখন ডানদিকে চলে গেলেন আমি তাঁকে ফলো করিনি। আমি উত্তর গেটে বেগম খালেদা জিয়ার ছবি তুলে তখন পল্টনে ফিরে আসছি। এবং একজন যুবক আমার ডানহাত ঘেঁষে সামনের দিকে এগুতে থাকলেন। মুহূর্তের মধ্যে আমি দেখলাম, তাঁর শরীরের পিছে লেখা ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। আমার ক্যামেরা যে কীভাবে উঠে এসছিল মনে নেই। কিন্তু সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে গেল। আমার মনে হয়েছিল আমাকে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছিল। আমি ক্যামেরার দুটি ফ্রেমে, একটা হরাইজেন্টাল একটা ভার্টিক্যাল— দুটি ছবি তুলেছিলাম। তাঁর শ্যামবর্ণ শরীরে সাদা কালিতে খুব সুন্দর করে লেখা ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। ছবিটা তোলার পর আমার হার্টবিট অনেক বেড়ে যায়। মনে হলো, ছবিটা টোটালিটি পেল। ক্যামেরার শাটার, মন, ব্রেইন সব মিলিয়ে। আমার আশপাশে আরো ফটোগ্রাফার ছিলেন। কিন্তু আমি ভাবছিলাম শুধু আমিই তুলব! আর কেউ যেন না তোলেন। এটা হাস্যকর ব্যাপার! ওপেন স্ট্রিটে যে কেউ, যে কারো ছবি তুলতে পারেন। সে কারণে অন্য ফটোগ্রাফারদের ফাঁকি দেয়ার জন্য তাঁকে আর ফলো করিনি। সেকেন্ডের মধ্যে তাঁর দুটো ছবি তুলেছি। আমি চাচ্ছিলাম ওই ছেলেটি (পরে নাম জেনেছি নূর হোসেন) যেন ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যান। একটু পরে আমি তাঁকে ফলো করব। এই ঘটনার ২-৩ মিনিটের মধ্যে একটি মিছিল পল্টনের দিকে যাচ্ছে। সেই মিছিলে তিনি ছিলেন। আমি তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে জিপিওর কাছ পর্যন্ত এসেছি। কিন্তু আমি আর খুঁজে পাইনি। এর মধ্যে গুলির আওয়াজ হয়েছে। তখন স্টেডিয়ামের সামনে মিছিলের মুখ। কিন্তু ওই মুহূর্তে আবার খবর পেলাম গোলাপ শাহর মাজারের কাছে শেখ হাসিনাকে পুলিশ অবরোধ করেছে। একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে শেখ হাসিনা আমার কাছে যে কারো চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যেহেতু তিনি অপজিশন লিডার। আবার খবর পেলাম, বেগম খালেদা জিয়াকে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আটকানোর চেষ্টা করছে। আমি চলে এলাম গোলাপ শাহর মাজারের দিকে। ওখানে শেখ হাসিনার কিছু ছবি তুলেছিলাম। পরবর্তীতে তাঁকে আর ফলো করিনি। কিন্তু ওখানে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছে তা আমরা বুঝতে পারিনি। এমনকি কেউ মারা গেছেন তাও আমরা জানতে পারিনি। আমরা জেনেছি অনেক পরে। এই হলো নূর হোসেনের ছবি তোলার সময়টা।
টিপু: ওই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নূর হোসেন কীভাবে ছবির সাবজেক্ট হয়ে উঠলেন?
পাভেল: নিউজ ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে যে জিনিস বা ছবি একবার দেখানো হয় সে জিনিস আর দেখানো যায় না। বারবার রিপিট করা যায় না। নতুন কিছুর সন্ধান করতে হয়। আমিও সেদিন নতুন কিছু খুঁজছিলাম। আমি কিন্তু নূর হোসেনের মুখটাও দেখিনি। আমি দেখেছি শুধু তাঁর পিঠের লেখা ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। তাঁর বুকের মধ্যে যে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ তাও দেখিনি। আমি চাচ্ছিলাম, তিনি যেন ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যান। পরে আমি তাকে খুঁজব, তবে তাঁকে পাইনি। আমি আমার ফটোগ্রাফির জীবনে এই ধরনের কোনো কিছু আগে দেখিনি। যেটি আমার সাবজেক্ট হয়ে উঠলেন নূর হোসেন। তিনি যে কেউ হতে পারতেন। কিন্তু বুকে-পিঠে লেখাসহ নতুনত্ব নিয়ে এসেছেন। সেটিই আমি তুলেছি।
টিপু: আপনি কি নূর হোসেনের দেহের ছবি তুললেন নাকি গায়ে স্লোগান লেখাটাই আপনাকে আকৃষ্ট করেছে?
পাভেল: সত্যি কথা বলতে কি, ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখাটা ছিল। শরীরে লেখা ছিল। তবে আমি কথাটার জন্য ছবি তুলিনি। আমি তুলেছি একটা নতুনত্বকে। আমি যখন শাটার আপ করছিলাম সেই জায়গায় অন্য কোনো স্লোগান হতে পারত কিংবা ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান হতে পারত। আমি তো সেটাকে সিম্বল করে তুলিনি, তুলেছি নতুন ছবি। একদমই নতুন।
টিপু: এটা তো এক ধরনের রাজনৈতিক পারফরম্যান্স? ফটোগ্রাফির ভাষায় এটা শিল্প কিনা?
পাভেল: প্রথমত, আপনি যেটা বললেন ‘পলিটিক্যাল পারফরম্যান্স’, ওভাবে না বলে আমি বলব, তিনি যদি ওভাবে লিখে না আসতেন তাহলে আমি কি করতাম? আমার কিছুই করার ছিল না। আমি বানিয়ে ছবি তুলতে পারতাম না। তবে স্লোগানটা যদি ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’— এত সুন্দর না হয়ে অন্য কিছু হতো বা যিনি লিখেছেন তাঁর লেখার স্টাইল যদি এত সুন্দর না হয়ে একটা হিজিবিজি লেখা লিখতেন তাহলে কি করতাম! আমি দুটি ছবি তুলেছি, একটা তিনি নরমালি হেঁটে যাচ্ছেন, আরেকটা মাথার মধ্যে দুহাত তুলে চিরুনি চালানোর মতো আঙুলগুলো চালিয়েছেন। তাতে তাঁর বডি, মাসলগুলো যেভাবে ফুলে উঠেছে, সেভাবে তাঁকে খুব তেজি, তেজোদ্দীপ্ত যুবকের মতো মনে হয়েছে, সেটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ওই মুহূর্তে ফটোগ্রাফির নর্ম, রেখা, লাইটিংসহ সব ছাপিয়ে সেটা শিল্প রূপান্তরিত হয়েছে। যেটা ঘটতে সেকেন্ডের মতো সময় লাগেনি। এটা আমি বলব, ওঁর একবার হেঁটে যাওয়া, আবার সেকেন্ডের মধ্যে হাতটা ত্রিভুজ আকৃতির ফর্ম নেয়া, সেটা আমার জন্য পরম ভাগ্যের ব্যাপার হয়েছে। মনে হয়, নূর হোসেনের চেহারাটা আমি না দেখে ভালোই করেছি। পরবর্তীকালে আমি অন্য অ্যামেচার ক্যামেরার ছবিতে তাঁর সামনের দিকটা দেখেছি, ওর চেহারা অত বেশি টানে নেই। কিন্তু তাঁর পেছনের দিকটা পেটা শরীর, হাতের মাসল যত শৈল্পিকভাবে ফুটে উঠেছে, সামনের দিকটা মানে চেহারা অত শৈল্পিক ছিল না। আমরা যারা নিউজ ফটোগ্রাফার তারা তেজোদ্দীপ্ত চেহারা, স্লোগানমুখর চেহারা তুলি। কিন্তু নূর হোসেনের সামনের দিকের (শুধু মুখের) ছবি না তুলে আমার কোনো আফসোস নেই। বরং পেছনের দিকটা অনেক বেশি স্ট্রং আর শৈল্পিক মনে হয়েছে। ছবিটা শেষ নাগাদ শিল্পের দিকে চলে গেছে।
টিপু: তাঁর ছবিটা কি মৃত্যুর পর ছবি হয়ে উঠল?
পাভেল: ছবিটা তুললেও নূর হোসেন যে মারা গেছেন, আমি সেটা জেনেছি পরে। আমি ইনফরমেশনটা পেয়েছি সন্ধ্যা ৭টায়। ১০ নভেম্বর ১৯৮৭। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে স্টেডিয়ামের সামনে (খাবারদাবার হোটেলের সামনে) মাটিতে পড়ে যান। তখন তাঁর সঙ্গের লোকজন তাঁকে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যান। তাঁর ওই ছবিটি তুলেছিলেন ইনকিলাবের একজন ফটোগ্রাফার। পরবর্তীকালে উনি আমেরিকায় চলে যান। এবং একটা দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। ওই ছবিতে আমি দেখেছিলাম, নূর হোসেনকে কয়জন রিকশায় তুলে নিয়ে যান। কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারেননি। পথিমধ্যে পুলিশ আহত নূর হোসেনকে কেড়ে নিয়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে নেয়। পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নেয়নি। নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ কন্ট্রোল রুমে। পুলিশ কন্ট্রোল রুমে সারা দিন ব্লিডিং হওয়ায় তিনি রক্তক্ষরণে মারা গেছেন। তিনি ঘটনাস্থলে মারা যাননি।
আমি তখন ইত্তেফাক গ্রুপের ইংরেজি পত্রিকা নিউ নেশনে কাজ করতাম। ছবি নিয়ে আমি তখন ডার্ক রুমে কাজ করছি, একই সময়ে ডার্করুমে ইত্তেফাকের ফটোগ্রাফার রশিদ তালুকদার (বিখ্যাত ফটোগ্রাফার), সঙ্গে আরেকজন বিখ্যাত ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ আলম (বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার)— আমরা তিনজন ডার্ক রুমে কাজ করছিলাম। কারণ ইত্তেফাক-নিউনেশনের ডার্ক রুম শুধু ওইটাই। অনেক কাজ, অনেক ছবি থেকে আমরা বাছাই করব, সে সময় একজন রিপোর্টার তারেক (বর্তমানে আমেরিকায়) ডার্ক রুমের দরজা নক করে বললেন, পাভেল ভাই, আপনি যে ছেলেটির পিঠে লেখা ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ ছবি তুলেছেন, তিনি মারা গেছেন। সে সময় প্রথম শুনলেন মোহাম্মদ আলম ও রশিদ তালুকদার, বুকে-পিঠে লেখা ছেলেটি মারা গেছেন। কিন্তু ওই যে আমি চাচ্ছিলাম, ছবি দুটো আমারই থাকবে। কিন্তু ওই সময় ইত্তেফাকের দুই ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ আলম ও রশিদ তালুকদার দুজনই ছবিটি আমার কাছে চাইলেন। আমি তো ছবিটি এক্সক্লুসিভলি আমার পত্রিকার জন্য তুলেছি, ওদের পত্রিকায় চলে গেলে তো আমার ক্রেডিবিলিটি চলে গেল। ছবিটা আর আমার থাকল না। তখন আমি অন্য কথা বলে আমাদের নিউজ রুমে চলে আসি। রিপোর্টার তারেককে বলি, ‘তুমি ডার্ক রুমে গিয়ে আবার বলো, ছেলেটা মারা যায়নি। তাহলে তাঁরা হয়তো ছবিটা নাও চাইতে পারে।’ তখন সে ডার্ক রুমে আবার এসে বলে, ‘ছেলেটা মরেনি।’ তখন ওই দুই ফটোগ্রাফার বললেন, ‘বাদ দাও, যেহেতু ছেলেটি মারা যায়নি তাহলে ওই ছবি লাগবে না। আজকে অনেক ছবি।’ এভাবে ওনাদের আমি এড়িয়ে গেলাম। ওনারা চলে যাওয়ার পর রাত ১১টার সময় আমি আবার এসে ছবি দুটি প্রিন্ট করে নিউ নেশন পত্রিকায় সাবমিট করি। তখন আমানুল্লাহ কবীর ও ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন ওনাদের মধ্যে অনেকক্ষণ আলোচনা চলছে, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে, এরশাদ ক্ষমতায়, তার বিরুদ্ধে এ রকম একটি ঘটনা, ছবিটি ছাপা যাবে কি যাবে না? ম্যাক্সিমাম রাত ১২টা পর্যন্ত ডিসিশন এ রকম হয়ে গেল, ছবিটা ছাপা হবে না। কিন্তু আরো পরের দিকে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন যেহেতু পত্রিকার মালিক, উনি ডিসিশন দিলেন, ছবিটা ছাপা যাবে। পরের দিন ছবিটা ছাপা হলো। এই নিয়ে কোনো পত্রিকায় আর ছবি নেই ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। ছাপা হওয়ার পর দুটি ঘটনা, একদিকে যেসব ব্যারিস্টাররা আন্দোলন করছেন, ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনসহ অন্য ব্যারিস্টার ইসতিয়াক, ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম, ড. কামাল হোসেন, একটা মিটিংয়ে ডিসিশন নেন, এই ছবিটা সারা দেশে পোস্টার করে ছড়িয়ে দিতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁরা আমাকে খবর দেন। আমি দুটো ছবি প্রিন্ট করে নিয়ে যাই। এবং ওই মিটিংয়ের ডিসিশন অনুযায়ী ছবি পোস্টার আকারেও ছাপা হয়। অন্যদিকে সরকারের দিক থেকে বিভিন্ন সংস্থা খোঁজ নিতে যেয়ে, কী করে এই ছবি তুলল, কী করে এসব হলো, ওনারা আমার ওপর একটু ক্ষিপ্তই হলেন। ওনারা বলার চেষ্টা করছিলেন, ওই ছেলেটি মরেনি। ছবিটি কোনো একটা বাসার ভেতরে অ্যারেঞ্জ করে তোলা হয়েছে। এটা রাজপথের ছবি না। ওইটা আমার জন্য একটু বিপজ্জনক ছিল। কারণ তাঁরা পেছন থেকে প্রেসার দিচ্ছিল, আমি যাতে বলি ছবিটা বানানো ছবি। কিন্তু ততক্ষণে জনমত ছবিটার পক্ষে চলে গেছে। ছবি দুটি সারা দেশে পোস্টার হয়ে গেল। দুই নেত্রী আমাকে ছবিটার জন্য অভিনন্দন জানালেন। আমি বুঝলাম, ছবিটা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে গেল। পরবর্তীকালে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ এই ছবিটি একটি আইকনিক ছবি। নূর হোসেনের আত্মদান এই ছবিটার মধ্যে থেকে গেল। ছবিটা যদি আমি না তুলতাম, তাহলে নূর হোসেন অন্য শত শত মানুষের মতো হারিয়ে যেতেন।
টিপু: ছবি তোলার পর সেটা কী প্রেক্ষাপট তৈরি করল?
পাভেল: আমি তখন এপিতে কাজ করা শুরু করি। এপির যে জিনিসটি আমার পছন্দ হয়নি, সেটার প্রথম শিকার নূর হোসেন। আমার পছন্দ হতো না, ছবি তোলার সাতদিনের মধ্যে এপিতে আমার নেগেটিভগুলো জমা দিয়ে দিতে হতো। এটা আমার জন্য কষ্টদায়ক ছিল, অনেক ছবির নেগেটিভ আমি রাখতে পারিনি। নেগেটিভ আলাদা করে রাখার কোনো সিস্টেম ছিল না। হয়তো প্রিন্ট করে রাখা যেত। অনেকটা জিদের বশে এপিতে অর্থাত্ সারা বিশ্বের জন্য আমি ছবিটি দেইনি। এই জন্য দেইনি, আমার ছবিটা দিলে দুদিন পরে আমার নেগেটিভটি অন্যের হাতে চলে যাবে। এই ছবিটির রাইট বা কোনো কিছুই আমার হাতে থাকবে না। অনেক সময় একটা ছবির ১০-১২টা ফ্রেম হয়, তখন ২-৩টা সিলেক্ট করে দিতে পারি। বাকিগুলো আমার কাছে থাকে। কিন্তু নূর হোসেনের ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ মাত্র দুটি ফ্রেম ৩৫ মিলিমিটারে— একটা হরাইজেন্টাল আরেকটা ভার্টিক্যাল। যার ফলে আমি একটি ছবি তাদেরকে দেইনি। এই না দেয়ার ফলে আন্তর্জাতিকভাবে আমি পিছিয়ে গেলাম। হয়তো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নূর হোসেনের এই ছবি বেশি বিখ্যাত হতো। অনেকটা জিদের বশেই আমি এপিতে রিলিজ করিনি। এরশাদ পতনের পর আমি যখন আমেরিকায় যাই, এই ছবির কথা শুধু বাঙালিদের মুখেই নয়, অনেক সাদা চামড়ার লোকের মুখে শুনেছি। তাঁরা আমার কাছ থেকে ছবিটা নিয়েছিলেন। তাঁরা তাদের ঘরে রাখার অনুমতিও নিয়েছিলেন। পত্রিকায় প্রকাশ হলে যে রূপ সারা দেশে ছড়িয়ে যায়, তদ্রূপ আমার এই ছবি অনেক আমেরিকানের বসার ঘরেও উঠেছিল। গণতন্ত্রের জন্য এ রকম একজন যুবক জীবন দিতে পারেন, তাঁরা স্টোরির মাধ্যমে আগেই জেনে গিয়েছিলেন। তো আমি ভুল কখনো বলব না, আমি জিদের কারণে ইন্টারন্যাশনালি ছবিটা তখন রিলিজ করিনি।
টিপু: তাঁর শ্রেণীগত অবস্থানের কারণ কি ছবিটাকে গণতন্ত্রের প্রতীক করে তুলেছে?
পাভেল: না, আমার কাছে সেটা মনে হয়নি। তিনি নিম্ন শ্রেণী, মধ্যবিত্ত শ্রেণী বা উচ্চবিত্ত শ্রেণী— যেকোনো শ্রেণীর লোক হয়ে থাকুন না কেন, আমার সেটা মুখ্য মনে হয়নি। সেদিন যে কেউ যদি বুকে-পিঠে লেখা নিয়ে রাজপথে আসতেন, তিনি যদি মারা যেতেন, তিনিও একই রকম হতেন। এটা কোনো শ্রেণীগত অবস্থান বলে মনে হয়নি।
টিপু: তাঁর দেহটাই একটা ক্যানভাস। নূর হোসেনের ছবিটি কি ‘প্রতীকী ভাষা’ সৃষ্টি করল?
পাভেল: রাজনৈতিকভাবে আমি যদি চিন্তা করি, ওই ছবিটা আমরা যদি তৈরি করতাম, অনেক সময় যে, কিছু ছবি অ্যারেঞ্জ করে তোলা হয়, সেটা কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারে না। সেদিনকার ছবিটায় শুধু ওঁর শরীর না, ওঁর আশপাশের আউট অব ফোকাসে মানুষজন ছিল, তাঁরাও কিন্তু ক্যানভাসের অংশ। আরো স্ট্রং হয়েছে সেই ছবিটা। যদিও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বলার চেষ্টা করেছিল, ছবিটি বানানো। এরশাদ সাহেবও দাবি করেছিলেন, ছবিটি বানানো। আমি যদি বলি, বানানো ছবি যদি আমি এভাবে তুলতাম, তাহলে কোনো বানানো ছবি এ রকম ভূমিকা রাখত কিনা? যে ছেলেটি বুকে-পিঠে লিখে বানানো হয়েছে, সেই ছেলেটিই যে গুলিবিদ্ধ হবে এমন কোনো ঘটনা ছিল না! গুলিবিদ্ধ ব্যাপারটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল। তাও কি, সরকারি বাহিনীর গুলিতে তিনি মারা গেলেন। তাঁর মারা যাওয়াটা ছবিটার পেছনে একটা ভূমিকা রাখল। তিনি যদি সেদিন ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ কথাটা না লিখতেন, তিনি যদি সেদিন মারা না যেতেন তাহলে ছবিটা মনে হয় না এত প্রতীকী হয়ে উঠত। সেদিনের স্বৈরাচারের কাছে তাঁর বলিদানই তাঁকে আইকনিক করে তুলেছে।
টিপু: আপনি এটাকে ঐতিহাসিক ডকুমেন্ট নাকি আর্ট হিসেবে দেখেন?
পাভেল: ব্যাপারটা হচ্ছে, এটা আর সাধারণ না, এটা একটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ছবিটি, নূর হোসেনের মৃত্যু, আর ’৮৭ সালের ১০ নভেম্বর ঐতিহাসিক দিন হিসেবে চিত্রিত হয়ে গেছে। সেই অর্থে এটা একটা শিল্প। আমি বলব তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ যদি ধরি, যে পারফর্ম করছিল সেটাই শিল্প। আমরা যারা নিউজ ফটোগ্রাফি করি, তারা আসলে যেকোনো ঘটনার রি-অ্যাকশনটাই তুলি। যখন ঝড় হয়, বন্যা হয়, যখন মানুষ বিপদে পড়ে, সবকিছুই তো আমরা মানুষের জন্য করি। এই করাগুলোতে আমরা মানুষের রি-অ্যাকশনটাই তুলি, যাতে মানুষ ঘটনার মেসেজটা পায়। ছবি তো আর সাউন্ড করে না। নিউজ ফটোগ্রাফি মূলত ক্যাপশন-নির্ভর। আমি সাধারণত ক্যাপশন-নির্ভর হতে চাই না। ছবি যাতে নিজেই ঘটনাকে প্রকাশ বা কথা চায়, সেই চেষ্টা করি। রি-অ্যাকশনের ছবি দেখে মানুষের মনের মধ্যে একটা মেসেজ পাস করাতে চাই। যে ছবি দেখে মানুষও রি-অ্যাকশন করে। নিউজ ফটোগ্রাফিতে দেখবেন, মানুষের মুখটাই আসল। হাসি, কান্না বা আনন্দের মুহূর্তে মুখের এক্সপ্রেশনের। কিন্তু আমার নূর হোসেনের ছবিটা মুখের নয়, চেহারা ছাড়া এই ছবি। একটি মানুষ ফেইস ছাড়াই একটি শক্তিশালী ছবি। অবশ্য তাঁর বডি নিউজ মেসেজ ক্যারি করছিল। সেদিনকার ছবিটাতে দেখবেন, তাঁর মাসল ফুলে উঠেছে, সে হেঁটে যাচ্ছে, তাঁর কোমরের মধ্যে গায়ের শার্টটা বাঁধা আছে, মাথার চুলগুলো ঝাঁকড়া। সব মিলিয়ে তাঁর হাতগুলো মাথার মধ্যে নিল, বডির মাসলগুলো যে পারফর্ম করছে, জ্যামিতিকভাবে দেখবেন, নিউ ডাইমেনশন ক্রিয়েট করেছে। ছবিটার মধ্যে ফেস নেই, তবে বডিটাই কথা বলছে।
(নোট: পাভেল রহমানের সাক্ষাত্কারটি নেয়া হয় একটি সংবাদপত্রের অফিসে। কোন দিন মনে নেই, তবে সন্ধ্যায়।)






