ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল পপুলেশন কনফারেন্সে গবেষণাপত্র দাখিল করার সময় একজন আন্তর্জাতিক কনসালট্যান্ট বললেন, ভারতে প্রতি ১০ সেকেন্ডে একজন নারী একটি করে সন্তান প্রসব করে থাকে। শুনেই সর্দারজি দাঁড়িয়ে গেলেন। কনসালট্যান্টের বক্তৃতায় বাধা দিয়ে বললেন, আগে বলুন সেই নারী কোথায়, আগে তো তাকে থামাই।
* * *
গত শতকেও প্রতি চারটি শিশুর একটি হতো চাইনিজ
সর্দারজি একটি ফর্মে নিজের সন্তানদের বিবরণ লিখলেন:
১. সান্তা সিং বয়স ১০ বছর জাতীয়তা ভারতীয়
২. বান্তা সিং বয়স ৮ বছর জাতীয়তা ভারতীয়
৩। ঝুটা সিং বয়স ৬ বছর জাতীয়তা ভারতীয়
৪। বুটা সিং বয়স ৪ বছর জাতীয়তা চাইনিজ
* * *
মার্কিনি জনমিতি
এ দেশের জনসংখ্যা ২৩৭ মিলিয়ন। এর মধ্যে ১০৪ মিলিয়ন অবসরপ্রাপ্ত। কাজ করার জন্য থাকল ১৩৩ মিলিয়ন। এর মধ্যে ৮৫ মিলিয়ন স্কুল-কলেজে যাচ্ছে। তাহলে কাজ করার জন্য থাকল ৪৮ মিলিয়ন। এর মধ্যে ফেডারেল সরকারে চাকরি করছে ২৯ মিলিয়ন। তাহলে কাজ করার জন্য থাকল ১৯ মিলিয়ন। ৪ মিলিয়ন আছে সশস্ত্রবাহিনীতে। তাহলে কাজ করার জন্য থাকল ১৫ মিলিয়ন। এর মধ্যে ১৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের জন্য আলাদা করে রাখুন। তাহলে কাজ করার জন্য থাকল ২ লাখ। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৮ হাজার জন হাসপাতালে। তাহলে কাজ করার জন্য থাকল ১২ হাজার। এর মধ্যে ১১ হাজার ৯৯৮ জন আছে জেলে। তাহলে কাজ করার জন্য থাকল ২ জন— তুমি আর আমি। আর তুমি তো কৌতুক পড়েই দিন কাটিয়ে দিচ্ছ। তাহলে কাজটা করবে কে?
***
বিলেনিয়াম
গল্পকার জে জি বালার্ডের ছোটগল্প ‘বিলেনিয়াম’ ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হতেই গল্পপাঠক ও জনসংখ্যা গবেষকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
গল্পটি তখন থেকে (১৯৬২) অদূর ভবিষ্যতের (একবিংশ শতক) প্রেক্ষাপটে রচিত। শহরের লোকসংখ্যা ২০ মিলিয়ন (২ কোটি)। জনসংখ্যার চাপ শহর আর সইতে পারছে না। সিটি কাউন্সিল শহরের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ৩৮ বর্গফুট জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
জন ওয়ার্ড আগে তিন মিলিয়ন মানুষের একটি শহরে বাস করত, প্রতি বছর সে শহরে যোগ হতো আরো এক মিলিয়ন মানুষ। জন ওয়ার্ডকে সাতজন ভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে একটি কক্ষে ভাগাভাগি করে থাকতে হতো, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলে তার কিছুই ছিল না। নতুন শহরে ৩৮ বর্গফুট স্পেস পেয়ে জন খুব খুশি। জন একজন লাইব্রেরিয়ান। বাড়ির মালিকদের সে ঘেন্না করত। লোভী মালিকরা ভাড়ার জন্য যেসব কিউবিকল বানাত, তা ছোট করতে করতে এমন পর্যায়ে নিয়ে আসে যে, তাতে কোনো রকমে শরীরটা ঠেলে দেয়া যায়।
তার সবচেয়ে নিকট-প্রতিবেশী হেনরি রসিটারের সঙ্গে বেশ বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। মেজাজের দিক দিয়ে জন ও হেনরি ভিন্ন ধরনের। আকস্মিকভাবে তারা অদখলকৃত ৩৮ বর্গমিটার স্পেস আবিষ্কার করে। হেনরি প্রস্তাব দেয়, দুজনেই তাদের গার্লফ্রেন্ডদের এখানে নিয়ে আসতে পারে, তাহলে তাদের সময়টাও ভালো কাটবে। রাস্তাঘাটে প্রচণ্ড মানবজট।
পথচারীদের জট ছুটতে বহু সময় লেগে যায়। কখনো গোটা দিনই কেটে যায়। সিটি কাউন্সিল আশপাশের সব বাড়িঘর দখলে নিয়ে ছোট ছোট কিউবিকল বানিয়ে ক্রমবর্ধমান মানুষকে ঠাঁই দিচ্ছে।
বাড়তি জায়গা পেয়ে জন ওয়ার্ড ও হেনরি রসিটার একটি ভিক্টোরিয়ান ওয়্যারড্রব কেনে। এটি হচ্ছে তাদের দখলকৃত পরিসরে একমাত্র সুন্দর জিনিস।
দুজনের গার্লফ্রেন্ড জুডিথ ও হেলেন শর্তসাপেক্ষে তাদের প্রস্তাবে সাড়া দেয়, তারা সপরিবারে এখানে আসবে।
তা-ই হয়, অচিরেই জায়গাটা জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে। জন নিশ্চিত হয় যে, তাদের আবিষ্কৃত জায়গাটার কথা সিটি কাউন্সিল ভুলে গেছে।
রসিটার সরকারি চাকুরে। সরকারের সিদ্ধান্তগুলো সে আগেভাগে জানতে পারে। শহরে মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিউবিকলের আকার আরো ছোট করার সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে ওয়ার্ড তার গার্লফ্রেন্ডের পরিবারের কাছে ভাড়া চেয়ে বসে এবং এক পর্যায়ে দুজনই ভাড়া আদায় করতে থাকে। ভাড়াটের সংখ্যা আরো বাড়াবার জন্য ভিক্টোরিয়ান ওয়্যারড্রবের দখল করা জায়গাটুকুতে কিউবিকল বানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর একসময় তাদের একমাত্র সুন্দর জিনিসটিকে ভাঙতে থাকে। তারা যে বাড়িওয়ালাদের ঘৃণা করত, অচিরেই দুজন ঠিক তাদের মতোই লোভী হয়ে যায়।
এক সময় তাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ইউরেনাস গ্রহে মানুষ বাস করে তো? পৃথিবী আর বাসযোগ্য নেই, তাহলে ইউরেনাসে আশ্রয় নিতে হবে।
এদিকে যখন ভাড়ার টাকা হাতে আসতে শুরু করেছে, ওয়্যাড্রবের সৌন্দর্য তাদের কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে।
সয়লেন্ট গ্রিন
হ্যারি হ্যারিসনের উপন্যাস ‘মেইক রুম মেইক রুম’-এর কাহিনী নিয়ে এডওয়ার্ড রবিনসনের ম্যালথাসিয়ান সিনেমা ‘সয়লেন্ট গ্রিন’। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি একটি সায়েন্স ফিকশন থ্রিলার। এতে অভিনয় করেছেন— চার্লটন হেস্টন, লি টেয়লর ইয়ং, চাক কনোর্স, পাওয়া কেলি, জোসেফ কটেন ও এডওয়ার্ড রবিনসন।
২০২২ সাল। কেবল নিউইয়র্ক শহরের লোকসংখ্যা চার কোটি। বিংশ শতকের শিল্পায়ন পৃথিবীকে অসহ্য রকম জনাকীর্ণ, দূষিত ও স্থবির করে দিয়েছে। নিউইয়র্কের বাড়িঘর, সিঁড়িঘর, ফায়ার এস্কেপ, পরিত্যক্ত গাড়ি, সাবওয়ে ফুটপাত, প্লাটফর্ম, স্টেশন সর্বত্র মানুষ গিজগিজ করছে। বেকারত্ব দাঁড়িয়েছে শতকরা ৫০; একদা মনোরম গ্রীষ্ম এখন তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাট ছাড়িয়ে। গ্রিন হাউজ এফেক্ট চারদিকে। সবচেয়ে বড় সংকট খাবারের। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে খাদ্যোৎপাদন তাল মিলিয়ে বাড়তে পারেনি।
এ অবস্থায় এগিয়ে এসেছে সয়লেন্ট করপোরেশন। তাদের কারখানায় সমুদ্রের প্লাংকটন থেকে উৎপাদিত উচ্চ খাদ্যগুণসম্পন্ন সয়লেন্ট গ্রিন ওয়েফার এসেছে বাজারে। এটি আগে উৎপাদিত লাল ও হলুদ সয়লেন্টের চেয়ে বেশি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। কিন্তু গ্রিন সয়লেন্টের কম সরবরাহের কারণে প্রত্যেক সপ্তাহে খাদ্যদাঙ্গা শুরু হয়ে যায়।
নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা রবার্ট থর্ন (এই ভূমিকাটি চার্লটন হেস্টনের) এবং তার রুমমেট অধ্যাপক সলোমন রথ তার গোয়েন্দা কাজে সহযোগী।
থর্ন ধনাঢ্য উইলিয়াম সিমেনসন (অভিনেতা জোসেফ কটন) হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব পান। চেলসি টাওয়ার্স ওয়েস্টের ২২ তলায় সিমেনসনের মৃতদেহ। প্রায় অভুক্ত গরিব গোয়েন্দা থর্ন সেখানে পৌঁছে তার বাড়ির সুস্বাদু খাবার খান, মদ্যপান করেন এবং এমনকি সত্যিকারের গরম পানিতে গোসলও করেন। তিনি আসার সময় দুই খণ্ডের ‘সয়লেন্ট ওশেনো গ্রাফিক সার্ভে রিপোর্ট ২০১৫-২০১৯’ তুলে নিয়ে আসেন এবং তা অধ্যাপক রথকে দেন। সিমেনসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তার উপপত্নী শার্লকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার সঙ্গে যুক্ত আরো অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর মধ্যে একজন যাজকও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। গভর্নর তদন্ত ক্লোজ করার নির্দেশ দেয়ার পরও থর্ন না থামায় তাকেও হত্যা করার নির্দেশ দেয় সয়লেন্ট করপোরেশন। এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সিমেনসন জানতেন ওশেনো গ্রাফিক রিপোর্টের সারকথা যে সামুদ্রিক প্লাংকটন উৎপাদন অত্যন্ত অপর্যাপ্ত এবং সয়লেন্ট গ্রিন উৎপাদন আরো কমে আসবে। এই তথ্য যারা জানেন তাদের জীবন হুমকির মুখে। সিমেনসনের হত্যাকারী হিসেবে ট্যাব ফিল্ডিং, তার বডিগার্ডকে সন্দেহ করা হয়। সিমেনসন সয়লেন্ট করপোরেশনের একজন বোর্ড মেম্বার ছিলেন।
এদিকে অধ্যাপক রথের হাতে আবিষ্কৃত হলো সামুদ্রিক প্লাংকটন থেকে সয়লেন্ট গ্রিন তৈরির বিষয়টি ভুয়া; একটি ভয়ঙ্কর সত্য বেরিয়ে আসে, মানুষের শরীর ব্যবহার করে সয়লেন্ট গ্রিন তৈরি করা হয়।
তারপর কয়েক পর্ব খুনাখুনির ব্যাপার ঘটে। করপোরেট ভীতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
ম্যালথাসিয়ান সতর্কতা: মানুষই মানুষ খেয়ে জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা করবে।






