কেমন হওয়া উচিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক? কেবলই পাঠদান? নাকি তারও বেশি কিছু? পাঠদান তো চাইলে কোচিং সেন্টারেও নেয়া যায়। শিক্ষককে ব্যক্তিগত-পারিবারিক পরিসরে ডেকে অর্থের বিনিময়েও সম্পন্ন করা সম্ভব। কিন্তু সেটা করা হয় না কেন? এর পেছনে থাকতে পারে অনেক কারণ। নিশ্চয়ই তাতে যুক্তির অপ্রতুলতা নেই। কিন্তু প্রধান কারণ হলো ওভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে যথার্থ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হয় না। ওই পরিসর শিক্ষার্থীর মানস গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে না। শিক্ষার্থীর ভেতর সে কর্তব্যবোধ সঞ্চার হয় না, যার দীপ্রশিখা জ্বালিয়ে গেছেন শহীদ শামসুজ্জোহা; যা থেকে নতুন প্রজন্মের রয়েছে বিশেষ শিক্ষা নেয়ার সুযোগ। তিনি সর্বজনেপরিচিত ছিলেন ‘জোহা স্যার’ নামে। শিক্ষার্থীদের আপদে-বিপদে একজন শিক্ষক কীভাবে পাশে দাঁড়ান, তার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন তিনি। তখন আজকের বাংলাদেশ ভূখণ্ড পূর্ব পাকিস্তান নামে পাকিস্তান রাষ্ট্রের একটা প্রদেশ ছিল। ১৯৪৭-এ ব্রিটিশ বিদায়ের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে জন্ম হয় ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন দেশের। বাংলাদেশকে জুড়ে দেয়া হয় অদ্ভুত রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে। স্থল, জল ও আকাশের সরাসরি কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না যার সঙ্গে। পাকিস্তানিরা, বিশেষ করে পাঞ্জাবিরা প্রথম থেকেই শুরু করে জবরদস্তিমূলক শাসন। রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে, গণতন্ত্রের প্রশ্নে, নাগরিক অধিকার, ন্যায্যতা ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নে তারা প্রথম থেকেই আশ্রয় নেয় বিমাতাসুলভ আচরণের। ন্যায়সংগত যেকোনো দাবির ক্ষেত্রে তারা কথা বলে ওঠে বুলেটের ভাষায়। ফলে বাঙালির পিঠ ঠেকে যায় দেয়ালে। ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬২, ১৯৬৬-এর মাইলফলক সব ঘটনা পেরিয়ে আসে ১৯৬৯ সাল। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুসহ অন্য আসামিরা তখন জেলে। প্রতিবাদে জেগে ওঠে বাঙালি। মিটিং, মিছিল, আন্দোলন, সংগ্রাম তখন দলীয় বৃত্ত ছেড়ে গণপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। দেখা দেয় গণ-অভ্যুত্থান। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত এ আন্দোলনকে দমন করতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান। যার প্রতিবাদে জোহা স্যার পালন করেন ঐতিহাসিক ভূমিকা। একজন শিক্ষক হয়েও তিনি ইতিহাসের এমন অনবদ্য এক চরিত্র, যা থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে পৃথিবীর সব শিক্ষকের, শুভবোধসম্পন্ন মুক্তিকামী সব মানুষের।
আমরা জানি মোগল সম্রাট বাবরের কথা। মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা যিনি। পুত্র হুমায়ুনের জীবন রক্ষায় মানুষটি উৎসর্গ করেছিলেন নিজের জীবন। সন্তানের কঠিন অসুস্থতায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, পুত্রকে যেন তার আয়ু দেয়া হয়। সে প্রার্থনার নিবেদন এতটাই জোরালো ও সত্য ছিল, ঈশ্বর সে আহ্বানে সাড়া দেন। জোহা স্যারের নিবেদনও ছিল সম্রাট বাবরের মতো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী সেদিন হয়ে উঠেছিলেন পুত্র হুমায়ুন। পাকিস্তান সরকারের খুনি পুলিশ বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে সেদিন তিনি অকুতোভয়ে বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো প্রকার আক্রমণ করা চলবে না। যদি করতে হয়, তাহলে সেটা করতে হবে তার লাশের ওপর দিয়ে।
১৯৬৯ সালের শুরুতেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার, বঙ্গবন্ধুসহ মামলার সব অভিযুক্তের নিঃশর্ত মুক্তি ও স্বৈরশাসক আইয়ুবের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে সেদিনের পূর্ব পাকিস্তান। ছাত্ররা এসব দাবিতে গড়ে তোলে দুর্বার আন্দোলন। পাকিস্তানি জান্তা বুলেটের বিনিময়ে সেসব প্রতিরোধ করতে মানুষ খুনে মেতে ওঠে।
২০ জানুয়ারি ঢাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় ছাত্রনেতা আসাদকে। এ মৃত্যু আন্দোলনকে করে বেগবান। পুরো দেশ গর্জে ওঠে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায়। ছাত্র-জনতা আইয়ুব গেটের নাম পাল্টে রাখে আসাদ গেট। ২৪ জানুয়ারি মিছিল চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন শহীদ মতিউরসহ আরো কয়েকজন ছাত্র। আন্দোলনের এ উত্তুঙ্গ অবস্থার পরও স্বৈরশাসক গদি রক্ষায় পুলিশ বাহিনী ব্যবহার করে সব রকম নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে। ১৫ ফেব্রুয়ারি কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করা হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে। নির্মম সব হত্যাকাণ্ডের পরও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী আইয়ুবশাহির টনক নড়ে না। এ কারণে গণ-অভ্যুত্থান কেবল ঢাকায় নয়, সব জায়গায় রুদ্ররূপ ধারণ করে। রাজশাহী শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন হয়ে ওঠে অগ্নিমূর্তির মতো। ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পুলিশ বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ছিলেন মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা। এ ঘটনায় ভীষণভাবে মর্মাহত হন তিনি। গ্লানি বোধ করেন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার ব্যর্থতায়। এরপর পুলিশ বাহিনীকে জানিয়ে দেন, তার অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ঢোকা যাবে না।
পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ-অভ্যুত্থানের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা মিটিং-মিছিল শুরু করে। পুলিশ ভেতরে ঢুকে অস্ত্রের ভাষায় সেসব দমন করতে চায়। গেটেই তাদের বাধা দেন শাসুজ্জোহা। সোজা জানিয়ে দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ঢোকা যাবে না। শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো প্রকার হামলা মেনে নেয়া হবে না। যদি সেটা করতে হয়, ওনার লাশের ওপর দিয়ে ঘটতে হবে। এ রকম তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে একজন পুলিশ ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে শামসুজ্জোহাকে। তিনি তৎক্ষণাৎ মারা যান। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় রেখে যান পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের জন্য স্মরণযোগ্য এক উদাহরণ। শহীদ শামসুজ্জোহার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে উপনীত হয়। জনগণের বিজয় হয়। কোনো কোনো মৃত্যু একটা ভূখণ্ডের ইতিহাসের গতিপথ পাল্টে দেয়। সংযোজন করে অন্য রকম সব অধ্যায়। শামসুজ্জোহার মৃত্যু ছিল সেই মহীয়ান মৃত্যুর অনুপম এক উদাহরণ।
শামসুজ্জোহা মৃত্যু দিয়ে সে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, যা সব শিক্ষকের জন্য স্মরণীয় ও বরণীয়। শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীকে আগলে রাখতে না পারেন, তাহলে তিনি কীসের শিক্ষক? পিতা যেমন যেকোনো মূল্যে সন্তানের মঙ্গল নিশ্চিত করেন নিজের জীবন দিয়ে হলেও, শামসুজ্জোহা শিক্ষক হিসেবে পিতার ভূমিকাই পালন করেছেন জাতির এক ক্রান্তিলগ্নে। তিনি জাতির সংকটে, জাতির ইতিহাস নির্মাণকালে যেমন প্রকৃতার্থে একজন সংশপ্তকের ভূমিকা পালন করেছেন, ঠিক তেমনি শিক্ষার্থীর জীবন সংকটাপন্ন অবস্থায় পালন করেছেন পিতার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
জীবন জন্ম ও মৃত্যুর অমোঘ এক ব্যাকরণ বিশেষ। এ বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে যিনি নিজের কর্তব্যবোধ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারেন, তিনিই হন ইতিহাসের নির্মাতা। দায়িত্ব কেবলই রুটিনওয়ার্ক বিশেষ। একজন সাধারণ মানুষের কাছে এটাই প্রত্যাশিত। এতটুকু করলেই তিনি ধন্যবাদ ও তারিফ দাবি রাখেন। কিন্তু একজন মানুষ কর্তব্যবোধে সচেতন হয়ে উঠলে সে চেতনা থেকে পালন করেন দায়িত্বেরও বেশি কিছু। তখন তিনি সাধারণ মানুষ থেকে নিজেকে হাজির করেন অসাধারণ মানুষের কাতারে, হয়ে ওঠেন বন্দিত পুরুষ। শামসুজ্জোহা তেমনই একজন, যার প্রতিমূর্তি সবসময় থাকবে বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে।
শামসুজ্জোহার মতো আরো কয়েকজন শিক্ষককে আমরা পেয়েছি ইতিহাসের নানা পর্বে। স্মরণ করা যেতে পারে পি জে হার্টগ, শহীদ বুদ্ধিজীবী আনোয়ার পাশা, শহীদ বুদ্ধিজীবী রাশীদুল হাসানের মতো কয়েকজনের অমর কীর্তিকে। যা থেকে আমরা দেখে নিত পারব, শহীদ শামসুজ্জোহা কোথায় আর এদের মতো আরো কোথায় আছে তাদের থেকে ব্যতিক্রম ও নতুন ইতিহাসের রচয়িতা।
ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ককে মহিমান্বিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য পি জে হার্টগ। ব্রিটিশ শাসক ও প্রশাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই আমাদের। কিন্তু মানুষটি ছিলেন ব্যতিক্রম ও স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত। প্রশাসক রূপে তো বটেই, শিক্ষকতায়ও ছিলেন অনুপ্রেরকের ভূমিকায়। একজন শিক্ষকের দায়, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ কেমন হওয়া উচিত, সে দৃষ্টান্ত রয়েছে তার জীবন ও কর্মে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি গড়ে তুলেছিলেন পিতা-পুত্রের সম্পর্ক। ব্যক্তিগতভাবে রাখতেন ছাত্রদের ভালো-মন্দের সব খবর। সুবিধা-অসুবিধায় পিতা যেমন পুত্রের কাঁধে হাত রেখে সাহস জোগান, উনিও সে সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সাহস জুগিয়েছেন। ওদের পথ চলাকে করে তুলেছেন নিরাপদ ও কুসুমাস্তীর্ণ। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে, একজন উপাচার্যকে কীভাবে আমরা দেখতে চাই, এ প্রশ্ন যখন হাজির হয় আমাদের সম্মুখে তখন মনে পড়ে যায় পিজে হার্টগের কথা।
আনোয়ার পাশা শহীদ বুদ্ধিজীবী। ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। ‘রাইফেল, রোটি, আওরাত’ উপন্যাসের স্রষ্টা। কীর্তিমান এ মানুষের জীবনে রয়েছে ছাত্রদের কল্যাণ ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তায় গৌরবদীপ্ত অবদান। তখন তিনি পাবনার এডওয়ার্ড কলেজে বাংলার অধ্যাপক। গত শতাব্দীর ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে পাবনা শহরে সংঘটিত হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যা ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসেও। কলেজ হোস্টেলের হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা হয়ে পড়ে নিরাপত্তাহীন। খবর রটে রাতের যেকোনো সময় সংঘটিত হবে নাশকতার ঘটনা। ওরা কলেজ অধ্যক্ষের কাছে নিরাপত্তা চায়। উনি অপারগতা জানিয়ে হোস্টেল ছাড়ার পরামর্শ দেন। ওই রাতে হোস্টেল ছাড়া মানে নির্ঘাত মৃত্যু। হোস্টেলে থাকলেও। শিক্ষার্থীদের ওই অবস্থায় পাশে এসে দাঁড়ান আনোয়ার পাশা। জানিয়ে দেন শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো আঘাত বা আক্রমণ হলে তার লাশের ওপর দিয়ে হবে। শিক্ষার্থীদের রুমের ভেতর রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। জেগে থাকেন সারা রাত। সত্যিই রাতে কলেজ হোস্টেলে আসে দাঙ্গাবাজরা। আনোয়ার পাশা তাদের মুখোমুখি হন। সেদিন কোনো অরাজকতা ছাড়া চলে যেতে বাধ্য হয় দাঙ্গাকারীরা। প্রাণে বেঁচে যায় হিন্দু শিক্ষার্থীরা। আনোয়ার পাশা ব’নে যান পিতা। পৃথিবীর সব শিক্ষকের কাছে যেটা প্রত্যাশা আমাদের।
রাশীদুল হাসান, শহীদ বুদ্ধিজীবী। বন্ধু আনোয়ার পাশার মতো তিনিও শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়েছিলেন সর্বোচ্চ ঝুঁকি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়ার আড়ালে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহায়তা দানকারী শিক্ষকদের অন্যতম ছিলেন তিনি। যুদ্ধের দিনগুলোয় একবার গ্রেফতার হয়ে বেশ কিছুদিন অন্তরীণ ছিলেন কারাগারে। অভিযোগ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতার পাশাপাশি তথ্য আদান-প্রদানের। অভিযোগ অমূলক ছিল না। তার আচার-ব্যবহার, নিয়মানুবর্তিতা ও জীবনশৃঙ্খলা দেখে পাকিস্তানি আর্মির একজন মেজর প্রীত হন। মুগ্ধতা ছড়ান কোরআন তেলাওয়াতের সম্মোহনশক্তি দিয়ে। তাকে মুক্ত করে দেন কারাগার থেকে। অতঃপর রাশীদুল হাসান শুরু করেন ক্লাস নেয়া। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য ও সহযোগিতার পূর্বতন ভূমিকাও পালন করতে থাকেন সাধ্যাতীতভাবে। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো বাধাকেই আমলে নেননি, এমনকি মৃত্যুর অশনিসংকেতেও। জীবন দিয়ে তিনি দৃষ্টান্ত হাজির রেখেছেন দেশের জন্য এবং শিক্ষার্থীদের আপদে-বিপদে পিতার ভূমিকা জারি রাখার প্রশ্নে।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার শুরুটা টোল থেকে। যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে তৈরি হয় হার্দিক সম্পর্ক। শিক্ষার্থীকে শিক্ষকের কাছে সমর্পণ করে প্রাচীন ও মধ্যযুগের অভিভাবকরা উদ্বেগহীন থেকেছেন। কারণ তাদের এ বিশ্বাস ছিল যে সন্তান সেখানে নিজ গৃহের মতোই নিরাপদ। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বলা হয় দ্বিতীয় পরিবার। শিক্ষকদের বলা হয় দ্বিতীয় পিতা। মান্যতা দেয়া হয় বায়োলজিক্যাল না হলেও পিতা সদৃশ। বাংলা ও বাঙালির শিক্ষা ব্যবস্থার এ পরম্পরাকে ধারণ করেছেন একজন পি জে হার্টগ, আনোয়ার পাশা, রাশীদুল হাসানের মতো বিদ্বজ্জনেরা। তাদের সম্মিলিত অবদানকে আরো বেশি গৌরব ও মহিমান্বিত করেছেন একজন শহীদ শামসুজ্জোহা। বাংলাদেশের নবজাগরণ কালে সদর্থক অর্থেই একজন রেনেসাঁ মানবের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
কাজল রশীদ শাহীন: চিন্তক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক





