অ্যান্টিগার নর্থ সাউন্ডে স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে ২০১৮ সালের ৪ জুলাই মাত্র ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার  লজ্জা পায় বাংলাদেশ। চার বছর পর সেই একই মাঠে আরেকবার ব্যাটিং বিপর্যয়। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ রানের মধ্যে তিন উইকেট ও ৪৫ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১০৩ রানে গুটিয়ে যায়। এরপর স্বাগিতকরাও ৭২ রানের মধ্যে হারিয়ে বসে ২ উইকেট। সব মিলে, নর্থ সাউন্ডে বৃহস্পতিবার প্রথম দিনটি ছিল বোলারদের।

 

বাংলাদেশকে মাত্র ১০৩ রানে অলআউট করার পরও ক্যারিবিয়ানরা এখনো ৮ রান পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের বোলাররা আক্ষেপ করতেই পারেন। কেননা তারা দুর্দান্ত বোলিং করলেও স্কোরবোর্ডে চিত্র মোটেও তা বলছে না। ফিল্ডাররা ঠিকঠাক কাজটি করতে পারলে আর ভাগ্য সহায় হলে বাংলাদেশকে আরো ভালো অবস্থানে তারা নিয়ে যেতে পারতেন। ব্যাটাররা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হওয়ার পরও বোলাররা দুর্দান্ত লড়াই করেন।

 

বাংলাদেশের পেসাররা দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। মুস্তাফিজুর রহমান ও এবাদত হোসেন শুরুতে এতটাই শক্ত বোলিং করেছেন যে স্বাগতিকরা প্রথম ৫ ওভার থেকে কোনো রানই তুলতে পারেনি। যদিও দুর্দান্ত এই বোলিংয়ের পুরস্কার তারা পাননি। তিন তিনটি ক্যাচ ফেলেছেন ফিল্ডাররা।

 

বাংলাদেশের ফিল্ডারদের বদান্যতায় আর অধিনায়ক ক্রেগ ব্র্যাথওয়েটের দৃঢ়তায় ২ উইকেটে ৯৫ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্র্যাথওয়েট ১৪৯ বলে ৪২ ও এনক্রুমাহ বোনার ৪৩ বলে ১২ রানে অপরাজিত থেকে আজ ফের ব্যাটিংয়ে নামবেন।

 

উইকেট যদি প্রথম দিনের মতোই থাকে, তবে আজ পেস বোলারদের ওপর ভরসা করতে হবে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, এই টেস্টে তিন পেসার নিয়ে খেলছে অতিথিরা। মুস্তাফিজ ও এবাদতের সঙ্গে রয়েছেন খালেদ আহমেদ। এদের মধ্যে সবচেয়ে মিতব্যয়ী ছিলেন মুস্তাফিজ। তিনি ১২ ওভারে ১০ রান দিয়ে তুলে নেন এক উইকেট। এবাদত ১২ ওভারে ১৮ রানের খরচায় এক উইকেট নিয়েছেন। খালেদ ৯ ওভারে ১৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন।

 

কাল বাংলাদেশের ছয় ব্যাটার শূন্য রানে আউট হন। এর মধ্য দিয়ে ইনিংসে সবচেয়ে বেশি শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ডটা যুগ্মভাবে আরেকবার স্পর্শ করে বাংলাদেশ। গত মাসে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার বিপক্ষেও ৬ ব্যাটার শূন্য রানে আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে টাইগাররা ছুঁয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড। লজ্জার এই রেকর্ডটা এখন দু দুবার বাংলাদেশের নামের পাশে।

 

বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে শূন্য রানে আউট হয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, নুরুল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান ও খালেদ আহমেদ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন সাকিব। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন তামিম ইকবাল, যিনি এদিন মুশফিকুর রহিমের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছেছেন। এছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন শুধু লিটন দাস (১২)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে জেইডেন সিলস ও আলজারি জোসেফ তিনটি করে এবং কেমার রোচ ও কাইল মায়ার্স দুটি করে উইকেট নেন।