ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে এবার দেখা গেছে বিশাল টিকিট উন্মাদনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনালকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। যেখানে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও লামিনে ইয়ামালের স্পেন। আর এ ম্যাচ ঘিরে সেই দাম এখন পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়। শেষ মুহূর্তে ঐতিহাসিক এ ম্যাচের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডলারে, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৭৪ লাখ টাকা।
গতকাল শনিবার সকালে ফিফার অফিসিয়াল টিকিটিং ওয়েবসাইটে সবচেয়ে কম দামের টিকিট ছিল গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারিতে। এর মূল্য ছিল ৬ হাজার ৪১১.২৫ ডলার (প্রায় ৮ লাখ টাকা)। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। এরপর সবচেয়ে কম দামের টিকিটও উঠে যায় প্রায় ১০ হাজার ডলারে। স্টেডিয়ামের আপার ডেকের কর্নার অংশের এসব টিকিটের দাম বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১২ লাখ টাকা। মাঠের আরও কাছাকাছি বসে খেলা দেখতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার ডলার। আর বিশেষ হসপিটালিটি আসনের দাম পৌঁছেছে প্রায় ৬০ হাজার ডলারে, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৭৪ লাখ টাকা।
টিকিট পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম সিটগিক ও স্টাবহাবেও একই চিত্র। সেখানে আপার ডেকের টিকিটের দাম শুরু হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ডলার থেকে। লোয়ার বোলের কিছু আসনের দাম উঠেছে ৩৫ হাজার ডলারের কাছাকাছি।
টিকিট বিশেষজ্ঞ এবং এনবিএ ক্লাব ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্সের সাবেক কর্মকর্তা স্কট ফ্রিডম্যান বলেন, ‘মাঠের পারফরম্যান্সও দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারটি দল এবার সেমিফাইনালে উঠেছে, আর অনেকের ধারণা এটি হতে পারে লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল।’
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে টিকিট রিসেল করার সুযোগ থাকায় দাম আরো বাড়িয়ে দেয়। টিকিট বিক্রয় প্রতিষ্ঠান সিটগিকের তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালের পুনর্বিক্রয় বাজারে একটি টিকিটের গড় মূল্য ১১ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি। যা ২০২৪ সালের সুপার বোলের গড় মূল্যের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। ফলে এটি ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। তবে টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচনাও রয়েছে। স্পোর্ট অ্যান্ড রাইটস অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের অনেক সমর্থক ভিসা জটিলতায় যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি। একই সঙ্গে টিকিটের অতিরিক্ত দামও সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপের নির্বাহী পরিচালক রোনান ইভাইন বলেন, ‘এটি মূলত ধনী সমর্থকদের বিশ্বকাপ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যয়বহুল টিকিট কেনার সামর্থ্য যাদের ছিল, তারাই বেশি সুবিধা পেয়েছেন।’









